আমাদের কোন অবসর গ্রহণ নেই!
“আমাদের কোন অবসর গ্রহণ নেই” এটি আপনি বোধ করতে পারেন যখন আপনি জাপানের টোকিওতে একটি অসাধারণ ঘর পরিদর্শন করেন। ২২ জন স্ত্রী ও পুরুষ সহ এক পরিবার, যাদের বয়স গড়ে ৭০ বছর, তারা সেখানে বাস করেন। তারা রক্তমাংসের সম্পর্কের দ্বারা নয় কিন্তু একটি সাধারণ লক্ষ্যের দ্বারা ঐক্যবদ্ধ—মিশনারী পরিচর্যা। তারা মোট ১,০২৬ বছর পূর্ণ-সময়ের পরিচর্যা কাজে প্রাণপণ করেছেন! সবচেয়ে বয়স্ক তিনজন সদস্য ১৯১০ সালে জন্ম নেন। তাদের মধ্যে সাত জন কৈশরাবস্থায় পূর্ণ-সময়ের পরিচর্যা কাজ আরম্ভ করেন। তাদের মধ্যে নয় জন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানের রাজ্যের প্রচার কাজের বৃদ্ধি শৈশবাবস্থা থেকে দেখে এসেছেন।—যিশাইয় ৬০:২২.
যাইহোক, বিশেষকরে সেখানে বসবাসকারী মিশনারীদের আত্মা, প্রধান অনুরাগের জন্য এই ছয়-তলা বিশিষ্ট প্রাক্তন ওয়াচ টাওয়ার শাখার বিল্ডিংটি হয়ে উঠে একটি উৎসাহের স্থান। বয়স ও দুর্বল স্বাস্থ্য হওয়ার জন্য বেশির ভাগের দৈহিক ক্ষমতা সীমিত থাকলেও, আধ্যাত্মিক যোদ্ধাদের মধ্যে হাল ছেড়ে দেওয়ার জন্য কেউই রাজি নয়। তাদের জন্য জাপানী সাক্ষীরা মেরামত করে বিল্ডিংটার সম্পূর্ণ নবরূপ দান করেন, নিচে কিংডম হল এবং যাতায়াত করার জন্য এলিভেটর তৈরি করেন।
তাদের যা খুশি করে
তাদের এই কার্যভারে বহু বছর থাকার জন্য, এই মিশনারীরা মনে করেন যে এটি হল তাদের ঘর। “গত গ্রীষ্মকালে যখন আমি অস্ট্রেলিয়াতে জেলা সম্মেলনের জন্য যাই, বলেন পরিবারের সবচাইতে বয়স্ক সদস্যা, দুই সপ্তাহ পরেই আমি ঘরে ফিরে আসার জন্য তৈরি হই!” তারা যেসব লোকেদের সেবা করছেন তাদের তারা ভালবাসেন এবং তাদের জন্য গভীর স্নেহ তারা গড়ে তুলেছেন। সকল মিশনারীরা পত্রাবলী ও ফোন কলগুলি পেতে ভালবাসেন যা তাদের বিগত দিনগুলির কার্যাবলীর কথা মনে করিয়ে দেয়।
এটাই হল পরিশ্রমী পরিচর্যার ফল। যিহোবার প্রতি প্রেমের দ্বারা পরিচালিত হয়ে, মিশনারীরা বিভিন্ন পরিস্থিতিতে তৎপরতার সাথে ঈশ্বরের বাক্য প্রচার করেন। (তুলনা করুন ২ তীমথিয় ৪:২.) “আমরা আনন্দিত থাকতে নিজেদের শিক্ষা দিই কারণ আমরা যিহোবাকে সেবা করছি,” বলেন ভিরা ম্যাকে, যিনি জাপানে ৩৭ বছর যাবৎ সেবা করেন। “এমনকি কেউ দরজার সামনে না এলেও, আমরা যিহোবার সম্বন্ধে সাক্ষ্য দিতে সেখানে আছি।”
এই মিশনারীদের মধ্যে বারো জন বিবাহ করেননি, কিন্তু তারা প্রভুকে একাগ্রমনে সেবা করতে পেরে আনন্দিত। (১ করিন্থীয় ৭:৩৫) গ্ল্যাডিস্ গ্রেগরি হলেন তাদের মধ্যে একজন, যিনি ৪৩ বছর ধরে সেবা করছেন। তিনি বলেন: “যিহোবার সেবায় আরও বেশি স্বাধীনতা পেতে আমি অগ্রগামীর কাজে, পরে গিলিয়ডে [ওয়াচটাওয়ার বাইবেল স্কুল অফ গিলিয়ড] এবং তারপরে মিশনারীর কাজে যোগ দিই। অবিবাহিত থাকার সম্পর্কে কোন প্রতিজ্ঞা না করেই আমি অবিবাহিত থাকি এবং বহু বন্ধুদের মতই আমি সেই সম্বন্ধে কখনই আপশোষ প্রকাশ করিনি।”
মানিয়ে নেওয়ার ইচ্ছা
বয়স বাড়ার সাথে সাথে যদিও অনেকে একগুঁয়ে হয়ে যায়, কিন্তু মিশনারীরা মানিয়ে নিতে রাজি আছেন। লোইস্ ডায়ার, মলি হারান্ এবং লেনা ও মার্গ্রিট ভিন্টেলার টোকিওর এক জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ছোট মিশনারী গৃহে বাস করতেন। তারা সেখানে ২০ বছরেরও বেশি বাস করেন এবং সেই এলাকার লোকেদের প্রতি স্নেহপ্রবণ হয়ে পড়েন। তাদের এলাকাতে ভিন্টেলার বোনেদের ৪০ জন লোকের পত্রিকা রুট ছিল এবং মলি ও লোইস্দের ৭৪ জন। তারপর তাদের টোকিও শহরের বুকে ছয়-তলার বিল্ডিং-এ যেতে বলা হয়। “আমি প্রথমে হতাশ ও অখুশি হই,” বলেন লেনা। যেমন সবসময় হয়ে থাকে তারা কিন্তু তাদের নতুন কার্যভারে নিজেদের মানিয়ে নেন। তারা এখন কিরূপ বোধ করছেন? “খুব খুশি,” বলেন লেনা। “এখন এখানে দুইজন বেথেল ভাই আমাদের জন্য রান্না করতে ও আমাদের ঘর পরিষ্কার করার জন্য আছে। আমাদের ভালভাবে দেখাশোনা করা হয়।” লোইসের সঙ্গে তারা সকলেই একমত, যিনি বলেন: “যিহোবার সংগঠন আমাদের প্রেমপূর্ণ যত্ন নেওয়ার জন্য আমাদের অধ্যবসায়ী হতে সক্ষম করে।”
নোরিন থম্পসনও নতুন পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নেন। তিনি বলেন, “যখন সারা জাপান একটি জেলা ছিল তখন জেলা কার্যে আমার স্বামীর [নিউ জীল্যাণ্ডবাসী] সাথে ১৫ বছর যাবৎ সহযোগিতা করার সুযোগ হয়।” কিন্তু, তার স্বামীর স্বাস্থ্য খারাপ হয়ে পড়ে এবং তাকে তার জীবনের সবচাইতে বড় পরীক্ষা পার হতে হয়—১৮ বছর আগে তার মৃত্যু। “সেই সময়,” তিনি বলেন, “মিশনারীর কাজ চালিয়ে যেতে আমাকে সক্ষম করে সারা জাপানের ভাই-বোনেদের প্রদর্শিত প্রেম, তার সাথে প্রার্থনা এবং পরিচর্যায় ব্যস্ত থাকা।”
স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যার মধ্যেও চালিয়ে যাওয়া
“বেশির ভাগেরই কিছু না কিছু স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা আছে, কিন্তু তারা প্রফুল্ল থাকে এবং সেবা করার তাদের ইচ্ছা হল এক উল্লেখযোগ্য গুণ,” বলেন মিশনারী হোমের অধ্যক্ষ অ্যালবার্ট পাস্টার। মিশনারীদের দেখাশোনা করার জন্য, হোমে একজন ডাক্তার ও তার নার্স স্ত্রীকে নিযুক্ত করা হয়েছে।
প্রায় তিন বছর আগে, একদিন এলসি টানিগওয়া, গিলিয়ড স্কুলের ১১তম ক্লাসের স্নাতকপ্রাপ্ত ছাত্রী, হঠাৎ তার বাঁ চোখের দৃষ্টি হারান। চার মাস পরে, তার ডান চোখও প্রভাবিত হয়। “আমি আগে যেরকম সেবা করতাম সেই রকম আর করতে পারি না বলে অনেক সময় আমি কিছুটা নিরাশ হয়ে পড়ি। কিন্তু সমিতির সবরকমের দয়াপূর্ণ ব্যবস্থা এবং আমার সহকারীর ও অন্যান্যদের প্রেমময় সাহায্যে জন্য যিহোবার সেবায় ক্রমাগত আনন্দ পেয়ে থাকি,” এলসি বলেন।
শিনিচি তোহারা ও তার স্ত্রী, মাসাকা, যারা এলসির গিলিয়ড ক্লাসের সাথী ছিলেন, তারা বিগত কিছু বছর ধরে স্বাস্থ্য সম্বন্ধে পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছিলেন। শিনিচির ক্ষেত্রে, যিনি দক্ষ বক্তা, দৃষ্টি কম হয়ে যাওয়ার জন্য নোট দেখতে না পাওয়া হল তার কাছে মহা চ্যালেঞ্জের ব্যাপার। সম্প্রতি বছরগুলিতে তার বড় ও ছোট ধরনের অপারেশন হওয়া সত্ত্বেও, যখন তিনি তার ৯০ বছর বয়স্ক বাইবেল ছাত্র সম্বন্ধে বলেন যাকে তিনি এখন সাহায্য করছেন তখন তার চোখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।
“মাংসে কন্টক” থাকা সত্ত্বেও এই মিশনারীরা তাদের দুর্বলতাগুলিকে প্রেরিত পৌলের মত মনে করেন, যিনি বলেন: “কেননা যখন আমি দুর্ব্বল, তখনই বলবান্।” (২ করিন্থীয় ১২:৭-১০) হ্যাঁ, সত্যই তারা বলবান! সকালে উপাসনার জন্য তারা প্রতিদিন সাতটার সময় ওঠেন। জলখাবারের পর, যারা দৈহিকভাবে সক্ষম তারা খুব সকালে ক্ষেত্রের পরিচর্যায় যান।
রিচার্ড ও মার্টিল শিরোমা হলেন তাদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত যারা প্রতিদিন পরিচর্যায় যান। মার্টিলের ১৯৭৮ সালে মস্তিষ্কে আর্টারিওস্কেলেরোসিস হওয়ার জন্য স্ট্রোক হয়, কিন্তু তিনি ১৯৮৭ সালের নভেম্বর পর্যন্ত তার স্বামীর সাথে ভ্রমণের কাজে সহায়তা করেন। এখন রিচার্ড, যিনি নিজেই ৭০ বছর বয়সের, মার্টিলকে সবকিছু করার জন্য সাহায্য করেন। তিনি সকাল ৫টায় ওঠেন, স্ত্রীকে ওঠান, স্নান করান, কাপড়-জামা পরিয়ে দেন, প্রসাধন লাগাতে সাহায্য করেন এবং খাইয়ে দেন। তারপর প্রতিদিন সকালে তার হুইল চেয়ারে করে তাকে ক্ষেত্রের পরিচর্যায় নিয়ে যান, প্রায় এক ঘন্টা ঘরে-ঘরে প্রচার করেন তারপর বাস স্টপে লোকেদের সাক্ষ্য দেন। মার্টিল আর এখন কথা বলতে পারেন না, কিন্তু তিনি যে শেষ কথা বলেন তা হল ডন্ডো, ডন্ডো, জাপানি ভাষায় তার অর্থ হল “প্রচার, প্রচার।”
তাদের মেয়ে, স্যান্ড্রা সুমিডা, তাদের সাহায্য করতে মিশনারী হোমে আসেন। স্যান্ড্রা সম্প্রতি হৃদরোগে তার প্রিয় স্বামীকে হারান। গুয়াম থেকে জাপানে তাকে পাঠাবার জন্য ওয়াচ টাওয়ার সমিতির দয়াপূর্ণ ব্যবস্থাকে তিনি খুবই উপলব্ধি করেন, যেখানে তিনি তার স্বামীর সাথে মিশনারীর কাজ করেছিলেন। “আমি গুয়ামে থাকাতে সব সময় ভাবতাম যে বাবা-মাকে দেখার আমার খুব একটা সুযোগ হয়নি,” তিনি বলেন। “আমার বোন, জোন তাদের এই হোমে দেখাশোনা করত। তাই যখন আমার কাছে সুযোগ আসে, তখন আমার খুব ভাল লেগেছিল। আমার স্বামীর অকাল মৃত্যুর পর, এখানে আমার প্রয়োজন আছে বলে মনে করাটা হল আমার সান্ত্বনা।”
তবুও এক উদ্বিগ্নতা বিদ্যমান
যদিও মিশনারীরা বার্দ্ধক্যের প্রভাব অনুভব করেন, তবুও তারা মিশনারীর মনোভাব পরিত্যাগ করতে চান না। (গীতসংহিতা ৯০:১০; রোমীয় ৫:১২) জেরি ও ইয়োশি টোমা, যারা হলেন জাপানে আসা গিলিয়ড স্নাতকদের মধ্যে প্রথম, তারা এখনও শিবুয়ে শহরের কেন্দ্রস্থলের ব্যবসা ক্ষেত্রে প্রচার করতে যান। “যখন আমরা এই দুই তলা বাড়িতে আসি, যেটি এখানে ১৯৪৯ সাল থেকে আছে, তখন আমরা ছোট ছোট ঘরগুলিতে যেতাম। এখন টোকিও এক বিরাট শহরে পরিণত হয়েছে। আমরা এখন বৃদ্ধ হয়ে গেছি, আগে যেরকম করতাম এখন আর সেই রকম করতে পারি না। কিন্তু আমরা যখন প্রচার থেকে আসি তখন আমরা পরিতৃপ্ত হয়ে আসি,” বলেন ইয়োশি।
লিলিয়ান স্যামসন্ ৪০ বছর ধরে জাপানে মিশনারীর কাজ করছেন এবং তিনি তার পরিচর্যা কাজ খুব উপভোগ করেন। “আমি এখন ৮০ বছর বয়স্ক এক মহিলাকে সাহায্য করছি, যিনি আমার সহকারী অ্যাডলিন নাকোর সাথে অধ্যয়ন করেছিলেন, যিনি এখন তার অসুস্থ মাকে দেখাশোনা করার জন্য হাওয়াই চলে গেছেন। পূর্ব পুরুষদের উপাসনা করার সমস্যাটি মোকাবিলা করে মহিলাটি সম্প্রতি রাজ্য প্রকাশক হয়েছেন। তিনি মন্দিরে গিয়ে পুরোহিতের স্ত্রীকে বলেন, ‘আমি খ্রীষ্ট ধর্ম গ্রহণ করেছি!’” এই সকল আনন্দ নিয়ে লিলিয়ান কখনও সেই দিন সম্বন্ধে দুঃখ প্রকাশ করেন না, যখন তিনি ১৯ বছর বয়সে চাকুরি ছেড়ে অগ্রগামীর কাজ করতে শুরু করেন।
রূত উলরিক্ ও মার্থা হেস্ ৪৫ বছরের বেশি সময় ধরে যারা মিশনারী কাজে সহকারী, তারা এই মিশনারী হোম থেকে ৩৫ বছর ধরে সেবা করে আসছেন। তারা তাদের এলাকায় নিজেদের উত্তমভাবে মানিয়ে নিয়েছেন। একবার এক সীমা অধ্যক্ষ মার্থাকে জিজ্ঞাসা করেন: “ঘরে-ঘরে যাওয়ার জন্য আমি কি আপানার চেহারা ধার করতে পারি?” লোকেরা মার্থাকে চেনাতে তার কাছ থেকে পত্রিকা নিয়ে নেয়, কিন্তু সীমা অধ্যক্ষের ক্ষেত্রে কথোপকথন শুরু করতে কষ্ট হয়।
রূতের পত্রিকা রুটে এক মহিলা আছে, যার স্বাস্থ্য সমস্যা থাকার দরুণ সে পড়তে পারে না। তবুও, সেই স্ত্রীটি পত্রিকা নিয়ে থাকেন এবং ঈশ্বরের জন্য মানবজাতির অন্বেষণ (ইংরাজি) নামক বাঁধানো বইটিও নেন। রূত ভাবেন যে তিনি এই পত্রিকাগুলি ক্রমাগত দিয়ে যাবেন কি না কারণ মনে হয় যে কেউ তা পড়ে না। একদিন সেই মহিলাটির স্বামী অন্বেষণ বইটি নিয়ে রূতকে বলে: “এই বইটি খুবই অপূর্ব! আমার দুই বার পড়া হয়ে গিয়েছে।” রূত, স্বামী-স্ত্রী দুইজনের সাথে বাইবেল অধ্যয়ন করতে আরম্ভ করেন।
এই মিশনারী হোমটিই স্বয়ং আগ্রহী ব্যক্তিদের আকর্ষিত করে। একদিন সন্ধ্যাবেলা, একজন যুবক ব্যক্তি হোমে এসে বলেন: “আমি মনে করি যে আমি যদি এখানে আসি তাহলে বাইবেল শিখতে আমি সাহায্য পাব।” তার সাথে বাইবেল অধ্যয়ন আরম্ভ হয়। চাইনিজ্ রেস্তরাঁয়, পাচক হিসাবে কাজ করার সময় তিনি এক মহিলার সাথে কাজ করেন, যিনি বহু বছর ধরে সমাজচ্যুত ছিলেন। যখন প্রকাশকেরা রেস্তরাঁয় পত্রিকা দিয়ে যেতেন সেইগুলি সোজা রান্নাঘরে চলে আসত। যুবক পাচকটি সেইগুলি পড়তে পছন্দ করেন এবং প্রাক্তন সাক্ষীকে প্রশ্ন করতে আরম্ভ করে। তাকে উত্তর দিতে না পেরে, সে তাকে মিশনারী হোমে যেতে বলে। যুবকটি এখন পরিচারক দাস ও অগ্রগামী হিসাবে সেবা করছেন। সময়ক্রমে, সমাজচ্যুত মহিলাটি পুনর্স্থাপিত হয়, অবশেষে সেও নিয়মিত অগ্রগামী হয়।
যিহোবা তাদের জন্য যা করেছেন তার জন্য সকল মিশনারীরা উপলব্ধি বোধ করেন। তারা অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, হাওয়াই, সুইজারল্যাণ্ড এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছেন এবং তাদের মধ্যে ১১ জন হলেন ১১তম ক্লাসের অথবা গিলিয়ড মিশনারী স্কুলের আগের ক্লাসগুলি থেকে। তারা জাপানে রাজ্য কার্যের উন্নতি দেখেছেন এবং রাজা দায়ূদের মনোভাবটি তাদের মধ্যে আছে, যিনি বলেন: “আমি যুবক ছিলাম, এখন বৃদ্ধ হইয়াছি, কিন্তু ধার্ম্মিককে পরিত্যক্ত দেখি নাই, তাহার বংশকে খাদ্য ভিক্ষা করিতে দেখি নাই।” (গীতসংহিতা ৩৭:২৫) ঈশ্বরের প্রেমপূর্ণ যত্নের প্রতি উপলব্ধি পোষণ করে এই মিশনারীরা অবসর গ্রহণ করতে নয় কিন্তু যিহোবাকেই সেবা করে যেতে মনস্থ করেছেন।