বিশ্বস্ততা বজায় রাখুন ও বেঁচে থাকুন!
“ঈশ্বরকে জলাঞ্জলি দিয়া প্রাণত্যাগ কর।” আমাদের পত্রিকার প্রথম পাতায় ইয়োবের স্ত্রী ঐ কথাগুলির দ্বারা তাকে আক্রমণ করে বলছে বলে দেখায়। এটি প্রায় ৩,৬০০ বছর আগে ঘটে। কিন্তু ঈশ্বরের বিশ্বস্ত সেবকের উপর সেই মৌখিক আক্রমণ একটি বিচার্য বিষয়কে তুলে ধরে যার সম্মুখীন মানবজাতি আজও হচ্ছে। বিশ্বস্ত ইয়োব সাংঘাতিক ক্ষতি ভোগ করে যেমন—তার পশুপাল, তার বাড়ি, তার দশটি ছেলেমেয়ে হারায়। এখন তার শরীরকে দীর্ঘস্থায়ী রোগ দিয়ে নির্যাতন করার দ্বারা সহ্যশক্তির সীমারেখা পর্যন্ত তাকে পরীক্ষা করা হচ্ছিল। এর কারণ কী? ঈশ্বর এবং মানুষের মুখ্য শত্রু শয়তান দিয়াবল একটি চ্যালেঞ্জকে সত্য প্রমাণ করার চেষ্টা করছিল, যে মানুষ কঠোর পরীক্ষার মধ্যে বিশ্বস্ততা বজায় রাখতে পারবে না।—ইয়োব ১:১১, ১২; ২:৪, ৫, ৯, ১০.
ইয়োবের দিনের মত আজকেও, ‘সমস্ত জগৎ সেই পাপাত্মার’ অর্থাৎ শয়তান দিয়াবলের ‘অধীনে শুইয়া রহিয়াছে।’ (১ যোহন ৫:১৯) অবশ্যই, এখন এটি আরও সত্য, কারণ এখন “যাহাকে দিয়াবল [অপবাদক] এবং শয়তান [বিপক্ষ] বলা যায়, সে সমস্ত নরলোকের ভ্রান্তি জন্মায়,” তাকে স্বর্গ থেকে এই পৃথিবীতে নিক্ষিপ্ত করা হয়েছে। (প্রকাশিত বাক্য ১২:৯) এটি হল আমাদের দিনে মানবজাতির উপর প্রচণ্ড দুঃখ কষ্টের কারণ। ১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ যা “যাতনার আরম্ভ মাত্র” হিসাবে চিহ্নিত হয়, তা এই বিংশ শতাব্দীর গভীর অবধি চলেছে।—মথি ২৪:৭, ৮.
এই নিষ্ঠুর, নিম্নগামী জগতের মধ্যে কি আপনি কখনও মানবিক সহ্যশক্তির সীমারেখা পর্যন্ত পৌঁছে গেছেন বলে মনে করেন? আপনি কি কখনও চিন্তা করেন, ‘জীবনের কি কোন উদ্দেশ্য আছে?’ ইয়োব হয়ত একই কথা মনে করেছিলেন, যদিও তিনি ভুল করেছিলেন তবুও তিনি কখনও ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ততা হারাননি। তার দৃঢ়তা তিনি এই বাক্যগুলির দ্বারা প্রকাশ করেছিলেন: “প্রাণ থাকিতে আমি আপন সিদ্ধতা ত্যাগ করিব না।” তার আস্থা ছিল যে ঈশ্বর ‘তার সিদ্ধতা সম্বন্ধে জ্ঞাত হবেন।’—ইয়োব ২৭:৫; ৩১:৬.
ঈশ্বরের নিজের পুত্র, যীশু খ্রীষ্টকে পৃথিবীতে থাকাকালীন অনেক পরীক্ষা সহ্য করতে হয়েছিল। বিভিন্ন উপায়ে শয়তান যীশুকে আক্রমণ করে। সে যীশুর দৈহিক চাহিদাগুলির সুযোগ নেয় এবং ঈশ্বরের বাক্যের প্রতি তাঁর আস্থাকে পরীক্ষা করে যেমন পর্বতে যীশুকে পরীক্ষা করে। (মথি ৪:১-১১) সে যীশুকে ধর্মভ্রষ্ট অধ্যক্ষ এবং ফরীশীদের ও তাদের অনুগামীদের দ্বারা নির্যাতন, ঈশ্বরের নিন্দার অভিযোগ এবং তাঁকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করে হয়রান করে। (লূক ৫:২১; যোহন ৫:১৬-১৮; ১০:৩৬-৩৯; ১১:৫৭) তারা ইয়োবের তিনজন মিথ্যা সান্ত্বনাকারীদের থেকেও যীশুর প্রতি আরও খারাপ ব্যবহার করে।—ইয়োব ১৬:২; ১৯:১, ২.
গেৎশিমানীর বাগানে যীশু তাঁর পরীক্ষার চরম পর্যায়ে পৌঁছানোর সময়ে, শিষ্যদের বলেন: “আমার প্রাণ মরণ পর্য্যন্ত দুঃখার্ত্ত হইয়াছে।” তারপর, “তিনি . . . উবুড় হইয়া পড়িয়া প্রার্থনা করিয়া কহিলেন, হে আমার পিতঃ যদি হইতে পারে, তবে এই পানপাত্র আমার নিকট হইতে দূরে যাউক; তথাপি আমার ইচ্ছামত না হউক, তোমার ইচ্ছামত হউক।” অবশেষে, গীতসংহিতা ২২:১, পদের ভবিষ্যদ্বাণীর পরিপূর্ণতায়, যাতনাদণ্ডে যীশু চিৎকার করে ওঠেন: “ঈশ্বর আমার, ঈশ্বর আমার, তুমি কেন আমায় পরিত্যাগ করিয়াছ?” কিন্তু অবশেষে, ঈশ্বর যীশুকে পরিত্যাগ করেননি কারণ যীশু তাঁর প্রতি নিঁখুত বিশ্বস্ততা বজায় রাখেন যা সকল সত্য খ্রীষ্টানদের অনুসরণের জন্য আদর্শস্বরূপ। তাঁকে পুনরুত্থিত ও স্বর্গে সর্বোচ্চে উচ্চীকৃত করার দ্বারা যিহোবা যীশুর বিশ্বস্ততা বজায় রাখাকে পুরস্কৃত করেন। (মথি ২৬:৩৮, ৩৯; ২৭:৪৬; প্রেরিত ২:৩২-৩৬; ৫:৩০; ১ পিতর ২:২১) অন্যান্য সকলকে যারা একইভাবে তাঁর প্রতি বিশ্বস্ততা বজায় রাখে ঈশ্বর পুরস্কৃত করবেন।
যীশুর বিশ্বস্ততা শুধুমাত্র শয়তানের চ্যালেঞ্জের প্রতি সম্পূর্ণ উত্তর দেয়নি বরং তাঁর সিদ্ধ মানব জীবনের বলিদান মুক্তির মূল্য প্রদান করে, যার ভিত্তিতে বিশ্বস্ততা রক্ষাকারী মানুষেরা অনন্ত জীবন পেতে পারে। (মথি ২০:২৮) প্রথমে, যীশু অভিষিক্ত এক “ক্ষুদ্র মেষপাল”-কে একত্রিত করেন যারা তাঁর সঙ্গে স্বর্গ রাজ্যের উত্তরাধিকার হয়। (লূক ১২:৩২) তারপরে, “বিস্তর লোক”-কে একত্রিত করা হয়, যারা “মহাক্লেশ” থেকে রক্ষা পেতে, পৃথিবীতে ঈশ্বরের রাজ্যের অধীনে অনন্ত জীবনের অধিকারী হতে বার হয়ে আসছে।—প্রকাশিত বাক্য ৭:৯, ১৪-১৭.
বিশ্বস্ত রক্ষাকারী ইয়োব কোটি কোটি মৃত পুনরুত্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে থাকবেন, যারা শান্তিপূর্ণ সেই “নতুন পৃথিবী” সমাজের অংশ হবে। (২ পিতর ৩:১৩; যোহন ৫:২৮, ২৯) যেমন আমাদের পত্রিকার শেষ পৃষ্ঠায় দেখানো হয়েছে, ইয়োবের দিনে বিশ্বস্ততা পুরস্কারপ্রাপ্ত হয়েছিল যখন যিহোবা “ইয়োবের প্রথম অবস্থা হইতে শেষাবস্থা অধিক আশীর্ব্বাদ যুক্ত করিলেন।” তিনি আধ্যাত্মিক শক্তি ফিরে পান কারণ তিনি “আপন ওষ্ঠাধরে পাপ করিলেন না।” ঈশ্বর তার জীবন আরও ১৪০ বছর বৃদ্ধি করেন। বস্তু সম্পত্তির ক্ষেত্রে তিনি ইয়োবকে প্রথম থেকে দ্বিগুণ দেন এবং ইয়োবের “সাত পুত্র ও তিন কন্যা জন্মিল,” কন্যাগণকে দেশের মধ্যে সবচেয়ে রূপবতী বলে মনে করা হত। (ইয়োব ২:১০; ৪২:১২-১৭) কিন্তু এত সব সাফল্য শুধুমাত্র আশীর্বাদের পূর্বাভাস যা বিশ্বস্ত রক্ষাকারীরা পরমদেশ “নতুন পৃথিবীতে” উপভোগ করবে। আপনিও এই আনন্দের অংশীদার হতে পারেন, যেমন পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলি ব্যাখ্যা করবে!
[৪ পৃষ্ঠার চিত্র]
বিশ্বস্ততা রক্ষাকারী হিসাবে যীশু নিখুঁত উদাহরণ স্থাপন করেন