ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w৯৫ ৯/১ পৃষ্ঠা ৩-৪
  • সীমিত স্বাধীনতার এক চওড়া পথ

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • সীমিত স্বাধীনতার এক চওড়া পথ
  • ১৯৯৫ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • জীবনের পরিবর্তিত ধারা
  • প্রকৃতই একটি চওড়া পথ
  • প্রশস্ত পথটি ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়
  • স্বাধীনতার সংকীর্ণ পথটি
    ১৯৯৫ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • ক্রমাগত যিশুর কথা শুনুন
    প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য সম্বন্ধে ঘোষণা করে (অধ্যয়ন)—২০২১
  • যিহোবার সাক্ষিরা কি বিশ্বাস করে যে, শুধু তারাই একমাত্র সত্য ধর্ম পালন করে?
    যিহোবার সাক্ষিদের সম্বন্ধে প্রায়ই জিজ্ঞাস্য প্রশ্ন
  • সব ধর্মই কি ঈশ্বরের কাছে আসার বিভিন্ন পথ মাত্র?
    ২০০১ সচেতন থাক!
আরও দেখুন
১৯৯৫ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w৯৫ ৯/১ পৃষ্ঠা ৩-৪

সীমিত স্বাধীনতার এক চওড়া পথ

তিনজন সদস্যের একটি পরিবার—পিতা, মাতা এবং তাদের ছোট কন্যাটি অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে—যখন তাদের বাড়িতে আগুন লাগে তখন তারা তাদের বাড়িতেই ছিল। তারা জানালা দিয়ে লাফানোর চেষ্টা করে, কিন্তু তাতে গরাদ ছিল। গরাদের ফলে দমকলের কর্মীরা তাদের বাঁচাতে পারেনি। পিতা ও মাতা ধুঁয়া এবং আগুনেতে মারা যায়। কন্যাটি পরে হাসপাতালে মারা যায়।

কত দুঃখেরই না এটি বিষয় যে, তাদের সুরক্ষা ব্যবস্থা যা তাদের জীবন বাঁচানোর কথা তার ফলেই তারা মারা যায়! এটি আমাদের দিনের এক রকমের পরোক্ষ বিচার যে এই পরিবারটি একমাত্র নয় যারা তাদের গৃহকে সুরক্ষিত রাখার জন্য গরাদ এবং সুরক্ষার তালা ব্যবহার করে। অনেক প্রতিবেশী রয়েছে যাদের গৃহ এবং বিষয়সম্পত্তি দুর্গের মত লাগে। কেন? তারা সুরক্ষা এবং মনের শান্তি খুঁজে বেড়াচ্ছে। “স্বাধীন” সমাজের জন্য এটি কতই না এক ক্ষতি যখন লোকেরা শুধুমাত্র জেলের মধ্যে বন্দীর মত ঘরেতে থাকাকে সুরক্ষিত বলে মনে করে। অনেক প্রতিবেশে, ছেলেমেয়েরা আর সুরক্ষিতভাবে পার্কে খেলতে পারে না অথবা পিতামাতা বা অন্য প্রাপ্তবয়স্ক ছাড়া স্কুলে হেঁটে যেতে পারে না। জীবনের অনেক ক্ষেত্রে, স্বাধীনতা সকালের শিশিরের মত অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে।

জীবনের পরিবর্তিত ধারা

আমাদের দাদুদিদিমাদের দিনগুলি অন্যরকম ছিল। বাচ্চা বয়সে, তারা সাধারণত যেখানে খেলতে চাইত সেখানে তারা নির্ভয়ে খেলতে পারত। প্রাপ্তবয়স্ক হিসাবে তাদের তালা অথবা গরাদ সম্বন্ধে কোন চিন্তা ছিল না। তারা নিজেদের স্বাধীন মনে করত এবং কিছুটা পরিমাণে তারা স্বাধীনও ছিল। কিন্তু আমাদের দাদুদিদিমারা তাদের জীবনে সমাজের ধারা পরিবর্তন হতে দেখেছেন। এটি শীতল এবং স্বার্থপর হয়ে দাঁড়িয়েছে; অনেক এলাকা প্রতিবেশীর প্রতি প্রেমের স্থানে, প্রতিবেশীর প্রতি ভয় স্থান নিয়েছে, যার ফলে উপরোক্ত দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল। বৃদ্ধিরত এই স্বাধীনতার অভাবের সাথে সাথে ধীরে ধীরে নৈতিক মূল্যবোধের অবনতি দেখা গিয়েছে। “নব নৈতিকতা”-র দ্বারা সমাজ পূর্ণ হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে, পরিস্থিতি এখন এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে আদৌ কোন নৈতিকতা নেই।

কুইনসল্যান্ড বিশ্ব বিদ্যালয়ে শিক্ষা ক্ষেত্রের একজন প্রাক্তন অধ্যাপক ডাঃ. রুপার্ট গুডমান লেখেন: “যুবক-যুবতীরা আজকে ভিন্ন ধরনের, ভোগসুখবাদী . . . জীবনধারার সম্মুখীন হচ্ছে যেখানে ‘আমিত্ব’ হল মুখ্য বিষয়: ভোগপরায়ণতা, আত্ম-সচেতনতা, আত্ম-পরিপূর্ণতা, স্বার্থপরতা।” তিনি আরও বলেন: “মূল্যবোধ যেমন, আত্ম-সংযম, আত্ম-ত্যাগ, কঠোর পরিশ্রম, মিতব্যয়িতা, কর্তৃত্বের প্রতি সম্মান, প্রতিবেশী এবং পিতামাতার প্রতি প্রেম ও শ্রদ্ধা . . . এগুলি অনেকের কাছে অপরিচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

প্রকৃতই একটি চওড়া পথ

যারা বাইবেলের ভবিষ্যদ্বাণীর সাথে পরিচিত তারা সুদূরপ্রসারী স্বার্থপরতা দেখে অবাক হয় না, কারণ যীশু খ্রীষ্ট তাঁর শ্রোতাদের সাবধান করে দিয়েছিলেন: “সর্ব্বনাশে যাইবার দ্বার প্রশস্ত ও পথ পরিসর, এবং অনেকেই তাহা দিয়া প্রবেশ করে; কেননা জীবনে যাইবার দ্বার সঙ্কীর্ণ ও পথ দুর্গম, এবং অল্প লোকেই তাহা পায়।” (মথি ৭:১৩, ১৪) প্রথম পথটি, যেখানে অনেক যাত্রাকারীদের জন্য যথেষ্ট জায়গা রয়েছে তা হল “প্রশস্ত,” কারণ এটি নৈতিকতা এবং দৈনন্দিন জীবনধারায় বাইবেলের নীতিগুলির দ্বারা শাসিত নয় যা এটিকে সীমাবদ্ধ করতে পারে। এটি তাদের কাছে ভাল লাগে যারা নিজের পছন্দ মত চিন্তা ও কাজ করতে চায়—কোন আইন ছাড়া, কোন বাধাধরা ছাড়া।

সত্যই, যারা এই প্রশস্ত পথ বেছে নিয়েছে তারা দাবি করে যে, তারা স্বাধীনতা উপভোগ করে। কিন্তু বেশির ভাগ, পরিচিত স্বার্থপরতার আত্মার দ্বারা প্ররোচিত হয়। বাইবেল বলে, “যে আত্মা এখন অবাধ্যতার সন্তানগণের মধ্যে কার্য্য করিতেছে” তার দ্বারা তারা পরিচালিত। এই আত্মা তাদের ‘মাংসের অভিলাষ অনুসারে আচরণ করতে, মাংসের . . . বিবিধ ইচ্ছা পূর্ণ করতে,’ প্ররোচিত করে, তা সে অনৈতিকতা, ড্রাগের অপব্যবহার, অতিরিক্ত পরিমাণে ধন, খ্যাতি অথবা শক্তি যাই হোক না কেন, তার পিছনে অনুধাবন।—ইফিষীয় ২:২, ৩.

প্রশস্ত পথটি ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়

লক্ষ্য করুন যে যারা প্রশস্ত পথে যাত্রা করছে তারা “মাংসের বিবিধ ইচ্ছা পূর্ণ” করতে প্ররোচিত হচ্ছে। এটি দেখায় যে তারা কোনমতেই স্বাধীন নয়—তাদের একজন প্রভু রয়েছে। তারা মাংসের দাস। আর এই প্রভুকে সেবা করার দ্বারা বিবিধ সমস্যা আসতে পারে—পৃথিবীব্যাপী যৌন রোগ, পরিবারে ভাঙন, ড্রাগ এবং মদ্যজাতীয় পানীয় অপব্যবহারের ফলে দৈহিক এবং মানসিক অসুস্থতা হল এর মধ্যে কয়েকটি। এমনকি দৌরাত্ম্য-মূলক কাজগুলি, চুরি এবং ধর্ষণ আত্ম-কেন্দ্রিক চিন্তার মধ্যে এর উৎস খুঁজে পায় যা এই অনুমতিপূর্ণ প্রশস্ত পথে প্রতিপালন করা হয়। আর এই “সর্ব্বনাশে যাইবার . . . পথ” যতক্ষণ অস্তিত্বে রয়েছে, এর ফলগুলি আরও মন্দ হয়ে দাঁড়াবে।—হিতোপদেশ ১:২২, ২৩; গালাতীয় ৫:১৯-২১; ৬:৭.

অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রাপ্ত দুটি সত্য ঘটনা বিবেচনা করুন। মারী যে আসক্তিকর ড্রাগের অপব্যবহার ও সাথে সাথে অনৈতিকতার প্রলোভনে পড়ে যায়।a কিন্তু সুখ যা সে খুঁজছিল তা তাকে হাতছানি দেয়। দুটি সন্তান হওয়ার পরও তার জীবন শূন্য ছিল। সে সবচেয়ে খারাপ পর্যায়ে পৌঁছায় যখন সে জানতে পারে যে তার এইডস হয়েছে।

টম অন্যভাবে আহত হয়। “উত্তর কুইনসল্যান্ডে গির্জার মিশনে আমি বড় হই,” সে লেখে। “১৬ বছর বয়সে আমি অতিরিক্ত মদ্যপান করতে আরম্ভ করি। আমার বাবা, কাকারা এবং বন্ধুরা অতিরিক্ত মদ্যপান করত, তাই এটি আমার কাছে সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। আমি এমন পর্যায়ে এসে পড়ি যখন আমি বিয়ার থেকে আরম্ভ করে মিথাইলেটেড স্পিরিট পান করতে শুরু করি। আমি ঘোড়ার উপরে জুয়া খেলতে শুরু করি এবং একএক সময় আমার কঠোর পরিশ্রমের বেতন আমি নষ্ট করে ফেলতাম। আর এটি অল্প ছিল না কারণ আঁখ কাটার কাজে আমি বেশ টাকা পেতাম।”

“তারপরে আমি বিবাহ করি এবং আমাদের সন্তান হয়। আমার দায়িত্বগুলির সম্মুখীন না হয়ে, আমার বন্ধুরা যা করত আমি তাই করি—মদ্যপান, জুয়া এবং লড়াই করা। স্থানীয় জেলে আমি প্রায়ই আটক থাকতাম। এমনকি এটিও আমার উপর কোন প্রভাব ফেলতে পারেনি। আমার জীবন ক্রমশই অবনতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। এটি সমস্যায় পূর্ণ ছিল।”

হ্যাঁ, ভুল ইচ্ছার সামনে ঝুঁকে, টম এবং মারী শুধু নিজেকেই ক্ষতি করেনি কিন্তু তাদের পরিবারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুঃখের বিষয় এই যে, অন্যান্য বহু যুবক-যুবতীরা এই উদারপন্থী, ভ্রান্ত স্বাধীনতার আত্মা যা এই প্রশস্ত পথ পেশ করে তার দ্বারা বিপথে চালিত হয়। শুধু যদি অল্প বয়স্কেরা এই আবরণটি, এই প্রতারণার গভীর দিকটি দেখতে পেত। যদি তারা এই প্রশস্ত পথটির বাস্তবতাকে দেখতে পেত—যারা এই পথটিতে চলছে তাদের পরিশেষে যে কঠোর কর দিতে হবে। সত্যই, এটি প্রশস্ত এবং সহজেই তাতে যাওয়া যায়। কিন্তু প্রশস্ততাই হল এর সর্বনাশ। বিজ্ঞতার বিষয় হল এই রূঢ় সত্যটি মেনে নেওয়া যা হল, “আপন মাংসের উদ্দেশে যে বুনে, সে মাংস হইতে ক্ষয়রূপ শস্য পাইবে।”—গালাতীয় ৬:৮.

কিন্তু, আরও উত্তম একটি বাছাই করার বিষয় রয়েছে। সেটি হল সংকীর্ণ পথ। কত সীমাবদ্ধ, কত দুর্গম এবং সংকীর্ণ এই পথটি? আর কোথায় এটি নিয়ে যায়?

[পাদটীকাগুলো]

a নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার