ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w৯৫ ৮/১ পৃষ্ঠা ৪-৭
  • সামনেই উত্তম সময়

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • সামনেই উত্তম সময়
  • ১৯৯৫ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • খাদ্যাভাবের কথা ভবিষ্যদ্বাণী করা ছিল
  • অতীতে যিহোবা তাঁর দাসেদের যত্ন নিয়েছিলেন
  • বর্তমানে যিহোবা তাঁর দাসেদের সহায়তা করেন
  • সামনেই উত্তম সময়
  • দরিদ্র অথচ ধনী—এটি কিভাবে হতে পারে?
    ১৯৯৭ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • প্রকৃত নিরাপত্তা—এখন ও অনন্তকালের জন্য
    ১৯৯৬ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • কে সাহায্যের জন্য আর্তনাদকারী ব্যক্তিদের উদ্ধার করতে পারেন?
    ২০১০ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • “স্বর্গ হইতে প্রকৃত খাদ্য”
    সর্বমহান পুরুষ যিনি কখনও জীবিত ছিলেন
আরও দেখুন
১৯৯৫ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w৯৫ ৮/১ পৃষ্ঠা ৪-৭

সামনেই উত্তম সময়

এক মহিলা বলে ওঠেন, “আমাদের কাছে এক-শূন্য-এক আছে।” প্রত্যুত্তরে তার বন্ধু বলেন: “আমার পরিস্থিতি আরও খারাপ।” “আমার কাছে মাত্র “শূন্য-শূন্য-এক” আছে।

পশ্চিম আফ্রিকার কিছু অংশে এইধরনের কথাবার্তার ব্যাখ্যার কোন প্রয়োজন নেই। দিনে তিনবার খাবার পরিবর্তে (শূন্য-শূন্য-এক), যে ব্যক্তি এক-শূন্য-এক আছে, তার কাছে মাত্র দিনে দুবার খাবার কেনার মত সংগতি আছে—একবার সকালে এবং একবার সন্ধ্যায়। এক যুবক ব্যক্তি যার কাছে শূন্য-শূন্য-এক আছে সে তার নিজের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানায়: “আমি দিনে একবার খাই। আমি আমার রেফ্রিজারেটরে জল ভর্তি করে রাখি। রাত্রে শুতে যাওয়ার আগে আমি গারি [কাসাভা] খাই। এইভাবে আমি আমার পরিস্থিতির সাথে মোকাবিলা করছিলাম।”

বর্তমানে বর্ধিত হারে লোকেদের পরিস্থিতি এইরকমই। দ্রব্যমূল্য বেড়ে চলেছে, আর সেইসঙ্গে টাকার মূল্য হ্রাস পেয়ে চলেছে।

খাদ্যাভাবের কথা ভবিষ্যদ্বাণী করা ছিল

প্রেরিত যোহনের কাছে এক ধারাবাহিক দর্শনের মাধ্যমে ঈশ্বর ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন সেই খারাপ পরিস্থিতির কথা, যার মোকাবিলা আজ অনেকেই করছে। সেগুলির মধ্যে একটি হবে খাদ্যাভাব। যোহন বর্ণনা করেন: “আমি দৃষ্টি করিলাম, আর দেখ, এক কৃষ্ণবর্ণ অশ্ব, এবং যে তাহার উপরে বসিয়া আছে, তাহার হস্তে এক তুলাদণ্ড।” (প্রকাশিত বাক্য ৬:৫) এই অশুভ ঘোড়াটি এবং তার চালক দুর্ভিক্ষকে চিত্রিত করে—এতই খাদ্যাভাব দেখা দেবে যে তা দাঁড়িপাল্লায় মেপে দেওয়া হবে।

এরপরে প্রেরিত যোহন বলেন: “পরে আমি . . . এইরূপ বাণী শুনিলাম, এক সের গোমের মূল্য এক সিকি আর তিন সের যবের মূল্য এক সিকি।” যোহনের দিনে এক সের গোম ছিল একজন সৈন্যের এক দিনের রেশন এবং এক সিকি ছিল মজুরী যা একজনকে এক দিনের কাজের জন্য দেওয়া হত। তাই অনুবাদক রিচার্ড ওয়েমাউথ শাস্ত্রপদটিকে এইভাবে ব্যাখ্যা করেন: “এক দিনের মজুরী হল একটি পাঁউরুটি, এক দিনের মজুরী তিনটি বার্লি কেক।”—প্রকাশিত বাক্য ৬:৬.

বর্তমানে এক দিনের মজুরী কত? স্টেট অফ ওয়ার্ল্ড পপুলেশন, ১৯৯৪ রিপোর্ট জানায়: “প্রায় ১১০ কোটি লোক, উন্নতিশীল দেশগুলির প্রায় ৩০ শতাংশ লোক, যারা একদিনে ১ মার্কিন ডলার পায়।” কাজেই একদিনের মজুরী এই পৃথিবীর দরিদ্রদের জন্য কমবেশি একটি রুটি কিনতে পারে।

অবশ্য যারা অত্যন্ত দরিদ্র তাদের কাছে এটা খুব একটা আশ্চর্যের বিষয় নয়। “রুটি!” এক ব্যক্তি আশ্চর্য হয়ে বলে। “রুটি কেনার মত কজনের সামর্থ আছে? বর্তমানে রুটি হল এক বিলাস খাদ্য!”

আসলে, খাদ্যাভাব নেই। রাষ্ট্রসংঘের সূত্র অনুসারে, বিগত দশ বছরে পৃথিবীর খাদ্য উৎপাদন ২৪ শতাংশ বেড়ে গেছে, যা পৃথিবীর লোকসংখ্যা বৃদ্ধির চেয়েও বেশি ছিল। কিন্তু, খাদ্যের এই বৃদ্ধি সকলে উপভোগ করেনি। উদাহরণস্বরূপ, আফ্রিকাতে খাদ্য উৎপাদন ৫ শতাংশ কমে গেছে, যেখানে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৩৪ শতাংশ। সুতরাং সার্বিকভাবে পৃথিবীব্যাপী খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পেলেও অনেক দেশেই খাদ্যাভাব রয়ে গেছে।

খাদ্যাভাবের অর্থ হল চড়া দাম। বেকারত্ব, স্বল্প মজুরী এবং বর্ধিত মুদ্রাস্ফীতি, যা কিছু পাওয়া যায়, তা কিনতে আরও অসাধ্য করে তোলে। হিউম্যান ডেভেলপ্‌মেন্ট রিপোর্ট ১৯৯৪ জানায়: “খাবার পাওয়া যায় না বলে লোকে ক্ষুধার্ত থাকে না—কিন্তু তাদের কেনার সামর্থ নেই বলে।”

নৈরাশ্য, ব্যর্থতা এবং হতাশা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। গ্লোরী, যিনি পশ্চিম আফ্রিকায় বাস করেন, বলেন, “লোকের ধারণা হয়েছে যে আজ যদি খারাপ হয়, তাহলে আগামীকাল আরও খারাপ হবে।” আর একজন মহিলা বলেন, “লোকেরা ধরে নিয়েছে যে তারা এক বিপর্যয়ের দিকে এগোচ্ছে। তারা মনে করে যে এমন একটা দিন আসবে যখন বাজারে আর কিছু থাকবে না।”

অতীতে যিহোবা তাঁর দাসেদের যত্ন নিয়েছিলেন

ঈশ্বরের দাসেরা জানে যে যিহোবা তাঁর বিশ্বস্ত দাসেদের তাদের প্রয়োজনীয় জিনিস যুগিয়ে এবং কষ্টকর পরিস্থিতির সাথে মোকাবিলা করতে শক্তি প্রদান করে পুরস্কৃত করেন। ঈশ্বরের যোগানোর ক্ষমতায় এইধরনের আস্থা, বাস্তবে তাদের বিশ্বাসের অত্যন্ত এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রেরিত পৌল লিখেছিলেন: “যে ব্যক্তি ঈশ্বরের নিকটে উপস্থিত হয়, তাহার ইহা বিশ্বাস করা আবশ্যক যে ঈশ্বর আছেন, এবং যাহারা তাঁহার অন্বেষণ করে, তিনি তাহাদের পুরস্কারদাতা।”—ইব্রীয় ১১:৬.

যিহোবা তাঁর বিশ্বস্ত দাসেদের সবসময়েই যত্ন নিয়েছেন। সাড়ে তিন বছর দুর্ভিক্ষের সময় যিহোবা ভাববাদী এলিয়কে খাবার যুগিয়েছিলেন। প্রথমদিকে, যিহোবা দাঁড়কাককে আদেশ দিয়েছিলেন এলিয়ের জন্য রুটি এবং মাংস আনার জন্য। (১ রাজাবলি ১৭:২-৬) পরবর্তীকালে, যিহোবা অলৌকিকভাবে এক বিধবার ময়দা এবং তেলের যোগান দিয়ে বাঁচিয়ে রাখেন, যিনি এলিয়কে খাবার তৈরি করে দিতেন। (১ রাজাবলি ১৭:৮-১৬) সেই একই দুর্ভিক্ষের সময়ে দুষ্ট রানী ঈষেবল ভাববাদীদের উপর প্রখর ধর্মীয় প্রতারণা আনা সত্ত্বেও যিহোবা তাঁর ভাববাদীরা যেন প্রয়োজনীয় রুটি এবং জল পায় সে বিষয়ে যত্ন নিয়েছিলেন।—১ রাজাবলি ১৮:১৩.

পরবর্তীকালে, যখন বাবিলনের রাজা ধর্মভ্রষ্ট যিরূশালেমের উপর আক্রমণ হানে, তখন লোকেদের “পরিমাণপূর্ব্বক ভাবনা সহকারে অন্ন ভোজন” করতে হয়। (যিহিষ্কেল ৪:১৬) পরিস্থিতি এতই খারাপ হয়ে গিয়েছিল যে কিছু নারী তাদের নিজ শিশুসন্তানদের মাংস পর্যন্ত ভক্ষণ করেছিল। (বিলাপ ২:২০) এমনকি যদিও, সেসময়ে ভাববাদী যিরমিয় তার প্রচার কাজের জন্য বন্দী ছিলেন, কিন্তু যিহোবা যত্ন নিয়েছিলেন “যে পর্য্যন্ত নগরের সমস্ত রুটী শেষ না হইল; সে পর্য্যন্ত প্রতিদিন রুটী-ওয়ালাদের পল্লী হইতে এক একখানা রুটী লইয়া [যিরমিয়কে] দেওয়া যাইত।”—যিরমিয় ৩৭:২১.

যখন রুটির যোগান শেষ হয়ে গিয়েছিল, তখন যিহোবা কি যিরমিয়কে ভুলে গিয়েছিলেন? আপাতদৃষ্টিতে নয়, কারণ যখন শহরটি বাবিলনীয়দের কবলে আসে, তখন যিরমিয়কে ‘পাথেয় ও উপঢৌকন দিয়া বিদায় করে’ দেওয়া হয়েছিল।—যিরমিয় ৪০:৫, ৬; এছাড়াও দেখুন গীতসংহিতা ৩৭:২৫.

বর্তমানে যিহোবা তাঁর দাসেদের সহায়তা করেন

ঠিক অতীতে যিহোবা যেমন তাঁর দাসেদের বাঁচিয়ে রেখেছিলেন, তেমনি বর্তমান দিনেও তিনি তাদের বস্তুগতভাবে ও আধ্যাত্মিকভাবে উভয় ক্ষেত্রে যত্ন নিয়ে তা করে থাকেন। উদাহরণস্বরূপ, বিবেচনা করুন লামিটুন্ডের কথা, যিনি পশ্চিম আফ্রিকাতে বাস করেন। তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন: “আমার নিজস্ব একটি বেশ বড় মুরগি পালনের ফার্ম ছিল। একদিন সশস্ত্র ডাকাতেরা সেখানে আসে এবং অধিকাংশ মুরগি, জেনারেটর এবং আমাদের টাকাপয়সা যা ছিল ডাকাতি করে নিয়ে যায়। তার অল্পকাল পরেই অবশিষ্ট কিছু মুরগি রোগাক্রান্ত হয়ে মারা যায়। এটা আমার মুরগি পালনের ব্যবসাকে নষ্ট করে দেয়। দুবছর অনেক চেষ্টা করেও কোন চাকুরি পাইনি। বাস্তবিকই পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন হয়ে ওঠে, কিন্তু যিহোবা আমাদেরকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন।

“এই দুরূহ সময়কাল অতিক্রম করতে আমাকে যা সাহায্য করেছিল, তা ছিল উপলব্ধি করা যে যিহোবা কিছু ঘটনা ঘটতে অনুমতি দেন, যাতে করে আমরা নৈতিক অসিদ্ধতা থেকে পরিষ্কৃত হই। আমার স্ত্রী ও আমি আমাদের নিয়মিত পারিবারিক বাইবেল অধ্যয়ন বজায় রেখেছিলাম এবং তা আমাদের সত্যই সাহায্য করেছিল। আর প্রার্থনাও ছিল আমাদের কাছে প্রবল শক্তির এক উৎস। কখনও কখনও প্রার্থনা করার ইচ্ছা করত না, কিন্তু যখনই প্রার্থনা করতাম, আমি আরও ভাল বোধ করতাম।

“সেই কষ্টকর সময়ে, আমি শাস্ত্রের উপর ধ্যান করার গুরুত্ব কতখানি, তা শিখেছিলাম। আমি গীতসংহিতা ২৩ অধ্যায়ের কথা অহরহ চিন্তা করতাম, যেটি আমাদের জানায় যে যিহোবা হলেন আমাদের পালক। আর একটি শাস্ত্রপদ যেটি আমাকে উৎসাহ দিয়েছিল, সেটি ছিল ফিলিপীয় ৪:৬, ৭ পদ, যেটি “সমস্ত চিন্তার অতীত যে ঈশ্বরের শান্তি” সেই বিষয়ে উল্লেখ করে। আরেকটি অংশ যেটি আমাকে শক্তিশালী করেছিল, সেটি ছিল ১ পিতর ৫:৬, ৭ পদ, যেটি বলে: “অতএব তোমরা ঈশ্বরের পরাক্রান্ত হস্তের নীচে নত হও, যেন তিনি উপযুক্ত সময়ে তোমাদিগকে উন্নত করেন; তোমাদের সমস্ত ভাবনার ভার তাঁহার উপরে ফেলিয়া দেও, কেননা তিনি তোমাদের জন্য চিন্তা করেন।” এই শাস্ত্রপদগুলি সেই কষ্টকর সময়ে আমাকে সহায়তা করেছিল। যখন আপনি এগুলি ধ্যান করেন, তখন আপনি যে বিষয়গুলি আপনাকে হতাশ করে, সেই চিন্তার থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়।

“এখন আমি আবার চাকুরি পেয়েছি, কিন্তু সত্য কথা বলতে কী পরিস্থিতি সহজ নয়। ঠিক যেমন বাইবেল ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল ২ তীমথিয় ৩:১-৫ পদে, আমরা ‘শেষকালে’ বাস করছি, যার লক্ষ্যণীয়তা হল ‘বিষম সময় যার মোকাবিলা করা কঠিন।’ শাস্ত্র যা বলে, আমরা তার কিছু পরিবর্তন করতে পারি না। সেইজন্য আমি আশা করি না যে জীবনযাপন করা খুব সহজ হবে। কিন্তু, আমি অনুভব করি যে যিহোবার আত্মা আমাকে সবকিছু মোকাবিলা করতে সহায়তা করছে।”

কষ্টকর সময়ে আমরা বাস করা সত্ত্বেও, যারা যিহোবা ঈশ্বর এবং তাঁর রাজপুত্র যীশু খ্রীষ্টতে বিশ্বাস করে, তারা নিরাশ হবে না। (রোমীয় ১০:১১) যীশু নিজে আমাদের আশ্বস্ত করেন: “এই জন্য আমি তোমাদিগকে বলিতেছি, ‘কি ভোজন করিব, কি পান করিব’ বলিয়া প্রাণের বিষয়ে, কিম্বা ‘কি পরিব’ বলিয়া শরীরের বিষয়ে ভাবিত হইও না; ভক্ষ্য হইতে প্রাণ ও বস্ত্র হইতে শরীর কি বড় বিষয় নয়? আকাশের পক্ষীদের প্রতি দৃষ্টিপাত কর, তাহারা বুনেও না কাটে না, গোলাঘরে সঞ্চয়ও করে না, তথাপি তোমাদের স্বর্গীয় পিতা তাহাদিগকে আহার দিয়া থাকেন; তোমরা কি তাহাদের হইতে অধিক শ্রেষ্ঠ নও? আর তোমাদের মধ্যে কে ভাবিত হইয়া আপন বয়স এক হস্তমাত্র বৃদ্ধি করিতে পারে? আর বস্ত্রের নিমিত্ত কেন ভাবিত হও?”—মথি ৬:২৫-২৮.

এই কষ্টকর সময়ে এগুলি অবশ্যই হৃদয়গ্রাহী প্রশ্ন। কিন্তু যীশু এই কথাগুলির দ্বারা আরও আশ্বস্ত করেন: “ক্ষেত্রের কানুড় পুষ্পের বিষয়ে বিবেচনা কর, সেগুলি কেমন বাড়ে; সে সকল শ্রম করে না, সূতাও কাটে না; তথাপি আমি তোমাদিগকে বলিতেছি, শলোমনও আপনার সমস্ত প্রতাপে ইহার একটীর ন্যায় সুসজ্জিত ছিলেন না। ভাল, ক্ষেত্রের যে তৃণ আজ আছে ও কাল চুলায় ফেলিয়া দেওয়া যাইবে, তাহা যদি ঈশ্বর এরূপ বিভূষিত করেন, তবে হে অল্পবিশ্বাসীরা, তোমাদিগকে কি আরও অধিক নিশ্চয় বিভূষিত করিবেন না? অতএব ইহা বলিয়া ভাবিত হইও না যে, ‘কি ভোজন করিব?’ বা ‘কি পান করিব?’ বা ‘কি পরিব?’ কেননা পরজাতীয়েরাই এই সকল বিষয় চেষ্টা করিয়া থাকে; তোমাদের স্বর্গীয় পিতা ত জানেন যে, এই সকল দ্রব্যে তোমাদের প্রয়োজন আছে। কিন্তু তোমরা প্রথমে তাঁহার রাজ্য ও তাঁহার ধার্ম্মিকতার বিষয়ে চেষ্টা কর, তাহা হইলে ঐ সকল দ্রব্যও তোমাদিগকে দেওয়া হইবে।”—মথি ৬:২৮-৩৩.

সামনেই উত্তম সময়

পৃথিবীর অনেক প্রান্তেই যথেষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে যে ক্রমাগত অবনতি ঘটছে এমন অর্থনৈতিক এবং সামাজিক পরিস্থিতি, আরও খারাপ হয়ে যাবে। তথাপি, ঈশ্বরের লোকেরা উপলব্ধি করে যে এগুলি হল সাময়িক। রাজা শলোমনের মহিমাময় শাসনকাল, শলোমনের চেয়েও এক রাজার ধর্মীয় শাসনের পূর্বাভাব ছিল, যিনি সমস্ত পৃথিবীর উপরে রাজত্ব করবেন। (মথি ১২:৪২) সেই রাজা হলেন যীশু খ্রীষ্ট, যিনি “রাজাদের রাজা এবং প্রভুদের প্রভু।”—প্রকাশিত বাক্য ১৯:১৬.

গীতসংহিতা ৭২ অধ্যায়, যেটির প্রাথমিক পরিপূর্ণতা ঘটেছিল রাজা শলোমনের রাজত্বকালে, তা যীশু খ্রীষ্টের তাৎপর্যপূর্ণ শাসনকালকে বর্ণনা করে। রাজা হিসাবে খ্রীষ্টের রাজত্ব করার সময়ে পৃথিবীর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করে এমন কয়েকটি অপূর্ব বিষয় বিবেচনা করুন।

পৃথিবীব্যাপী শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি: “তাঁহার সময়ে ধার্ম্মিক লোক প্রফুল্ল হইবে, চন্দ্রের স্থিতিকাল পর্য্যন্ত প্রচুর শান্তি হইবে। তিনি এক সমুদ্র অবধি অপর সমুদ্র পর্য্যন্ত, ঐ নদী অবধি পৃথিবীর প্রান্ত পর্য্যন্ত কর্ত্তৃত্ব করিবেন।”—গীতসংহিতা ৭২:৭, ৮.

বিনয়ীদের জন্য উদ্বেগ: “তিনি আর্ত্তনাদকারী দরিদ্রকে, এবং দুঃখী ও নিঃসহায়কে উদ্ধার করিবেন। তিনি দীনহীন ও দরিদ্রের প্রতি দয়া করিবেন, তিনি দরিদ্রগণের প্রাণ নিস্তার করিবেন। তিনি চাতুরী ও দৌরাত্ম্য হইতে তাহাদের প্রাণ মুক্ত করিবেন, তাঁহার দৃষ্টিতে তাহাদের রক্ত বহুমূল্য হইবে।”—গীতসংহিতা ৭২:১২-১৪.

খাদ্যের প্রাচুর্য: “দেশমধ্যে পর্ব্বত-শিখরে প্রচুর শস্য হইবে।”—গীতসংহিতা ৭২:১৬.

যিহোবার গৌরব সমস্ত পৃথিবীকে পরিপূর্ণ করবে: “ধন্য সদাপ্রভু ঈশ্বর, ইস্রায়েলের ঈশ্বর; কেবল তিনিই আশ্চর্য্য ক্রিয়া করেন। তাঁহার গৌরবান্বিত নাম অনন্তকাল ধন্য; তাঁহার গৌরবে সমস্ত পৃথিবী পরিপূর্ণ হউক।”—গীতসংহিতা ৭২:১৮, ১৯.

তাহলে, সামনে সত্যই উত্তম সময়।

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার