যিহোবা পৃথিবীকে রক্ষা করবেন
বিমান বন্দরটি যা মালদীভের একটি দ্বীপে অবস্থিত তা প্রত্যেকদিন বেশ কিছু ঘন্টা ধরে বন্ধ থাকে। কেন? কারণ ভরা জোয়ারের ফলে বিমানের যে উড্ডয়ন ও অবতরণের পথটি আছে তা জলে ভরে যায় এবং বিমানের পক্ষে অবতরণ করা বিপদ হয়ে পড়ে। কিছু বিজ্ঞানীরা মনে করেন যে পরবর্তী শতাব্দীতে মালদীভ দ্বীপপুঞ্জে সমুদ্রপৃষ্ঠ অন্ততপক্ষে হয়ত এক মিটার বৃদ্ধি পাবে। যদিও আপাতদৃষ্টিতে এটা খুবই নগণ্য পরিমাপ, কিন্তু এই বৃদ্ধি সাতটি দ্বীপকে মানচিত্র থেকে একেবারে মুছে দিতে পারে। অবশ্যই, ইউ এন ক্রনিকল্ অনুসারে, দুই মিটার বৃদ্ধি সমগ্র দ্বীপপুঞ্জগুলিকে, অর্থাৎ প্রায় ১,২০০টি দ্বীপকে ডুবিয়ে দিতে পারে!
সমুদ্রপৃষ্ঠের এই বৃদ্ধির কারণটি কী? ইউ এন এর পরিবেশ সংক্রান্ত কর্মসূচি অনুসারে, “গ্রীনহাউস গ্যাসের” দ্বারা পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে যে দূষণ দেখা দেয় তার ফলে উষ্ম অঞ্চলগুলিতে সমুদ্র প্রসারিত হতে থাকে, বরফের স্তুপগুলি আর হিমবাহ গলতে আরম্ভ করে এবং এর ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠ বৃদ্ধি পেতে থাকে। লন্ডনে অবস্থিত প্যানস প্রতিষ্ঠানটি জানায় যে দূষণই “হয়ত ধীরগামী পৃথিবীকে বিপর্যয়ের চরম মুহূর্তে নিয়ে যাচ্ছে যা স্থল ও সমুদ্রের সীমা পর্যন্ত পরিবর্তন করছে।”
পৃথিবীর উষ্মতার যে বাস্তবতা তা নিয়ে এখনও বিজ্ঞানীদের মধ্যে বিতর্ক চলছে। কিন্তু আমরা নিশ্চিত হতে পারি যে এই পরিবেশ সমস্যা ঈশ্বরের উদ্দেশ্যকে বাধা দিতে পারবে না। “জগৎও সুস্থির” বাইবেল জানায়। “তাহা বিচলিত হইবে না।” (১ বংশাবলি ১৬:৩০) পৃথিবীর আবহাওয়ার উপর যিহোবার নিয়ন্ত্রণ আছে এবং আমরা আনন্দিত হতে পারি যে খুব শীঘ্রই তিনি পৃথিবী ও মানবজাতিকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাবেন।—গীতসংহিতা ২৪:১, ২; ১৩৫:৬; ২ পিতর ৩:১৩.
[৩১ পৃষ্ঠার চিত্র সৌজন্যে]
Drawing based on NASA photo