ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w৯৪ ৯/১ পৃষ্ঠা ৩-৫
  • ক্রমবিবর্তনের বিচার

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • ক্রমবিবর্তনের বিচার
  • ১৯৯৪ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • পরস্পরবিরোধী সাক্ষ্য
  • ক্রমবিবর্তনবাদ কি বুদ্ধিমান বাছাই?
  • বিশ্বাসের বিষয়
  • বিবর্তনবাদ কি বাইবেলের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ?
    ২০০৮ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • ঈশ্বর কি বিবর্তনের মাধ্যমে জীবন সৃষ্টি করেছিলেন?
    ২০০৬ সচেতন থাক!
১৯৯৪ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w৯৪ ৯/১ পৃষ্ঠা ৩-৫

ক্রমবিবর্তনের বিচার

কট্টর ক্রমবিবর্তনবাদীরা এখন জৈব উৎপত্তিকে আবার ভালভাবে পরীক্ষা করার জন্য আবেদন জানাচ্ছেন

মনে করুন যে একটি অপরাধসংক্রান্ত বিচারে আপনি হলেন জুরির সদস্য। প্রতিবাদী ঘোষণা করেছে যে সে নির্দোষ এবং সাক্ষীরা তার পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছে। কিন্তু, তাদের সাক্ষ্য শুনবার সময়ে আপনি লক্ষ্য করেছেন যে প্রত্যেকে পরস্পরবিরোধী কথা বলেছে। পরে, প্রতিবাদীপক্ষের সাক্ষীদের আবার যখন কাঠগোড়ায় ডাকা হয়, তখন তাদের কথায় পরিবর্তন দেখা যায়। জুরির সদস্য হিসাবে, তাদের সাক্ষ্যের প্রতি আপনি কি গুরুত্ব দেবেন? আসামীকে নির্দোষ বলে ঘোষণা করতে কি আপনার ইচ্ছা হবে? হয়ত হবে না, কারণ আসামীর পক্ষে দেওয়া প্রমাণে যদি কোন তারতম্য থাকে, তাহলে সেই যুক্তির গুরুত্ব কমে যায়।

ক্রমবিবর্তনবাদের ক্ষেত্রেও এই অবস্থাই হয়েছে। ক্রমবিবর্তনবাদকে সমর্থন করে, জীবনের উৎপত্তি সম্বন্ধে বহু সাক্ষীরা নানা ধরনের মতবাদ জানিয়েছে। কিন্তু তাদের সাক্ষীকে আদালতে কি গুরুত্ব দেওয়া হবে? যারা মতবাদটিকে সমর্থন করে তাদের মধ্যে কি মতের মিল আছে?

পরস্পরবিরোধী সাক্ষ্য

জীবন কিভাবে শুরু হয়েছিল? অন্য কোন প্রশ্ন হয়ত এত বেশি কল্পনার উদয় এবং এত বেশি বিতর্কের সৃষ্টি করেনি। কিন্তু বিতর্ক শুধুমাত্র ক্রমবিবর্তনবাদ এবং সৃষ্টির মধ্যে নয়; অধিকাংশ বিরোধিতা ক্রমবিবর্তনবাদীদের মধ্যেই দেখা যায়। ক্রমবিবর্তনবাদের প্রত্যেকটি সূক্ষ্ম বিষয়​—⁠কিভাবে হয়েছিল, কোথায় শুরু হয়েছিল, কে অথবা কী তা শুরু করেছিল এবং কতদিন লেগেছিল​—⁠সবকিছুই প্রবল তর্কমূলক বিষয়।

বহু বছর ধরে ক্রমবিবর্তনবাদীরা মনে করতেন যে জীবন শুরু হয়েছিল একটি উষ্ণ জৈবিক “স্যূপের” মধ্যে। এখন কয়েকজন বিশ্বাস করেন যে মহাসাগরগুলির ফেনা হয়ত জীবন সৃষ্টি করেছিল। সমুদ্রের নিচে উষ্ণ ফোয়ারাগুলিকে জীবনের আরেকটি সম্ভাব্য উৎপত্তিস্থল মনে করা হয়। কয়েকজন মনে করেন যে পৃথিবীতে উল্কাপাতের মাধ্যমে জীবন এসেছিল। অথবা, অন্যরা বলেন যে কিছু উপগ্রহ পৃথিবীতে পড়ার মাধ্যমে আবহাওয়ার পরিবর্তন হয় ও সেই প্রক্রিয়ার জন্য জীবন শুরু হয়। “লোহার একটি বড় উপগ্রহ পৃথিবীতে ফেললে,” একজন গবেষক বলেন, “অবশ্যই কিছু আগ্রহজনক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাবে।”

জীবন শুরু হওয়ার ধরন সম্বন্ধেও চিন্তা করা হচ্ছে। “এক সময়ে যেমন মনে করা হয়েছিল, জীবন শান্ত, সুস্থির পরিস্থিতিতে তৈরি হয়নি,” টাইম পত্রিকা উল্লেখ করে, “কিন্তু আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ এবং ধূমকেতু ও উপগ্রহের দ্বারা বিধ্বস্ত একটি গ্রহের উদ্দাম আকাশের নিচে শুরু হয়েছিল।” কিছু বৈজ্ঞানিকেরা বলেন যে এই বিশৃঙ্খলার মধ্যে জীবন শুরু হতে হলে, আগে যেরকম মনে করা হয়েছিল, সম্পূর্ণ পদ্ধতিটিকে তার থেকে অনেক কম সময়ের মধ্যে ঘটতে হবে।

ঈশ্বর​—⁠“যদি তাঁর অস্তিত্ব থাকে”​—⁠তাহলে তাঁর ভূমিকা কোথায়, সেই বিষয়েও বৈজ্ঞানিকদের মতবিরোধ আছে। কয়েকজন বলেন যে সৃষ্টিকর্তার হস্তক্ষেপ ছাড়াই জীবন ক্রমবিবর্তিত হয়েছে, কিন্তু অন্যরা বলেন যে ঈশ্বর পদ্ধতিটি শুরু করেছিলেন এবং তারপর ক্রমবিবর্তনকে চলতে দিয়েছিলেন।

জীবন শুরু হওয়ার পরে, কিভাবে ক্রমবিবর্তন ঘটেছিল? এইক্ষেত্রেও, মতবিরোধ আছে। প্রজাতিগুলির উৎপত্তি (ইংরাজী) প্রকাশিত হওয়ার প্রায় একশ বছর পরে, ১৯৫৮ সালে, ক্রমবিবর্তনবাদী স্যার জুলিয়ান হাক্সলি বলেছিলেন: “প্রাকৃতিক বাছাই সম্বন্ধে ডারউইনের মহান আবিষ্কারকে, অবশেষে নিশ্চিৎরূপে ক্রমবিবর্তনমূলক পরিবর্তনের একমাত্র কারণ হিসাবে স্বীকার করা হয়েছে।” কিন্তু, চব্বিশ বছর পরে, ক্রমবিবর্তনবাদী মাইকেল রিউজ লিখেছিলেন: “আরও বেশি জীববিজ্ঞানীরা . . . মনে করছেন যে ডারউইনের নীতিগুলির উপর ভিত্তি করে​—⁠বিশেষত যেগুলি প্রাকৃতিক বাছাইকে বিবর্তনমূলক পরিবর্তনের একমাত্র পদ্ধতি হিসাবে দেখে​—⁠যে কোন ক্রমবিবর্তন মতবাদ এতই অসম্পূর্ণ, যে তা ভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।”

যদিও টাইম পত্রিকা বলেছে যে ক্রমবিবর্তনবাদের সপক্ষে “বহু যুক্তিসঙ্গত তথ্য” রয়েছে, কিন্তু তবুও, পত্রিকাটি স্বীকার করেছে যে ক্রমবিবর্তনবাদ হল একটি জটিল বিবরণ, যেখানে “বহু শূন্যস্থান রয়েছে এবং যেগুলি পূর্ণ করার জন্য পরস্পরবিরোধী মতবাদেরও অভাব নেই।” বিচারের নিষ্পত্তি হয়ে গেছে ধরে নেওয়ার পরিবর্তে, বহু কট্টর ক্রমবিবর্তনবাদীরা এখন জৈব উৎপত্তিকে আবার ভালভাবে পরীক্ষা করার জন্য আবেদন জানাচ্ছেন।

আগ্রহের বিষয় যে চালর্স ডারউইন এইধরনের মতবিরোধ আশা করেছিলেন। প্রজাতিগুলির উৎপত্তি বইয়ের ভূমিকায় তিনি লিখেছিলেন: “আমি জানি যে এই বইটিতে হয়ত একটিও বিষয় নেই, যার সঙ্গে আরও তথ্য যোগ করা যায় না, এবং প্রায়ই হয়ত সেই তথ্য, আমি যে সিদ্ধান্তে এসেছি, তার ঠিক বিপরীত মতামত প্রকাশ করবে।”

বাস্তবিকই, এইধরনের পরস্পরবিরোধী সাক্ষ্য ক্রমবিবর্তন মতবাদের সত্যতা সম্বন্ধে প্রশ্ন উত্থাপন করে।

ক্রমবিবর্তনবাদ কি বুদ্ধিমান বাছাই?

ইতিহাসের মহান ঘটনাসমূহ (ইংরাজী) বইতে উল্লেখ করা হয়েছে যে প্রথম থেকেই ক্রমবিবর্তন মতবাদ “অনেকে পছন্দ করেছিল কারণ মনে হয়েছিল যে এই মতবাদ বিসৃষ্টিবাদ মতবাদের তুলনায় অধিক বিজ্ঞানভিত্তিক।”

এছাড়া, কয়েকজনের দৃঢ় বিবৃতিও প্রভাবশীল হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, বৈজ্ঞানিক এইচ. এস. শেল্টন বলেছেন যে বিসৃষ্টিবাদ ধারণাটি “এতই মূর্খতাপূর্ণ যে তার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া যায় না।” জীববিজ্ঞানী রিচার্ড ডকিনস্‌ স্পষ্টভাবে বলেছেন: “আপনার যদি কারো সঙ্গে দেখা হয় যে বলে সে ক্রমবিবর্তনবাদে বিশ্বাস করে না, তাহলে সে হয় অজ্ঞ, নয়তো মূর্খ বা পাগল।” একইভাবে, অধ্যাপক রেনে দ্যুবো বলেছেন: “অধিকাংশ শিক্ষিত ব্যক্তিরা এখন স্বীকার করেন যে এই মহাবিশ্বের সবকিছু​—⁠আকাশের নক্ষত্র থেকে মানব জাতি​—⁠গড়ে উঠেছে ক্রমবিবর্তন পদ্ধতির মাধ্যমে এবং সেই গঠন এখনও চলছে।”

এই উক্তিগুলি থেকে মনে হতে পারে যে যার একটুও বুদ্ধি আছে, সে নির্দ্বিধায় ক্রমবিবর্তনকে মনে নেবে। কারণ তার অর্থ হবে যে সে “শিক্ষিত,” “মূর্খ” নয়। কিন্তু বহু শিক্ষিত পুরুষ ও নারী আছে যারা ক্রমবিবর্তন মতবাদকে সমর্থন করে না। “আমি দেখেছি যে বহু বৈজ্ঞানিকদের মনে সন্দেহ রয়েছে,” ফ্রান্সিস হিচিং তার লেখা জিরাফের গলা (ইংরাজী) বইতে বলেছেন, “আর কয়েকজন এমনকি এও বলেছেন যে ডারউইনের মতবাদ একেবারেই বিজ্ঞানভিত্তিক প্রামাণিত হয়নি।”

চন্দ্র বিক্রমসিং, একজন বিখ্যাত ব্রিটিশ বৈজ্ঞানিক, একই মনোভাব রাখেন। “ডারউইনের ক্রমবিবর্তনের মূল নীতিগুলির পিছনে কোন প্রমাণ নেই,” তিনি বলেছেন। “একটি সামাজিক শক্তি ১৮৬০ সালে পৃথিবীকে আচ্ছন্ন করেছিল, আর আমার মনে হয় যে তখন থেকে বিজ্ঞানের উপরে খুবই প্রতিকূল প্রভাব পড়েছে।”

বিবর্তনবাদীরা যে প্রমাণ দেখায়, টি. এইচ. জানাবি তা পরীক্ষা করেছিলেন। “আমি দেখেছি যে আমাদের যা বিশ্বাস করতে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি তার থেকে পৃথক,” তিনি বলেছেন। “যে প্রমাণ আছে, তা জীবনের উৎপত্তির মত জটিল মতবাদকে সমর্থন করার জন্য খুবই কম এবং অত্যন্ত আংশিক।”

সুতরাং, যারা ক্রমবিবর্তন মতবাদের প্রতি আপত্তি জানায় তাদের “অজ্ঞ, মূর্খ বা পাগল” বলে উপেক্ষা করা যায় না। ক্রমবিবর্তনের বিরুদ্ধে যে প্রমাণ আছে, সেই সম্বন্ধে এমনকি গোঁড়া বিবর্তনবাদী জর্জ গেলর্ড সিম্পসন বলেছেন: “এই দৃষ্টিভঙ্গিগুলিকে হেসে উড়িয়ে দেওয়া বা এগুলির বিদ্রূপ করা ভুল হবে। যারা এই দৃষ্টিভঙ্গি রাখে, তারা মনোযোগী ও বুদ্ধিমান ছাত্র ছিলেন (এবং এখনও আছেন)।”

বিশ্বাসের বিষয়

কয়েকজন মনে করেন যে ক্রমবিবর্তনকে সমর্থন করার ভিত্তি হল তথ্য এবং সৃষ্টিকে সমর্থন করার ভিত্তি হল বিশ্বাস। সত্য যে কোন মানুষ ঈশ্বরকে দেখেনি। (যোহন ১:১৮; তুলনা করুন ২ করিন্থীয় ৫:⁠৭.) কিন্তু এই বিষয়ে ক্রমবিবর্তনেরও বিশেষ কোন সুবিধা নেই, কারণ মতবাদটির ভিত্তি হল এমন সব ঘটনা যা কেউ কখনও দেখেনি বা যেগুলি কখনও দুবার ঘটেনি।

উদাহরণস্বরূপ, বৈজ্ঞানিকরা কখনও পরিবর্তন (mutation) লক্ষ্য করেনি​—⁠এমনকি উপকারী পরিবর্তনও নয়​—⁠যার থেকে নতুন ধরনের জীবনের উদ্ভব হয়; কিন্তু তবুও তারা নিশ্চিৎ যে এইভাবেই নতুন প্রজাতি জন্ম নেয়। তারা অজৈব পদার্থ থেকে জীবনকে আসতে দেখেনি; তবুও তারা দাবি করে যে এইভাবেই জীবন শুরু হয়েছিল।

প্রমাণের এইধরনের অভাবের জন্য টি. এইচ. জানাবি ক্রমবিবর্তনকে “শুধুমাত্র একটি ‘বিশ্বাস’” বলেছেন। পদার্থবিজ্ঞানী ফ্রেড হয়েল মতবাদটিকে বলেছেন “ডারউইনের মতানুযায়ী সুসমাচার (gospel)।” ডাঃ ইভান শুট আরও দৃঢ়ভাবে এই বিষয়টিকে দেখিয়েছেন, “আমার মনে হয় যে একজন সর্বান্তকরণ বিবর্তনবাদীর তুলনায় যে সৃষ্টিতে বিশ্বাস করে তাকে অল্প রহস্যের ব্যাখ্যা করতে হবে,” তিনি বলেছেন।

অন্যান্য বিশেষজ্ঞরাও একমত। “আমি যখন মানুষের প্রকৃতি সম্বন্ধে চিন্তা করি,” জ্যোতির্বিদ রবার্ট জ্যাস্ট্রো স্বীকার করেছেন, “তখন এই অত্যাশ্চর্য প্রাণীর উৎপত্তি যে গরম জলের একটি হ্রদের মধ্যে রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়েছে, তা আমার কাছে বাইবেলে দেওয়া মানুষের সৃষ্টির বিবরণের মতই আলৌকিক ঘটনা মনে হয়।”

তাহলে জীবন যে সৃষ্টি করা হয়েছিল, এই ধারণা কেন এখনও অনেকে পরিত্যাগ করে?

[Pictures on page 3]

কয়েকজনের দৃঢ় বিবৃতি প্রভাবশীল হতে পারে

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার