ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w৯৫ ৭/১ পৃষ্ঠা ২৬-২৯
  • একাকী, কিন্তু কখনও পরিত্যক্ত নয়

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • একাকী, কিন্তু কখনও পরিত্যক্ত নয়
  • ১৯৯৫ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • বাইবেলের সত্যের সাথে প্রথম পরিচয়
  • এখন সত্যই আমি একাকী
  • সংগঠনের সান্নিধ্যে আসা
  • সম্মেলন এবং শেষ পর্যন্ত বাপ্তিস্ম
  • মাউন্ট গ্যামবিয়ারে ফিরে আসা
  • নতুন কাজের দায়িত্ব
  • পূর্ণ-সময়ের কাজে লেগে ছিলাম
  • সঠিক বাছাইগুলো চিরস্থায়ী আশীর্বাদগুলোর দিকে চালিত করে
    ২০০৭ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
১৯৯৫ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w৯৫ ৭/১ পৃষ্ঠা ২৬-২৯

একাকী, কিন্তু কখনও পরিত্যক্ত নয়

আডে লুইস দ্বারা কথিত

আমি সবসময়ে একা থাকতে পছন্দ করতাম। এছাড়াও আমি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে কাজ করতাম—অন্যেরা সময়বিশেষে আমাকে জেদি বলত—আমি যা কিছুই করি না কেন। আমি এটাও জানি যে স্পষ্টভাষী হওয়া কত সহজ, আর এই লক্ষণটি আমাকে দীর্ঘকাল যাবৎ সমস্যায় ফেলেছে।

তবুও আমি যিহোবার কাছে কৃতজ্ঞ যে আমার ব্যক্তিত্বের এই ত্রুটির জন্য যিহোবা আমাকে পরিত্যাগ করেননি। তাঁর বাক্য অধ্যয়ন করার মাধ্যমে আমি আমার ব্যক্তিত্বের ঈষৎ পরিবর্তন করতে পেরেছি এবং ৬০ বছর যাবৎ তাঁর রাজ্যের আগ্রহকে কেন্দ্র করে পরিচর্যা করতে পেরেছি। শৈশবকাল হতে ঘোড়া ছিল আমার খুব প্রিয় এবং আমার এই জেদি মনোভাবকে দমন করার ক্ষেত্রে ঈশ্বরের সাহায্য আমাকে বারবার স্মরণ করিয়ে দিয়েছে ঘোড়াকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য লাগাম কিভাবে ব্যবহার করতে হয়।

১৯০৮ সালে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার মাউন্ট গ্যামবিয়ারের এক মনোরম নীল হ্রদের নিকটবর্তী এলাকায় আমার জন্ম হয়। আমার বাবামার একটি গব্যশালা ছিল এবং আটটি সন্তানদের মধ্যে আমি ছিলাম বয়োজ্যষ্ঠা কন্যা। আমাদের যৌবনের প্রারম্ভেই বাবার মৃত্যু হয়। যার ফলে আমাকে ফার্মের দেখাশুনার কাজ করতে হয়, কারণ আমার বড় দুই ভাইকে পারিবারিক ব্যয় নির্বাহের জন্য বাইরে কাজ করতে হত। ফার্মে কাজ করার অর্থ ছিল কঠোর পরিশ্রম করা।

বাইবেলের সত্যের সাথে প্রথম পরিচয়

আমাদের পরিবার প্রেসবিটেরিয়ান গির্জায় যোগদান করতেন এবং আমরা সেখানকার নিয়মিত সদস্য ছিলাম। আমি ছিলাম সানডে-স্কুলের একজন শিক্ষক এবং আমি যা কিছু আধ্যাত্মিক ও নৈতিকভাবে ন্যায্য বলে বিশ্বাস করতাম, সেগুলিই শিশুদের শিক্ষা দেওয়ার দায়িত্বকে গুরুত্বপূর্ণভাবে নিয়েছিলাম।

১৯৩১ সালে আমার পিতামহের মৃত্যু হয় এবং তার সম্পত্তির অন্তর্ভুক্ত ছিল একগুচ্ছ পুস্তক, যেগুলি সেই সময়ে ওয়াচ টাওয়ার বাইবেল অ্যান্ড ট্র্যাক্ট সোসাইটির প্রেসিডেন্ট জে. এফ. রাদারফোর্ড লিখেছিলেন। আমি ঈশ্বরের বীণা এবং সৃষ্টি (ইংরাজি) বইটি পড়তে আরম্ভ করি এবং যতবার আমি তা পড়ি ততই অধিক মাত্রায় আশ্চর্য হয়ে যাই, কারণ আমি অনেক বিষয় বিশ্বাস করতাম এবং শিশুদের শেখাতাম যেগুলি বাইবেল সমর্থন করে না।

এটা জানতে পারা আমার অনুভূতিতে অত্যন্ত আঘাত পাওয়ার মত, যে মানব আত্মা অমর নয়, মৃত্যুর পরে বেশির ভাগ লোকেরাই স্বর্গে যাবে না এবং দুষ্টদের জন্য নরকাগ্নিতে অনন্ত যন্ত্রণা পাওয়ার কোন স্থান নেই। আমি এটি জেনেও বিরক্ত বোধ করেছিলাম যে সাপ্তাহিক রবিবারের বিশ্রামদিন পালনও খ্রীষ্টানদের জন্য উপযুক্ত নয়। সুতরাং আমাকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে হয়েছিল: আমি কি সেই পরম্পরাগত খ্রীষ্টীয় জগতের শিক্ষাগুলিকে ধরে থাকব, না বাইবেলের সত্যকে শিক্ষা দেওয়া শুরু করব। প্রেসবিটেরিয়ান গির্জার সাথে সকল রকমের সম্পর্ককে ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিতে আমার বেশি সময় লাগেনি।

এখন সত্যই আমি একাকী

যখন ঘোষণা করি যে আমি গির্জার সদস্যপদ ত্যাগ করব এবং সানডে-স্কুলে আর শিক্ষা দেব না, তখন আমার পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং আগেকার গির্জার সঙ্গীরা অসন্তুষ্ট হয়ে ওঠে। আর যখন তারা দেখে যে আমি সেই তথাকথিত বিচারক রাদারফোর্ডের দলে যোগ দিয়েছি, তখন তা শুধুমাত্র অগ্নিতে ঘৃতাহূতি দেবার মতই জ্বলে ওঠে। আমি প্রকৃতপক্ষে সমাজ হতে বহিষ্কৃত হইনি, কিন্তু আমার অধিকাংশ পুরনো বন্ধুবান্ধবেরা এবং পরিবারের সদস্যেরা আর আমার প্রতি বন্ধুভাবাপন্ন ছিল না, কারণ তারা আমাকে হেয় করত।

আমি যে পুস্তকটি পড়ছিলাম, সেখানে উল্লেখিত শাস্ত্রপদগুলি যত ভালভাবে পড়ছিলাম এবং পরীক্ষা করছিলাম, ততই জনসাধারণে প্রচার করার প্রয়োজন আমি অনুভব করছিলাম। আমি শিখেছিলাম যে যিহোবার সাক্ষীরা তাদের পরিচর্যার অংশ হিসাবে গৃহ থেকে গৃহে প্রচার করে। কিন্তু সে সময়ে আমাদের জেলাতে কোন সাক্ষী ছিল না। সেইজন্য কেউই আমাকে উৎসাহ দেয়নি বা শেখায়নি ঈশ্বরের রাজ্যের সুসংবাদ কিভাবে প্রচার করতে হয়। (মথি ২৪:১৪) আমি অত্যন্ত নিঃসঙ্গ বোধ করতাম।

যাইহোক, অপরকে প্রচার করার বাইবেলের আদেশ আমার কানে সর্বত্র বাজতে থাকে এবং আমি সিদ্ধান্ত নিই যে কোনভাবে আমাকে অবশ্যই প্রচার করতে হবে। অনেক প্রার্থনা করার পর আমি প্রতিবেশীদের ঘরে যাবার সিদ্ধান্ত নিই এবং আমি যা শিখেছিলাম সেগুলি তাদের নিজেদের বাইবেল থেকেই দেখাবার চেষ্টা করতে লাগলাম। আমার প্রথম ঘর ছিল সেই, আমার পূর্বেকার সানডে-স্কুলের অধীক্ষক। তার হিমশীতল উত্তর এবং গির্জাকে পরিত্যাগ করার জন্য নেতিবাচক মন্তব্য অবশ্যই শুরুতে উৎসাহজনক ছিল না। কিন্তু যখনই আমি তার গৃহ ত্যাগ করি এবং অন্য ঘরে যাই, তখনই আমি এক উষ্ম ভাবাবেগ অনুভব করি এবং আমার অন্তরে এক অদ্ভুত ধরনের শক্তি অনুভব করি।

প্রকৃতপক্ষে এখানে কোন ব্যাপক বিরোধিতা ছিল না, কিন্তু আমি যখন পূর্বেকার গির্জার সদস্যদের ঘরে যাই তখন তাদের অনীহা দেখে আমি আশ্চর্য হয়ে যাই। আমি বিস্মিত এবং নিরাশ হয়ে পড়ি যখন আমার বড় ভাইয়ের কাছে সবচেয়ে জঘন্য বিরোধিতা পাই, যা আমাকে যীশুর কথাগুলি স্মরণ করিয়ে দেয়: “তোমরা পিতামাতা, ভ্রাতৃগণ, জ্ঞাতি ও বন্ধুগণ কর্ত্তৃকও সমর্পিত হইবে, . . . আর আমার নাম প্রযুক্ত তোমরা সকলের ঘৃণিত হইবে।”—লূক ২১:১৬, ১৭.

খুব ছোটবেলা থেকে ঘোড়ায় চড়বার অভিজ্ঞতা থাকার দরুন আমি সিদ্ধান্ত নিই যে লোকেদের গৃহে পৌঁছবার সবচেয়ে তাড়াতাড়ি মাধ্যম হল ঘোড়ায় চড়া। এটা আমাকে মাঠ পেরিয়ে দূরবর্তী গ্রামাঞ্চলে যেতেও সক্ষম করেছিল। কিন্তু, একদিন দুপুরে আমার ঘোড়া বিঘ্ন পায় এবং একটি পিচ্ছল রাস্তায় পড়ে যায় এবং আমারও মাথা ফেটে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ি। কিছু সময়ের জন্য ভয় ছিল যে আমি হয়ত আর বাঁচব না। এই ঘটনার পর থেকে যদি রাস্তা ভিজে অথবা পিছল থাকত, তাহলে ঘোড়ায় পিঠে না চেপে শাল্কিতে চেপে যেতাম।a

সংগঠনের সান্নিধ্যে আসা

আমার এই দুর্ঘটনার কিছুদিন পরে, পূর্ণ-সময়ের প্রচারকের একটি দল, যাদেরকে এখন অগ্রগামী বলা হয়, মাউন্ট গ্যামবিয়ার জেলাতে আসে। এইভাবে, এই প্রথমবার আমি আমার সহবিশ্বাসীদের সাথে সরাসরি কথাবার্তা বলি। এখান ছেড়ে যাবার আগে তারা আমাকে ওয়াচ টাওয়ার সোসাইটির শাখা অফিসে লিখতে বলেন অনুসন্ধান করার জন্য যে কিভাবে আরও সুপরিচালিতভাবে প্রচার করা যেতে পারে।

সমিতিকে লেখার পর আমি বই, পুস্তিকা এবং গৃহ থেকে গৃহে নিজের পরিচয় দেওয়ার জন্য একটি ছাপানো কার্ড পাই। শাখা অফিসের সাথে পত্র বিনিময় হওয়ার ফলে আমি আমার আধ্যাত্মিক ভাইবোনেদের সাথে একটু সান্নিধ্যে আসতে সক্ষম হই। কিন্তু যখন অগ্রগামীর দলটি এখান ছেড়ে অন্য শহরে চলে যায়, তখন আমি সবচেয়ে বেশি নিঃসঙ্গ বোধ করেছিলাম।

প্রতিদিন চারিপাশের এলাকায় নিয়মিতভাবে সাক্ষ্যদান করার ফলে—বিশেষত ঘোড়ায় এবং শাল্কিতে চড়ে—আমি এই জেলাতে খুব পরিচিত হয়ে উঠি। সেইসঙ্গে আমি ফার্মেরও টুকিটাকি কাজকর্মও করতে সক্ষম হই। এতদিনে আমার পরিবার আমার প্রতি বিরোধিতা করা বন্ধ করে দিয়েছে এবং কোন বিষয়েই হস্তক্ষেপ করে না। দীর্ঘ চার বৎসর আমি এইভাবে একটি বিচ্ছিন্ন এলাকায় সুসমাচারের একজন অবাপ্তিস্মিত প্রচারক হিসাবে কাজ করে চলি।

সম্মেলন এবং শেষ পর্যন্ত বাপ্তিস্ম

১৯৩৮ সালের এপ্রিল মাসে ভাই রাদারফোর্ড অস্ট্রেলিয়াতে আসেন। যাজকদের চরম বিরোধিতার ফলে সিডনি টাউন হলের সঙ্গে যে চুক্তি ছিল, তা ভেঙ্গে যায়। যাইহোক, শেষ মুহূর্তে খেলার মাঠটি ব্যবহার করার অনুমতি পাওয়া যায়। এই পরিবর্তনের ফল ভালই হয়, কারণ আরও হাজার হাজার ব্যক্তিকে এই মাঠে থাকার অয়োজন করা যায়। আনুমানিক ১২,০০০ জন ব্যক্তি এসেছিলেন আর অনেকের আসার আগ্রহের কারণ ছিল আমাদের সভাতে যাজকদের বিরোধিতা।

ভাই রাদারফোর্ড আসার ফলে বেশ কয়েক দিনের একটি সম্মেলনের আয়োজন সিডনি শহরের উপকন্ঠে করা হয়। শেষ পর্যন্ত এখানেই আমি যিহোবার কাছে আমার উৎসর্গীকরণকে জলে বাপ্তিস্ম নিয়ে প্রদর্শন করি। আপনি কি কল্পনা করতে পারেন যে কতখানি আনন্দ শেষ পর্যন্ত আমি উপভোগ করেছিলাম যখন বিশাল অস্ট্রেলিয়া মহাদেশে শত শত ভাইবোনেদের সাথে একত্রে মিলিত হই।

মাউন্ট গ্যামবিয়ারে ফিরে আসা

ঘরে ফিরে আমি অত্যন্ত একাকী বোধ করছিলাম, তথাপি আরও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলাম যে কিভাবে রাজ্যের কাজে আরও কিছু করতে পারি। শীঘ্রই আমি অ্যাগনু পরিবারের সাথে পরিচিত হই—হাগ, তার স্ত্রী এবং আর তাদের চারজন শিশুসন্তান। তারা মিলিসেন্ট শহরে বাস করতেন, মাউন্ট গ্যামবিয়ার থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে, আর আমি ঘোড়ায় এবং শাল্কিতে চড়ে এই সমস্ত পথটাই নিয়মিতভাবে তাদের সাথে বাইবেল অধ্যয়ন পরিচালনা করার জন্য যেতাম। যখন তারা সত্যকে আলিঙ্গন করে নেয়, তখন আমার নিঃসঙ্গতা কেটে যায়।

অনতিবিলম্বে, আমরা একটি সংগঠিত সাক্ষীদের দল গড়ে তুলি। তখন, আনন্দের কথা, যে আমার মা সত্যে আগ্রহ নিতে শুরু করেন এবং এই ১০০ কিলোমিটার দূরবর্তী সদ্য গড়ে ওঠা দলের সাথে অধ্যয়ন করার জন্য আমার কাছে আসেন। তদাবধি, আমার মা আমাকে সর্বদা উৎসাহ এবং সাহায্যই করে এসেছেন, যদিও তার বাপ্তিস্ম নিতে বেশ কয়েক বছর সময় লাগে। এখন আমি আর একাকী নই!

আমাদের এই ছোট দলটিতে ছিল চারজন অগ্রগামী, তিনজন অ্যাগনুদের বালিকারা, ক্রিসটাল, এসটেল এবং বেটি, আর সেইসঙ্গে আমি। পরবর্তীকালে, ১৯৫০ এর দশকের গোড়ার দিকে এই তিনজন বালিকাই ওয়াচ টাওয়ার বাইবেল স্কুল অফ গিলিয়েডে যোগদান করে। তাদেরকে ভারতবর্ষ এবং শ্রীলঙ্কায় মিশনারীরূপে পাঠান হয়, যেখানে এখনও তারা বিশ্বস্তভাবে সেবা করে চলেছেন।

১৯৪১ সালের জানুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়াতে যিহোবার সাক্ষীদের কাজ নিষিদ্ধ করা হয়, তাই আমরা দ্রুত কিছু পদক্ষেপ নিই। আমরা পরিচর্যার কাজে যা কিছু ব্যবহার করতাম—সাহিত্যাদি, পোর্টেবল ফোনোগ্রাফ, রেকর্ড করা বাইবেলের বক্তৃতাগুলি এবং অন্যান্য অনেক কিছুই—একটি টিনের ট্রাঙ্কে ভর্তি করলাম। তারপর আমরা সেই ট্রাঙ্কটিকে কিছুর অন্তরালে রেখে গাড়ি বোঝাই করা খড় এনে ঢাকা দিয়ে দিই।

নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আমরা গৃহ থেকে গৃহে প্রচার কাজ চালিয়ে গিয়েছিলাম, কিন্তু সাবধানতার সাথে, গৃহকর্তার সাথে কথা বলার সময়ে শুধুমাত্র বাইবেলটা ব্যবহার করতাম। আমার ঘোড়ার উপর গদির নিচে পত্রিকা ও পুস্তিকাগুলিকে লুকিয়ে রাখতাম এবং রাজ্যের বার্তার প্রতি প্রকৃত আগ্রহ দেখা গেলেই সেগুলি কাজে লাগাতাম। অবশেষে, ১৯৪৩ সালের জুন মাসে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয় এবং আমরা আবার খোলাখুলিভাবে পত্রপত্রিকা বিতরণ করতে পারি।

নতুন কাজের দায়িত্ব

১৯৪৩ সালে আমি অগ্রগামীর কাজে যোগদান করি এবং পরের বছর আমাকে অন্য দায়িত্বের জন্য মাউন্ট গ্যামবিয়ার ছেড়ে চলে যেতে হয়। প্রথমে, আমাকে অল্পকালের জন্য স্ট্রাথফিল্ডে সমিতির শাখা অফিসে পরিচর্যা করতে আমন্ত্রণ জানান হয়। এরপর আমি দক্ষিণ নিউ সাউথ ওয়েলসে এবং পশ্চিম ভিক্টোরিয়ার ক্ষুদ্র শহরগুলিতে কাজের দায়িত্ব পাই। যাইহোক, আধ্যাত্মিকভাবে পুরস্কারদায়ক আমার দায়িত্বগুলির মধ্যে একটি ছিল মেলবোর্ন শহরের একটি বড় মণ্ডলীতে। একটি ছোট শহর থেকে আসার দরুন আমি এখানে অনেক কিছু শিখতে পারেছিলাম।

ভিক্টোরিয়ার জিপসল্যান্ডের নিম্নভূমি অঞ্চলে আমি এবং আমার অগ্রগামী সাথী হেলেন ক্রফোর্ড যে দায়িত্ব পাই, সেখানে আমি অনেকগুলি বাইবেল অধ্যয়ন শুরু করতে পেরেছিলাম এবং অল্প সময়ের মধ্যে নতুন মণ্ডলী গড়ে উঠতে দেখেছিলাম। এই জেলাতে ছিল বিস্তীর্ণ গ্রামাঞ্চল এবং যাতায়াতের জন্য আমরা একটি পুরনো আস্থা স্থাপনের অযোগ্য গাড়ি ব্যবহার করতাম। মাঝে মাঝে আমরা এটাতে চড়তাম, কিন্তু অনেক সময়েই আমাদের গাড়িটাকে ঠেলে নিয়ে যেতে হত। আমি কতই না একটি ঘোড়া চেয়েছিলাম! কালক্রমে আমি সততা সহকারে বলতে পেরেছিলাম: “একটি ঘোড়ার বিনিময়ে আমি সব কিছু (শুধুমাত্র রাজ্য ছাড়া) দিতে রাজি ছিলাম!” আজ সেই জেলার অধিকাংশ শহরে অনেক দৃঢ় মণ্ডলী এবং সুন্দর কিংডম হল রয়েছে।

