জগদ্ব্যাপী যিহোবার সাক্ষীবৃন্দ—ভারতবর্ষ
ভারতবর্ষ! এই বিশাল উপমহাদেশটি হল এই পৃথিবীর প্রতি ৬ জন ব্যক্তির ১ জনের বাসগৃহ। মোট, ১,০০০ এরও বেশি ভাষা ও আঞ্চলিক ভাষাগুলি এই বৈচিত্র্যপূর্ণ ভূ-ভাগের লোকেরা ব্যবহার করে থাকে। লোকেরা প্রধানত হিন্দু ধর্মাবলম্বী এবং তারা ৮৩ শতাংশ, বাকি ১১ শতাংশ মুসলিম, অবশিষ্ট শিখ, বৌদ্ধ, জৈন এবং নামমাত্র খ্রীষ্টান দ্বারা গঠিত।
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারতে যিহোবার সাক্ষীরা অভূতপূর্ব সাফল্য উপভোগ করেছে। তারা মেষতুল্য ব্যক্তিদের খুঁজে পেয়েছে, যারা সমস্ত রকম চাপ ও বিরোধিতা সত্ত্বেও যিহোবার রাজ্যের পক্ষে দাঁড়াতে স্বেচ্ছায় দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়েছে।
উদাহরণস্বরূপ, এক গোঁড়া হিন্দু পরিবারের একটি মেয়ে যে ছেলেবেলা থেকেই পোলিও হওয়ায় পঙ্গু ছিল। যে কষ্ট সে ভোগ করছিল তা তাকে ঈশ্বর এবং জীবনের উদ্দেশ্য সম্বন্ধে চিন্তা করতে প্রবৃত্ত করে। উত্তর পাওয়ার জন্য সে অনেক ধর্ম পরীক্ষা করে, কিন্তু সে কোন সান্ত্বনা খুঁজে পায়নি। ফলস্বরূপ, ঈশ্বর নয়, কিন্তু ধর্মগুলির প্রতি সে তার বিশ্বাস হারিয়ে ফেলে।
এই সময়ে দুজন সাক্ষীর, তাদের গৃহ থেকে গৃহে পরিচর্যার সময় এই মেয়েটির সাথে সাক্ষাৎ হয়। সে স্মরণ করে “আমি কান্নায় ভেঙে পড়েছিলাম যখন আমি তাদের প্রকাশিত বাক্য ২১:৪, পদটি পড়তে শুনেছিলাম।” সে ওয়াচ টাওয়ার সোসাইটির অনেক প্রকাশনা গ্রহণ করে এবং তার মায়ের বিরোধিতা সত্ত্বেও সে গৃহ বাইবেল অধ্যয়ন করতে সম্মত হয়। মেয়েটি তার জীবনে অনেক পরিবর্তন করে, সাহসের সাথে আত্মীয়দের পক্ষ থেকে আসা বিরোধিতার মোকাবিলা করে এবং একজন বাপ্তিস্মিত সাক্ষী হয়। সে বলে: “আমাকে অনেক উন্নতি করে এই পর্যায়ে পৌঁছাতে হয়েছে আর এটি খুব কঠিন কাজ ছিল। কিন্তু যিহোবা ঈশ্বর সর্বদা আমার সাথে থেকেছেন এবং আমাকে প্রচুর শান্তি ও আনন্দ দিয়েছেন।”
বিদ্যালয়ে শুদ্ধ উপাসনার পক্ষে দৃঢ়
একজন অল্পবয়স্ক বোনকে তার শিক্ষিকা শ্রেণীর অন্যান্যদের সাথে ক্যাথলিক গির্জায় যেতে বলেছিলেন। সেই বোনটি নম্রভাবে এই বলে তা প্রত্যাখ্যান করে যে, সে একজন যিহোবার সাক্ষী এবং একমাত্র যিহোবা ছাড়া সে অন্য কাউকে বা কোনকিছুকে উপাসনা করবে না। শিক্ষিকাটি বলেন যেহেতু অন্যান্য সকলে গির্জায় যাচ্ছে, তাই তাকেও যেতে হবে। কিন্তু বোনটি দৃঢ় পদক্ষেপ নেয় এবং বলে যে যেহেতু যারা গির্জায় যায় তাদের কেউই যিহোবার কাছে প্রার্থনা করে না, তাই সে জানে যে, সে সেখানে উপস্থিত থাকতে পারে না।
সেই মেয়েটির দৃঢ়তার জন্য, শিক্ষিকাটি তার বিশ্বাস সম্পর্কে আরও জানতে চান। সুতরাং, পরের দিন বোনটি শিক্ষিকাটিকে যিহোবার উপাসনা সম্বন্ধে প্রহরীদুর্গ এর একটি প্রবন্ধ পড়তে দেয়। তিনি যা পড়েছিলেন তার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে, শিক্ষিকাটি তারপর থেকে তাকে বিদ্যালয়ের সমস্ত ধর্মীয় ক্রিয়াকলাপ থেকে অব্যাহতি দেন। বোনটি সেই শিক্ষিকা ও অন্যান্য শিক্ষিকাদের কাছে দশটি পত্রিকা অর্পণ করতে পেরেছিল।
রক্ত সম্বন্ধীয় ঈশ্বরের নিয়মের প্রতি বাধ্যতা পুরস্কৃত হয়
সম্প্রতি কেরালার কিছু অংশে এক ভাইরাস ঘটিত জ্বর মহামারীর আকার ধারণ করে। এই রোগটি কিডনিকে ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং যার ফলে ডায়ালিসিস করার প্রয়োজন হয়। সাধারণভাবে রক্ত গ্রহণের চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়। একটি শহরে ১৪ জন এই রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। এই রুগীদের একজন ছিলেন যিহোবার সাক্ষী, স্থানীয় মণ্ডলীর একজন প্রাচীন। তাকে বলা হয়েছিল রক্ত গ্রহণ করা হচ্ছে একমাত্র সহজলভ্য চিকিৎসা। প্রাচীনটি তার শাস্ত্রীয় বিশ্বাস ব্যাখ্যা করেন এবং দৃঢ়ভাবে রক্ত নেওয়া প্রত্যাখ্যান করেন। (প্রেরিত ১৫:২৮, ২৯) অনেক বিতর্কের পর চিকিৎসক বলেন রক্ত গ্রহণ করাকে প্রত্যাখ্যান করার কারণে তার মৃত্যু ঘটবে।
অন্য ১৩ জন রুগী রক্ত গ্রহণ করে। দুঃখের বিষয়, তাদের সকলে কিছু দিনের মধ্যে মারা যায়। সেই ভাইটি ছিলেন একমাত্র যিনি রক্ষা পান! হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ খুব আশ্চর্য হন। চিকিৎসা কর্মীরা মণ্ডলীর অন্যান্য সদস্যদের নিয়মিত পরিদর্শনে খুবই প্রভাবিত হন। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর ভাই চিকিৎসকদের ধন্যবাদ দেওয়ার জন্য যান, কিন্তু তারা বলেন: “আপনি কেন আমাদের ধন্যবাদ দিচ্ছেন? আপনার ঈশ্বর যিহোবাকে ধন্যবাদ দিন। একমাত্র তিনিই আপনাকে রক্ষা করেছেন। দয়া করে আমাদের জন্যও আপনার ঈশ্বর যিহোবার কাছে প্রার্থনা করুন।”
[২৪ পৃষ্ঠার বাক্স]
দেশের পরিলেখ
১৯৯৪ সালের পরিচর্যা বছর
সাক্ষ্যদানের শীর্ষ সংখ্যা: ১৪,২৭১
অনুপাত: প্রতি ৬৫,২৬৬ জনের জন্য ১ জন সাক্ষী
স্মরণার্থক সভায় উপস্থিতি: ৩৮,১৯২
অগ্রগামী প্রকাশকের গড়: ১,৭৮০
বাইবেল অধ্যয়নের গড়: ১২,৪৫৩
বাপ্তাইজিতের সংখ্যা: ১,৩১২
মণ্ডলীর সংখ্যা: ৪১০
শাখা অফিস: লোনাভালা
[২৫ পৃষ্ঠার চিত্র]
শাখা অফিস, লোনাভালা
[২৫ পৃষ্ঠার চিত্র]
১৯৬৩ সালের “অনন্তকালীন সুসমাচার” সম্মেলন সম্পর্কে সাক্ষ্যদান
[২৫ পৃষ্ঠার চিত্র]
দিল্লীর রেড ফোর্টের বাইরে এক বিক্রেতার কাছে প্রচার