ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w৯৬ ২/১ পৃষ্ঠা ১৬-২১
  • ঈশ্বরের রাজ্য—আপনি কি এর অর্থ বুঝতে পারছেন?

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • ঈশ্বরের রাজ্য—আপনি কি এর অর্থ বুঝতে পারছেন?
  • ১৯৯৬ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • রাজ্যের অর্থকে ‘বোঝা’
  • বোধগম্যতার সাথে দায়িত্ব আসে
  • রাজ্যের পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের নিজেদের পরীক্ষা করা
  • “অধার্ম্মিকেরা ঈশ্বরের রাজ্যে অধিকার পাইবে না”
  • ঈশ্বরের রাজ্য সম্বন্ধে যিশু যা শিক্ষা দিয়েছিলেন
    ২০১০ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • ঈশ্বরের রাজ্য সম্বন্ধে সত্য
    প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য সম্বন্ধে ঘোষণা করে (জনসাধারণের সংস্করণ)—২০২০
  • ঈশ্বরের রাজ্য শাসন করে
    জ্ঞান যা অনন্ত জীবনে পরিচালিত করে
  • ঈশ্বরের রাজ্য কি আমাদের হৃদয়ে রয়েছে?
    বাইবেলের প্রশ্নের উত্তর
আরও দেখুন
১৯৯৬ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w৯৬ ২/১ পৃষ্ঠা ১৬-২১

ঈশ্বরের রাজ্য—আপনি কি এর অর্থ বুঝতে পারছেন?

“আর যে উত্তম ভূমিতে উপ্ত, এ সেই, যে সেই বাক্য শুনিয়া তাহা বুঝে।”—মথি ১৩:২৩.

১. “স্বর্গ-রাজ্য” সম্বন্ধে কয়েকটি সাধারণ বিশ্বাস কী?

আপনি কি ঈশ্বরের রাজ্য কী তার অর্থ ‘বোঝেন’? শতাব্দী ধরে “স্বর্গরাজ্য” সম্বন্ধে চিন্তাধারা ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। আজকে গির্জার সদস্যদের মধ্যে সাধারণ বিশ্বাস যে, রাজ্য হল এমন একটি জিনিস যা ঈশ্বর পরিবর্তনের সময়ে এক ব্যক্তির হৃদয়ের মাঝে রেখে দেন। অন্যান্যেরা মনে করে যে এটি হল এমন একটি স্থান যেখানে উত্তম লোকে মৃত্যুর পরে অনন্তকালীন সুখভোগের জন্য যায়। আর অন্যান্যেরা দাবি করে যে ঈশ্বর খ্রীষ্টীয় শিক্ষাগুলিকে সামাজিক ও সরকারি বিষয়গুলির মধ্যে সঞ্চারিত করার দ্বারা পৃথিবীতে রাজ্য নিয়ে আসার বিষয়টি মানুষের উপর ছেড়ে দিয়েছেন।

২. বাইবেল কিভাবে ঈশ্বরের রাজ্যকে ব্যাখ্যা করে এবং এটি কী সম্পাদন করবে?

২ কিন্তু, বাইবেল পরিষ্কারভাবে দেখায় যে ঈশ্বরের রাজ্য পৃথিবীতে কোন প্রতিষ্ঠান নয়। এটি হৃদয়ের কোন পরিস্থিতি নয় বা মানব সমাজকে খ্রীষ্টান করাও নয়। এই রাজ্যটি কী তার সঠিক বোধগম্যতা পরিচালিত করে যারা এর উপর বিশ্বাস স্থাপন করে তাদের জীবনে প্রচুর পরিবর্তন করতে। কিন্তু রাজ্য হল ঐশিকভাবে প্রতিষ্ঠিত স্বর্গীয় সরকার যা পাপ ও মৃত্যু দূর করা এবং পৃথিবীতে ধার্মিক পরিস্থিতি পুনর্স্থাপন করার দ্বারা ঈশ্বরের ইচ্ছা পূর্ণ করে। ইতিমধ্যেই এই রাজ্য স্বর্গে শাসন করতে শুরু করেছে এবং শীঘ্রই “তাহা ঐ সকল [মনুষ্য] রাজ্য চূর্ণ ও বিনষ্ট করিয়া আপনি চিরস্থায়ী হইবে।”—দানিয়েল ২:৪৪; প্রকাশিত বাক্য ১১:১৫; ১২:১০.

