আপনার সমস্ত ভাবনার ভার যিহোবার উপর ছেড়ে দিন
“তোমরা ঈশ্বরের পরাক্রান্ত হস্তের নীচে নত হও, যেন তিনি উপযুক্ত সময়ে তোমাদিগকে উন্নত করেন; তোমাদের সমস্ত ভাবনার ভার তাঁহার উপরে ফেলিয়া দেও; কেননা তিনি তোমাদের জন্য চিন্তা করেন।”—১ পিতর ৫:৬, ৭.
১. ভাবনা আমাদের কিভাবে প্রভাবিত করতে পারে এবং সেটি কিভাবে বর্ণনা করা যেতে পারে?
ভাবনা আপনার জীবনকে গুরুতরভাবে প্রভাবিত করতে পারে। রেডিওতে মধুর সঙ্গীত শোনার সময় স্থিতির দ্বারা সংহতিনাশকের সাথে এটিকে তুলনা করা যেতে পারে। যদি রেডিওর তরঙ্গেতে কোন বিঘ্ন না থাকে তাহলে মধুর সঙ্গীত উপভোগ করা যেতে পারে এবং এক ব্যক্তিকে তা প্রশান্তি দিতে পারে। কিন্তু, স্থিতির খর্ খর্ শব্দ এমনকি সবচেয়ে মধুর সঙ্গীতকেও নষ্ট করে দিতে পারে যার ফলে আমরা অস্বস্তিবোধ এবং হতাশাবোধ করতে পারি। ভাবনা আমাদের প্রশান্তির উপর একইভাবে প্রভাব ফেলতে পারে। এটি আমাদের এত ভারাক্রান্ত করে ফেলতে পারে যার ফলে আমরা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির প্রতি মনোযোগ দিতে পারি না। বাস্তবিকই, “মনুষ্যের মনোব্যথা মনকে নত করে।”—হিতোপদেশ ১২:২৫.
২. যীশু খ্রীষ্ট ‘জীবিকার চিন্তা’ সম্বন্ধে কী বলেন?
২ যীশু খ্রীষ্ট অত্যন্ত ভাবনার ফলে বিক্ষিপ্ত হওয়ার বিপদ সম্বন্ধে বলেছিলেন। শেষকাল সম্বন্ধে তাঁর ভবিষ্যদ্বাণীতে তিনি উপদেশ দেন: “কিন্তু আপনাদের বিষয়ে সাবধান থাকিও, পাছে ভোগপীড়ায় ও মত্ততায় এবং জীবিকার চিন্তায় তোমাদের হৃদয় ভারগ্রস্ত হয়, আর সেই দিন হঠাৎ ফাঁদের ন্যায় তোমাদের উপরে আসিয়া পড়ে; কেননা সেই দিন সমস্ত ভূতল-নিবাসী সকলের উপরে উপস্থিত হইবে। কিন্তু তোমরা সর্ব্বসময়ে জাগিয়া থাকিও এবং প্রার্থনা করিও, যেন এই যে সকল ঘটনা হইবে, তাহা এড়াইতে, এবং মনুষ্যপুত্ত্রের সম্মুখে দাঁড়াইতে, শক্তিমান্ হও।” (লূক ২১:৩৪-৩৬) ঠিক যেমন বেশি খাওয়া কিংবা অত্যন্ত পান করা মন্থর মানসিক অবস্থা নিয়ে আসতে পারে, তেমন “জীবিকার চিন্তায়” যদি আমরা ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ি তাহলে আমরা সঠিক মানসিক দৃষ্টিভঙ্গি হারাতে পারি যা হয়ত সাংঘাতিক পরিণাম নিয়ে আনতে পারে।
ভাবনা কী
৩. “ভাবনা”-র সংজ্ঞা কিভাবে করা হয়েছে এবং এর কয়েকটি কারণ কী কী?
৩ “ভাবনা” পরিভাষা হল “সাধারণত আসন্ন কিংবা প্রত্যাশিত দুর্দশার জন্য যন্ত্রণাদায়ক অথবা আশঙ্কাদায়ক অস্বস্তিপূর্ণ মনের অবস্থা।” এটি হল “ভয়াবহ চিন্তা কিংবা আগ্রহ” এর সাথে সাথে “বিপদের বাস্তবতা এবং প্রকৃতি সম্বন্ধে আত্ম-সন্দেহের ফলে অস্বাভাবিক এবং অদম্য আশঙ্কা এবং ভয় আসে যা বেশির ভাগ শারীরিক লক্ষণে (যেমন ঘর্মাক্ত অবস্থা, চাপ এবং নাড়ী এবং নাড়ী স্পন্দন বৃদ্ধি) দেখা যায়।” (ওয়েবস্টার্স নাইন্থ নিউ কলেজিয়েট ডিকশনারি) তাহলে ভাবনা একটি জটিল সমস্যা হতে পারে। তার কয়েকটি কারণ হল রোগ, বৃদ্ধাবস্থা, অপরাধের ভয়, চাকুরি হারানো এবং নিজের পরিবার সম্বন্ধে চিন্তা।
৪. (ক) লোকেদের এবং তাদের ভাবনার বিষয় সম্বন্ধে আমাদের কী মনে রাখা প্রয়োজন? (খ) যদি আমরা ভাবনা ভোগ করছি, তাহলে আমরা কী করতে পারি?
৪ অবশ্যই, ভাবনার বিভিন্ন অবস্থা এবং পরিস্থিতি ভাবনা আসার কারণ হতে পারে। সব ব্যক্তি কিন্তু এক পরিস্থিতির প্রতি একই প্রতিক্রিয়া দেখায় না। ফলে, আমাদের এটি বিবেচনা করা উচিত যে যদিও একটি বিষয় আমাদের কাছে খুব সামান্য হতে পারে কিন্তু সেই একই বিষয় যিহোবার সহউপাসকদের কাছে গভীর ভাবনার কারণ হতে পারে। যদি আমাদের ভাবনা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে আমরা ঈশ্বরের বাক্যের সমন্বয়পূর্ণ এবং আনন্দদায়ক সত্যগুলি সম্বন্ধে মনোযোগ দিতে পারছি না তাহলে কী করা যেতে পারে? যদি আমরা ভাবনার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে যিহোবার সার্বভৌমত্ব এবং খ্রীষ্টীয় বিশ্বস্ততার বিষয়গুলির প্রতি সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি রাখতে সামর্থ না হই তাহলে আমরা কী করতে পারি? আমরা হয়ত আমাদের পরিস্থিতির পরিবর্তন করতে পারব না। পরিবর্তে, আমাদের প্রয়োজন শাস্ত্রীয় বিষয়গুলি দেখা যা জীবনের সঙ্কটময় সমস্যার সঙ্গে মোকাবিলা করতে আমাদের সাহায্য করবে।
সাহায্য পাওয়া সম্ভব
৫. গীতসংহিতা ৫৫:২২ পদ অনুযায়ী আমরা কিভাবে আচরণ করতে পারি?
৫ যখন খ্রীষ্টানদের আধ্যাত্মিক সাহায্যের প্রয়োজন হয় এবং তারা ভাবনার দ্বারা জর্জরিত হয়ে পড়ে তারা তখন ঈশ্বরের বাক্য থেকে সান্ত্বনা পেতে পারে। এটি নির্ভরযোগ্য পরিচালনা দান করে এবং অনেক আশ্বাসবাণী দেয় যে যিহোবার বিশ্বস্ত সেবক হিসাবে আমরা একা নই। উদাহরণস্বরূপ গীতরচক দায়ূদ গেয়েছিলেন: “তুমি সদাপ্রভুতে আপনার ভার অর্পণ কর; তিনিই তোমাকে ধরিয়া রাখিবেন, কখনও ধার্ম্মিককে বিচলিত হইতে দিবেন না।” (গীতসংহিতা ৫৫:২২) এই কথাগুলির সাথে মিল রেখে অনুযায়ী আমরা কিভাবে চলতে পারি? আমাদের প্রেমময় স্বর্গীয় পিতার উপর আমাদের সমস্ত ভাবনা, চিন্তা ভয় এবং নিরাশাগুলিকে ছেড়ে দিয়ে তা করতে পারি। এটি আমাদের সুরক্ষার এক অনুভূতি এবং হৃদয়ে প্রশান্তি দিতে সাহায্য করবে।
৬. ফিলীপিয় ৪:৬, ৭ পদ অনুযায়ী প্রার্থনা আমাদের জন্য কী করতে পারে?
৬ যিহোবার উপর আমাদের ভার যার অন্তর্ভুক্ত আমাদের ভাবনাগুলি যদি আমরা ছেড়ে দিতে চাই তাহলে আন্তরিক প্রার্থনা হল অত্যাবশ্যক। এটি আমাদের আন্তরিক শান্তি নিয়ে আসবে, কারণ প্রেরিত পৌল লেখেন: “কোন বিষয়ে ভাবিত হইও না, কিন্তু সর্ব্ববিষয়ে প্রার্থনা ও বিনতি দ্বারা ধন্যবাদ সহকারে তোমাদের যাচ্ঞা সকল ঈশ্বরকে জ্ঞাত কর। তাহাতে সমস্ত চিন্তার অতীত যে ঈশ্বরের শান্তি তাহা তোমাদের হৃদয় ও মন খ্রীষ্ট যীশুতে রক্ষা করিবে।” (ফিলিপীয় ৪:৬, ৭) এই অতুলনীয় “ঈশ্বরের শান্তি” যা হল একটি অস্বাভাবিক শান্তি যিহোবার উৎসর্গীকৃত সেবকেরা এমনকি অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতিতেও উপভোগ করে। এটি ঈশ্বরের সঙ্গে আমাদের নিবীড় সম্পর্কের দরুন হয়ে থাকে। যখন আমরা পবিত্র আত্মার জন্য প্রার্থনা করি এবং এর দ্বারা প্রণোদিত হই আমরা জীবনের, সমস্যা থেকে যদিও মুক্ত হই না, কিন্তু আত্মার ফল, শান্তি আমরা উপভোগ করি। (লূক ১১:১৩; গালাতীয় ৫:২২, ২৩) আমরা ভাবনার দ্বারা ভারাক্রান্ত নই কারণ আমরা জানি যে তাঁর সমস্ত বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের তিনি “নির্ভয়ে বাস” করাবে এবং তাদের উপর কোন কিছু আসতে দেবে না যা তাদের স্থায়ী ক্ষতি আনতে পারে।—গীতসংহিতা ৪:৮.
৭. আমাদের ভাবনার সাথে মোকাবিলা করতে খ্রীষ্টীয় প্রাচীনরা কী ধরনের ভূমিকা গ্রহণ করতে পারে?
৭ কিন্তু, শাস্ত্রের উপর মনোযোগ এবং অনবরত প্রার্থনা করার পরেও যদি আমাদের ভাবনা থেকেই যায় তাহলে কী করা যেতে পারে? (রোমীয় ১২:১২) আমাদের আধ্যাত্মিকভাবে সাহায্য করার জন্য মণ্ডলীতে নিযুক্ত প্রাচীনরাও হল যিহোবার দান। ঈশ্বরের বাক্য ব্যবহার এবং আমাদের সান্ত্বনা দিতে এবং সাহায্য করতে পারেন। (যাকোব ৫:১৩-১৬) প্রেরিত পিতর তার সহপ্রাচীনদের ইচ্ছাপূর্বক, উৎসুকভাবে এবং উদাহরণযোগ্যরূপে ঈশ্বরের পালন করতে উৎসাহ দেন। (১ পিতর ৫:১-৪) এই ব্যক্তিরা আমাদের মঙ্গলের জন্য আন্তরিকভাবে আগ্রহী এবং আমাদের সাহায্য করতে চান। অবশ্যই, যদি আমরা প্রাচীনদের সাহায্য থেকে পূর্ণভাবে উপকার পেতে চাই এবং মণ্ডলীতে আধ্যাত্মিকভাবে গড়ে উঠতে চাই, সকলের তাহলে আমাদের পিতরের উপদেশ প্রয়োগ করা প্রয়োজন: “হে যুবকেরা, তোমরা প্রাচীনদের বশীভূত হও; আর তোমরা সকলেই এক জন অন্যের সেবার্থে নম্রতায় কটিবন্ধন কর, কেননা “ঈশ্বর অহঙ্কারীদের প্রতিরোধ করেন, কিন্তু নম্রদিগকে অনুগ্রহ প্রদান করেন।””—১ পিতর ৫:৫.
৮, ৯. প্রথম পিতর ৫:৬-১১ পদগুলি থেকে আমরা কী সান্ত্বনা পেতে পারি?
৮ পিতর আরও বলে: “তোমরা ঈশ্বরের পরাক্রান্ত হস্তের নীচে নত হও, যেন তিনি উপযুক্ত সময়ে তোমাদিগকে উন্নত করেন; তোমাদের সমস্ত ভাবনার ভার তাঁহার উপরে ফেলিয়া দেও; কেননা তিনি তোমাদের জন্য চিন্তা করেন। তোমরা প্রবুদ্ধ হও, জাগিয়া থাক; তোমাদের বিপক্ষ দিয়াবল, গর্জ্জনকারী সিংহের ন্যায়, কাহাকে গ্রাস করিবে, তাহার অন্বেষণ করিয়া বেড়াই- তেছে। তোমরা বিশ্বাসে অটল থাকিয়া তাহার প্রতিরোধ কর; তোমরা জান, জগতে অবস্থিত তোমাদের ভ্রাতৃবর্গেও সেই প্রকার নানা দুঃখভোগ সম্পন্ন হইতেছে। আর সমস্ত অনুগ্রহের ঈশ্বর, যিনি তোমাদিগকে খ্রীষ্টে আপনার অনন্ত প্রতাপ প্রদানার্থে আহ্বান করিয়াছেন, তিনি আপনি তোমাদের ক্ষণিক দুঃখভোগের পর তোমাদিগকে পরিপক্ক, সুস্থির, সবল, বদ্ধমূল করিবেন। যুগপর্য্যায়ের যুগে যুগে তাঁহারই পরাক্রম হউক। আমেন।”—১ পিতর ৫:৬-১১.
৯ এটি জানা কতই না সান্ত্বনাদায়ক যে আমরা ‘আমাদের সমস্ত ভাবনার ভার তাঁহার উপরে ফেলিয়া দিতে পারি, কারণ তিনি আমাদের জন্য চিন্তা করেন!’ যদি আমাদের ভাবনার কারণ যদি দিয়াবলের দ্বারা নির্যাতন এবং অন্যান্য দুঃখকষ্টের দরুন আমাদের সঙ্গে যিহোবার সম্পর্ক ভাঙ্গবার চেষ্টার কারণবশত হয়ে থাকে তাহলে বিশ্বস্তরক্ষাকারীদের জন্য ফলাফল ভাল হবে তা জানা কী আনন্দের বিষয় নয়? হ্যাঁ, কিছুক্ষণ দুঃখকষ্ট ভোগ করার পর অযাচিত করুণার ঈশ্বর আমাদের শিক্ষা শেষ এবং আমাদের দৃঢ় এবং শক্তিশালী করবেন।
১০. প্রথম পিতর ৫:৬, ৭ পদ পরোক্ষভাবে কোন্ তিনটি গুণ সম্বন্ধে ইঙ্গিত করে যা আমাদের ভাবনা কমাতে সাহায্য করে?
১০ প্রথম পিতর ৫:৬, ৭ পদ পরোক্ষভাবে তিনটি গুণাবলির বিষয় উল্লেখ করে যা আমাদের ভাবনার সাথে মোকাবিলা করতে সাহায্য করবে। একটি হল নম্রতা অথবা “বিনীতচিত্ত।” (NW) ৬ পদ “উপযুক্ত সময়ে” উক্তিটি দিয়ে শেষ হয় যা ধৈর্যের প্রয়োজনীয়তা ইঙ্গিত করে। ৭ পদ দেখায় যে আমরা নিশ্চয়তার সাথে আমাদের সমস্ত ভাবনা ঈশ্বরের উপরে ছেড়ে দিতে পারি কারণ তিনি ‘আমাদের জন্য চিন্তা করেন’ এবং ঐ কথাগুলি সম্পূর্ণরূপে ঈশ্বরের উপর আস্থা রাখতে উৎসাহ দেয়। তাই আসুন দেখি কিভাবে নম্রতা, ধৈর্য এবং ঈশ্বরের উপর সম্পূর্ণরূপে আস্থা ভাবনা কমাতে আমাদের সাহায্য করতে পারে।
কিভাবে নম্রতা সাহায্য করতে পারে
১১. ভাবনাকে মোকাবিলা করতে নম্রতা কিভাবে সাহায্য করতে পারে?
