যখন প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সাক্ষাৎ হয়
“প্রাচ্য প্রাচ্যই আর পাশ্চাত্য পাশ্চাত্যই, এবং এই দুটির মিলন কখনোই হবে না।” ব্রিটিশ কবি রুডিয়ার্ড কিপ্লিং-এর এই কথাগুলি, মানবজাতির মধ্যে বিশাল সাংস্কৃতিক বিভেদ সম্বন্ধে আমাদের মনে করিয়ে দেয়, যে জন্য আজ পৃথিবীতে বিভিন্ন উপজাতি, জাতি এবং দেশের মধ্যে প্রবল বিদ্বেষ গড়ে উঠেছে। অনেকে জিজ্ঞাসা করে, ঈশ্বর কি এই বিষয়ে কিছু করতে পারেন না? হ্যাঁ, পারেন! আর এখনই তিনি এই বিষয়ে কিছু করছেন! কিপ্লিঙের কবিতার পরবর্তী পঙ্তি এই বিষয়েই উল্লেখ করেছে। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যে কতদিন বিভেদ থাকবে? কবি বলেছেন: “শীঘ্রই ঈশ্বরের মহান বিচারাসনের সামনে যতদিন পৃথিবী ও আকাশ এসে না দাঁড়াচ্ছে।”
বিচার করার দায়িত্ব ঈশ্বর তাঁর পুত্র যীশু খ্রীষ্টকে দিয়েছেন। (যোহন ৫:২২-২৪, ৩০) কিন্তু সেই বিচারের সময় কখন শুরু হবে? কাদের বিচার করা হবে আর তার ফল কী হবে? উনিশশো চোদ্দ সাল থেকে যে বিশ্বযুদ্ধ এবং তার সঙ্গে অন্যান্য দুর্যোগ মানবজাতিকে ভোগ করতে হবে, সেই সম্বন্ধে যীশু ভবিষ্যদ্বাণীর দ্বারা বর্ণনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে এইগুলি তাঁর অদৃশ্য “উপস্থিতি ও যুগান্তের চিহ্ন” হবে।—মথি ২৪:৩-৮.
এই মহান ভবিষ্যদ্বাণীর চূড়ান্তে, আমাদের বর্তমান কালকে বিচারের সময় হিসাবে চিহ্নিত করে যীশু নিজের সম্বন্ধে বলেছেন: “যখন মনুষ্যপুত্ত্র সমুদয় দূত সঙ্গে করিয়া আপন প্রতাপে আসিবেন, তখন তিনি নিজ প্রতাপের সিংহাসনে বসিবেন। আর সমুদয় জাতি তাঁহার সম্মুখে একত্রীকৃত হইবে; পরে তিনি তাহাদের এক জন হইতে অন্য জনকে পৃথক্ করিবেন, যেমন পালরক্ষক ছাগ হইতে মেষ পৃথক্ করে; আর তিনি মেষদিগকে আপনার দক্ষিণদিকে ও ছাগদিগকে বামদিকে রাখিবেন।” রূপকভাবে, পৃথিবীর সমস্ত লোকেদের এখন বিচারকের সামনে একত্রিত করা হয়েছে এবং তাঁর পরিত্রাণের বার্তার প্রতি তারা যেভাবে সাড়া দেবে, সেই অনুযায়ী তাদের জবাবদিহি করতে হবে। শীঘ্রই, মহাক্লেশের সময়ে যখন বিচার করা হবে তখন অবাধ্য ছাগতুল্য ব্যক্তিরা “অনন্ত দণ্ডে, কিন্তু ধার্ম্মিকেরা [বাধ্য মেষতুল্য ব্যক্তিরা] অনন্ত জীবনে প্রবেশ করিবে।”—মথি ২৫:৩১-৩৩, ৪৬; প্রকাশিত বাক্য ১৬:১৪-১৬.
‘সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত থেকে’
পৃথিবীর বিচার আসলে শুরু হয়েছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অশান্ত বছরগুলিতে। সেই সময়ে, খ্রীষ্টজগতের পাদ্রিরা যুদ্ধে রত দুই পক্ষকেই সর্বান্তকরণে সমর্থন করেছিল। এইজন্য তারা নীতিভ্রষ্ট জগতের একটি অংশ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছিল, যার উপরে “ঈশ্বরের ক্রোধ” আসা উপযুক্ত ছিল। (যোহন ৩:৩৬) কিন্তু যে শান্তিপ্রিয় খ্রীষ্টানেরা ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস রেখেছিল, তাদের কী হয়েছিল? উনিশশো উনিশ সাল থেকে শুরু করে, তারা রাজা যীশু খ্রীষ্টের পাশে একত্রিত হতে শুরু করেছিল।
পৃথিবীর সমস্ত অংশ থেকে তারা এসেছে, প্রথমে ১,৪৪,০০০ অভিষিক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে অবশিষ্টরা, যাদের খ্রীষ্টের মৃত্যুর পরে প্রত্যেকটি শতাব্দী থেকে একত্রিত করা হয়েছে। এরা খ্রীষ্টের স্বর্গীয় রাজ্যে তাঁর সাথে “সহদায়াদ” হবেন। (রোমীয় ৮:১৭) ঈশ্বরের ভাববাদী এদের বলেছেন: “ভয় করিও না, কেননা আমি তোমার সঙ্গে সঙ্গে আছি; আমি পূর্ব্ব দিক্ হইতে তোমার বংশকে আনিব, ও পশ্চিম দিক্ হইতে তোমাকে সংগ্রহ করিব; আমি উত্তর দিক্কে বলিব, ছাড়িয়া দেও; দক্ষিণ দিক্কেও বলিব, রুদ্ধ রাখিও না; আমার পূত্ত্রগণকে দূর হইতে, ও আমার কন্যাদিগকে পৃথিবীর প্রান্ত হইতে আনিয়া দেও; যে কেহ আমার নামে আখ্যাত, যাহাকে আমি আমার গৌরবার্থে সৃষ্টি করিয়াছি [সেই ব্যক্তিকে আনিয়া দেও], আমি তাহাকে নির্ম্মাণ করিয়াছি, আমি তাহাকে গঠন করিয়াছি।”—যিশাইয় ৪৩:৫-৭.
কিন্তু, এটিই সব নয়! বিশেষত ১৯৩০এর দশক থেকে, বিস্তর লোকেদের একত্রিত করা শুরু হয়, এখন যাদের সংখ্যা বহু লক্ষে এসে দাঁড়িয়েছে। মথি ২৫:৩১-৪৬ পদে, যীশু এই “মেষেদের” কথাই উল্লেখ করেছিলেন। তাদের আগে অভিষিক্ত অবশিষ্টাংশের মত, এরাও তাঁকে “বিশ্বাস করিতে” পেরেছে, যিনি বলেছেন: ‘তোমরাই আমার সাক্ষী, . . . আর আমিই ঈশ্বর।’ (যিশাইয় ৪৩:১০-১২) এই বিস্তর লোকের একত্রীকরণও ‘সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত থেকে, উত্তর ও দক্ষিণ থেকে এবং পৃথিবীর প্রান্ত থেকে’ চলছে।
এই শান্তিপ্রিয় মেষদের একটি আন্তর্জাতিক ভ্রাতৃত্বের মধ্যে একত্রিত করা হচ্ছে। যে ২৩১টি দেশে তারা বাস করে, সেখানকার বিভিন্ন ভাষায় তারা কথা বলে। তবুও, বাইবেলে দেওয়া রাজ্যের বার্তার “বিশুদ্ধ ওষ্ঠ” শিখতে, ‘সদাপ্রভুর নামে ডাকতে ও একযোগে তাঁর আরাধনা করার জন্য’ তারা আধ্যাত্মিকভাবে একতাবদ্ধ। (সফনিয় ৩:৯) তাদের বিশ্বাস, উদ্দেশ্য এবং কাজের মধ্যে সমতা আছে যা অপূর্বরূপে সাক্ষ্য দেয় যে বাস্তবিকই প্রাচ্য ও প্রাশ্চাত্যের এবং তার মধ্যে কম্পাসের সমস্ত কোণ্ থেকে লোকেদের মধ্যে সাক্ষাৎ হয়েছে, যাতে তারা সার্বভৌম প্রভু যিহোবার পরিচর্যা ও প্রশংসা করতে পারে।
কিছু দেশে, এই একত্রীকরণের কাজ খুবই উল্লেখযোগ্য পরিস্থিতির মধ্যে চলছে, নিচে দেওয়া রিপোর্ট যেমন দেখাবে।