একশো বছর বয়স এবং এখনও সক্ষম
রাল্ফ মিচেল দ্বারা কথিত
আমার বাবা যিনি মাঝারি গড়নের লোক ছিলেন, একজন মেথোডিস্ট প্রচারক ছিলেন। তাকে দুই কিংবা তিন বছর অন্তর গির্জা থেকে গির্জা পরিবর্তন করতে হত উত্তরাধিকারসূত্রে বেশির ভাগ ছোট শহরে, যার অন্তর্ভুক্ত অ্যাশভিল, নর্থ ক্যারোলিনা, যুক্তরাষ্ট্রে, যেখানে আমি ১৮৯৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জন্মগ্রহণ করি। তাই আমি খ্রীষ্টীয়জগতের সাথে পরিচিত হয়ে বড় হয়ে উঠি।
আমার মনে আছে যে ছোট বাচ্চা হিসাবে আমাকে পুনর্নবিকরণ সভাগুলিতে “‘শোককারীদের’ বেঞ্চের” দিকে নিয়ে যাওয়া হত, যাতে করে পবিত্র আত্মার দ্বারা পূর্ণ হতে পারি—যেটিকে তারা “ধর্ম পাওয়া” হিসাবে সাধারণত মনে করত। আমাকে পাপের স্বীকার করতে, দশ আজ্ঞা পালন করতে এবং ভাল ব্যক্তি হতে বলা হত। যেন যখন আমার মৃত্যু হবে তখন আমি স্বর্গে যেতে পারি। ‘তাই,’ আমি নিজেকে বললাম, ‘আমার মনে হয় আমি নরকে যাব কারণ স্বর্গে যাওয়ার জন্য আমি কখনও যোগ্য হতে পারব না।’ আমি মনে করতাম যে শুধু প্রাপ্তবয়স্কেরা—বিশেষকরে প্রচারকেরা—বাইবেলের মান অনুযায়ী চলছিল।
কিন্তু, এমনকি আমার কৈশোরাবস্থা থেকে আমি দেখতে পেলাম যে ধর্মেতে ভণ্ডামি রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, আমার বাবা পরিবারের দৈহিক চাহিদা বলি দিতেন যাতে করে তিনি বিশপের অর্থভাণ্ডারে বড় অঙ্কের টাকা জেনেরাল কনফারেন্সে দিতে পারেন। তিনি আশা করতেন যে তা হয়ত তাকে বড় কোন গির্জায় নিযুক্ত করতে সাহায্য করবে। আমার একজন স্থানীয় প্রচারকের কথা মনে আছে যিনিও তুলার চাষ করতেন। তিনি বড় স্থান পেতে উৎসুক ছিলেন, তাই তিনি একশোটি তুলার বেল বিক্রি করে পকেট ভর্তি টাকা নিয়ে কনফারেন্সে যান। শ্রোতাদের—যাদের বেশির ভাগ ছিল প্রচারক—কাছ থেকে যখন তারা সম্পূর্ণ টাকা পেয়ে গেছে বলে মনে করে, তখন এই তুলা-কৃষক দাঁড়িয়ে ওঠে এবং চিৎকার করে: “এই কি সবকিছু টাকা যা তোমরা বিশপকে দিতে চাও? প্রত্যেক প্রচারক যারা পাঁচ ডলার দেবে, আমি তার পরিবর্তে দশ ডলার দেব!” হাজার ডলারের বেশি সংগ্রহ করা হয় এবং বিশপ তাকে আমার বাবার উপরে পরিচালক তত্ত্বাবধায়ক হিসাবে নিযুক্ত করেন। আমি বিশ্বাস করতে পারিনি যে এইধরনের নিযুক্তিকরণ ঈশ্বর থেকে আসে। তারপর থেকে ধর্মের সাথে যুক্ত যে কোন বিষয় সম্বন্ধে আমি সংশয়বাদী হয়ে উঠি।
যখন যুক্তরাষ্ট্র প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে তখন আমাকে নির্বাচিত করা হয়। আমার খুব ভাল করে মনে আছে সামরিক চ্যাপলেনগুলি সৈন্যদলকে প্রচার করছে নিষ্ঠার সাথে নিজের দেশের হয়ে লড়াই করার জন্য, যা আমার ধর্মের প্রতি বিতৃষ্ণা আরও বাড়িয়ে তুলেছিল। আমার লক্ষ্য ছিল বেঁচে থাকা, আমার শিক্ষা শেষ করা এবং তার পরে বিবাহ করা। আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মধ্যে ধর্মের কোন স্থান ছিল না।
মনোভাবের পরিবর্তন
১৯২২ সালে, আমি লুয়িস নামে এক যুবতী মেয়ের প্রেমে পড়ি। ঠিক যেমন ভেবেছিলাম, সে একজন গোঁড়া ক্যাথলিক ছিল এবং যখন আমরা সিদ্ধান্ত নিই বিবাহ করার তখন সে এক ক্যাথলিক বিবাহ চাইছিল। কিন্তু আমি কোন ধরনের ধর্মীয় আচারানুষ্ঠান চাইনি, তাই সে নিউ ইর্য়ক শহরের পৌরসভার হলে বিবাহ করার সম্মতি জানায়।
প্রথমে আমাদের মধ্যে কোন ধর্ম সংক্রান্ত বিবাদ ছিল না। আমি শুধুমাত্র এই বিষয়টি পরিষ্কার করে দিলাম যে ধর্মের উপরে আমার কোন আস্থা নেই এবং আমরা ভালই থাকব যদি এই বিষয়ে কোন উদ্ধৃতি না করা হয়। তারপর, ১৯২৪ থেকে ১৯৩৭ সালের মধ্যে বাচ্চারা জন্ম গ্রহণ করতে শুরু করে—একের পর এক, যতক্ষণ না আমাদের পাঁচটি ছেলে এবং পাঁচটি মেয়ে হয়! লুয়িস চাইছিল যে আমাদের ছেলেমেয়েরা যেন ক্যাথলিক স্কুলে যায়। আমি চাইনি যে তারা কোন ধরনের ধর্মীয় শিক্ষা লাভ করুক, তাই আমরা এই বিষয় নিয়ে তর্ক করি।
১৯৩৯ সালের শুরুতে কিছু বিষয় ঘটে যা আমার ধর্ম সম্বন্ধে চিন্তাধারা পরিবর্তন করে দেয়। হেনরী ওয়েবর এবং হ্যারী পিয়েট, এই দুইজন যিহোবার সাক্ষী আমার বাড়ি, রোসেল, নিউ জারসিতে আসেন। খুব শীঘ্রই আমি বুঝতে পারি যে তারা এমন একটি বিষয় সম্বন্ধে কথা বলতে চান যে বিষয় আমার কোন আগ্রহ নেই তা হল—ধর্ম। আমার বিশ্বাস তখনও তিক্ত ছিল এই কারণের জন্য যে, সামরিক চ্যাপলেনগুলি বলত, ‘তোমার দেশের জন্য যুদ্ধ কর,’ অন্যদিকে ঘরে ফিরে পাদরিরা বলত, ‘তোমরা হত্যা করিও না।’ কী ভণ্ডামি! আমি ভেবেছিলাম যে এই দুই সাক্ষীদের আমি সঠিক পথে নিয়ে আসব। “আপনাদের আমি কিছু বলতে চাই,” আমি তাদের বলি। “যদি আপনাদের ধর্ম সত্য হয়, তাহলে অন্যগুলি সব মিথ্যা। আর যদি তাদের মধ্যে একটি সত্য হয়, তাহলে অবশিষ্ট সবগুলি, যার অন্তর্ভুক্ত আপনারটি, সেটিও ভুল। শুধুমাত্র একটি সত্য ধর্ম হতে পারে।” আমি বিস্মিত হয়ে যাই যখন তারা আমার সাথে একমত হয়!
তারপরে তারা আমাকে আমার বাইবেল নিয়ে আসতে বলে এবং ১ করিন্থীয় ১:১০ পদ খুলতে বলে। সেখানে আমি পড়ি: “কিন্তু হে ভ্রাতৃগণ, আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের নামে আমি তোমাদিগকে বিনয় করিয়া বলি, তোমরা সকলে একই কথা বল, তোমাদের মধ্যে দলাদলি না হউক, কিন্তু এক মনে ও এক বিচারে পরিপক্ব হও।” আমি শাস্ত্রপদটি পড়ে ভাবিত হই। ঠিক একই সাথে আমার মনে হয়েছিল যে এই ব্যক্তিরা আমাকে কোন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সাথে যুক্ত করতে চাইছেন। কিন্তু আমি কিছু শিখেছিলাম—যে খ্রীষ্টানদের মধ্যে দলাদলি থাকা উচিত নয়। আমার মনে অন্য আরও প্রশ্ন আসতে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, মৃত্যুতে প্রাণের কী হয়? এই প্রশ্ন আমি তাদের সাথে আলোচনা করতে কতই না আনন্দিত হব! কিন্তু, আমি মনে করেছিলাম যে তা হয়ত ঘরেতে অতিরিক্ত ধর্মীয় বিবাদ সৃষ্টি করবে।
তারপর তাদের মধ্যে একজন বললেন: “আমরা আপনার কাছে ফিরে এসে পরের সপ্তাহে কথা বলতে চাই।” কৌশলতার সাথে আমি তাদের না বলতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আমার স্ত্রী বলে ওঠে। “রাল্ফ,” সে বলে, “তারা জানতে চাইছেন কখন তারা আবার আসতে পারেন।” এটি আমাকে অবাক করে দেয়, কারণ সে একজন গোঁড়া ক্যাথলিক ছিল! তবুও, আমি চিন্তা করলাম, ‘হয়ত ধর্ম সংক্রান্ত কোন বিষয়ে আমরা একমত হতে পারি।’ তাই আমি পরের শুক্রবার হেনরী ওয়েবর এবং হ্যারী পিয়েটকে ফিরে আসতে বলি।
এইভাবে আমি যিহোবার সাক্ষীদের সাথে বাইবেল অধ্যয়ন করতে শুরু করি। এর কিছুদিন পরেই, আমাকে নিউ ইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে উপস্থিত থাকতে আমন্ত্রণ করা হয়। আমার পরিষ্কারভাবে মনে আছে যোষেফ. এফ. রাদারফোর্ডের বক্তৃতা “সরকার এবং শান্তি,” যা জুন ২৫, ১৯৩৯ সালে দেওয়া হয়। উপস্থিত ১৮,০০০ জনের মধ্যে আমি ছিলাম একজন। আসলে ৭৫,০০০ জন ব্যক্তি এই বক্তৃতা শুনেছিল, যদি আপনি যারা রেডিও-টেলিফোন লাইন দ্বারা যুক্ত ছিল তাদের সংখ্যাও ধরেন।
ঘটনাগুলি নির্বিঘ্নে ঘটেনি। ক্যাথলিক পাদরি চার্লস কগলিন সেই অধিবেশন ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেয় আর যেমন আশা করা হয়েছিল, ভাই রাদারফোর্ডের বক্তৃতার মাঝে শত শত ক্রোধান্বিত লোকেরা চিৎকার করে এই স্লোগানগুলি, “হেইল হিটলার!” আর “ভিভা ফ্রাঙ্কো!” বলতে থাকে। এত বেশি উত্তেজনা ছিল যে দাঙ্গা হাঙ্গামা টেলিফোন লাইনেও শোনা যাচ্ছিল! আসন দেখিয়ে দেয় এমন ব্যক্তির পক্ষে জনতাকে শান্ত করতে ১৫ মিনিট লাগে। এই সময়ে, ভাই রাদারফোর্ড ভয় না পেয়ে বক্তৃতা চালিয়ে যাচ্ছিলেন এবং শ্রোতাবর্গেরা তাকে বারে বারে প্রশংসা করে সমর্থন জানাচ্ছিল।
এখন আমি খুব কৌতূহলী হয়ে যাই। কেন একজন ক্যাথলিক পাদরি যিহোবার সাক্ষীদের বিরুদ্ধে এতখানি ঘৃণা জাগিয়ে তুলবে? আমি বুঝতে পারলাম যে রাদারফোর্ড যা প্রচার করছিলেন এর পিছনে কোন কিছু আছে—এমন একটি জিনিস যা পাদরিবর্গ আমাদের মত লোকেদের তা শুনতে দিতে চাইছিল না। তাই আমি বাইবেল অধ্যয়ন করা চালিয়ে যাই এবং উন্নতি করতে থাকি। অবশেষে, অক্টোবর ১৯৩৯ সালে, আমি জলেতে বাপ্তিস্ম নেওয়ার দ্বারা যিহোবার কাছে আমার উৎসর্গীকরণ চিহ্নিত করি। তার পরের বছরে আমার কিছু ছেলে ও মেয়েরা বাপ্তিস্ম নেয় আর আমার স্ত্রী লুয়িস ১৯৪১ সালে বাপ্তিস্ম নেয়।
সমস্যার মোকাবিলা করা
সত্য গ্রহণ করার ঠিক পরেই, আমার মা মারা যায় এবং আমাকে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্য উত্তর ক্যারিলিনাতে যেতে হয়। আমি মনে করলাম যে শুদ্ধ বিবেক নিয়ে মেথোডিস্ট গির্জার ভিতরে অনুষ্ঠিত অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সভায় যোগদান করতে পারি না। তাই সেখানে যাওয়ার আগে আমি আমার বাবাকে ফোন করি এই বলতে যে কফিনটিকে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ঘরেতে রাখতে। তিনি সম্মতি জানান, কিন্তু যখন আমি সেখানে পৌঁছাই তারা ততক্ষণে গির্জার উদ্দেশ্যে চলে গিয়েছিল এই চিন্তা করে যে সেখানে আমি তাদের সাথে নিশ্চয়ই যোগদান করব।
আমি যাইনি এবং বিষয়টি আমার পরিবারে এক আলোড়ন সৃষ্টি করে। যদিও আমার ছোট বোন এডনার সাথে উত্তম সম্পর্ক ছিল, কিন্তু মায়ের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার পর সে আমার সাথে কথা বলতে অস্বীকার করে। আমি চিঠি লিখি, কিন্তু সে তার উত্তর দিত না। প্রত্যেক গ্রীষ্মকালে এডনা নিউ ইয়র্কের সিটি কলেজে শিক্ষিকাদের শিক্ষাকার্যক্রমে আসত, আমি তার সাথে দেখা করার চেষ্টা করি। কিন্তু সে আমার সাথে দেখা করতে অস্বীকার করত এই বলে যে, সে ব্যস্ত আছে। অবশেষে আমি হাল ছেড়ে দিই, কারণ আমার মনে হচ্ছিল যে আমি তাকে বিরক্ত করছি। অনেক বছর কেটে যাওয়ার পর আমি তার কাছ থেকে খবর পাই।
পতাকাকে অভিবাদন করা প্রত্যাখ্যান করার জন্য আমার ছয়টি ছেলেমেয়েকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয়, ঠিক যেমন যুক্তরাষ্ট্রের ও ক্যানাডার অন্যান্য ছেলেমেয়েদের করা হয়েছিল। বৈধ শিক্ষা পাওয়ার জন্য সাক্ষীরা তাদের নিজেদের স্কুল খোলে যাকে কিংডম স্কুল বলা হত। লেকউড, নিউ জারসির এক প্রাক্তন হোটেল ছিল স্কুলের স্থান যেখানে আমার ছেলেমেয়েরা যোগদান করত। কিংডম হল, স্কুল ক্লাসরুম, রান্নাঘর এবং খাবার ঘর দোতলাতে ছিল। মেয়েদের থাকার স্থান ছিল তিনতলায় এবং ছেলেদের ছিল চারতলায়। এটি একটি উত্তম স্কুল ছিল। বেশির ভাগ ছেলেমেয়েরা যারা সেখানে থাকত তারা সপ্তাহের শেষে বাড়িতে যেত। আর যারা আরও দূরে থাকত তারা দুই সপ্তাহ পর বাড়িতে যেত।
আমার সত্য শেখার পর প্রাথমিক বছরগুলিতে আমার অগ্রগামী—যিহোবার সাক্ষীদের পূর্ণ সময়ের প্রচারকদের যে নামে ডাকা হয়—হওয়ার প্রবল ইচ্ছা ছিল। ১৯৪১ সালে সেন্ট. লুয়ি, মিসৌরি, একটি ভাই যিনি কার্যক্রমে ছিলেন বলেন যে তিনি ১২টি ছেলেমেয়েদের বড় করার সাথে কিভাবে অগ্রগামীর কাজ করতে পেরেছিলেন। আমি চিন্তা করি ‘যদি ১২টি ছেলেমেয়ে নিয়ে তিনি অগ্রগামীর কাজ করতে পারেন তাহলে আমি ১০টি নিয়ে অগ্রগামীর কাজ করতে পারব।’ কিন্তু, আমার পরিস্থিতি আমাকে ১৯ বছর পর পর্যন্ত অগ্রগামীর কাজ করার অনুমতি দেয়নি। পরিশেষে, অক্টোবর ১, ১৯৬০ সালে, আমি নিয়মিত অগ্রগামী হিসাবে যিহোবার সেবা করতে শুরু করি।
এক বিস্ময়কর পরিদর্শন
১৯৭৫ সালে আমি আমার বোন এডনার কাছ থেকে একটি ফোন পাই। আমার বয়স তখন ৮০ বছর এবং ২০ বছর ধরে আমি তার মুখ দেখিনি এবং গলার স্বর শুনিনি। সে এয়ারপোর্ট থেকে ফোন করছিল এবং তাকে ও তার স্বামীকে নিয়ে আসতে বলছিল। এডনাকে দেখে আমি খুব খুশি হয়েছিলাম, কিন্তু এর থেকে আরও বিস্ময়কর ব্যাপার আসতে চলেছিল। বাড়ি আসার সময়ে তার স্বামী বলেন, “একজন ধর্মান্তরিত ব্যক্তি রয়েছে।” তিনি যা বলছিলেন আমি তা বুঝতে পারিনি। যখন তিনি বাড়িতে আসেন, আবার তিনি বলেন “এখানে একজন ধর্মান্তরিত ব্যক্তি রয়েছে।” আমার স্ত্রী শীঘ্রই বুঝতে পারে। আমার বোনের দিকে তাকিয়ে, সে জিজ্ঞাসা করে, “এডনা, তুমি কি একজন সাক্ষী?” “হ্যাঁ,” এডনা উত্তর দেয়।
কিভাবে এডনা সত্য গ্রহণ করে? ১৯৭২ সালে, আমাদের বিচ্ছিন্ন সম্পর্ক ঠিক করার জন্য, আমি উপহারস্বরূপ প্রহরীদুর্গ এর গ্রহকভুক্তি তাকে পাঠাই। এক বছর পরে, এডনা অসুস্থ হয়ে পড়ে যার ফলে তাকে ঘরেতে থাকতে হয়। এই পত্রিকাগুলি তখনও টেবিলের উপরে মলাট মোড়া অবস্থায় ছিল। কৌতূলহবশত এডনা একটি খোলে এবং পড়তে শুরু করে। একটি পত্রিকা পড়ার পর, সে নিজেকে বলে, ‘এটাই হল সত্য!’ যিহোবার সাক্ষী তার বাড়িতে আসার আগে, সে তাকে পড়ে থাকা সমস্ত প্রহরীদুর্গ পত্রিকাগুলি পড়ে ফেলেছিল। সে বাইবেল অধ্যয়ন গ্রহণ করে এবং কালক্রমে একজন যিহোবার সাক্ষী হয়।
ক্ষতির সাথে মোকাবিলা করা
পরে আমার স্ত্রী লুয়িসের, ডায়বেটিস রোগ হয় এবং তার পরিস্থিতি এত খারাপ হয় যে ৮২ বছর বয়সে ১৯৭৯ সালে সে মারা যায়। যখন লুয়িস মারা যায়, আমার একটি অংশ তার সাথে মারা যায়। আমার সম্পূর্ণ জগৎ মন্থর হয়ে যায়। আমি কী করব বুঝতে পারছিলাম না। আমার ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে কোন পরিকল্পনা ছিল না এবং উৎসাহের আমার খুব প্রয়োজন ছিল। এক ভ্রমণ অধ্যক্ষ, রিচার্ড স্মিথ আমাকে অগ্রগামীর কাজ চালিয়ে যেতে উৎসাহ দেন। আমি দেখতে পাই যে আমার সবচেয়ে বড় সান্ত্বনা ছিল অন্যদের সান্ত্বনা দেওয়া যারা তাদের প্রিয়জনকে মৃত্যুতে হারিয়েছে।
১৯৭৯ সালে ওয়াচ টাওয়ার সোসাইটি ইস্রায়েলে ভ্রমণের আয়োজন করছিল, তাতে আমি যোগ দিই। এই ভ্রমণটি আমাকে অনেক উদ্দীপনা দান করে এবং যখন আমি বাড়ি ফিরে আসি আমি অগ্রগামীর পরিচর্যায় ফিরে যাই। সেই বছর থেকে, দেশের অন্য ভাগে অবস্থিত অনিয়োজিত ও বিরল এলাকাগুলিতে কাজ করার দ্বারা সাহায্য করার লক্ষ্য রেখেছি। বয়স হওয়া সত্ত্বেও এই বিশেষ সুযোগের জন্য আমি নিজেকে প্রাপ্তলভ্য করতে পেরেছি।
আমার অনুমান যে, বিগত বছরগুলিতে আমি প্রায় ৫০ জন ব্যক্তিকে জীবনের পথে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সাহায্য করে আনন্দ লাভ করেছি। আমার বেশির ভাগ ছেলেমেয়েরা সত্যে রয়েছে। মেয়েদের মধ্যে দুজন নিয়মিত অগ্রগামী রূপে সেবা করছে। আরেকটি মেয়ে, লুয়ি ব্লান্টান, ব্রুকলিন, নিউ ইয়র্কে, যিহোবার সাক্ষীদের প্রধান কার্যালয়ে তার স্বামী, জর্জের সাথে কাজ করে এবং আমার একটি ছেলে অনেক বছর ধরে প্রাচীন হিসাবে সেবা করে আসছে।
অবশ্য, আমাদের প্রথম মনুষ্য পিতামাতার কাছ থেকে উত্তরাধিকারী সূত্রে পাওয়া অসিদ্ধতার হেতু আমরা সকলেই রোগ ও মৃত্যুর বশীভূত। (রোমীয় ৫:১২) অবশ্যই আমার জীবনও ব্যথা ও বেদনা মুক্ত ছিল না। বর্তমানে আমি আমার বাঁ পায়ে আথ্রাইটিস রোগে কষ্ট পাচ্ছি। এক এক সময় এটি খুবই অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে, কিন্তু তা আমার চলাফেরা করাকে থামাতে পারেনি। আর আমি প্রার্থনা করি যাতে এটি তা না করে। আমি কাজ করে যেতে চাই। আমার সবচাইতে প্রধান ইচ্ছা হল শেষ পর্যন্ত যেন আমি অগ্রগামীর কাজ করে যেতে পারি, আমার সাধ্য মত যিহোবার নাম ও উদ্দেশ্য যেন জানাতে পারি।
[২৩ পৃষ্ঠার চিত্র]
আমার মেয়ে রীতার সাথে