ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w৯৫ ৪/১৫ পৃষ্ঠা ২-৬
  • ধর্মীয় সত্য কি অর্জন করা সম্ভব?

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • ধর্মীয় সত্য কি অর্জন করা সম্ভব?
  • ১৯৯৫ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • দর্শন ও সত্য
  • সত্যের প্রকাশ কি প্রয়োজন?
  • ধর্ম এবং সত্য
  • ‘গোম ও শ্যামাঘাস’
  • খ্রীষ্টানরা আত্মায় ও সত্যে উপাসনা করেন
    ২০০২ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • কেন সত্যের অন্বেষণ করব?
    ১৯৯৫ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • সত্যের ঈশ্বরকে অনুকরণ করা
    ২০০৩ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • “সেই সত্য তোমাদিগকে স্বাধীন করিবে”
    ১৯৯৮ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
আরও দেখুন
১৯৯৫ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w৯৫ ৪/১৫ পৃষ্ঠা ২-৬

ধর্মীয় সত্য কি অর্জন করা সম্ভব?

সুইডেনের উপসালা শহর, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয় অবস্থিত, সেখানে একজন আধ্যাত্মিক বিষয় কৌতূহলী ব্যক্তি তার শহরে যে সমস্ত ধর্মীয় বিশ্বাস রয়েছে সেগুলি সম্বন্ধে গবেষণা করার পরিকল্পনা নেন, এমনকি তিনি তাদের উপাসনার স্থানগুলি পর্যন্ত পরিদর্শন করেন। তাদের যাজকদের প্রচার তিনি শোনেন এবং কয়েকজন সদস্যদের সাক্ষাৎকার নেন। তিনি লক্ষ্য করেন যে মনে হয় একমাত্র যিহোবার সাক্ষীরাই যেন নিশ্চিত যে তারা “সত্য খুঁজে পেয়েছে।” অস্তিত্বমান বিভিন্ন ধরনের ধর্মীয় মতবাদের পরিপ্রেক্ষিতে, তিনি অবাক হন যে কী করে তারা এরকম দাবি করতে পারে।

ব্যক্তিগতভাবে আপনি কি মনে করেন ধর্ম সম্বন্ধে যে সত্য তা অর্জন করা সম্ভব? এমনকি হয়ত যাকে পরম সত্য বলা যেতে পারে, সেটি নির্ধারণ করা কি সম্ভবপর হবে?

দর্শন ও সত্য

যারা দর্শন নিয়ে পড়াশুনা করেছেন তারা এই চিন্তাধারা গড়ে তুলেছেন যে পরম সত্য অর্জন করা মানবজাতির সাধ্যের বাইরে। আপনি হয়ত জানেন দর্শনকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে এইভাবে যে এটি হল “একটি বিজ্ঞান যা অস্তিত্ব ও জীবনের উৎসকে ব্যাখ্যা করতে চেষ্টা করে।” কিন্তু, প্রকৃতপক্ষে এটি তা করে না। ফিলোসফিন্স হিস্টোরিয়া-য় (দর্শনের ইতিহাস) সুইডেনের লেখক আল্ফ আলবার্গ লেখেন: “বহু দর্শন সম্বন্ধীয় প্রশ্নগুলি এমন ধরনের যে এদের নির্দিষ্ট কোন উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়। . . . অনেক লোকেরা এই ধারণা পোষণ করে যে সমস্ত অধিবিদ্যামূলক সমস্যাগুলি [যা প্রথম বিষয়বস্তুগুলির সাথে সংশ্লিষ্ট] এই দলেরই . . . অন্তর্ভুক্ত।”

ফলত, যারা দর্শনের মাধ্যমে জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলির উত্তর পাওয়ার চেষ্টা করেছে, তারা পরিশেষে অতৃপ্ত হয়েছে অথবা নিদারুণ মানসিক যন্ত্রণায় ভুগেছে। তানকেলিঞ্জার ওখ্‌ ট্রসফরমার (চিন্তা ও ধর্মীয় বিশ্বাসের ধারা) নামক তার বইয়ে, সুইডেনের লেখক গুন্নার অ্যাসপেলিন বলেছিলেন: “একটি জিনিস আমরা লক্ষ্য করি যে প্রকৃতি, কোন অংশে প্রজাপতি ও মশার তুলনায় মানুষের প্রতি বেশি উৎসাহ দেখায় না . . . আমরা সেই সব প্রাকৃতিক শক্তির সামনে দুর্বল, সম্পূর্ণরূপে দুর্বল যারা এই নিখিল বিশ্বে এবং আমাদের পৃথিবীর মধ্যে তাদের প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করছে। জীবনের প্রতি এই দৃষ্টিভঙ্গি যা প্রায়ই সাহিত্যের মধ্যে প্রকাশ পায়, বিশেষকরে সেই শতাব্দীর শেষের দিকে যখন মানুষেরা তাদের বিশ্বাস প্রগতির উপর স্থাপন করেছে এবং উত্তম ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছে।”

সত্যের প্রকাশ কি প্রয়োজন?

এটা প্রতীয়মান যে জীবন সম্বন্ধে যে সত্য তা খুঁজে পেতে মানুষের একার প্রচেষ্টা সফল হয়নি এবং কোন দিন তারা সফল হবে বলে মনেও হয় না। অতএব, এই সিদ্ধান্তে আসার যথেষ্ট উত্তম কারণ আছে যে কোন এক ধরনের ঐশিক প্রকাশপ্রাপ্তির প্রয়োজন রয়েছে। অনেকে যেটিকে প্রকৃতির বই বলে থাকে সেটি কিছুটা প্রকাশপ্রাপ্তির আভাস দেয়। এমনকি এটি যদি জীবনের উৎস সম্বন্ধে সিদ্ধান্তমূলক কোন বিবরণ নাও দেয়, তবুও এটি দেখায় যে জীবন সম্বন্ধে কেবল মাত্র বস্তুগত ব্যাখ্যা ছাড়াও আরও অনেক বেশি সন্তুষ্টমূলক ব্যাখ্যা পাওয়া সম্ভব। একটি ঘাস যা উপর দিকে বেড়ে ওঠে, সেটি প্রকৃতপক্ষে যে নিয়মগুলির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, সেই নিয়মগুলি একটি ছোট গর্তের মধ্যে পাওয়া নুড়িগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করে না। জীবিত বস্তুগুলি যেভাবে নিজেদের গড়ে তোলে ও সংগঠিত করে তা মৃত বস্তুগুলি করতে পারে না। অতএব, আইন ও ধর্মের একজন উল্লেখযোগ্য ছাত্রের এই উপসংহারে আসার ভিত্তি রয়েছে যে: “[ঈশ্বরের] অদৃশ্য গুণ, . . . জগতের সৃষ্টিকাল অবধি তাঁহার বিবিধ কার্য্যে বোধগম্য হইয়া দৃষ্ট হইতেছে।”—রোমীয় ১:২০.

কিন্তু এই গঠন ও সুসংগঠনের পিছনে কে আছে তা জানতে হলে, আমাদের আরও বেশি প্রকাশপ্রাপ্তির প্রয়োজন রয়েছে। এইধরনের প্রকাশপ্রাপ্তির যে অস্তিত্ব থাকতে পারে তা কি আমাদের আশা করা উচিত নয়? এটা আশা করা কি যুক্তিযুক্ত নয় যে যিনি পার্থিব জীবনের জন্য দায়ী তিনি তাঁর সৃষ্ট বস্তুর কাছে নিজেকে প্রকাশ করবেন?

বাইবেল দাবি করে যে এটি হল সেইধরনের প্রকাশপ্রাপ্তি। এই পত্রিকাতে আমরা প্রায়ই এই দাবিকে গ্রহণ করার জন্য উত্তম কারণগুলি দেখিয়েছি এবং অনেক চিন্তাশীল লোকেরা তা গ্রহণও করেছে। এটা খুবই উল্লেখযোগ্য যে, যে সব ব্যক্তিরা বাইবেল লিখেছেন তারা এই বিষয়টি প্রকাশ করতে আগ্রহী ছিলেন যে তারা যা লিখেছেন তা তাদের নিজস্ব নয়। প্রায় ৩০০বারেরও বেশি আমরা বাইবেলের ভাববাদীদের এইধরনের অভিব্যক্তিগুলি ব্যবহার করতে দেখি যেমন, “সদাপ্রভু এই কথা কহেন।” (যিশাইয় ৩৭:৩৩; যিরমিয় ২:২; নহূম ১:১২) আপনি হয়ত জানেন, যেসব পুরুষ ও মহিলারা বই অথবা প্রবন্ধ লেখেন তারা সাধারণত তাদের লেখার উপর সই করার জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকে। কিন্তু, যারা বাইবেল লিখেছেন তারা নিজেদের আড়ালে রাখার চেষ্টা করেছেন; কোন কোন ক্ষেত্রে এটা বোঝাও মুশকিল হয়ে পড়ে যে বাইবেলের বিশেষ কয়েকটি অংশ কার দ্বারা লিখিত।

বাইবেলের আরেকটি দিক যা হয়ত আপনার কাছে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে হতে পারে, তা হল এর অন্তর্নিহিত সমতা। এটা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যেহেতু বাইবেলের ৬৬টি বই ১,৬০০ এর বেশি বছর ধরে লেখা হয়। ধরুন আপনি একটি সাধারণ গ্রন্থালয়ে গেছেন এবং ৬৬টি ধর্মীয় পুস্তক বেছে নিয়েছেন যা ১৬ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে লিখিত হয়েছে। এরপর আপনি ওই প্রত্যেকটি বইগুলিকে একটি খণ্ডের মধ্যে বাঁধালেন। আপনি কি আশা করতে পারেন যে সেই খণ্ডটির মধ্যে একটি বিষয়বস্তু আর একটিমাত্র সমতাপূর্ণ সংবাদ থাকবে? কখনই না। এর জন্য এক অলৌকিক ঘটনার প্রয়োজন আছে। এই বিষয়টি বিবেচনা করে দেখুন: বাইবেলের যে বইগুলি, তাদের একটিই সাধারণ বিষয়বস্তু আছে এবং সেগুলি একে অপরকে সমর্থন করে। এটা প্রমাণ করে যে একজন চিন্তাশীল ব্যক্তিরই পরিকল্পনা, অর্থাৎ একজন লেখকই, যিনি এগুলি পরিচালনা করেছিলেন যা বাইবেল লেখকেরা লিপিবদ্ধ করেছিল।

কিন্তু, আপনি বাইবেলের ঐশিক উৎসের ক্ষেত্রে সবচাইতে বড় প্রমাণ হিসাবে আরেকটি জিনিস খুঁজে পাবেন। ভাববাণীগুলি—ভবিষ্যতে কী নিশ্চিতরূপে ঘটবে সেই তথ্য আগে থেকে লিপিবদ্ধ করা। “সেই দিন এই ঘটিবে” এবং “শেষকালে এইরূপ ঘটিবে”, এইধরনের অভিব্যক্তিগুলি বাইবেলের ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র। (যিশাইয় ২:২; ১১:১০, ১১; ২৩:১৫; যিহিষ্কেল ৩৮:১৮; হোশেয় ২:২১-২৩; সখরিয় ১৩:২-৪) যীশু খ্রীষ্ট পৃথিবীতে আসার শত শত বছর আগে, ইব্রীয় শাস্ত্রাবলির ভাববাণীগুলি তাঁর জীবনের বৃত্তান্ত প্রকাশ করে—তাঁর জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত। বাইবেল যে জীবন সম্বন্ধীয় সত্যের উৎস, সে সম্পর্কে এর চাইতে আর কোন যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। যীশু নিজেই এর সমর্থন করেন এই বাক্যগুলির মাধ্যমে: “তোমার বাক্যই সত্যস্বরূপ।”—যোহন ১৭:১৭.

ধর্ম এবং সত্য

এমনকি যারা বাইবেলে বিশ্বাস আছে বলে দাবি করে তারাও মনে করে যে পরম সত্য অর্জন করা সম্ভব নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একজন যাজক জন. স্পঙ মন্তব্য করেন: “আমাদের অবশ্যই . . . এই চিন্তাধারা পাল্টাতে হবে যে আমাদের কাছে সত্য আছে এবং অপরকেও আমাদের এই দৃষ্টিভঙ্গির সাথে একমত হতে হবে যে পরম সত্য আমাদের সকলের বোধগম্যের বাইরে।” সত্য অর্জন করা সম্পর্কে একজন রোমান ক্যাথলিক লেখক, ক্রিস্টোফার ডেরিক এই নেতিবাচক চিন্তাধারার পক্ষে একটি কারণ দেন: “যে কোন ধর্মীয় ‘সত্যের’ উল্লেখ ইঙ্গিত করে এক ধরনের জানার দাবিকে . . . আপনি এটাই বলতে চাইবেন যে অন্যেরা হয়ত এক্ষেত্রে ভুল; এবং এটা কোনক্রমেই চলবে না।”

কিন্তু, একজন চিন্তাশীল ব্যক্তি হিসাবে ভাল হবে, আপনি যদি কয়েকটি যথার্থ প্রশ্ন নিয়ে বিবেচনা করেন। যদি সত্য অর্জন করা সম্ভব না হত, তাহলে যীশু খ্রীষ্ট কেন বলেছিলেন: “তোমরা সেই সত্য জানিবে, এবং সেই সত্য তোমাদিগকে স্বাধীন করিবে”? আর কেনই বা যীশুর একজন প্রেরিত বলবেন যে ঈশ্বরের ইচ্ছা হল যে “যেন সমুদয় মনুষ্য পরিত্রাণ পায়, ও সত্যের তত্ত্বজ্ঞান পর্য্যন্ত পঁহুছিতে পারে”? কেন তাহলে খ্রীষ্টীয় গ্রীক শাস্ত্রাবলিতে বিশ্বাসের সাথে সামঞ্জস্য রেখে “সত্য” শব্দটি শতাধিকবার ব্যবহৃত হয়েছে? হ্যাঁ, তাহলে কেন তা হয়েছে, যদি সত্য অর্জন করা অসম্ভব হয়ে থাকে?—যোহন ৮:৩২; ১ তীমথিয় ২:৩, ৪.

বস্তুতপক্ষে, যীশু কেবলমাত্র এটাই দেখাননি যে সত্য অর্জন করা সম্ভব, কিন্তু তিনি এও বলেন যে যদি আমাদের উপাসনায় ঈশ্বরের অনুমোদন থাকতে হয় তাহলে এটিকে খুঁজে পাওয়া খুবই প্রয়োজন। যখন একজন শমরীয়া নারী চিন্তা করছিল উপাসনার সঠিক রূপটি কী—যিরূশালেমে যিহূদীদের ধর্মীয় পদ্ধতি নাকি গিরিশম পর্বতে শমরীয়দের পদ্ধতি—যীশু উত্তরে বলেননি যে সত্য অর্জন করা সম্ভব নয়। বরঞ্চ, তিনি বলেছিলেন: “প্রকৃত ভজনাকারীরা আত্মায় ও সত্যে পিতার ভজনা করিবে; কারণ বাস্তবিক পিতা এইরূপ ভজনাকারীদেরই অন্বেষণ করেন। ঈশ্বর আত্মা; আর যাহারা তাঁহার ভজনা করে, তাহাদিগকে আত্মায় ও সত্যে ভজনা করিতে হইবে।”—যোহন ৪:২৩, ২৪.

অনেক লোকে দাবি করে, ‘বাইবেলকে বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা যায়, অতএব একজন নিশ্চিত হতে পারে না যে আসল সত্যটি কী।’ কিন্তু সত্যিই কি বাইবেল এমন অস্পষ্টভাবে লেখা হয়েছে যে আপনি নিশ্চিতরূপে বুঝে উঠতে পারেন না যে এটিকে কিভাবে বুঝতে হবে? যদিও এটা সত্যি যে, কিছু ভাবাবাণীমূলক ও রূপক ভাষাগুলি বুঝতে পারা হয়ত মুশকিল হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ঈশ্বর ভাববাদী দানিয়েলকে বলেছিলেন যে, তার বইয়ে যে সমস্ত ভাববাণীমূলক ভাষা আছে, তা “শেষকাল” না আসা অবধি সম্পূর্ণরূপে বুঝা যাবে না। (দানিয়েল ১২:৯) অতএব এটা প্রতীয়মান যে কিছু দৃষ্টান্ত ও রূপক বিষয়ের ব্যাখ্যার প্রয়োজন আছে।

যদিও, এটা পরিষ্কার যে সত্যে ঈশ্বরকে উপাসনা করার জন্য প্রাথমিক খ্রীষ্টীয় শিক্ষা ও নৈতিক মানগুলির প্রয়োজন, সে বিষয় বাইবেল খুবই স্পষ্ট। এক্ষেত্রে কোনরকম পরস্পরবিরোধী ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না। ইফিষীয়দের উদ্দেশ্যে লেখা চিঠিতে, খ্রীষ্টীয় বিশ্বাসকে “এক” বলা হয়েছে, যা দেখায় যে বিভিন্ন ধরনের বিশ্বাস থাকবে না। (ইফিষীয় ৪:৪-৬) আপনি হয়ত চিন্তা করবেন, ‘যদি বাইবেলকে বিভিন্ন দিক দিয়ে সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব না হয়, তাহলে কেন এত ধরনের “খ্রীষ্টীয়” সম্প্রদায় রয়েছে?’ আমরা এর উত্তর পেতে পারি যদি আমরা সেই সময়ের দিকে ফিরে যাই যখন যীশুর প্রেরিতদের সবেমাত্র মৃত্যু ঘটে এবং সত্য খ্রীষ্টীয় বিশ্বাসের মধ্যে থেকে ধর্মভ্রষ্টতার সূত্রপাত হয়।

