“তাহলে আপনাদের গির্জাটি কোথায়?”
মোজাম্বিকের যিহোবার সাক্ষীদের প্রায়ই এই প্রশ্নটি জিজ্ঞাসা করা হয়। সত্যই, সম্প্রতিকাল পর্যন্ত এই প্রশ্নটির উত্তর দেওয়া অসুবিধাজনক হয়ে এসেছে। এর কারণ হচ্ছে এই দেশে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত যিহোবার সাক্ষীরা আইনত স্বীকৃতি উপভোগ করেনি। তাই, স্পষ্টভাবে উপাসনার জন্য পরিচিত ও প্রতিষ্ঠিত স্থান থাকা সম্ভব ছিল না।
কিন্তু, ১৯৯৪ সালের ১৯শে ফেব্রুয়ারি পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। সেই উত্তপ্ত, রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে, প্রথম দুটি কিংডম হল যা মোজাম্বিকে কখনও তৈরি করা হয়, তা উৎসর্গ করা হয়েছিল। বেইরার এই বন্দর শহরে, যেটি মোজাম্বিকের উপকূলের প্রায় মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ছিল, এই সুন্দর সভাস্থানের উৎসর্গীকরণ অনুষ্ঠানে মোট ৬০২ জন ব্যক্তি এসেছিলেন। সেগুলি ওই শহরের তিনটি মণ্ডলীর প্রয়োজন পূর্ণ করবে।
সম্পূর্ণ প্রকল্পটি, ভিত্তি নির্মাণ থেকে শুরু করে অট্টালিকাটি সম্পূর্ণ করা পর্যন্ত এক বছর দুই মাসের কঠিন পরিশ্রম লেগেছিল। প্রায়ই প্রতিবেশী এলাকা জিম্বাবোয়ে থেকে ৩০ জন বা তারও বেশি স্বেচ্ছাসেবকেরা এসেছিল এবং স্থানীয় সাক্ষীদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছিল। যেহেতু তাদের সকলের জন্য বেইরার মিশনারী গৃহে থাকার জায়গার ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি, যেটি কার্যধারার ভিত্তি হিসাবে কাজ করেছিল, তাই কিছুজন সপ্তাহ শেষে আর কোন কোন ক্ষেত্রে একসাথে সপ্তাহগুলিব্যাপী তারা গৃহের চতুর্পার্শ্বে তাঁবু বানিয়ে বসবাস করেছিল।
মাসাম্বা আর মুনাভার মণ্ডলীগুলির কিংডম হলের স্থান বেইরার প্রধান রাস্তায় অবস্থিত ছিল। এক মিশনারী মন্তব্য করেন “এক ব্যস্ত দিনে যখন কাজ খুব দ্রুতগতিতে চলছিল আর খুব উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হচ্ছিল, আমরা অনেককে প্রায়-দুর্ঘটনা থেকে বাঁচতে দেখি যখন তাদের স্টিয়ারিং হুইল সম্বন্ধে একেবারে ভুলে গিয়ে চালকেরা কিংডম হলের দিকে বিস্মিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে সেই স্থানটি অতিক্রম করত।” অনেকে কাজ দেখবার জন্য থামত আর তারা বিশেষভাবে বিভিন্ন জাতির লোকেদের উপস্থিতি ও তারা একত্রে কাজ করছে দেখে প্রভাবিত হত।
এক বৃহৎ পরিকল্পনা ও সংগঠন কাজটির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল। অন্যান্য অনেক প্রকল্পের বিপরীতে, জগতের এই অংশে, যেখানে উপকরণ ও সম্পদ দুর্লভ, দ্রব্য সরবরাহের অভাবে কিংডম হলের কাজ কখনও সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়নি। একটি পরিস্থিতিতে, ৮০০ বস্তা সিমেন্টের প্রয়োজন ছিল আর যে একমাত্র স্থান যেটি তা সরবরাহ করতে পারত তাদের কাছে সিমেন্ট ভর্তি করার জন্য প্রয়োজনীয় বস্তা ছিল না। ভাইয়েরা রাজধানী মাপুটোতে ওয়াচ টাওয়ার সোসাইটির শাখা দপ্তরে যোগাযোগ করেন; বিমানে করে বস্তা পাঠানো হয়েছিল, সিমেন্ট কারখানা পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ও ভর্তি করা হয়েছিল। অবিচ্ছেদ্যভাবে কাজ এগিয়ে চলেছিল।
অন্য একটি পরিস্থিতিতে, যখন ছাদের কাঠামো লাগানো হচ্ছিল, তখন শ্রমিকদের ইস্পাত পাতের অভাব দেখা দেয়। অত্যন্ত দুর্লভ হওয়ায় প্রকল্পের জন্য ইস্পাত ৬০০ কিলোমিটার দূর থেকে আমদানি করা হয়েছিল! একজন ব্যক্তি যিনি কাজটি লক্ষ্য করছিলেন, একটি শ্রমিক তার কাছে যায় ও জিজ্ঞাসা করে যে কাজটি সম্পূর্ণ করার জন্য কোথায় ইস্পাত পাওয়া যেতে পারে সে সম্বন্ধে তিনি জানেন কি না। সেই ব্যক্তি উত্তর দিয়েছিলেন: “আমি এখানে এক ঘন্টার চেয়েও বেশি সময় দাঁড়িয়ে আছি আর এটি সহসা ঘটেছে এমন নয়। আপনারা যে কাজ করছেন আর এই প্রকল্পের সক্রিয়তাকে আমি সম্মান না করে পারছি না। আমার কাছে কেবলমাত্র সেই ইস্পাত আছে যা আপনাদের প্রয়োজন আর উপহার হিসাবে আপনাদের এটি দেওয়া আমার জন্য আনন্দের বিষয় হবে।” এটি একটি খুবই সময়োপযোগী সরবরাহ হিসাবে প্রমাণিত হয়েছিল।
অনেক প্রত্যক্ষদর্শীরা চিন্তা করেছিলেন যে কোন্ বৃহৎ নির্মাণ ক্ষেত্র এই প্রকল্পের পিছনে ছিল। শ্রমিকেরা অবশ্যই, এটি বলতে খুব খুশি হয়েছিলেন যে তারা ছিলেন যিহোবার সাক্ষী যারা স্বেচ্ছায় তাদের কাজ করে থাকে। বিশেষভাবে কোন্ জিনিসটি প্রত্যক্ষদর্শীদের প্রভাবিত করেছিল? একজন বলেছিলেন “আপনারা ঐক্যবদ্ধ লোক, এমনকি যদিও আপনারা বিভিন্ন জাতির লোক তবুও আপনারা ভাই হিসাবে একত্রে কাজ করেন।” ফল হয়েছিল যে অনেকে বাইবেল অধ্যয়নের জন্য জিজ্ঞাসা করেছিল। সভাগুলির উপরও এর এক প্রভাব ছিল। উদাহরণস্বরূপ, মনগা মণ্ডলীর সভার গড় উপস্থিতি সাক্ষীদের সংখ্যার তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছিল।
স্থানীয় সাক্ষীদের জন্য নতুন কিংডম হল সত্যই এক মহান আশীর্বাদস্বরূপ প্রমাণিত হয়েছে। অধিকাংশই পূর্বে এমন এক প্রাচীন জায়গায় মিলিত হতেন যার ছাদ ছিল ঘাসের অথবা উপরে কিছু টিনের পাত, কোন ব্যক্তিগত ঘরের পিছনের উঠানে অথবা একটি ছোট কামরায়। যখন বৃষ্টি হত তারা প্রায়ই ভিজে যেতেন, তবুও তারা বিশ্বস্ততার সাথে সভাগুলিতে উপস্থিত হতেন। অনেক দশক ধরে এটিই ছিল মোজাম্বিকের সাক্ষীদের জানা একমাত্র “কিংডম হল।” মাসাম্বা মণ্ডলীর এক প্রাচীন ভাই কাইতানু গ্যাব্রিয়েল বলেছিলেন: “আমরা জগদ্ব্যাপী আমাদের ভাইয়েদের প্রতি কৃতজ্ঞ যারা এই প্রকল্পটির বাস্তব রূপায়ণে দান করেছেন।” একজন যুবক সাক্ষী স্মরণ করেছিলেন: “যখন আমরা কারিকুতে ছিলাম (“পুনর্শিক্ষা শিবির” যেখানে যিহোবার সাক্ষীদের আনুমানিক ১২ বছর পর্যন্ত বন্দী করে রাখা হয়েছিল) আমরা বলতাম যে ‘আমরা বিশ্বস্ততার সাথে দৃঢ় থাকব আর যিহোবা আমাদের পুরস্কৃত করবেন।’ নতুন কিংডম হল যিহোবার কাছে থেকে এক পুরস্কারস্বরূপ।” তাদের বাক্যগুলি তাদের অত্যন্ত কৃতজ্ঞতা এবং যিহোবার প্রশংসা করার জন্য তাদের স্থিরসংকল্পকে প্রকাশ করে।
অনেক যুবকেরা যারা নির্মাণ কাজে অংশগ্রহণ করেছিল, অগ্রগামীর আত্মায় পূর্ণ হয়েছিল আর তারপরে নিয়মিত অগ্রগামীর কাজ শুরু করেছিল। মনগো মণ্ডলীর এক নিয়মিত অগ্রগামী যুবতী ইষাবেল উৎসর্গীকরণের আগের দিন নিখুঁতভাবে পরিষ্কার কিংডম হলটি দেখে মন্তব্য করেছিল: “বেইরা শহরে আমার কাছে এটি সবচেয়ে সুন্দর জায়গা। এটি আমার জন্য খুবই আনন্দের বিষয় যে আমি এখানে আছি।” অ্যাডাও কোষ্টা নামে এক মিশনারী ব্যাখ্যা করেছিলেন যে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বিশেষ আমদানি প্রক্রিয়ার অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে খুব সহযোগী ছিলেন, কারণ তারা সাক্ষীদের সততা সম্বন্ধে অবগত ছিলেন। তারপর তিনি আরও বলেছিলেন: “যদিও আমরা খুবই ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম, তবুও যিহোবার সম্মান ও গৌরবের জন্য সম্পাদিত এই সমস্ত কাজের পরিণাম দেখা আনন্দের ছিল।”
এখন, যখনই বেইরা শহরের কোন বন্ধুত্বপরায়ণ বাসিন্দা জিজ্ঞাসা করে, “তাহলে আপনাদের গির্জাটি কোথায়?” তখন সাক্ষীরা তাকে দুইটি কিংডম হলের কোন একটিতে পরিচালিত করে আর এই বাক্যগুলি দ্বারা সাড়া দিয়ে থাকে যেমন “এটি আন্তর্জাতিক রাস্তা, অ্যাভিনিডা একার্ডো ডি লুসাকায় অবস্থিত, ফোর্থ স্কোয়াড্রন পুলিশ স্টেশনের একেবারে সামনে।” এরপর একটি সংশোধনী তারা যুক্ত করে যে, “এটি একটি গির্জা নয়। এটি হল একটি কিংডম হল!”
[Map/Pictures on page 20]
আফ্রিকা
মোজাম্বিক
বেইরা
মাপুটো
[সজন্যে]
Map: Mountain High Maps® Copyright © 1995 Digital Wisdom, Inc.