১৯৬৯ সালে আমি অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরাতে একটি কাজ করার দায়িত্ব পাই। এই স্থানটি ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক, শ্রমসাপেক্ষ এবং দক্ষতামূলক কারণ সেখানে আমাদের প্রায়ই বিদেশী দূতাবাসের ব্যক্তিবিশেষের সাথে সাক্ষাৎ করতে হত। আমি এখনও এখানে কাজ করছি, কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলিতে আমি এই শহরের শিল্পাঞ্চলগুলিতে সাক্ষ্যদানের কাজে মনোনিবেশ করেছি।

১৯৭৩ সালে আমার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বড় সম্মেলনগুলিতে যোগ দেবার সুযোগ ঘটে। আমার জীবনের আর একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হল যে ১৯৭৯ সালে আমাকে সম্মেলনের প্রতিনিধি করে ইস্রায়েল ও যর্দনে পাঠান হয়েছিল। বাইবেলে উল্লেখিত দর্শনীয় স্থানগুলি এবং সেখানে ঘটিত ঘটনাগুলি ধ্যান করা ছিল সত্যই আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা। যর্দনের পেট্রাতে থাকাকালীন লবণ সমুদ্রের ঘন লবণাক্ত জলে ভেসে থাকার অভিজ্ঞতা আমার হয়েছিল এবং এখানে আমার আর একবার ঘোড়ায় চড়ার সুযোগ আসে। এটি আমার স্মৃতিপটে ভাসিয়ে তুলে সুদূর অতীতের কথা, যখন ঘোড়ার চড়ে আমি বিক্ষপ্ত গ্রামাঞ্চলে রাজ্যের বার্তা নিয়ে যেতাম।

পূর্ণ-সময়ের কাজে লেগে ছিলাম

বয়স বেড়ে গেলেও পূর্ণ-সময়ের কাজে লেগে থাকার স্পৃহাকে, অগ্রগামীদের পরিচর্যা স্কুল এবং সীমা অধিবেশনের সময়ে অগ্রগামীদের সভা, সেইসঙ্গে সীমা অধ্যক্ষের থেকে ক্রমাগতভাবে উৎসাহ পেয়ে জাগিয়ে রেখেছিলাম। আমি সত্যই বলতে পারি যে যিহোবা এমনভাবে বিষয়গুলিকে পরিচালিত করেছিলেন যে আমার একাকী থাকার দিনগুলি এখন অতীতের বিষয় হয়ে গেছে।

আমার বয়স এখন ৮৭ বছর এবং প্রায় ৬০ বছর যিহোবাকে সেবা করার পর আমার অন্যান্যদের জন্যও উৎসাহজনক বাক্য রয়েছে, যারাও হয়ত আমার মত স্পষ্টভাষী এবং কোনভাবেই পরমুখাপেক্ষী নয়: যিহোবার নির্দেশনার প্রতি সর্বদা শ্রদ্ধা নিবেদন করুন। যিহোবা যেন সর্বদা আমাদের এই স্পষ্টভাষিতাকে সংযম করে চলতে সাহায্য করেন এবং তিনি যেন আমাদের সর্বদা স্মরণ করিয়ে দেন যে যদিও আমরা ঘন ঘন নিঃসঙ্গ বোধ করি, তিনি আমাদের কখনও পরিত্যাগ করবেন না।

[পাদটীকাগুলো]

a শাল্কি হল হাল্কা দু-চাকার গাড়ি।

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার