আপনি কি এক ব্যক্তিত্ববান ঈশ্বরে বিশ্বাস করতে পারেন?
“খ্রীষ্টান হওয়ার জন্য আপনার ঈশ্বরে বিশ্বাস করার প্রয়োজন নেই . . . আমরা এখন এক বিপ্লবের অংশ কিন্তু একবিংশ শতাব্দীতে গির্জা পরম্পরাগত অর্থে ঈশ্বরবিহীন এক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে,” ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক উচ্চ পদস্থ যাজক বর্ণনা করেন। তিনি সী অফ ফেইত আন্দোলনের পক্ষে কথা বলছিলেন যাতে অন্ততপক্ষে একশ জন ব্রিটিশ যাজক সমর্থন জানিয়েছিলেন। এই “নাস্তিক খ্রীষ্টানেরা” দৃঢ়রূপে ঘোষণা করেছিলেন যে ধর্ম মানুষের সৃষ্টি আর তাদেরই এক সদস্য যেমন বলেন যে ঈশ্বর হচ্ছেন কেবলমাত্র “একটি ধারণা।” তাদের চিন্তাধারার মধ্যে এক অতিপ্রাকৃত ঈশ্বরের কোন স্থান নেই।
“ঈশ্বর মৃত” এটি ছিল ১৯৬০ এর দশকের এক জনপ্রিয় ধ্বনি। এটি উনবিংশ শতাব্দীর জার্মান দার্শনিক ফ্রেডরিক নিৎশীর দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রতিফলিত করেছিল আর অনেক যুবক ব্যক্তিদের নৈতিক নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই স্বেচ্ছাচারিতা, অবাধ প্রেম ও নেশাকর ওষুধের অপব্যবহার করার অজুহাত যুগিয়েছিল। কিন্তু এইধরনের স্বাধীনতা কি হিপিদের, যে নামে তারা পরিচিত হয়ে উঠেছিল, সুখের এক তৃপ্তিকর জীবনে পরিচালিত করেছিল?
সেই একই দশকে অ্যাংলিকান বিশপ জন এ. টি. রবিনসন তার বিতর্কিত পুস্তক ঈশ্বরের প্রতি সৎ (ইংরাজি) প্রকাশ করেন। “মনুষ্য অভিজ্ঞতার এক গভীর দিক ছাড়া আর বিশেষ কিছু নয়” ঈশ্বর সম্বন্ধে তার এই চিন্তাধারার সমালোচনা তার অনেক সহযাজকেরা করেছিলেন। ঈশ্বরতত্ত্বের অধ্যাপক কীথ ওয়ার্ড জিজ্ঞাসা করেছিলেন: “ঈশ্বরে বিশ্বাস কি একপ্রকার সেকেলে কুসংস্কার যা এখনকার জ্ঞানী ব্যক্তিদের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে?” তার নিজের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছিলেন: “বর্তমান ধর্মে ঈশ্বর সম্বন্ধে পরম্পরাগত ধারণা সম্বন্ধীয় জ্ঞান পুনরুদ্ধার করার থেকে আর কিছুই অধিক গুরুত্বপূর্ণ নয়।”
দুঃখকষ্ট ও এক ব্যক্তিত্ববান ঈশ্বর
অনেকে যারা এক ব্যক্তিত্ববান ঈশ্বরে বিশ্বাস করে, তাদের পক্ষে সচক্ষে দেখা মর্মান্তিকতা ও দুঃখকষ্টকে, তাদের বিশ্বাসের সাথে সংযুক্ত করা মুশকিল হয়ে ওঠে। উদাহরণস্বরূপ, ১৯৯৬ সালের মার্চ মাসে স্কটল্যান্ডের ডানলেনে শিক্ষকসহ ১৬ জন শিশুকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। “আমি শুধুমাত্র বুঝতে পারি না যে ঈশ্বরের ইচ্ছা কী?” একজন বিক্ষিপ্ত স্ত্রীলোক বলেছিলেন। এই বিষাদময় ঘটনার নিদারুণ যন্ত্রণাকে সেই শিশুদের বিদ্যালয়ের বাইরে ফুলসহ একটি কার্ড রাখার দ্বারা ব্যক্ত করা হয়েছিল। এটিতে একটিই শব্দ ছিল “কেন?” উত্তরে ডানলেন গির্জার এক পরিচারক বলেছিলেন: “এর কোন ব্যাখ্যা নেই। আমরা কোন উত্তর দিতে পারি না যে কেন এটি ঘটার ছিল।”
সেই একই বছরে কিছুদিন পরে চার্চ অফ ইংল্যান্ডের এক জনপ্রিয় যুবক পাদ্রিকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল। দ্যা চার্চ টাইমস বিবৃতি দিয়েছিল যে এক বিমূঢ় মণ্ডলী লিভারপুলের এক ঊর্ধ্বতন যাজককে “ঈশ্বরের দরজায় নিদারুণভাবে মাথা ঠুকে কেন? কেন? জিজ্ঞাসা করতে শুনেছিলেন।” এই যাজকও এক ব্যক্তিত্ববান ঈশ্বরের কাছ থেকে সান্ত্বনাজনক কোন বাক্য পাননি।
তাহলে আমরা কাকে বিশ্বাস করব? এক ব্যক্তিত্ববান ঈশ্বরে বিশ্বাস করা যুক্তিসংগত। এটিই হচ্ছে পূর্বে উত্থাপিত শক্তিশালী প্রশ্নগুলির উত্তরের একমাত্র চাবি। পরবর্তী প্রবন্ধে যে প্রমাণ উপস্থিত করা হয়েছে সেগুলি বিবেচনা করতে আমরা আপনাকে আমন্ত্রণ জানাই।
[৩ পৃষ্ঠার চিত্র]
কার্ডটি জিজ্ঞাসা করেছিল “কেন?”
[সজন্যে]
NEWSTEAM No. 278468/Sipa Press