হিমালয়ের চেয়েও উচ্চতর এক পর্বত আরোহণ
হিমালয় পর্বতমালা! এই শব্দগুলি আপনার মনে কি ধরনের কল্পনা নিয়ে আসে? উচ্চ বরফের পর্বত শিখর, সেইসঙ্গে প্রবল বাতাসের প্রবাহ? পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতের চূড়ায় উঠে দাড়িয়ে থাকার আধিপত্য? আমাদের মধ্যে অধিকাংশেরই, নেপালে হিমালয় পর্বতের মাউন্ট এভারেষ্টের আরোহণ করার কথা অসম্ভব হতে পারে। তথাপি, আজকে বহু ব্যক্তি, নেপালে হিমালয়ের অপেক্ষা এক উচ্চতর পর্বতে আরোহণ করছে! এই বিষ্ময়কর পর্বতটির শিখরে আরোহণ করার পথের অন্বেষণ করার আগে আসুন আমরা এই অতি ক্ষুদ্র অথচ সুন্দর রাজ্য নেপালের প্রতি দেখি।
নেপাল—পর্বতের রাজ্য
নেপাল রাজ্যটি হল একটু অস্বাভাবিক, কারণ পৃথিবীতে অবশিষ্ট যে সকল রাজতন্ত্র রয়েছে, এটি তাদের মধ্যে একটি, আর সেইসঙ্গে এই রাজ্যটি ধর্মনিরপেক্ষ নয়, কিন্তু এটি একটি ধর্মীয় রাজ্য। পৃথিবীতে নেপালই হল একমাত্র হিন্দু রাজ্য। এখানে দুই কোটী বাসিন্দাদের মধ্যে বেশির ভাগ হল হিন্দু। যাইহোক, এখানকার লোকেদের জাতিগত উৎপত্তির বিবিধ বৈচিত্র লক্ষ্য করা যায়। যারা উত্তরের পার্বত্য অঞ্চলে বসবাস করে, তারা প্রধানত তিব্বত-বার্মা হতে আগত, আর যারা দক্ষিনের সমভূমিতে বসবাস করে, তারা ইন্দ-আর্য পটভূমিকা হতে আগত। নেপালী হল দেশের ভাষা এবং প্রায় ৬০ শতাংশ লোকের মাতৃভাষা। আর বাকী লোকেরা ১৮টিরও বেশী জাতিগত ভাষায় কথা বলে।
নেপাল দেশটির আকৃতি হল খানিকটা ত্রিকোন, পূর্বপশ্চিমে প্রায় ৮৮০ কিলোমিটার, এবং উত্তর দক্ষিণে ২০০ কিলোমিটার। উত্তরের সীমানা হল ভয়-সঞ্চয়কারী হিমালয় পর্বতমালা, যার অন্তর্ভূক্ত হল মাউন্ট এভারেষ্ট, ৮,৮৪৮ মিটার উচ্চ পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এবং সেইসঙ্গে ৮,০০০ মিটারেরও অধিক উচ্চ আরও আটটি শৃঙ্গ আছে। নেপালের মধ্যবর্তী অঞ্চলে নীচু পাহাড়গুলি রয়েছে, আর রয়েছে হ্রদ এবং উপত্যকাগুলি। আরও দক্ষিণে ভারতের কিনারায় রয়েছে উর্বর তরাই অঞ্চল যা হল প্রধান কৃষিকাজের জমি।
রাজধানী কাঠমান্ড়ু যা মধ্যবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত, ভ্রমনকারীদের জন্য এক মনোরম জায়গা। এখান থেকে মহিমাময় পর্বতের উপর দিয়ে উড়োজাহাজে করে উড়ে যেতে জঙ্গলী জীবজন্তুর পার্ক ভ্রমণ করতে এবং প্রচুর স্থানীয় জিনিস দেখার সুযোগ হয়। নেপালকে কখনও কখনও ঈশ্বরদের উপত্যকা বলা হয়, কারণ ধর্ম এখানকার মানুষের জীবনে প্রবল প্রভাব বিস্তার করে। ধর্ম হল আর একটা কারণ কেন পৃথিবীব্যাপী লক্ষ লক্ষ ব্যক্তিরা হিমালয়ের চেয়েও উচ্চতর “পর্বতে” উঠার জন্য এক দেশ ছেড়ে অন্য দেশে যায়।
প্রায় ২,৭০০ বছর আগে, ইব্রীয় ভাববাদী যিশাইয় ভবিষ্যদ্বাণী করতে অনুপ্রাণীত হয়েছিলেন যে “শেষকালে এইরূপ ঘটিবে; সদাপ্রভুর গৃহের পর্ব্বত পর্ব্বতগণের মস্তকরূপে স্থাপিত হইবে . . আর অনেক দেশের লোক যাইবে, বলিবে, চল, আমরা সদাপ্রভূর পর্বতে, যাকোবের ঈশ্বরের গৃহে গিয়া উঠি; তিনি আমাদিগকে আপন পথের বিষয়ে শিক্ষা দিবেন, আর আমরা তাহার মার্গে গমন করিব।” (যিশাইয় ২:২, ৩) এখানেই সেই উচ্চীকৃত যিহোবার পবিত্র উপাসনা, যিনি হলেন সমস্ত বিশ্বের সৃষ্টিকর্তা এবং সার্বভৌম শাসক, যাকে পর্বতের সাথে তুলনা করা হয়েছে, যা পর্বততুল্য অন্য যে কোন উপাসনার চেয়ে উচ্চ। বিশ্বব্যাপী শিক্ষার এটাই হল বিষয়বস্তু, যা সত্যের জন্য ক্ষুধার্ত ব্যক্তিদের যিহোবার পথের বিষয়ে জানতে সাহায্য করছে। এই কাজ নেপালে কিভাবে শুরু হয়েছিল?
অতি ক্ষুদ্রাকারে শুরু হয়
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে ব্রিটিশ সৈন্যদলের এক সৈনিক সত্য ধর্মের অন্বেষণ করছিলেন। তার হিন্দু ধর্মীয় নেপালী পিতামাতা ক্যাথলিক ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছিল। যখন সে বড় হয়ে উঠতে লাগল, তখন সে প্রতিমাপূজার মূর্খতাপূর্ন কাজগুলিকে দেখে, নরকাগ্নির মত মতবাদগুলিকে প্রত্যাখ্যান করে, এবং প্রোটেস্টান্ট গির্জার বিশ্বাসগুলিকে পরীক্ষা করতে শুরু করে। কিন্তু সে তাতে সন্তুষ্ট হয়নি।
জাপানীরা যখন তাকে বন্দী করে সেই সময়কার বার্মার রেঙ্গুনে, নিয়ে যায়, তখন সেই সৈন্যটি প্রার্থনা করে যে সে যেন সেই মরণসঙ্কোচরূপ দাসত্বের হাত থেকে মুক্তি পায়, যাতে করে সে সত্য উপাসনার বিষয়ে আরও অন্বেষণ করতে পারে। পরবর্তীকালে সে বন্দীত্ব থেকে পালিয়ে মুক্তি পেতে সক্ষম হয় এবং একটি স্কুলশিক্ষকের দ্বারা সাহায্য পায়, যার গৃহে সে মৃতেরা কোথায়? (ইংরাজি) বইটি, যেটি জে. এফ রাদারফোর্ড লিখেছিলেন, খুঁজে পান। সত্যের আভাস খুঁজে পেয়ে ১৯৪৭ সালে যখন যিহোবার সাক্ষীরা রেঙ্গুনে বাইবেল অধ্যয়নের জন্য আমন্ত্রণ জানায়, তখন সাগ্রহে সে তা গ্রহন করে। অল্প কয়েকমাসের মধ্যে সে বাপ্তিস্মিত হয় এবং তারপর তার যুবতী স্ত্রীও বাপ্তিস্মিত হয়। তারা ভারতবর্ষে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেয় এবং দক্ষিনপূর্বাঞ্চলের পার্বত্য অঞ্চলে স্বদেশ কালিমপং শহরে বসবাস করে। এখানেই তাদের দুই সন্তানের জন্ম হয়, ও তারা এখানেই শিক্ষালাভ করে। ১৯৭০ সালের মার্চ মাসে তারা কাঠমান্ডুতে আসে।
নেপালের সংবিধান অনুসারে ধর্মান্তকরণ নিষিদ্ধ। বিদেশী তথাগত কোন ধর্ম কাউকে প্রচার করতে দেখা দিলে তাকে সাত বছরের জন্য হাজতে থাকতে হবে এবং যে কোন ব্যক্তি সেই ধর্ম গ্রহণ করবে, তাকে তিন বছরের হাজতবাস এবং সেইসঙ্গে প্রচুর পরিমাণে জরিমানা দিতে হবে। সেজন্য সাক্ষ্যদানের কাজ অত্যন্ত সতর্কতার সাথে করতে হয়। ঘরে ঘরে পরিচর্যার কাজ করার অর্থ হল একটি ঘরে কথা বলার পর অন্য এলাকায় গিয়ে সেখানে কোন এক ঘরে কাজ করা। বোঝাই যাচ্ছে যে সুসংবাদ ছড়িয়ে দেবার কাজে রীতিবহির্ভূত সাক্ষ্যদান এক বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
উন্নতি খুব ধীরগতিতে হচ্ছিল। এক কোটী জনসংখ্যা বিশিষ্ট এই ক্ষেত্রটিকে দেখে নিরুৎসাহজনক বলে মনে হয়েছিল। এই একাকী পরিবারটি সত্যের বীজ বপন করেছিল তাদের বন্ধু, পরিচিত ব্যক্তি, নিয়োগকর্তা এবং সহকর্মীদের কাছে। তারা তাদের গৃহে নিয়ত সভার আয়োজন করত এবং আগ্রহী ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানাত যোগ দেবার জন্য। পরিশেষে, ১৯৭৪ সালের মার্চ মাসে, দীর্ঘ চার বছর একনাগাড়ে রোপণ এবং জলসেচনের পর নেপাল হতে প্রথম ফল আসে—এবং তা আসে একটা অস্বাভাবিক সূত্র হতে।
ঘরে ঘরে কাজ করার সময়ে প্রকাশকটি একটি ধনী ব্যক্তি, যিনি একটি রাজকীয় পরিবারের সেক্রেটারি ছিলেন, তার সাথে কথা বলেন। ব্যক্তিটি বলেন: “আমার ছেলের সাথে কথা বলুন।” তার ছেলেটি বাইবেল অধ্যয়ন করতে সম্মত হয়েছিল। কিছু সময় বাদে সে তার চাকুরিরও পরিবর্তন ঘটায় কারণ সে একটি জুয়া খেলার ক্যাসিনোতে কাজ করছিল। তার পিতা যিনি একজন ধর্মপ্রাণ হিন্দু ছিলেন, ছেলের বিরোধীতা করেছিলেন। তবুও এই যুবক ব্যক্তিটি যিহোবার পক্ষে দাঁড়িয়েছিল। তার ফল কি দাঁড়ায়? পরবর্তীকালে তার পিতা তাকে বিরোধীতা করা বন্ধ করে দেয় এবং আত্মীয়ের এক দল বাইবেলের সত্য গ্রহণ করে। তিনি এখন খ্রীষ্টীয় মণ্ডলীতে প্রাচীনের কাজ করছেন।
আধ্যাত্মিকভাবে বলবান থাকার জন্য এবং শাস্ত্রীয় নীতি অনুসারে সভাস্থ হওয়ার আদেশ মান্য করার জন্য এই ছোট দলটি কাঠমান্ডুতে বাসগৃহে নিয়মিতভাবে সভার জন্য মিলিত হয়। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভাইয়েরা বিশাল জনসভাগুলিতে মেলামেশার সুযোগ পেত না। যাদের যাওয়ার সামর্থ ছিল, তারা সম্মেলনে যোগ দেবার জন্য ভারতে আসত—এক দীর্ঘ এবং ব্যয়বহুল যাত্রা পর্বতরাজির উপর দিয়ে।
কি আনন্দপূর্ণ সময়ই না আসে যখন জেলা সম্মেলনের সম্পূর্ণ বিষয়গুলি যে গৃহে তাদের সভা হত, সেখানে অনুষ্ঠিত হয়! কল্পনা করে দেখুন, চারজন ভাই আর একজন ভারতীয় শাখার সদস্য সমস্ত অধিবেশনকে পরিচালনা করেন! এমনকি বাইবেলের ড্রামাটিও অনুষ্ঠিত হয়। কিভাবে? ভারতে কোথাও যখন পোষাক পড়ে ড্রামার রিহের্সাল হচ্ছিল, তখন তার ছবি তুলে নেওয়া হয়। নেপালে এই ছবিগলি পোজেক্টারের সহায়তায় পর্দায় তোলা হয়, তার সাথে টেপ করা গলার স্বরও শোনানো হয়। দর্শকেরা এটা পছন্দ করেছিল। দর্শকদের ভীড় কত বড় ছিল? আঠারো জন!
প্রচারের জন্য বাইরের দেশ হতে সাহায্য ছিল খুবই সীমিত। মিশনারীর কাজ করা ছিল অসম্ভব এবং বিদেশীদের পক্ষে সেখানে কাজ পাওয়াও সহজ ছিল না। যাইহোক, দুজন ভারতীয় সাক্ষী বিভিন্ন সময়ে নেপালে কাজ পেতে সমর্থ হয় এবং বেশ কিছু বছর সেখানে সদ্যজাত মণ্ডলীটিকে গঠন এবং সাহায্য করতে সক্ষম হয়। ১৯৭৬ সালের মধ্যে কাঠমান্ডুতে ১৭ জন রাজ্যের প্রকাশক ছিল। ১৯৮৫ সালে ভায়েরা সেখানে নিজেদের কিংডম হল তৈরী করে। নির্মাণকার্য শেষ হয়ে যাওয়ার পর বার্ষিক জেলা সম্মেলন এবং সেইসঙ্গে অন্যান্য অধিবেশনগুলিও সেখানে নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হতে শুরু করে। দূরবর্তী পার্বত্য অঞ্চলে এই হলটি প্রকৃতই সত্য উপাসনার এক কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
বাধাবিপত্তি সত্ত্বেও বৃদ্ধি
নেপালে সাক্ষদানের কাজ শুরু হওয়ার প্রথমদিকে অতি সাবধানতার সাথে তা করার জন্য কর্তৃপক্ষদের বিশেষ নজরে পড়েনি। যদিও ১৯৮৪ সালের শেষদিক হতে বাধানিষেধ আরোপ হতে শুরু করে। একজন ভাই ও তিনজন বোনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং চারদিন হাজতে রাখার পর তাদের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে রেহায় দেওয়া হয়। একটি গ্রামে নয়জন ব্যক্তিকে তাদের গৃহে বাইবেল অধ্যয়ন করার সময়ে গ্রেপ্তার করা হয়। ছয়জনকে ৪৩ দিনের জন্য হাজতে রাখা হয়। অন্যান্য অনেক গ্রেফতারও করা হয়, কিন্তু আইনত কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সম্প্রতি ১৯৮৯ সালে মণ্ডলীর একটি বুকস্টাডিতে সকল ভাইবোনেদের গ্রেফতার করে তিন দিন আটকে রাখা হয় ও তারপর ছেড়ে দেওয়া হয়। অনেকসময় তাদের তারা আর প্রচার করবে না বলে লিখিতভাবে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়। তারা তা করতে অস্বীকার করে। তাদের কাউকে আবার লিখে সই করে দিতে হয় যে প্রচার করা অবস্থায় ধরা পড়লে তার পরিণাম তাদের ভোগ করতে হবে।
এইসব বাধাবিপত্তি সত্ত্বেও ভায়েরা রাজ্যের সুসংবাদ উদ্দীপনার সাথে প্রচার করতে থাকে। দৃষ্টান্তস্বরূপ, সরকারের হস্তক্ষেপের পরবর্তী বৎসরে ১৯৮৫ সালে প্রকাশকের সংখ্যায় ২১ শতাংশ বৃদ্ধি ঘটে। ৩৫ জন প্রকাশক অপরের কাছে সত্য উপাসনার বিষয়ে কথা বলার জন্য মাসে গড়ে ২০ ঘন্টা ব্যয় করে।
