তাদের সবচেয়ে মহান বন্ধুর দ্বারা বেঁচে থাকা
একটি বন্ধুত্ব বিশেষ করে যিহোবার সাক্ষীদের বাঁচিয়ে রাখে। এটি হল তাদের সবচেয়ে মহান বন্ধু, যিহোবা ঈশ্বরের সাথে তাদের মহামূল্যবান সম্পর্ক। (তুলনা করুন যাকোব ২:২৩.) বিশ্বাসের মহান পরীক্ষায় তিনি তাদের সাহায্য করেন।
একনায়কতন্ত্র শাসনের অধীনে সাক্ষীদের বিশ্বস্ততার রেকর্ড বহু প্রত্যক্ষদর্শীদের দ্বারা প্রশংসিত হয়েছে। এদের মধ্যে একজন হলেন দর্শন ও প্রকৃতি বিজ্ঞানের এক ডাক্তার ইরজি ক্রুপিচ্কা যিনি কমিউনিস্ট কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে বহু বছর কাটানোর পর ১৯৬৮ সালে চেকোশ্লোভাকিয়া থেকে অন্য দেশে যান। তার বই রেনেসাঁস রোসুমু (বুদ্ধির রেনেসাঁস)-তে তিনি তাদের নিরপেক্ষতার জন্য কারারুদ্ধ সাক্ষীদের কষ্টভোগ ও দৃঢ়তার বিষয়ে মন্তব্য করেন।
কমিউনিস্ট সরকারের অধীনে, তাদের বিশ্বাসের জন্য অনেক সাক্ষীকে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়। যদিও তাদের কারারুদ্ধ করা হয়, তবুও তারা যুদ্ধের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত ইউরেনিয়াম খনন করতে প্রত্যাখ্যান করে। (যিশাইয় ২:৪) ক্রুপিচ্কা ১৯৫২ সালে এই খনন করার একটিতে দেখেছিলেন এমন একটি দৃশ্যের বর্ণনা করেন। তিনি দেখেছিলেন নিদারুন কষ্টকর শীতের আবহাওয়ার মধ্যে যেন বরফ দিয়ে ঢাকা দুটি মানুষ দাঁড়িয়ে আছে। ধাতুর ব্যারেলগুলি তাদের মাথাগুলি ও দেহের উপরাংশগুলি ঢেকে আছে।
ক্রুপিচ্কা লেখেন: “ভোর থেকে ছেঁড়া বস্ত্র পরে তারা কারাগারের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল। কিভাবে তারা বরফের উপর দীর্ঘ সময় পা রেখে দাঁড়িয়ে থাকা সহ্য করতে পেরেছিল? বিশ্বাসের শক্তির দ্বারা। ব্যারেলগুলি পুরনো ও মরচে ধরা ছিল। এত প্রবলভাবে এক নিষ্ঠুর ব্যক্তি তাদের মাথা ও কাঁধের উপর সেগুলিকে চালিয়ে দেয় যে ব্যারেলটি তাদের মধ্যে একজনের জ্যাকেট কেটে চামড়া ভেদ করে ভিতরে ঢুকে যায় আর তার হাতা থেকে রক্তের ফোটা পড়তে থাকে।
“রক্ষীটি তাদের সামনে আমাদের দীর্ঘ সারিটিকে থামান আর সেনানায়কটি আমাদের একটি ছোট বক্তৃতা দেন। তিনি বলেন কাজকে প্রত্যাখ্যান করা হল বিদ্রোহ আর সেই অনুসারে এই শাস্তি। যুদ্ধ ও হত্যা করা সম্বন্ধে কোন অন্তঃসারশূন্য আবেগ এই প্রতিরোধকারীদের, সমাজতন্ত্রের এই শত্রুদের সাহায্য করবে না।”
সেনানায়কটি ধাতুর খণ্ডটি তুলে নেয় আর ব্যারেলগুলির একটিতে আঘাত করে। এর ভিতরে লোকটি পড়ে যায়, কিন্তু তখনও ব্যারেলটি তার মাথা ঢেকে রাখে। এরপরে যা ঘটে তা ক্রুপিচ্কার স্মৃতিতে গভীরভাবে ক্ষোদিত হয়ে আছে।
তিনি বর্ণনা করেন: “ব্যারেলগুলির মধ্য থেকে গানের শব্দ ভেসে আসছিল। কোমল স্বর, ঈশ্বরের কাছে ফিসফিস করে প্রার্থনা করা, যিনি যে কোন স্থান থেকে সবকিছু শুনতে পারেন—এমনকি পুরনো, মরচে পড়া ইউরেনিয়াম ব্যারেলগুলি থেকে গান গাওয়ার চেষ্টা। বড় ক্যাথিড্রেলে গাওয়া গানের থেকে এটি তিনি উচ্চস্বরে শোনেন।”
১লা সেপ্টেম্বর, ১৯৯৩ সালে চেক গণতন্ত্রে যিহোবার সাক্ষীদের কাজ সরকারিভাবে আইনত স্বীকৃতি লাভ করে। স্বাধীনভাবে তাদের খ্রীষ্টীয় শিক্ষামূলক কাজকে চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য চেক সাক্ষীরা এখন আনন্দিত। হ্যাঁ, তারা তাদের সবচেয়ে মহান বন্ধু, যিহোবা সম্বন্ধে অন্যদের কাছে বলার জন্য আনন্দিত।
[৭ পৃষ্ঠার চিত্র]
চেক গণতন্ত্রে সম্মেলনকারীরা