‘প্রভু খ্রীষ্টেরই দাসত্ব কর’
সমগ্র ইতিহাসব্যাপী লক্ষ লক্ষ লোকেরা দাসত্বের বোঝা সহ্য করেছে। উদাহরণস্বরূপ, হাজার হাজার বছর আগে ইস্রায়েলীয়রা মিশরীয় তত্ত্বাবধায়কদের হাতে প্রচুরভাবে কষ্টভোগ করেছিল। যেমন বাইবেল বলে, তারা “ভারী বোঝার দ্বারা পরিশ্রান্ত করার জন্য ইস্রায়েলীয়দের উপরে দাসদের কর্ম পরিদর্শক নিযুক্ত করল,” বিশেষভাবে ইট তৈরি করার কাজে।—যাত্রাপুস্তক ১:১১, দ্যা যিরূশালেম বাইবেল।
আজকে অনেক দেশে, লোকেরা হয়ত আক্ষরিক অর্থে দাস নয় কিন্তু অনেককেই চাপের অধীনে দীর্ঘ সময় কাজ করতে হয়—কখনও কখনও অপ্রীতিকর—পরিস্থিতিগুলিতেও। তারা সেই ভারী বোঝার অধীনে থাকে যাকে হয়ত অর্থনৈতিক দাসত্ব বলা যেতে পারে।
কিন্তু, একধরনের দাসত্ব আছে যা দুর্বহ নয়। প্রেরিত পৌল সহবিশ্বাসীদের উৎসাহিত করেছিলেন: ‘প্রভু খ্রীষ্টেরই দাসত্ব কর।’ (কলসীয় ৩:২৫) যারা খ্রীষ্টের দাস হওয়ার বিষয়টিকে বেছে নেয় তারা তাদের ভারী বোঝা থেকে স্বস্তি অনুভব করে। যীশু নিজে বলেছিলেন: “হে পরিশ্রান্ত ও ভারাক্রান্ত লোক সকল, আমার নিকটে আইস, আমি তোমাদিগকে বিশ্রাম দিব। আমার যোঁয়ালি আপনাদের উপরে তুলিয়া লও, এবং আমার কাছে শিক্ষা কর, কেননা আমি মৃদুশীল ও নম্রচিত্ত; তাহাতে তোমরা আপন আপন প্রাণের জন্য বিশ্রাম পাইবে। কারণ আমার যোঁয়ালি সহজ ও আমার ভার লঘু।”—মথি ১১:২৮-৩০.
খ্রীষ্টের যোঁয়ালি গ্রহণ করা একজনকে তার পরিবারের প্রতি বস্তুগত জিনিস সরবরাহ করার দায়িত্ব থেকে মুক্ত করে না। (১ তীমথিয় ৫:৮) কিন্তু, এটি বস্তুগত অভীষ্টগুলির অনেক জটিলতা থেকে স্বাধীনতা প্রদান করে। তাদের জীবনে বস্তুগত স্বাচ্ছন্দ্যকে মুখ্য লক্ষ্যে পরিণত না করে বরং খ্রীষ্টানেরা মৌলিক চাহিদাগুলিতেই সন্তুষ্টি খুঁজে নেয়।—১ তীমথিয় ৬:৬-৬:১০; তুলনা করুন ১ করিন্থীয় ৭:৩১.
এছাড়াও খ্রীষ্টানেরা ঈশ্বরের রাজ্যের “সুসমাচার” প্রচার করার জন্য তাদের যে দায়িত্ব রয়েছে সেটি পরিপূর্ণ করে সতেজতা খুঁজে পায়। (মথি ২৪:১৪) এটি প্রকৃত আনন্দ ও পরিতৃপ্তি নিয়ে আসে!
আমাদের কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত যে আমরা “প্রভু খ্রীষ্টেরই দাসত্ব করিতেছি”!
[৩২ পৃষ্ঠার চিত্র সৌজন্যে]
Pictorial Archive (Near Eastern History) Est.