সময় অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে রাজনৈতিক পরিবর্তনের হাওয়া নেপালেও বইতে শুরু করে। সরকারী কর্মকর্তারা উপলব্ধি করতে শুরু করে যে যিহোবার সাক্ষীদের থেকে ভয়ের কোন কারণ নেই। বস্তুতপক্ষে, বাইবেলের বিষয়ে শিক্ষা দেওয়ার কাজ লোকেদের উপর এক সুন্দর গঠনমূলক প্রভাব ফেলে, যা তাদের আরও উত্তম নাগরিক হতে সাহায্য করে। কর্তৃপক্ষেরা লক্ষ্য করেছেন যে সততা, কঠোর পরিশ্রম এবং সঠিক নৈতিক আচরণ যিহোবার উপাসকদের জন্য ছিল প্রাথমিক প্রয়োজনীয় বিষয়।
এক অতি উত্তম সাক্ষ্যদান করা হয় যখন একজন প্রাক্তন ধর্মপ্রাণ হিন্দু নারী একজন সাক্ষী হয় এবং শরীরে রক্ত নিতে অস্বীকার করে। ডাক্তারেরা আশ্চর্য হয়ে যায় যখন তারা সেই নারীটির দৃঢ় এবং শিক্ষিত সংকল্পের কথা চিন্তা করে। এই নারীটি অনন্তকাল পৃথিবীতে জীবন উপভোগ করুন! ব্রোশারটি সাহায্যে সত্য সম্বন্ধে শিখতে সাহায্যপ্রাপ্ত হয়। পরিবার হতে বিরোধীতা এবং লাঞ্ছনা সহ্য করা সত্ত্বেও তিনি ১৯৯০ সালে বাপ্তিস্ম নেন এবং প্রায় তার ৭০ বছর বয়সে পৌঁছায়। পরবর্তীকালে তিনি তার পা ভেঙ্গে ফেলেন এবং অন্যান্য সমস্যায় জড়িয়ে পড়েন এবং তাকে অস্ত্রপচার করতে হয়। দুসপ্তাহ ধরে তাকে রক্ত নেওয়ার জ্ন্য ডাক্তারদের এবং আত্মিয়দের চাপ সহ্য করেন। শেষপর্যন্ত অস্ত্র প্রচারের দলটি বিনা রক্তে সফলতার সাথে অস্ত্রপ্রচার করে। যদিও তার চলাফেরা এখন সীমিত, এই বিশ্বস্ত সাক্ষীটি প্রতিদিন সকালে তার দরজায় বসে থাকেন এবং পথচারীদের তার কাছে বসবার জন্য এবং কিছু মনোরম সুসংবাদ শোনার জন্য আমন্ত্রণ জানান।
আজকের নেপাল
বর্তমান দিনের নেপালের পরিস্থিতি কেমন? যিহোবার সাক্ষীরা সেখানে পৃথিবীর অন্যান্য ভাইদের মত উপাসনার ক্ষেত্রে স্বাধীনতা উপভোগ করে থাকে। যবে থেকে একজন অথবা দুজন রূপক পর্বত আরোহক সত্য উপাসনার পর্বতে উঠতে আরম্ভ করেছে, তবে থেকে আরও অধিক সংখ্যক ব্যক্তিরা বলেছেন, ‘চল, আমরা যিহোবার পর্বতে গিয়া উঠি।’ ১৯৮৯ সালে প্রতি মাসে গড়ে ৪৩ জন করে প্রচার কাজে অংশ নেয় এবং সেই বৎসর ২০৪ জন খ্রীষ্টের মৃত্যুর স্মরনার্থক সভায় যোগদান করে।
তারপর, প্রতিজ্ঞানুসারে যিহোবা তাঁর গৃহে সত্যের অন্বেষণকারীদের একত্রীকরনের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে শুরু করেছেন। (যিশাইয় ৬০:২২) খুব বেশীদিন আগে নয়, কাঠমাণ্ডুতে দ্বিতীয় একটি মণ্ডলী তৈরী হয়েছে এবং এখন সেখানে রাজধানীর বাইরে আরও দুটি বিচ্ছিন্ন দল রয়েছে। ১৯৯৪ সালের এপ্রিল মাসে ১৫৩ জন খ্রীষ্টান প্রচার কাজের রিপোর্ট দিয়েছেন—পাঁচ বছরেরও কম সময়ে ৩৫০ শতাংশ বৃদ্ধি! তারা আগ্রহী ব্যক্তিদের সাথে ৩৮৬ বাইবেল অধ্যয়ন করেছিলেন। ১৯৯৪ সালের স্মরনার্থক সভায় সেখানে ৫৮০ জনের একটি আশ্চর্যজনক উপস্থিতি হয়েছিল। একটি বিশেষ অধিবেশনের দিনে ৬৩৫ জন হলে সম্পূর্নরূপে ভর্তি হয়ে যায়, আর ২০ জন বাপ্তিস্ম নেয়। সুতরাং যে মহান বৃদ্ধির পরিপূর্ণতা যিহোবার সাক্ষীরা পৃথিবীব্যাপী উপভোগ করে, তা ক্ষুদ্র নেপালেও পরিলক্ষিত হচ্ছ।
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে নেপালী ভাষায় সাহিত্যাদি উৎপন্ন হওয়ার হার প্রচুরভাবে বেড়ে গেছে যার ফলে নম্র ব্যক্তিরা সত্যকে দৃঢ়ভাবে ধরতে পেরেছে। ভারতীয় শাখা অফিসে অনুবাদকেরা যারা অনুবাদকের কলাকৌশল এবং কমপিউটার ব্যবহার করার ক্ষেত্রেশিক্ষিত হয়েছে, তারা এখন কাঠমান্ডুতে পূর্ণসময়ের কাজ করছে। বৃদ্ধির জন্য তৈরী হয়ে নেপালের ঐশিক পর্বতোরহণকারীরা উন্নতির পথে চলেছে।
হিমালয়ের চেয়েও উচ্চ পর্বতে উঠুন
আপনিও হিমালয়ের চেয়ে উচ্চ পর্বতে আরোহণ করার আনন্দ উপভোগ করতে পারেন। তা করার দ্বারা আপনি শুধুমাত্র নেপাল হতে আগত লোকেদের সঙ্গ পাবেন না, কিন্তু “প্রত্যেক জাতির ও বংশের ও প্রজাবৃন্দের ও ভাষার” লোকেদের সাথে মিলিত হবেন। (প্রকাশিত বাক্য ৭:৯) তাদের সাথে আপনিও নেপালের মত উচ্চ পর্বতরাজির সৃষ্টিকর্তার দ্বারা শিক্ষিত হবার আনন্দ উপভোগ করবেন। আপনি দেখবেন যে সৃষ্টিকর্তা সকল বিষয়কে ‘পরিষ্কার করে দেবেন’, আর আপনি পরিষ্কৃত এবং মনোরম পৃথিবীতে চিরকাল বেঁচে থাকার জন্য তাকিয়ে থাকতে পারেন।—যিশাইয় ২:৪.
[২৪ পৃষ্ঠার মানচিত্র]
(পুরোপুরি ফরম্যাট করা টেক্সটের জন্য এই প্রকাশনা দেখুন)
কাঠমাণ্ডু
মাউন্ট এভারেষ্ট
[২৫ পৃষ্ঠার চিত্র]
কাঠমান্ডুতে কিংডম হলের বাইরে
[২৬ পৃষ্ঠার চিত্র]
বাইবেল অধ্যয়ন থেকে বহু নেপালীরা উপকৃত হচ্ছেন