১১ যদি আমরা নম্র হই তাহলে আমরা স্বীকার করব যে ঈশ্বরের চিন্তাধারা আমাদের থেকে অনেক উচ্চ। (যিশাইয় ৫৫:৮, ৯) নম্রতা আমাদের সীমিত মানসিক ক্ষমতার সাথে ঈশ্বরের সম্পূর্ণ পরিবেষ্টিত দৃষ্টিভঙ্গির তুলনা বুঝতে সাহায্য করে। তিনি এমন জিনিস উপলব্ধি করেন যা আমরা করতে পারি না যেমন ধার্মিক ব্যক্তি ইয়োবের ক্ষেত্রে দেখা যায়। (ইয়োব ১:৭-১২; ২:১-৬) “ঈশ্বরের পরাক্রান্ত হস্তের নীচে” নম্র হওয়ার দ্বারা আমরা সর্বোচ্চ সার্বভৌমের তুলনায় আমাদের নত স্থানকে স্বীকার করি। ফলত, যে পরিস্থিতির তিনি অনুমতি দেন সেটির সঙ্গে মোকাবিলা করতে আমাদের সহায্য করে। আমাদের হৃদয় তৎক্ষণাৎ ত্রাণের জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠতে পারে কিন্তু যেহেতু যিহোবার গুণাবলি সিদ্ধতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তাই তিনি সঠিকভাবে কখন এবং কিভাবে আমাদের পক্ষে যথোচিত কাজ করতে হবে তা জানেন। তাহলে ছোট বাচ্চাদের মত আসুন নম্রতার সাথে আমরা যিহোবার পরাক্রম হাত ধরি, এই আস্থা রেখে যে তিনি আমাদের ভাবনাগুলিকে মোকাবিলা করতে সাহায্য করবেন।—যিশাইয় ৪১:৮-১৩.
১২. ইব্রীয় ১৩:৫ পদ যদি আমরা নম্রতার সাথে প্রয়োগ করি, তাহলে বস্তুগত সুরক্ষার ভাবনা কিভাবে প্রভাবিত হতে পারে?
১২ নম্রতার অন্তর্ভুক্ত হল ঈশ্বরের বাক্য থেকে পাওয়া উপদেশ প্রয়োগ করার ইচ্ছা যা হয়ত প্রায়ই সময় আমাদের ভাবনাকে কম করে দিতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, যদি আমাদের ভাবনা গভীরভাবে বস্তুর পিছনে অনুসরণের ফলে হয়ে থাকে, তাহলে হয়ত আমাদের পৌলের উপদেশ বিবেচনা করা ভালো: “তোমাদের আচার ব্যবহার ধনাসক্তিবিহীন হউক; তোমাদের যাহা আছে, তাহাতে সন্তুষ্ট থাক; কারণ তিনিই বলিয়াছেন, “আমি কোন ক্রমে তোমাকে ছাড়িব না, ও কোন ক্রমে তোমাকে ত্যাগ করিব না।”” (ইব্রীয় ১৩:৫) নম্রতার সাথে এইধরনের উপদেশ প্রয়োগ করার ফলে অনেকে বস্তুগত সুরক্ষার ভাবনার বিষয় থেকে রক্ষাপ্রাপ্ত হয়েছে। যদিও তাদের আর্থিক পরিস্থিতি হয়ত পরিবর্তন হয়নি কিন্তু এটি তাদের চিন্তাকে ছাপিয়ে তাদের আধ্যাত্মিক ক্ষতি করেনি।
ধৈর্যের ভূমিকা
১৩, ১৪. (ক) ধৈর্যের সাথে সহ্য করার বিষয়ে ইয়োব কী ধরনের উদাহরণ স্থাপন করেন? (খ) যিহোবার উপর ধৈর্যের সাথে অপেক্ষা করলে তা আমাদের কী করতে পারে?
১৩ প্রথম পিতর ৫:৬ পদে উল্লেখ করা উক্তি “উপযুক্ত সময়ে” ধৈর্যের সাথে সহ্য করার প্রয়োজনীয়তা ইঙ্গিত করে। কয়েকসময় একটি সমস্যা অনেকদিন থাকার ফলে আমাদের ভাবনা বাড়িয়ে তুলতে পারে। বিশেষকরে সেই ক্ষেত্রে আমাদের প্রয়োজন যিহোবার উপর বিষয়গুলিকে ছেড়ে দেওয়া। শিষ্য যাকোব লেখেন: “দেখ, যাহারা স্থির রহিয়াছে, তাহাদিগকে আমরা ধন্য বলি। তোমরা ইয়োবের সহ্যশক্তির কথা শুনেছো; যিহোবার পরিণামও দেখেছ, ফলত যিহোবা অনুভূতিতে অতিশয় স্নেহপূর্ণ ও দয়াময়।” (যাকোব ৫:১১) ইয়োব আর্থিক ক্ষতি সহ্য করেন, দশটি ছেলেমেয়ে হারান, অত্যন্ত খারাপ রোগে আক্রান্ত হন এবং মিথ্যা সান্ত্বনাকারীরা তাকে ভুলভাবে নিন্দা করে। অন্তত সেই ধরনের পরিস্থিতে কিছুটা ভাবনাগ্রস্ত হওয়া স্বাভাবিক।
১৪ তবুও যে কোন অর্থে ধৈর্যের সাথে সহ্য করা বিষয়েতে ইয়োব ছিলেন উদাহরণযোগ্য। যদি আমরা কোন কঠিন বিশ্বাসের পরীক্ষার সম্মুখীন হই, তাহলে আমাদের হয়ত তার মত ত্রানের জন্য কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে। অবশেষে ইয়োবকে দুর্দশা থেকে মুক্ত করে এবং প্রচুর পরিমাণে পুরস্কৃত করে ঈশ্বর তার পক্ষে কাজ করেন। (ইয়োব ৪২:১০-১৭) যিহোবার উপর ধৈর্যের সাথে অপেক্ষা করলে আমাদের সহ্য শক্তি বৃদ্ধি পাবে এবং তাঁর প্রতি আমাদের ভক্তির গভীরতা প্রকাশ করবে।—যাকোব ১:২-৪.
যিহোবার উপর আস্থা রাখুন
১৫. যিহোবার উপর কেন সম্পূর্ণরূপে আস্থা রাখব?
১৫ পিতর সহবিশ্বাসীদের উৎসাহ দেন ‘তাদের সমস্ত ভাবনার তাঁর উপর ফেলিয়া দিতে কেননা তিনি তাদের জন্য চিন্তা করেন।’ (১ পিতর ৫:৭) সুতরাং, আমরাও তা করতে পারি এবং যিহোবার উপর সম্পূর্ণরূপে আস্থা রাখতে পারি। হিতোপদেশ ৩:৫, ৬ পদ বলে: “তুমি সমস্ত চিত্তে সদাপ্রভুতে বিশ্বাস কর; তোমার নিজ বিবেচনায় নির্ভর করিও না; তোমার সমস্ত পথে তাঁহাকে স্বীকার কর; তাহাতে তিনি তোমার পথ সকল সরল করিবেন।” বিগত অভিজ্ঞতার জন্য কয়েকজন যারা ভাবনায় পরিপূর্ণ তারা অন্য মানুষের উপর আস্থা রাখতে কঠিনবোধ করে। কিন্তু, জীবনের উৎস এবং সামর্থদানকারী সৃষ্টিকর্তার উপর আমাদের আস্থা রাখার অবশ্যই কারণ রয়েছে। যদিও কোন বিষয়ে আমরা আমাদের প্রতিক্রিয়ার উপর আস্থা রাখতে পারি না কিন্তু দুর্দশা থেকে মুক্ত করা থেকে আমরা সবসময় যিহোবার উপর নির্ভর করতে পারি।—গীতসংহিতা ৩৪:১৮, ১৯; ৩৬:৯; ৫৬:৩, ৪.
১৬. রাজ্যের বিষয়কে প্রথমে রাখার প্রয়োজনীয়তা আমরা কিভাবে দেখাতে পারি?
১৬ ঈশ্বরের উপর আস্থা রাখার অন্তর্ভুক্ত তাঁর পুত্র যীশু খ্রীষ্টের প্রতি বাধ্য হওয়া, যিনি পিতার কাছ থেকে যা শিক্ষা পান তা শিক্ষা দিয়েছিলেন। (যোহন ৭:১৬) যীশু যিহোবাকে সেবা করার দ্বারা ‘স্বর্গে নিজেদের জন্য ধন সঞ্চয় করতে’ তাঁর শিষ্যদের উৎসাহ দেন। কিন্তু বস্তুগত প্রয়োজনীয়তাগুলি, যেমন খাদ্য, কাপড় এবং বাসস্থান সম্বন্ধে কী? যীশু উপদেশ দেন “ভাবিত হইও না।” তিনি দেখান ঈশ্বর পাখিদের খাদ্য দেন। ফুলদের তিনি সুন্দরভাবে সাজান। ঈশ্বর মানব সেবকদের মূল্য কী এদের থেকে বেশি নয়? অবশ্যই। তাই, যীশু প্রেরণা দেন: “কিন্তু তোমরা প্রথমে তাঁহার রাজ্য ও তাঁহার ধার্ম্মিকতার বিষয়ে চেষ্টা কর, তাহা হইলে ঐ সকল দ্রব্যও তোমাদিগকে দেওয়া হইবে।” যীশু আরও বলেন: “অতএব কল্যকার নিমিত্ত ভাবিত হইও না, কেননা কল্য আপনার বিষয় আপনি ভাবিত হইবে; দিনের কষ্ট দিনের জন্যই যথেষ্ট।” (মথি ৬:২০, ২৫-৩৪) হ্যাঁ, আমাদের খাদ্য, পানীয়, কাপড় এবং বাসস্থানের প্রয়োজন আছে, কিন্তু আমরা যদি যিহোবার উপর আস্থা রাখি, তাহলে এই সব বিষয়ে আমরা অযথা ভাবিত হব না।
১৭. যীশু খ্রীষ্ট বস্তুগত জিনিসের উপর ভাবনার বিষয়ে কী বলেন?
১৭ রাজ্যের বিষয় প্রথমে চেষ্টা করতে হলে ঈশ্বরের উপর আস্থা এবং প্রয়োজনীয়তাকে সঠিক পর্যায়ে রাখা উচিত। কোন শ্বাস নেওয়া যন্ত্র ছাড়া ডুবুরি জলের তলায় ঝিনুকের মধ্যে মুক্তোর জন্য হয়ত জলের মধ্যে ডুব দেয়। পরিবারকে আর্থিকভাবে সমর্থন করার এটি হল উপায়। অবশ্যই, খুব জরুরি! কিন্তু এর থেকে বেশি জরুরি কী? বাতাস! নিশ্বাস নেওয়ার জন্য তাকে নিয়মিতভাবে জলের উপরে আসতে হয়। বাতাস হল বেশি জরুরি। ঠিক তেমনি, জীবনের প্রয়োজনীয়তা মিটানোর জন্য আমাদের হয়ত এই বিধি ব্যবস্থার সঙ্গে কিছুটা অর্থে সম্পর্ক রাখতে হবে। তবুও, আধ্যাত্মিক বিষয়গুলি অবশ্যই প্রথমে আসা উচিত, কারণ এর উপর আমাদের পরিবারের জীবন নির্ভর করছে। অযথা বস্তুগত প্রয়োজনের প্রতি ভাবনা এড়িয়ে চলার জন্য ঈশ্বরের উপর সম্পূর্ণ আস্থা রাখা প্রয়োজন। তার উপর, ‘প্রভুর কার্য্যে সর্ব্বদা উপচানোর’ ফলে আমাদের ভাবনা কমে যাবে কারণ “সদাপ্রভুতে যে আনন্দ” আমাদের শক্তি হবে।—১ করিন্থীয় ১৫:৫৮; নহিমিয় ৮:১০.
যিহোবার উপর আপনার ভাবনা ছেড়ে দিতে থাকুন
১৮. যিহোবার উপর আমাদের সমস্ত ভাবনার ভার ছেড়ে দেওয়া আমাদের সাহায্যকারী হতে পারে তার প্রমাণ কী?
১৮ আধ্যাত্মিক বিষয়ে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি রাখার জন্য আমাদের প্রয়োজন যিহোবার উপর সমস্ত ভাবনার ভার অনবরত ছেড়ে দেওয়া। সবসময় মনে রাখুন যে তিনি তাঁর সেবকদের প্রকৃতই যত্ন করেন। উদাহরণস্বরূপ: এক স্ত্রীর স্বামীর বিশ্বাসঘাতকতার দরুন এক খ্রীষ্টীয় স্ত্রীর ক্ষেত্রে তা ভাবনার কারণ হয় এমনকি তার পক্ষে রাত্রে ঘুমানো দুঃসাধ্য হয়ে ওঠে। (তুলনা করুন গীতসংহিতা ১১৯:২৮ পদ) কিন্তু বিছানায় তিনি তার সমস্ত ভাবনার ভার যিহোবার উপর ছেড়ে দেন। তিনি এবং তার ছোট দুই মেয়ে যে দুর্দশা ভোগ করছে তা বলে তিনি ঈশ্বরের কাছে অন্তরের অনুভূতিগুলি প্রকাশ করতেন। এণের জন্য তিনি যিহোবার কাছে আন্তরিক প্রার্থনা করার পর সব সময়ই ঘুমাতে পারতেন কারণ, তিনি আস্থা রেখেছিলেন যে তাকে এবং তার বাচ্চাদের যিহোবা যত্ন নেবেন। শাস্ত্রসঙ্গতভাবে বিবাহ-বিচ্ছেদ করা এই স্ত্রীটি এখন এক প্রাচীনকে বিবাহ করে সুখী আছেন।
১৯, ২০. (ক) ভাবনার সাথে মোকাবিলার কয়েকটি উপায় কী? (খ) আমাদের সমস্ত ভাবনার ভারকে কী করা উচিত?
১৯ যিহোবার লোক হিসাবে ভাবনার সঙ্গে মোকাবিলা করার জন্য আমাদের অনেক উপায় আছে। ঈশ্বরের বাক্য প্রয়োগ করা বিশেষ করে সাহায্যকারী। “বিশ্বস্ত এবং বুদ্ধিমান দাস” দ্বারা ঈশ্বর আমাদের উৎকৃষ্ট আধ্যাত্মিক খাদ্য যোগান যার অন্তর্ভুক্ত হল প্রহরীদুর্গ এবং সচেতন থাক! সাহায্যকারী এবং সতেজক প্রবন্ধগুলি। (মথি ২৪:৪৫-৪৭) ঈশ্বরের পবিত্র আত্মার সাহায্য আমাদের রয়েছে। নিয়মিত এবং আন্তরিক প্রার্থনা আমাদের প্রচুররূপে উপকার করে। নিযুক্ত খ্রীষ্টীয় প্রাচীনগণ আধ্যাত্মিক সাহায্য আর সান্ত্বনা দেবার জন্য প্রস্তুত এবং ইচ্ছুক।
২০ যে সব ভাবনার সম্মুখীন আমরা হই তার সাথে মোকাবিলা করার জন্য আমাদের নম্রতা আর ধৈর্য অত্যন্ত উপকারী। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ যিহোবার উপর সম্পূর্ণ আস্থা রাখা, কারণ তার সাহায্য এবং পরিচালনা পাওয়ার দ্বারা আমাদের বিশ্বাস গড়ে ওঠে। কালক্রমে, ঈশ্বরের উপর বিশ্বাস আমাদের অযথা চিন্তাগ্রস্ত হওয়া থেকে এড়িয়ে যেতে সাহায্য করবে। (যোহন ১৪:১) বিশ্বাস আমাদের ঈশ্বরের রাজ্যের বিষয় প্রথমে রাখতে এবং প্রভুর আনন্দপূর্বক কাজে ব্যস্ত থাকতে প্রেরণা দেয় যা আমাদের ভাবনা মোকাবিলা করতে সাহায্য করে। যারা অনন্তকাল ধরে ঈশ্বরের প্রশংসা করে তাদের সাথে এই কাজ করাতে আমাদের সুরক্ষা একটি অনুভূতি হয়। (গীতসংহিতা ১০৪:৩৩) তাহলে আসুন আমরা যিহোবার উপর ভাবনার ভার ক্রমাগতভাবে ছেড়ে দিতে থাকি।
আপনি কিভাবে উত্তর দিবেন?
▫ ভাবনাকে হয়ত কিভাবে পরিভাষিত করা যেতে পারে?
▫ ভাবনার সাথে মোকাবিলার কয়েকটি উপায় কী?
▫ কিভাবে নম্রতা এবং ধৈর্য ভাবনা কমিয়ে দিতে পারে?
▫ ভাবনার সাথে মোকাবিলা করার বিষয়ে যিহোবার উপর সম্পূর্ণ আস্থা রাখা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
▫ কেন যিহোবার আমরা উপর ভাবনার ভার ছেড়ে দিতেই থাকব?
[Pictures on page 31]
আপনি কি জানেন যীশু কেন বলেছিলেন “ভাবিত হইও না?”