৩. যখন যীশু তাঁর পরিচর্যা শুরু করেন তখন মানবজাতির জন্য কী খুলে যায়?

৩ ইতিহাসবেত্তা এইচ. জি. ওয়েল্স লিখেছিলেন: “এই স্বর্গরাজ্য সম্বন্ধীয় মতবাদটি যা যীশুর শিক্ষার প্রধান বিষয় ছিল তা অবশ্যই আমূল পরিবর্তনমূলক মতবাদ যা কখনও মানুষের চিন্তাধারাকে জাগিয়েছিল এবং পরিবর্তন করেছিল, কিন্তু তা খ্রীষ্টীয় ধর্মীয় শিক্ষার ছোট অংশ গ্রহণ করে থাকে।” একেবারে শুরু থেকে যীশুর পরিচর্যার বিষয়বস্তু ছিল: “মন ফিরাও, কেননা স্বর্গ-রাজ্য সন্নিকট হইল।” (মথি ৪:১৭) তিনি অভিষিক্ত রাজা ও একটি মহাআনন্দ হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, মানবজাতির জন্য পথ খুলে যায় শুধুমাত্র সেই রাজ্যের আশীর্বাদগুলিতে অংশ নেওয়ার জন্য নয় কিন্তু সেই রাজ্যে যীশুর সঙ্গে সহশাসক এবং যাজক হওয়ারও পথ খুলে যায়।—লূক ২২:২৮-৩০; প্রকাশিত বাক্য ১:৬; ৫:১০.

৪. প্রথম শতাব্দীতে, কিভাবে বিরাট জনতা “রাজ্যের সুসমাচার” এর প্রতি সাড়া দিয়েছিল এর ফলে কী বিচার তাদের উপর আসে?

৪ যদিও বিরাট জনতা এই রোমাঞ্চকর “রাজ্যের সুসমাচার” শুনেছিল, কিন্তু খুব কমই বিশ্বাস করেছিল। এটি হওয়ার আংশিক কারণ হল যে ধার্মিক নেতারা “মনুষ্যদের সম্মুখে স্বর্গরাজ্য রুদ্ধ” করে দিয়েছিল। তারা তাদের মিথ্যা শিক্ষার দ্বারা “জ্ঞানের চাবি হরণ করিয়া” ছিল। যেহেতু বেশির ভাগ লোকেরা যীশুকে মশীহ এবং ঈশ্বরের রাজ্যের অভিষিক্ত রাজা হিসাবে প্রত্যাখ্যান করেছিল, তাই যীশু তাদের বলেছিলেন: “তোমাদের নিকট হইতে ঈশ্বরের রাজ্য কাড়িয়া লওয়া যাইবে, এবং এমন এক জাতিকে দেওয়া হইবে, যে জাতি তাহার ফল দিবে।”—মথি ৪:২৩; ২১:৪৩; ২৩:১৩; লূক ১১:৫২.

৫. অধিকাংশ যারা যীশুর দৃষ্টান্তগুলি শুনেছিল তারা কিভাবে দেখিয়েছিল যে তারা বোধগম্যতার সাথে শোনেনি?

৫ একবার একটি বিরাট জনতার কাছে শিক্ষা দেওয়ার সময় যীশু তাঁর ধারা অনুযায়ী কয়েকটি দৃষ্টান্তের সাহায্যে জনতাকে পরীক্ষা করেছিলেন যাতে করে যারা রাজ্যের উপর ভাসাভাসা আগ্রহ দেখাচ্ছে তাদের তিনি আলাদা করতে পারেন। প্রথম দৃষ্টান্তটি ছিল যেখানে এক বীজ-বাপক চারটি ভিন্ন ধরনের ভূমিতে বীজ বপন করে। প্রথম তিন ধরনের ভূমি বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য অনুকূল ছিল না কিন্তু শেষটি ছিল ‘উত্তম ভূমি’ যা উত্তম ফল প্রদান করে। এই সংক্ষিপ্ত দৃষ্টান্তটি শেষ হয় এই উৎসাহ দিয়ে: “যাহার কাণ থাকে, সে শুনুক।” (মথি ১৩:১-৯) অধিকাংশ যারা উপস্থিত ছিল তাঁর কথায় কর্ণপাত করেছিল, কিন্তু তারা ‘শোনেনি।’ তাদের মধ্যে প্রেরণা ছিল না, কোন প্রকৃত আগ্রহ ছিল না এই জানতে যে কিভাবে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বপন করা বীজ স্বর্গরাজ্যের মত ছিল। তারা দৈনন্দিন কাজে নিজের বাড়ি ফিরে যায়, সম্ভবত এই চিন্তা করে যে যীশুর দৃষ্টান্তগুলি নৈতিক বিষয়বস্তুসহ ভাল নিছক গল্প মাত্র। তাদের হৃদয় ছিল প্রতিক্রিয়াহীন, তাই বোধগম্যতার গভীরতা ও কতই উত্তম সুযোগ এবং সুবিধাগুলি না তারা হারিয়েছিল!

৬. “স্বর্গ-রাজ্যের নিগূঢ় তত্ত্ব সকল” কেন শুধু যীশুর শিষ্যদের কাছে বোধগম্য হয়েছিল?

৬ যীশু তাঁর শিষ্যদের বলেছিলেন: “স্বর্গ-রাজ্যের নিগূঢ় তত্ত্ব সকল তোমাদিগকে জানিতে দেওয়া হইয়াছে, কিন্তু তাহাদিগকে দেওয়া হয় নাই।” যিশাইয়ের বাক্য উদ্ধৃতি করে, তিনি আরও বলেছিলেন: “‘কেননা এই লোকদের হৃদয় অসাড় হইয়াছে, শুনিতে তাহাদের কর্ণ ভারী হইয়াছে, ও তাহারা চক্ষু মুদ্রিত করিয়াছে, পাছে তাহারা চক্ষে দেখে, আর কর্ণে শুনে, হৃদয়ে বুঝে, এবং ফিরিয়া আইসে, আর আমি তাহাদিগকে সুস্থ করি।’ কিন্তু ধন্য তোমাদের চক্ষু, কেননা তাহা দেখে, এবং তোমাদের কর্ণ, কেননা তাহা শুনে।” (বাঁকা অক্ষরে মুদ্রণ আমাদের।)—মথি ১৩:১০-১৬; মার্ক ৪:১১-১৩.

রাজ্যের অর্থকে ‘বোঝা’

৭. রাজ্যকে ‘বোঝা’ কেন গুরুত্বপূর্ণ?

৭ যীশু সমস্যাটি নির্দিষ্টভাবে দেখিয়ে দেন। এটি রাজ্যের বার্তাকে ‘বোঝার’ সাথে যুক্ত ছিল। তিনি তাঁর শিষ্যদের একাকী বলেছিলেন: “অতএব তোমরা বীজবাপকের দৃষ্টান্ত শুন। যখন কেহ সেই রাজ্যের বাক্য শুনিয়া না বুঝে, তখন সেই পাপাত্মা আসিয়া, তাহার হৃদয়ে যাহা বপন করা হইয়াছিল, তাহা হরণ করিয়া লয়।” (বাঁকা অক্ষরে মুদ্রণ আমাদের।) তিনি ব্যাখ্যা করেন যে চার ধরনের ভূমি প্রতিনিধিত্ব করছে বিভিন্ন ধরনের হৃদয়কে যার মধ্যে “সেই রাজ্যের বাক্য” বপন করা হবে।—মথি ১৩:১৮-২৩; লূক ৮:৯-১৫.

৮. প্রথম তিন ধরনের ভূমিকে “বীজ” উৎপাদন হওয়া থেকে কী বিরত করেছিল?

৮ “বীজ” প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে উত্তম ছিল, কিন্তু ফল নির্ভর করবে ভূমির উপরে। যদি হৃদয়ের ভূমি ব্যস্ত, বিভিন্ন-কাজে পূর্ণ রাস্তা হয়, যা বিভিন্ন আধ্যাত্মিক নয় এমন কাজ দ্বারা শক্ত হয়ে গেছে তখন সেই ব্যক্তি যে রাজ্যের বার্তা শুনছে তার অজুহাত দেখানো সহজ হবে এই বলে যে রাজ্যের জন্য কোন সময় তার নেই। সেই অবহেলিত বীজ শিকড় হওয়ার আগে সহজে হরণ করে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে। কিন্তু বীজ যদি এমন হৃদয়ে বপন করা হয় যা হয়ত পাষাণ হতে পারে? বীজ হয়ত অঙ্কুরিত হতে পারে, কিন্তু খাদ্য ও স্থায়িত্বের জন্য শিকড় গভীরে পৌঁছানোর জন্য কষ্ট হতে পারে। ঈশ্বরের বাধ্য সেবক হওয়ার প্রত্যাশা, বিশেষকরে নির্যাতনের মুখে কঠোর চ্যালেঞ্জস্বরূপ হতে পারে এবং এক ব্যক্তি উঁছোট খাবে। আবার, যদি হৃদয়ের ভূমি কাঁটাবনের উদ্বিগ্নতার দ্বারা অথবা ধনের প্রতি জাগতিক ইচ্ছা দ্বারা পূর্ণ থাকে তাহলে সরু রাজ্যের গাছটি মরে যেতে পারে। এই তিনটি জীবনের পরিস্থিতিতে, কোন ধরনের ফল উৎপাদিত হবে না।

৯. কিন্তু যে বীজ উত্তম ভূমিতে পড়েছিল তা কেন উত্তম ফল উৎপাদন করতে পেরেছিল?

৯ কিন্তু রাজ্যের বীজ যদি উত্তম ভূমিতে বপন করা হয় তাহলে কী হবে? যীশু উত্তর দেন: “আর যে উত্তম ভূমিতে উপ্ত, এ সেই, যে সেই বাক্য শুনিয়া তাহা বুঝে, সে বাস্তবিক ফলবান্‌ হয়, এবং কতক শত গুণ, কতক ষাট গুণ, ও কতক ত্রিশ গুণ ফল দেয়।” (বাঁকা অক্ষরে মুদ্রণ আমাদের।) (মথি ১৩:২৩) রাজ্যের অর্থ ‘বোঝার’ মানে হল যে তারা ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী উত্তম ফল উৎপাদন করবে।

বোধগম্যতার সাথে দায়িত্ব আসে

১০. (ক) যীশু কিভাবে দেখিয়েছিলেন যে রাজ্যের অর্থ ‘বোঝা’ আশীর্বাদ এবং দায়িত্ব উভয়ই নিয়ে আসে? (খ) যীশুর কার্যভার শিষ্যকরণ করা কি শুধু প্রথম শতাব্দীর শিষ্যদের উপর প্রযোজ্য ছিল?

১০ এরপর রাজ্যের বিভিন্ন দিক ব্যাখ্যা করার জন্য আরও ছয়টি দৃষ্টান্ত দেওয়ার পর, যীশু তাঁর শিষ্যদের জিজ্ঞাসা করেন: “তোমরা কি এ সকল বুঝিয়াছ?” (বাঁকা অক্ষরে মুদ্রণ আমাদের।) যখন তারা উত্তর দেয় “হাঁ” বলে, তখন তিনি মন্তব্য করেন: “এই জন্য স্বর্গ-রাজ্যের সম্বন্ধে শিক্ষিত প্রত্যেক অধ্যাপক এমন গৃহকর্ত্তার তুল্য, যে আপন ভাণ্ডার হইতে নূতন ও পুরাতন দ্রব্য বাহির করে।” যীশুর দ্বারা শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ তাঁর শিষ্যদের পরিপক্ব খ্রীষ্টান করে তুলবে যারা তাদের “ভাণ্ডার” থেকে অফুরন্ত সুসমৃদ্ধ আধ্যাত্মিক খাদ্য নিয়ে আসতে পারে। এর মধ্যে বেশির ভাগ ঈশ্বরের রাজ্যের সাথে সম্পর্কযুক্ত। যীশু পরিষ্কার করে দেন যে রাজ্যকে ‘বোঝা’ শুধুমাত্র আশীর্বাদই নয়, কিন্তু দায়িত্বও নিয়ে আসবে। তিনি আদেশ দিয়েছিলেন: “অতএব তোমরা গিয়া সমুদয় জাতিকে শিষ্য কর; . . . আমি তোমাদিগকে যাহা যাহা আজ্ঞা করিয়াছি, সে সমস্ত পালন করিতে তাহাদিগকে শিক্ষা দেও। আর দেখ, আমিই যুগান্ত পর্য্যন্ত প্রতিদিন তোমাদের সঙ্গে সঙ্গে আছি।”—মথি ১৩:৫১, ৫২; ২৮:১৯, ২০.

১১. যখন ১৯১৪ সাল আসে, রাজ্যের সাথে সংযুক্ত কোন্‌ ঘটনাগুলি ঘটে?

১১ যেমন প্রতিজ্ঞা করা হয়েছিল, যীশু তাঁর সত্য শিষ্যদের সাথে সাথে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ছিলেন এবং আজও আছেন। এই শেষকালে তিনি প্রগতিশীলভাবে তাদের বোধগম্যতা দিয়েছেন এবং এই সত্যের আলোকের বৃদ্ধিকে ব্যবহার করার জন্য তাদের দায়িত্ব দিয়েছেন। (লূক ১৯:১১-১৫, ২৬) ১৯১৪ সালে, রাজ্যের ঘটনাগুলি খুব শীঘ্রই ও নাটকীয়ভাবে প্রকাশ পেতে শুরু করে। সেই বৎসরে শুধুমাত্র দীর্ঘ প্রত্যাশিত রাজ্যের “প্রসব”-ই হয়নি, কিন্তু “যুগান্তের” শুরুও ঘটে। (প্রকাশিত ১১:১৫; ১২:৫, ১০; দানিয়েল ৭:১৩, ১৪, ২৭) সত্য খ্রীষ্টানেরা যারা সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি বুঝতে পেরেছে, তারা ইতিহাসে সবচেয়ে মহোত্তর রাজ্য প্রচার এবং শিক্ষাদানের অভিযান চালিয়েছে। যীশু এই বিষয়টি ভাববাণী করে বলেছিলেন: “আর সর্ব্ব জাতির কাছে সাক্ষ্য দিবার নিমিত্ত রাজ্যের এই সুসমাচার সমুদয় জগতে প্রচার করা যাইবে; আর তখন শেষ উপস্থিত হইবে।”—মথি ২৪:১৪.

১২. (ক) আজকের দিনে ব্যাপক রাজ্যের প্রচার কাজের পরিণতি কী হয়েছে? (খ) এই সন্দেহভাজন জগতে, খ্রীষ্টানদের জন্য কোন্‌ বিপদ রয়েছে?

১২ এই বৃহৎ রাজ্যের বিষয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার কাজ ২৩২টির অধিক দেশে পৌঁছেছে। ইতিমধ্যেই, ৫০ লক্ষের বেশি সত্য শিষ্যেরা এই কাজে অংশ নিচ্ছে এবং আরও অন্যদের একত্রিত করা হচ্ছে। কিন্তু যদি আমরা শিষ্যের সংখ্যা পৃথিবীর ৫৬০ কোটি বাসিন্দার সাথে তুলনা করি, এটি প্রতীয়মান হয় যে, ঠিক যীশুর দিনের মত বেশির ভাগ মানবজাতি রাজ্যকে ‘বুঝতে’ পারেনি। অনেকে, যেমন অনুমান করা হয়েছিল, বিদ্রূপ করবে এবং বলবে: “তাঁহার আগমনের প্রতিজ্ঞা কোথায়?” (২ পিতর ৩:৩, ৪) খ্রীষ্টান হিসাবে আমাদের বিপদ হল যে তাদের আত্মসন্তুষ্টি, সন্দেহবাদী, বস্তুবাদী মনোভাব আছে তা আমাদের রাজ্যের সুযোগগুলির উপর ধীরে ধীরে প্রভাবিত করতে পারে। এই জগতের লোকেদের দ্বারা পরিবেষ্টিত হওয়ার দরুন, আমরা সহজেই তাদের কিছু মনোভাব এবং অভ্যাসগুলি গ্রহণ করতে পারি। ঈশ্বরের রাজ্যকে ‘বোঝা’ এবং তা ধরে থাকা কতই না গুরুত্বপূর্ণ!

রাজ্যের পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের নিজেদের পরীক্ষা করা

১৩. রাজ্যের সুসমাচার প্রচারের কার্যভার সম্বন্ধে, কিভাবে আমরা পরীক্ষা করতে পারি যে আমরা বিচক্ষণতার সাথে ‘শুনে’ চলছি?

১৩ যীশু শস্যছেদনের সময় কথা বলেছিলেন যেখানে আমরা বাস করছি: “মনুষ্যপুত্ত্র আপন দূতগণকে প্রেরণ করিবেন; তাঁহারা তাঁহার রাজ্য হইতে সমস্ত বিঘ্নজনক বিষয় ও অধর্ম্মাচারীদিগকে সংগ্রহ করিবেন, . . . তখন ধার্ম্মিকেরা আপনাদের পিতার রাজ্যে সূর্য্যের ন্যায় দেদীপ্যমান হইবে। যাহার কাণ থাকে, সে শুনুক।” (মথি ১৩:৪১, ৪৩) আপনি কি রাজ্য প্রচার এবং শিষ্যকরণের আদেশে বাধ্যতামূলক সাড়া দিয়ে ‘শুনে’ চলেছেন? মনে রাখবেন, “আর যে উত্তম ভূমিতে উপ্ত, এ সেই, যে সেই বাক্য শুনিয়া তাহা বুঝে” এবং ভাল ফল উৎপাদন করে।—মথি ১৩:২৩.

১৪. যখন শিক্ষা দেওয়া হয় কিভাবে আমরা দেখাতে পারি যে, যে উপদেশ আমাদের দেওয়া হয় তার অর্থ আমরা ‘বুঝি’?

১৪ যখন আমরা ব্যক্তিগত অধ্যয়ন করি এবং খ্রীষ্টীয় সভাগুলিতে যোগদান করি, তখন আমাদের ‘বুদ্ধিতে মনোনিবেশ করতে’ হবে। (হিতোপদেশ ২:১-৪) যখন আচরণ, পোশাক-পরিচ্ছদ, সঙ্গীত এবং আমোদপ্রমোদ সম্বন্ধে উপদেশ দেওয়া হয়, আমাদের উচিত সেটিকে হৃদয়ের গভীরে প্রবেশ করানো এবং প্রয়োজনীয় রদবদল করা। কখনও যুক্তি করবেন না, অজুহাত দেখাবেন না অথবা সাড়া দিতে ব্যর্থ হবেন না। যদি রাজ্য আমাদের জীবনে বাস্তব হয়, আমরা তার মান অনুযায়ী চলব এবং উদ্দীপনা সহকারে তা অন্যদের কাছে ঘোষণা করব। যীশু বলেছিলেন: “যাহারা আমাকে হে প্রভু, হে প্রভু বলে, তাহারা সকলেই যে স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করিতে পাইবে, এমন নয়, কিন্তু যে ব্যক্তি আমার স্বর্গস্থ পিতার ইচ্ছা পালন করে, সেই পাইবে।”—মথি ৭:২১-২৩.

১৫. ‘রাজ্য এবং ঈশ্বরের ধার্ম্মিকতার বিষয়ে চেষ্টা করা’ কেন গুরুত্বপূর্ণ?

১৫ মনুষ্য প্রবণতা হল খাদ্য, বস্ত্র এবং বাসস্থানের জন্য উদ্বিগ্ন হওয়া, কিন্তু যীশু বলেছিলেন: “কিন্তু তোমরা প্রথমে তাঁহার [ঈশ্বরের] রাজ্য ও তাঁহার ধার্ম্মিকতার বিষয়ে চেষ্টা কর, তাহা হইলে ঐ সকল দ্রব্যও তোমাদিগকে দেওয়া হইবে।” (মথি ৬:৩৩, ৩৪) প্রাধান্য নির্ধারণের সময়ে রাজ্যকে আপনার জীবনে প্রথমে স্থান দিন। আপনার জীবনকে সাধারণ রাখুন, শুধু প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে সন্তুষ্ট থাকুন। অপ্রয়োজনীয় কার্যকলাপ এবং বস্তু দিয়ে আমাদের জীবন ভরে দেওযা এই যুক্তি করে যে তা করা গ্রহণযোগ্য, কারণ এই জিনিসগুলি করা কোন খারাপ বিষয় নয়, হয়ত বোকামির কাজ হতে পারে। তা হয়ত সত্য হতে পারে, কিন্তু এই অপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলি অর্জন করা এবং তা ব্যবহার করা আমাদের ব্যক্তিগত অধ্যয়ন, খ্রীষ্টীয় সভায় যোগদান এবং প্রচার কাজে যোগদানের তালিকাকে কিভাবে প্রভাবিত করতে পারে? যীশু বলেছিলেন রাজ্য এক বণিকের মত যে “একটী মহামূল্য মুক্তা দেখিতে পাইয়া গিয়া সর্ব্বস্ব বিক্রয় করিয়া তাহা ক্রয় করিল।” (মথি ১৩:৪৫, ৪৬) ঈশ্বরের রাজ্যের প্রতি আমাদেরও এইরূপ মনোভাব থাকা উচিত। আমাদের পৌলকে অনুকরণ করা উচিত দীমাকে নয় “কেননা দীমা এই বর্ত্তমান যুগ ভাল বাসাতে” পরিচর্যাকে ত্যাগ করেছিল।—২ তীমথিয় ৪:১০, ১৮; মথি ১৯:২৩, ২৪; ফিলিপীয় ৩:৭, ৮, ১৩, ১৪; ১ তীমথিয় ৬:৯, ১০, ১৭-১৯.

“অধার্ম্মিকেরা ঈশ্বরের রাজ্যে অধিকার পাইবে না”

১৬. কিভাবে ঈশ্বরের রাজ্যের অর্থ ‘বোঝা’ মন্দ আচরণ করা এড়াতে সাহায্য করবে?

১৬ যখন করিন্থীয় মণ্ডলী অনৈতিকতাকে সহ্য করছিল, পৌল স্পষ্টভাবে বলেছিলেন: “তোমরা কি জান না যে, অধার্ম্মিকেরা ঈশ্বরের রাজ্যে অধিকার পাইবে না? ভ্রান্ত হইও না; যাহারা ব্যভিচারী কি প্রতিমাপূজক কি পারদারিক কি স্ত্রীবৎ আচারী কি পুঙ্গামী কি চোর কি লোভী কি মাতাল কি কটুভাষী কি পরধনগ্রাহী, তাহারা ঈশ্বরের রাজ্যে অধিকার পাইবে না।” (১ করিন্থীয় ৬:৯, ১০) যদি আমরা ঈশ্বরের রাজ্যের অর্থ ‘বুঝি,’ আমরা নিজেদের প্রতারণা করব না এই চিন্তা করে যে যিহোবা কোন এক ধরনের অনৈতিকতা সহ্য করবেন যতক্ষণ আমরা খ্রীষ্টীয় পরিচর্যায় ব্যস্ত থাকব। অপরিচ্ছন্নতা এমনকি আমাদের মধ্যে আলোচিত হওয়াও উচিত নয়। (ইফিষীয় ৫:৩-৫) আপনি কি জগতের মন্দ চিন্তাধারা এবং অভ্যাসগুলি আপনার জীবনে ঢুকতে দেখছেন? তৎক্ষণাৎ তা আপনার জীবন থেকে বার করে দিন! এইসব জিনিসগুলি হারানোর চাইতে রাজ্য হল আরও অধিকতর মহামূল্যবান।—মার্ক ৯:৪৭.

১৭. ঈশ্বরের রাজ্যের প্রতি উপলব্ধিবোধ কোন্‌ কোন্‌ দিক দিয়ে নম্রতাকে বাড়িয়ে তুলবে এবং উঁছোট খাওয়ার কারণগুলি সরিয়ে দেবে?

১৭ যীশুর শিষ্যেরা জিজ্ঞাসা করেছিল: “স্বর্গ-রাজ্যের মধ্যে শ্রেষ্ঠ কে?” যীশু তাদের মধ্যে একটি শিশুকে দাঁড় করিয়ে এর উত্তর দিয়েছিলেন: “আমি তোমাদিগকে সত্য কহিতেছি, তোমরা যদি না ফির ও শিশুদের ন্যায় না হইয়া উঠ, তবে কোন মতে স্বর্গ-রাজ্যে প্রবেশ করিতে পাইবে না। অতএব যে কেহ আপনাকে এই শিশুর মত নত করে, সেই স্বর্গ-রাজ্যে শ্রেষ্ঠ।” (মথি ১৮:১-৬) দাম্ভিক, অতিরিক্ত দাবি করে এখন, যত্নহীন এবং মন্দ ব্যক্তিরা ঈশ্বরের রাজ্যে যাবে না, এমনকি তারা রাজ্যের প্রজাও হতে পারবে না। ভাইয়েদের প্রতি আপনার প্রেম, নম্রতা, আপনার ঈশ্বরীয় ভয় কি প্ররোচনা করে অন্যদের বিঘ্নিত না করার জন্য? অথবা আপনি কি আপনার “অধিকার” এর উপর জোর দিয়ে থাকেন এই চিন্তা না করে যে কিভাবে এই মনোভাব এবং আচরণ অন্যদের প্রভাবিত করতে পারে?—রোমীয় ১৪:১৩, ১৭.

১৮. “যেমন স্বর্গে তেমনি পৃথিবীতেও” যখন ঈশ্বরের রাজ্য তাঁর ইচ্ছা পালন করবে তখন বাধ্য মানবজাতির কী হবে?

১৮ আমাদের স্বর্গীয় পিতা, যিহোবা আমাদের সনির্বন্ধ প্রার্থনার শীঘ্রই উত্তর দেবেন: “তোমার রাজ্য আইসুক, তোমার ইচ্ছা সিদ্ধ হউক, যেমন স্বর্গে তেমনি পৃথিবীতেও হউক।” খুব শীঘ্রই “মেষ” ও “ছাগ”-কে পৃথক করার জন্য শাসনকারী রাজা, যীশু খ্রীষ্ট তাঁর সিংহাসনে বিচার করার অর্থে আসবেন। সেই নিরূপিত সময়ে, “রাজা আপনার দক্ষিণ দিকে স্থিত লোকদিগকে বলিবেন, আইস, আমার পিতার আশীর্ব্বাদ-পাত্রেরা, জগতের পত্তনাবধি যে রাজ্য তোমাদের জন্য প্রস্তুত করা গিয়াছে, তাহার অধিকারী হও।” ছাগেরা “অনন্ত দণ্ডে, কিন্তু ধার্ম্মিকেরা অনন্ত জীবনে প্রবেশ করিবে।” (মথি ৬:১০; ২৫:৩১-৩৪, ৪৬) “মহাক্লেশ” পুরাতন ব্যবস্থাকে এবং যারা রাজ্যের অর্থ ‘বুঝতে’ প্রত্যাখ্যান করেছে তাদের ধ্বংস করে দেবে। কিন্তু লক্ষ লক্ষ ব্যক্তিরা যারা “মহাক্লেশ” পার হবে এবং কোটি কোটি যারা পুনরুত্থান পাবে তারা পুনর্স্থাপিত পাথির্ব পরমদেশে চিরদিনের জন্য রাজ্যের আশীর্বাদগুলির অধিকারী হবে। (প্রকাশিত বাক্য ৭:১৪) রাজ্য হল পৃথিবীর নতুন সরকার, স্বর্গ থেকে শাসন করবে। এটি পৃথিবী এবং মানবজাতির জন্য যিহোবার উদ্দেশ্যকে সম্পাদন করবে, সবকিছুই তাঁর মহান পবিত্র নামের মহিমাতে করা হবে। এই উত্তরাধিকার পাওয়ার জন্য কর্ম, বলিদান এবং অপেক্ষা করা কি যথোচিত নয়? এটিই আমাদের কাছে রাজ্যেকে ‘বুঝার’ অর্থ হওয়া উচিত!

আপনি কিভাবে উত্তর দেবেন?

◻ ঈশ্বরের রাজ্য কী?

◻ কেন যীশুর বেশির ভাগ শ্রোতারা রাজ্যের অর্থ “বুঝে”-নি?

◻ রাজ্যকে ‘বোঝা’ কিভাবে আশীর্বাদ এবং দায়িত্ব উভয়ই নিয়ে আসে?

◻ প্রচারের ক্ষেত্রে, কী দেখায় যে আমরা রাজ্যের অর্থ “বুঝে”-ছি কি না?

◻ কিভাবে আমরা আমাদের আচরণের দ্বারা দেখাতে পারি যে, যে উপদেশ দেওয়া হয়েছে তার অর্থ আমরা ‘বুঝি’ কি না?

[১৭ পৃষ্ঠার চিত্র]

যীশুর শিষ্যরা রাজ্যের অর্থ ‘বুঝেছিল’ এবং উত্তম ফল উৎপাদন করেছিল

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার