পাঠকদের থেকে প্রশ্নসকল
শিষ্য যাকোব কী বোঝাতে চেয়েছিলেন যখন তিনি বলেছিলেন: “হে আমার ভ্রাতৃগণ, অনেকে উপদেশক হইও না; তোমরা জান, অন্য অপেক্ষা আমাদের ভারী বিচার হইবে”?—যাকোব ৩:১.
নিশ্চয়ই যাকোব অন্যদের সত্য শেখানো থেকে খ্রীষ্টানদের নিরুৎসাহিত করছিলেন না। মথি ২৮:১৯, ২০, পদে যীশু তাঁর শিষ্যদের আদেশ দিয়েছিলেন “সমুদয় জাতিকে শিষ্য কর; . . আমি তোমাদিগকে যাহা যাহা আজ্ঞা করিয়াছি, সে সমস্ত পালন করিতে তাহাদিগকে শিক্ষা দেও।” সুতরাং, প্রত্যেক খ্রীষ্টানকে শিক্ষক হতে হবে। প্রেরিত পৌল ইব্রীয় খ্রীষ্টানদের উপদেশ দিয়েছিলেন কারণ তখনও তারা শিক্ষক হয়ে ওঠেনি। তিনি লিখেছিলেন: “এত কালের মধ্যে শিক্ষক হওয়া তোমাদের উচিত ছিল, কিন্তু কেহ যে তোমাদিগকে ঈশ্বরীয় বচনকলাপের আদিম কথার অক্ষরমালা শিক্ষা দেয়, ইহা তোমাদের পক্ষে পুনর্ব্বার আবশ্যক হইয়াছে।”—-ইব্রীয় ৫:১২.
তাহলে, যাকোব কী বিষয় বলছিলেন? তিনি মণ্ডলীতে শিক্ষাদানের সাথে যে বিশেষ সুযোগগুলি আছে সেগুলির প্রতি ইঙ্গিত করছিলেন। ইফিষীয় ৪:১১ পদে আমরা পড়ি: “তিনিই [মণ্ডলীর মস্তক, যীশু খ্রীষ্ট] কয়েক জনকে প্রেরিত, কয়েক জনকে ভাববাদী, কয়েক জনকে সুসমাচার-প্রচারক ও কয়েক জনকে পালক ও শিক্ষাগুরু করিয়া দান করিয়াছেন।” প্রথম শতাব্দীর মণ্ডলীগুলিতে শিক্ষাদানের বিশেষ সুযোগগুলি ছিল যেমন আজকের দিনেও আছে। উদাহরণস্বরূপ, পরিচালক গোষ্ঠী প্রতিনিধিত্ব করছে ‘বিশ্বস্ত ও বুদ্ধিমান্ দাসকে’ এবং পৃথিবীব্যাপী মণ্ডলীগুলির শিক্ষা পরিচালনার ক্ষেত্রে বিশেষ দায়িত্ব পালন করছে। (মথি ২৪:৪৫) ভ্রমণ অধ্যক্ষ এবং মণ্ডলীর প্রাচীনদেরও শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ দায়িত্বাদি আছে।
যাকোব কি তাহলে যোগ্য খ্রীষ্টীয় ব্যক্তিদের বলছিলেন যে, তারা ঈশ্বরের ভারী বিচারের ভয়ে শিক্ষকের ভূমিকা গ্রহণ করবেন না? নিশ্চয়ই নয়। প্রাচীনের পদ হল একটি বিশেষ সুযোগস্বরূপ, যেমন ১ তীমথিয় ৩:১ পদে নির্দেশ করা হয়েছে, যেটি বলে “যদি কেহ অধ্যক্ষপদের আকাঙ্ক্ষী হন, তবে তিনি উত্তম কার্য্য বাঞ্ছা করেন।” মণ্ডলীতে প্রাচীন হিসাবে নিযুক্ত হওয়ার জন্য একটি আবশ্যকীয় বিষয় হল, সেই ব্যক্তিকে “শিক্ষাদানে নিপুণ” হতে হবে। (১ তীমথিয় ৩:২) যাকোব পৌলের অনুপ্রাণিত বাক্যকে অস্বীকার করেননি।
কিন্তু, মনে হয় যে, সা.শ. প্রথম শতাব্দীতে কিছু ব্যক্তি নিজেদের শিক্ষক হিসাবে নিযুক্ত করেছিল, যদিও তারা যোগ্য ছিল না এবং তাদের মনোনীত করা হয়নি। সম্ভবত, তারা মনে করেছিল এই ভূমিকায় কিছু বিশিষ্টতা আছে এবং তারা নিজেদের গৌরব চেয়েছিল। (তুলনা করুন মার্ক ১২:৩৮-৪০; ১ তীমথিয় ৫:১৭.) প্রেরিত যোহন দিয়ত্রিফি সম্পর্কে উল্লেখ করেছিলেন, যে ‘প্রাধান্য পেতে পছন্দ করত এবং যোহনকে গ্রাহ্য করেনি।’ (৩ যোহন ৯) প্রথম তীমথিয় ১:৭ পদ এমন কিছু ব্যক্তিদের সম্পর্কে বলে যারা ‘ব্যবস্থার শিক্ষক হইতে চাহিয়াছিল, অথচ যাহা বলিয়াছিল, ও যাহার বিষয়ে দৃঢ় নিশ্চয় ভাবে কথা কহিয়াছিল তাহা বুঝে নাই।’ যাকোব ৩:১ পদের বাক্যগুলি তাই সেইসব ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে প্রযোজ্য যারা মন্দ উদ্দেশ্য নিয়ে শিক্ষক হতে চায়। এইধরনের ব্যক্তিরা পালের পক্ষে গুরুতরভাবে ক্ষতিকর এবং তাই ভারী বিচার পাবে।—রোমীয় ২:১৭-২১; ১৪:১২.
যাকোব ৩:১ পদ তাদের জন্যও এক উত্তম অনুস্মারক যারা উপযুক্ত ও শিক্ষক রূপে পরিচর্যা করেন। যেহেতু তাদের উপর বেশি দত্ত হয়েছে, তাই তাদের কাছ থেকে বেশি দাবি করা হবে। (লূক ১২:৪৮) যীশু বলেছিলেন: “মনুষ্যেরা যত অনর্থক কথা বলে, বিচার-দিনে সেই সকলের হিসাব দিতে হইবে।” (মথি ১২:৩৬) এটি বিশেষভাবে সেইসব ব্যক্তিদের প্রতি প্রযোজ্য যাদের কথা খুবই প্রভাব বিস্তারকারী অর্থাৎ নিযুক্ত প্রাচীন।
যিহোবার মেষদের সাথে যেভাবে ব্যবহার করবে তার জন্য প্রাচীনদের নিকাশ দিতে হবে। (ইব্রীয় ১৩:১৭) তারা যা বলে তা জীবনকে প্রভাবিত করে। সুতরাং, একজন প্রাচীন তার নিজস্ব মতকে প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রে অথবা মেষেদের প্রতি অপব্যবহার করার ক্ষেত্রে যেমন ফরীশীরা করত সেই বিষয়ে সতর্ক হবেন। তিনি যীশুর মতো একই রকম গভীর প্রেম দেখাতে সচেষ্ট থাকবেন। শিক্ষা দেওয়ার প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে এবং বিশেষকরে বিচার সংক্রান্ত বিষয়ের ক্ষেত্রে একজন প্রাচীন সতর্কতার সাথে তার কথার মূল্যায়ণ করবেন, সাবলীলভাবে কথা বলবেন না অথবা সম্পূর্ণ নিজস্ব ধারণা ব্যক্ত করবেন না। যিহোবা, তাঁর বাক্য এবং সংগঠনের মাধ্যমে দেওয়া তাঁর নির্দেশনার প্রতি সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল হলে একজন পালক “ভারী বিচার নয়” বরং ঈশ্বরের প্রচুর আশীর্বাদ পাবেন।