এই কাল কেন এত মন্দ?
যখন আপনি একটি সংবাদপত্র পড়ার জন্য অথবা দূরদর্শনে সংবাদ দেখার জন্য কিংবা রেডিওতে সম্প্রচারিত সংবাদ শোনার জন্য বসেন, তখন আপনি কিছু দুঃসংবাদ প্রত্যাশা করেন, তাই নয় কি? সম্ভবত আপনি এটি জেনে আশ্চর্য হন না যে, এক অগ্রসরমান যুদ্ধ এখনও প্রবল, দৌরাত্ম্যমূলক অপরাধ এখনও অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে অথবা দুর্ভিক্ষ এখনও একটি অনুন্নত দেশের শক্তি নিঃশেষ করে দিচ্ছে।
আপনি যদি এই ঘটনাগুলি থেকে কিছু দূরে বাস করেন, তাহলে আপনি হয়ত এইধরনের বিবৃতিগুলির দ্বারা ক্রমাগতভাবে অত্যন্ত মর্মপীড়া অনুভব করবেন না। সর্বোপরি, আর কেই বা কষ্টভোগরত সেই সমস্ত জনগণের জন্য অনুভব করতে সমর্থ? এমনকি তবুও, কষ্টভোগ যেভাবে ব্যক্তিবিশেষদের প্রভাবিত করে, আমরা যখন তার মুখোমুখি হই তখন নির্বিকার থাকা খুবই কঠিন হয়ে পড়ে। আর এক কথায়, একটি যুদ্ধ সম্বন্ধে পড়া এবং এর ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যান বিবেচনা করা হল এক বিষয় আর বসনীয়ার নয় বছর বয়সী ছোট আদ্নান সম্বন্ধে পড়া সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয় যার মা তাদের বাড়ি বোমায় ধ্বংস হয়ে যাওয়ার সময়ে হত হয়েছিলেন। এর মাত্র কয়েক মাস পরে আদ্নানের বাবা যখন তারা একসাথে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল, সেই সময়ে এক গুপ্ত হত্যাকারীর দ্বারা নির্মমভাবে গুলিবিদ্ধ হন। এর অল্প কয়েক সপ্তাহ পরেই তার বোন বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কামানের গোলার আঘাতে রক্তক্ষরণের ফলে তারই চোখের সামনে মারা যায়। যে চিকিৎসকেরা আদ্নানকে মানসিক আঘাতের জন্য চিকিৎসা করেছিলেন, তারা দেখেছিলেন যে বালকটি হতবুদ্ধি, সমস্ত অনুভূতি—এমনকি কৌতুহলশূন্য হয়ে পড়েছিল। ভয় এবং পূর্বস্মৃতি তাকে জাগ্রত অবস্থায় যন্ত্রণা দিত; দুঃস্বপ্ন তার বিশ্রামের ঘুম কেড়ে নিত। আদ্নান কোন পরিসংখ্যান নয়। সে কষ্টভোগরত এক শিশু; আমরা তার জন্য সহানুভূতি দেখান ছাড়া আর কিছুই করতে পারি না।
জগতের অন্যান্য ব্যাধিগুলির ক্ষেত্রেও এটি সত্য। দুর্ভিক্ষ সম্বন্ধে পড়া এক বিষয়; কিন্তু স্ফীত উদর এবং অস্থি চর্মসার এক অনাবৃত জীবন্ত অনাহারের শিকার পাঁচ বছরের একটি মেয়ের ছবি দেখা সম্পূর্ণ ভিন্ন এক বিষয়। অপরাধের পরিসংখ্যান পড়া এক বিষয়; আর বয়স্ক এক বিধবা সম্বন্ধে শোনা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয় যাকে নিষ্ঠুরভাবে প্রহার, লুণ্ঠন এবং ধর্ষণ করা হয়েছে। পরিবারের অবক্ষয় সম্বন্ধে পড়া এক বিষয়; আর এটি জানা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয় যে একজন মা তার নিজের সন্তানকে স্বেচ্ছায় অনাহারে রাখেন এবং মারাত্মকভাবে শারীরিক অত্যাচার করেন।
এইধরনের বিষয়গুলি পড়া যন্ত্রণাদায়ক। কিন্তু এটি আরও কতই না মন্দতর হয়, যখন বিশ্বব্যাপী এই আঘাতগুলির একটি সরাসরি আমাদের আঘাত করে! যখন আপনি ব্যক্তিগতভাবে মন্দতা ভোগ করেন, তখন বিশ্ব সংবাদের দ্বারা উপস্থাপিত বৃহত্তর চিত্র আচ্ছাদিত হয়ে যেতে পারে। এই তথ্যটির মুখোমুখি হওয়া আতঙ্কজনক যে অপরাধ, যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ এবং রোগ দ্বারা কষ্টভোগ মানব ইতিহাসে নজিরবিহীন মাত্রায় বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই বিংশ শতাব্দীর বাস্তবতার সম্মুখীন হওয়ার প্রভাব বাস্তবিকই গভীর হতে পারে—বিভ্রান্তি, ভয় এবং বিষণ্ণতা হল সাধারণ বিষয়।
অনেক ধর্মের লোকেরা এইধরনের সমস্যাপূর্ণ প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছে যেমন কেন বিষয়গুলি এত মন্দ? মানবজাতি কোথায় এগিয়ে চলেছে?
দুঃখের বিষয় যে, ধর্মগুলি বর্তমানে কদাচিৎ সন্তোষজনক উত্তরগুলি দিয়ে থাকে। যখন আপনি এই পত্রিকার প্রচ্ছদের প্রশ্নটি প্রথম দেখেছিলেন, আপনি হয়ত সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন—এক স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। মূল-তত্ত্ববাদী ধর্মগুলি প্রায়ই বাইবেল থেকে জোর করে এমন কিছু তথ্য বের করার চেষ্টা করে, যা সাধারণতঃ বাইবেলে নেই—এই জগতের শেষের নির্দিষ্ট দিন ও ঘন্টা। (মথি ২৪:৩৬ পদ দেখুন।) এই পত্রিকার প্রকাশকগণ বাইবেলকেই এর ব্যাখ্যা প্রদান করতে দিতে পছন্দ করেন। আপনি হয়ত জেনে আশ্চর্য হবেন যে, শেষ কাল সম্বন্ধে বাইবেলের আলোচনা তথ্য-নির্ভর এবং যুক্তিসংগত। আর বিষয়গুলি এত মন্দ কেন, এই সম্বন্ধে ব্যাখ্যা করার চেয়েও বাইবেল আরও অধিক কিছু করে। এটি ভবিষ্যতের জন্য এক আশাও প্রদান করে যা সত্যই সান্ত্বনাদায়ক। কিভাবে এটি সত্য, তা দেখার জন্য আমরা আপনাকে পরবর্তী প্রবন্ধগুলি বিবেচনা করতে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।
[৩ পৃষ্ঠার চিত্র সৌজন্যে]
Jobard/Sipa Press