‘গোম ও শ্যামাঘাস’

গোম ও শ্যামাঘাসের দৃষ্টান্তে যীশু এইধরনের ধর্মভ্রষ্টতা সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। যীশু নিজেই ব্যাখ্যা করেন যে “গোম” চিত্রিত করছে সত্য খ্রীষ্টানদের; “শ্যামাঘাস” চিত্রিত করছে মিথ্যা, অর্থাৎ ধর্মভ্রষ্ট খ্রীষ্টানদের। “লোকে নিদ্রা গেলে পর,” যীশু বলেন, “শত্রু” এসে গোমের ক্ষেত্রস্থানে শ্যামাঘাস বপন করে। এই বপন কাজ শুরু হয় যখন প্রেরিতেরা মৃত্যুতে নিদ্রাগত হন। দৃষ্টান্তটি দেখায় যে সত্য খ্রীষ্টানের সাথে মিথ্যার এই সংমিশ্রন “যুগান্ত” পর্যন্ত চলবে। অতএব, শতাব্দী ধরে, সত্য খ্রীষ্টানদের শনাক্তিকরণ অস্পষ্ট থেকে গেছে কারণ কেবল নামধারী খ্রীষ্টানেরাই ধর্মীয় ক্ষেত্রকে নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। কিন্তু, “যুগান্ত”-এ এক পরিবর্তন ঘটবে। “মনুষ্যপুত্ত্র” সত্য খ্রীষ্টানদের থেকে মিথ্যা খ্রীষ্টানদের আলাদা করার জন্য “আপন দূতগণকে প্রেরণ করিবেন।” এর অর্থ হল যে খ্রীষ্টীয় মণ্ডলীকে তখন সহজেই চেনা যাবে, আর তাদের সেই ধরনের পদমর্যাদা থাকবে যা ছিল প্রেরিতদের সময়।—মথি ১৩:২৪-৩০, ৩৬-৪৩.

“শেষকালে,” এইভাবে সত্য উপাসকদের পুনরায় একত্রীকরণ সম্বন্ধে যিশাইয় ও মীখা উভয়ই ভাববাণী করেছিলেন। যিশাইয় বলেন: “শেষকালে এইরূপ ঘটিবে; সদাপ্রভুর গৃহের পর্ব্বত পর্ব্বতগণের মস্তকরূপে স্থাপিত হইবে, উপপর্ব্বতগণ হইতে উচ্চীকৃত হইবে; এবং সমস্ত জাতি তাহার দিকে স্রোতের ন্যায় প্রবাহিত হইবে। আর অনেক দেশের লোক যাইবে, বলিবে, চল, আমরা সদাপ্রভুর পর্ব্বতে, যাকোবের ঈশ্বরের গৃহে গিয়া উঠি; তিনি আমাদিগকে আপন পথের বিষয়ে শিক্ষা দিবেন, আর আমরা তাঁহার মার্গে গমন করিব।” এই ঘটনাগুলির প্রতি স্পষ্ট দৃষ্টিকোণ দেখায় যে যিশাইয়ের ভাববাণী আমাদের দিনে পরিপূর্ণতা লাভ করেছে।—যিশাইয় ২:২, ৩; মীখা ৪:১-৩.

কিন্তু, কিছু মানুষের প্রচেষ্টার দ্বারা খ্রীষ্টীয় মণ্ডলীর বৃদ্ধি ঘটছে না। যীশু ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে একত্রীকরণের কাজ করার জন্য তিনি “আপন দূতগণকে প্রেরণ করিবেন।” এছাড়াও তিনি এর একটা বিশেষ উদ্দেশ্য সম্বন্ধে ইঙ্গিত দেন: “তখন ধার্ম্মিকেরা আপনাদের পিতার রাজ্যে সূর্য্যের ন্যায় দেদীপ্যমান হইবে।” (মথি ১৩:৪৩) এটা দেখায় যে খ্রীষ্টীয় মণ্ডলীর দ্বারা জ্ঞানালোক অর্থাৎ শিক্ষার কাজ জগদ্ব্যাপী সম্পাদিত হবে।

যিহোবার সাক্ষীরা শিক্ষাদানের কাজে এই ভাববাণীগুলির পরিপূর্ণতা দেখতে পাচ্ছে যা তারা আজকে ২৩২টি দেশে চালিয়ে যাচ্ছে। সাক্ষীদের বিশ্বাস, আচরণের মান এবং সংগঠনের সাথে বাইবেলের তুলনা করার মাধ্যমে, একজন পক্ষপাতশূন্য ব্যক্তি পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারবে যে এগুলি প্রথম শতাব্দীর খ্রীষ্টীয় মণ্ডলীর সাথে সমতা বজায় রেখে চলেছে। সাক্ষীরা তাদের বিশ্বাসকে “সত্য” বলে থাকে, কিন্তু তা নিজেদের উৎকৃষ্টতা প্রকাশ করার জন্য নয়। বরঞ্চ, এটি তারা করে কারণ তারা ঈশ্বরের বাক্য, বাইবেল, পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পড়ে এবং ধর্মকে সঠিকভাবে মাপবার একমাত্র মান হিসাবে তা অনুসরণ করে।

প্রাথমিক খ্রীষ্টানেরা তাদের বিশ্বাসকে “সত্য” বলে সম্বোধন করত। (১ তীমথিয় ৩:১৫; ২ পিতর ২:২; ২ যোহন ১) তাদের ক্ষেত্রে যা সত্য ছিল তা আমাদের ক্ষেত্রেও আজকে সত্য হওয়া উচিত। যিহোবার সাক্ষীরা সকলকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে বাইবেল অধ্যয়ন করার দ্বারা এবিষয় সম্বন্ধে নিশ্চিত হতে। আমরা আশা করি যে এটি করার দ্বারা আপনি কেবলমাত্র সবচাইতে উত্তম ধর্ম পেয়েছেন বলেই নয় কিন্তু সত্য পেয়েছেন বলেও আনন্দিত হবেন।

[৫ পৃষ্ঠার বাক্স]

কিছু দর্শন বনাম সত্য

দৃষ্টবাদ: এমন একটি দৃষ্টিকোণ যা বলে সমস্ত ধরনের ধর্মীয় চিন্তাধারা হল অযৌক্তিক এবং দর্শনের উদ্দেশ্য হল গঠনমূলক বিজ্ঞানকে সম্পূর্ণতার রূপ দেওয়া।

অস্তিত্ববাদ: এর সমর্থকেরা বিশেষকরে ২য় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতার দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল আর তাই জীবন সম্বন্ধে তাদের একটা নেতিবাচক মনোভাব গড়ে উঠেছে। এটি বিশেষভাবে মৃত্যুর মুখে মানুষের যন্ত্রণা ও জীবনের শূন্যতা সম্বন্ধে পরীক্ষা করার উপর জোর দেয়। অস্তিত্ববাদের লেখক জাঁ-পল্‌ সাঁতরে বলেন যে, যেহেতু ঈশ্বরের কোন অস্তিত্ব নেই, মানুষ তাই ছন্নছাড়া এবং এমন একটি বিশ্বে তাদের অস্তিত্ব রয়েছে যা সম্পূর্ণরূপে নিষ্প্রভ।

সংশয়বাদ: বিশ্বাস করে যে পর্যবেক্ষণ ও যুক্তির মাধ্যমে, অস্তিত্ব সম্বন্ধে কোন সার্বিক জ্ঞান অর্থাৎ কোন সত্যের লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

প্রয়োগবাদ: আমাদের দৃঢ়প্রত্যয়ের প্রকৃত যোগ্যতাকে মূল্যায়ন করে মানুষের সম্পর্কের উপর তাদের বাস্তবধর্মী প্রভাবের ভিত্তিতে, যেমন শিক্ষা, নৈতিকতা এবং রাজনীতির পুনর্গঠন। এটি মনে করে না যে সত্যের নিজস্ব কোন মূল্য আছে।

[২ পৃষ্ঠার চিত্র সৌজন্যে]

Page 3: Second from left: Courtesy of The British Museum; Right: Sung Kyun Kwan University, Seoul, Korea

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার