যিহোবার সেই দিন সম্বন্ধে সচেতন থাকুন
দণ্ডাজ্ঞার তলভূমিতে যিহোবার দিন সন্নিকট—যোয়েল ৩:১৪; NW.
১. যিহোবার আগত পবিত্র যুদ্ধটি কেন মানবজাতির ঘোষিত “পবিত্র” যুদ্ধ থেকে আলাদা হবে?
“তোমরা জাতিগণের মধ্যে এই কথা প্রচার কর, ‘যুদ্ধ নিরূপণ কর!’” (যোয়েল ৩:৯) এর অর্থ কি পবিত্র যুদ্ধ? আমরা পশ্চাতের দিকে ফিরে তাকালে দেখি যে জেহাদ, ধর্ম্মীয় যুদ্ধ ও দুইটি বিশ্বযুদ্ধ হয়েছে—যাতে খ্রীষ্টীয় জগত প্রধান ভূমিকা নিয়েছে—তখন কেবল “পবিত্র যুদ্ধের” চিন্তাই হয়ত আমাদের আতঙ্কিত করতে পারে। যাইহোক যোয়েলের ভাববাণীতে যে যুদ্ধের কথা বলা হয়েছে তা জাতিগণের মধ্যে যুদ্ধ নয়। ইহা কোন এলাকা অথবা বিষয় সম্পত্তির জন্য ঘৃণায়-পূর্ণ লড়াই নয়, যেখানে ধর্ম্মকে কেবল একটি অব্যাহতি হিসাবে ব্যবহার করা হয়। ইহা এক ধার্ম্মিক যুদ্ধ। ইহা ঈশ্বরের যুদ্ধ এই পৃথিবীকে স্বার্থপরতার আকুল আকাঙ্খা, বিবাদ, অবিশুদ্ধতা, এবং অত্যাচার থেকে মুক্ত করার জন্য। সমস্ত সৃষ্টির উপর ইহা যিহোবার যে ন্যায়সঙ্গত সার্বভৌমতা তাহা প্রতিষ্ঠা করবে। সেই যুদ্ধ পথ পরিষ্কার করবে খ্রীষ্টের সেই রাজ্যত্বকে নিয়ে আসার জন্য যা সহস্র বৎসরের জন্য মানবজাতিকে পরিচালিত করবে বিশ্ব শান্তি, উন্নতি, এবং সুখে যা ঈশ্বরের ভাববাদীদের দ্বারা ভাববাণী করা ছিল।—গীতসংহিতা ৩৭:৯-১১; যিশাইয় ৬৫:১৭, ১৮; প্রকাশিত বাক্য ২০:৬.
২, ৩. (ক)“যিহোবার সেই দিন কি যা ভবিষৎবাণী করা আছে যোয়েল ২:১৪? (খ) সেই দিন জাতিগণকে যা ভোগ করতে হবে কেন তারা তার যোগ্য?
২ যোয়েল ৩:১৪ পদে “যিহোবার সেই দিন” সম্বন্ধে যে বলা হয়েছে তা কি?, যিহোবা নিজে বলেন, “যিহোবার দিন ত সন্নিকট; উহা সর্ব্বশক্তিমানের নিকট হইতে প্রলয়ের ন্যায় আসিতেছে!” কি করে ইহা প্রলয়ের ন্যায়? ভাববাদী পরে ব্যাখ্যা করেন: “সমারোহ, সমারোহ দণ্ডাজ্ঞার তলভূমিতে, কেননা দণ্ডাজ্ঞার তলভূমিতে যিহোবার দিন সন্নিকট।” (যোয়েল ১:১৫; ৩:১৪; NW) এই দিন যিহোবা তার বিচারাজ্ঞা ঈশ্বর বিহীন মানবজাতির উপর সম্পাদন করবেন যারা স্বেচ্ছায় স্বর্গ ও পৃথিবীতে তার সার্বভৌমত্বকে অস্বীকার করে। ইহা যিহোবার নির্নয় যে তিনি শয়তানের সম্পূর্ণ ব্যবস্থাকে বঞ্চিত করবেন যাহা মানবজাতিকে এতকাল যাবৎ তার মুঠোয় রেখেছে।—যিরমিয় ১৭:৫-৭; ২৫:৩১-৩৩.
৩ এই পৃথিবীর যে কলুষিত ব্যবস্থা তাকে এই নির্নয়ের সামনা করতে হবে। কিন্তু জগতের পরিস্থিতি কি সত্যই এত খারাপ? তার রেকর্ডের প্রতি একবার তাকলেই তা যথেষ্ট! যীশু মথি ৭:১৬ পদে একটি নীতি দেন: “তোমরা তাহাদের ফল দ্বারাই তাহাদের চিনিতে পারিবে।” জগতের বড় বড় শহরগুলি কি মাদক দ্রব্যের অপব্যবহার, অপরাধ, ভীতি, অনৈতিকতা, এবং দূষণের মলকুণ্ডতে পরিণত হয়নি? অনেক দেশে যে রাজনৈতিক স্বাধীনতা পাওয়া গেছে তা রুদ্ধ হচ্ছে, রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা, খাদ্যের অভাব, এবং দারিদ্র্যতার দ্বারা। প্রায় একশ লক্ষের উপরে লোক ক্ষুৎপীড়িত রেশেনে বেঁচে আছে। আরও, এডস মহামারি, যাকে ইন্ধন যোগাচ্ছে মাদক দ্রব্যের অপব্যবহার ও অনৈতিক জীবনধারা, যা পৃথিবীর বিরাট অংশের উপর কাল মেঘ ঢেকে দিয়েছে। বিশেষ করে যখন থেকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের বিস্ফোরণ ঘটেছে ১৯১৪ সালে, জগৎব্যাপী জীবনের প্রতি ক্ষেত্রে অবনতি লক্ষ্য করা গেছে।—তুলনা করুন ২ তীমথিয় ৩:১-৫.
৪. যিহোবা জাতিগণের উপর কি প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিক্ষেপ করেন?
৪ যাহাহোক যিহোবা সকল জাতি থেকে সেই লোকদের একত্র করছেন যারা আনন্দের সাথে তাঁর পথ সম্বন্ধে শিক্ষা গ্রহণ করে এবং তাঁর পথে চলে। জগতব্যাপী এই ব্যক্তিরা তাদের খড়্গ ভেঙ্গে লাঙ্গলের ফাল গড়েছে, এবং জগতের যে উগ্র পথ সেই সকল ত্যাগ করেছে। (যিশাইয় ২:২-৪) হ্যাঁ, খড়্গ ভেঙ্গে লাঙ্গল! কিন্তু যিহোবা যে ঘোষণা করেন যোয়েল ৩:৯, ১০ ইহা কি তার বিপরীত নয়? সেখানে আমরা পড়ি: “তোমরা জাতিগণের মধ্যে এই কথা প্রচার কর, ‘যুদ্ধ নিরূপণ কর! বীরগণকে জাগাইয়া তুল! যোদ্ধা সকল নিকটবর্ত্তী হোক! উঠিয়া আইসুক, তোমরা আপন আপন লাঙ্গলের ফাল ভাঙ্গিয়া খড়গ গড় এবং আপন আপন কাস্ত্যা ভাঙ্গিয়া বড়শা প্রস্তুত কর।’” (NW) হ্যাঁ, এখানে যিহোবা চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন জগতের সব শাসকদের যে তারা যেন আরমাগেদনে তাদের সকল অস্ত্র সমেত তাঁর বিপক্ষে আসে। কিন্তু তারা সফল হবে না! তারা সম্পূর্ণভাবে পরাজিত হবে!—প্রকাশিত বাক্য ১৬:১৬.
৫. যখন “পৃথিবীর দ্রাক্ষালতার গুচ্ছ সকল” ছেদন করা হবে তার ফল কি হবে?
৫ সর্বমহান্ প্রভু যিহোবার বিপক্ষে দ্বন্দ্বে, জগতের শক্তিশালি শাসকেরা ভীতিকর অস্ত্রশস্ত্র তৈরি করেছে—সব বৃথাই! যিহোবা যোয়েল ৩:১৩ পদে আদেশ দেন: “তোমার কর্ত্তনী লাগাও, কেননা শষ্য পাকিয়াছে; আইস দ্রাক্ষাফল দলন কর, কেননা কুণ্ড পূর্ণ হইয়াছে, রসের আধার সকল উথলিয়া উঠিতেছে; কেননা তাহাদের দুষ্টতা বিষম।” এই কথার মিল আছে প্রকাশিত বাক্য ১৪:১৮-২০, যেখানে মুকুট ভূষিত মশীহ রাজা, যীশুকে আজ্ঞা দেওয়া হয়েছে যাতে সে “পৃথিবীর দ্রাক্ষালতার গুচ্ছ সকল ছেদন করে, কেননা তাহার ফল পাকিয়াছে।” রাজা সেই ধারযুক্ত কাস্ত্যা লাগিয়ে সেই প্রতিরোধকারী জাতিকে “ঈশ্বরের রোষের মহাকুণ্ডে নিক্ষেপ করিলেন।” (NW) রূপকভাবে, সেই দলনকুণ্ড থেকে রক্ত বেরিয়ে আসে এবং অশ্বগণের বল্গা পর্য্যন্ত উঠে আসে, যা প্রায় এক সহস্র ছয় শত তীর ব্যাপ্ত—প্রায় ১৮০ মাইল! যে জাতি সকল যিহোবাকে অশ্রদ্ধা করে তাদের জন্য কি ভীতিকর ভবিষৎ!
আইন-মান্যকারী নাগরিকরা
৬. যিহোবার সাক্ষীরা জাতিগণকে ও তাদের শাসকদের কি ভাবে দেখেন?
৬ এর অর্থ কি তাহলে এই, যে যিহোবার সাক্ষীরা জাতি ও তাদের যে শাসনকর্ত্তারা আছেন তাদের অশ্রদ্ধা করে? তার থেকে তারা বহু দূরে! যে কলুষিত অবস্থা সকলে দেখতে পাচ্ছে তার সম্বন্ধে তারা কেবল দুঃখবোধ করে, এবং তারা যিহোবার যে দ্রুত আগত বিচার দিন সেই সম্বন্ধে লোকদের সাবধান করে। একই সময়, তারা নম্রতার সাথে প্রেরিত পৌলের যে আজ্ঞা যা রোমিয় ১৩:১ পদে দেওয়া আছে তা পালন করে: “প্রত্যেক প্রাণী প্রাধান্যপ্রাপ্ত কর্ত্তৃপক্ষদের বশীভূত হউক।” এই মানব শাসকদের, তাদের প্রাপ্য সম্মান তারা দেয় কিন্তু উপাসনা নয়। আইন-মান্যকারী নাগরিক হিসাবে বাইবেলের মান তারা অনুধাবন করে, সততা, সত্যবাদীতা, পরিষ্কার পরিছন্নতা সম্বন্ধে এবং উত্তম নৈতিক মান তাদের পরিবারের মধ্যে গড়ে তোলে। তারা অন্যদের সাহায্য করে শিখতে যে তারাও কি করে এইরূপ করতে পারে। তারা সকল লোকদের সাথে শান্তিতে থাকতে চায়, কোন প্রতিবাদ মিছিলে যোগ দেয় না অথবা রাজনৈতিক কোন বিপ্লবে অংশ নেয় না। যিহোবার সাক্ষীরা উদাহরণস্বরূপ হতে চায় প্রাধান্যপ্রাপ্ত কর্ত্তৃপক্ষের আইন পালন করার ব্যাপারে, একই সময় তারা শ্রেষ্ঠ কর্ত্তৃপক্ষ, সার্বভৌম প্রভু যিহোবা উপর নির্ভর করে, যাতে তিনি এই পৃথিবীতে আবার সম্পূর্ণ শান্তি ও ধার্ম্মিক সরকার ফিরিয়ে আনেন।
তাঁর নিষ্পত্তি সকল নিষ্পন্ন করা
৭, ৮. (ক) কি করে জাতিগণকে কম্পিত করা হবে এবং তাদের উপরে অন্ধকার নেমে আসবে? (খ) যোয়েল বর্ত্তমান দিনে কাকে চিত্রিত করে, এবং স্বাধারণতঃ জগতের সাথে তুলনা করলে, কি ভাবে ইহারা আশির্ব্বাদ প্রাপ্ত?
৭ রূপক ভাষায় সুস্পষ্টভাবে, যিহোবা তার নিষ্পত্তি সকল নিষ্পন্ন করার বর্ণনা দেন: “সূর্য্য ও চন্দ্র অন্ধকার হইতেছে, নক্ষত্রগণ আপন আপন তেজ গুটাইয়া লইতেছে। আর যিহোবা সিয়োন হইতে গর্জ্জন করিবেন, যিরুশালেম হইতে আপন রব শুনাইবেন। এবং আকাশমণ্ডল ও পৃথিবী কম্পিত হইবে; কিন্তু যিহোবা আপন প্রজাদের আশ্রয় ও ইস্রায়েলে-সন্তানগণের দুর্গস্বরূপ হইবেন।” (যোয়েল ৩:১৫, ১৬; NW) মানবজাতির যে দৃশ্যত উজ্জ্বল, সাফল্যপূর্ণ অবস্থা আছে তা পরিবর্ত্তিত হবে বিষন্নতায়, যা হল পূর্বভাস, যে এই বিছিন্ন জগত ব্যবস্থাকে অস্তিত থেকে এমনভাবে সরিয়ে দেওয়া হবে, যেন ভূমিকম্পে ধ্বংস প্রাপ্ত হয়েছে!—হগয় ২:২০-২২.
৮ সেই আনন্দদায়ী নিশ্চয়করণের প্রতি লক্ষ্য করুন যে যিহোবা তার লোকদের জন্য আশ্রয়স্থল ও দুর্গস্বরূপ হবেন! কেন এইরূপ? কারণ তারা এক লোকবৃন্দ—আর্ন্তজাতিক লোকবৃন্দ—যাহারা যিহোবার বাক্যের প্রতি সাড়া দিয়েছে: “তাহাতে তোমরা জানিবে যে তোমাদের ঈশ্বর যিহোবা।” (যোয়েল ৩:১৭; NW) যেহেতু যোয়েল কথার অর্থ “যিহোবা হলেন ঈশ্বর” সে উপযুক্ত ভাবে বর্তমান দিনের যিহোবার মনোনীত সাক্ষীদের চিত্রিত করে, যারা সাহসের সাথে যিহোবার সার্বভৌমত্ব প্রচারে সেবা করছে। (তুলনা করুন মালাখি ১:১১) যোয়েলের ভাববাণীর আরম্ভের কথাগুলির দিকে তাকালে, আমরা দেখব যে তিনি সুস্পষ্ট ভাবে বলে রেখেছেন ঈশ্বরের লোকদের বর্তমান দিনের কাজ সম্বন্ধে।
পঙ্গপালের এক দল
৯, ১০. (ক) যোয়েল কি সন্তাপের কথা ভাববাণী করেন? (খ) প্রকাশিত বাক্য কি করে যোয়েলের করা সন্তাপের ভবিষত্বাণী প্রতিধ্বনি করে, আর এই সন্তাপের কি প্রভাব খ্রীষ্টীয় জগতের উপরে হয়?
৯ এবার শুনুন “যিহোবার যে বাক্য উপস্থিত হয় যোয়েলের কাছে”: “হে প্রাচীনগণ, এই কথা শুন; আর হে দেশনিবাসী সকলে, কর্ণপাত কর। তোমাদের সময়ে এমন ঘটনা কি হইয়াছে? কিম্বা তোমাদের পিতৃপুরুষদের সময়ে কি এমন হইয়াছে? তোমরা আপন আপন সন্তানগণকে ইহার বৃত্তান্ত বল, এবং তাহারা আপন আপন সন্তানগণকে বলুক, আবার সেই সন্তানেরা ভাবী পুরুষপরম্পরাকে বলুক। শূককীটে যাহা রাখিয়া গিয়াছে, তাহা পঙ্গপাল খাইয়াছে; পঙ্গপাল যাহা রাখিয়া গিয়াছে, তাহা পতঙ্গ খাইয়াছে; পতঙ্গে যাহা রাখিয়া গিয়াছে, তাহা ঘুর্ঘুরিয়াতে খাইয়াছে।”—যোয়েল ১:১-৪.
১০ ইহা এক অস্বাভাবিক প্রচার অভিযান, এমন যা সর্বকালের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ঝাঁকে ঝাঁকে পতঙ্গ, যার মধ্যে বিশেষ করে পঙ্গপাল, স্থলকে বিধ্বস্ত করে। এর অর্থ কি? প্রকাশিত বাক্য ৯:১-১২, (NW) পদ পঙ্গপালের সন্তাপ সম্বন্ধে বলে, যা যিহোবা প্রেরণ করেন “এক রাজা, যে দূত অগাধলোকের চাবিধারী” তার অধীনে, এই দূত খ্রীষ্ট যীশু ছাড়া আর কেও নয়। তার নাম আবদ্দোন (ইব্রীয়) আপল্লুয়োন (গ্রীকে) যার অর্থ হচ্ছে “বিনাশ” এবং “বিনাশকারী।” এই পঙ্গপালেরা খ্রীষ্টীয় মনোনীত অবশিষ্টাংশদের চিত্রিত করে যারা, এখন এই প্রভুর দিনে, আগিয়ে গিয়ে খ্রীষ্টীয় জগতের যে চারণভূমি তাকে বিধ্বস্ত করে তার যে মিথ্যা ধর্ম্ম আছে তাকে সম্পূর্ণরূপে অনাবৃত করে এবং তার উপর যিহোবার প্রতিশোধের দিন যে আসবে তা ঘোষণা করে।
১১. বর্তমান দিনের পঙ্গপালেরা কি ভাবে পুনরায় বলীয়ান হয়, এবং কারা বিশেষ করে তাদের আক্রমনের লক্ষ্যবস্তু?
১১ যেমন প্রকাশিত বাক্য ৯:১৩-২১ পদে নির্দেশ করা আছে, এই পঙ্গপালের সন্তাপ অনুসরণ করবে অশ্বগণ ও তদারোহীদের সন্তাপ। আজ ইহা কত সত্য, কয়েক হাজার যে অবশিষ্টাংদের আরও জোরদার করা হয়েছে চল্লিশ লক্ষের উপরে যে “অপর মেষরা” তাদের সাথে যোগ দিয়েছে তাদের দ্বারা এবং একসাথে তারা এক অপ্রতিরোধ্য সৈন্যবাহিনী গঠন করেছে! (যোহন ১০:১৬) তারা সম্মিলিত ভাবে খ্রীষ্টীয় জগতের প্রতিমা পূজকদের উপর এবং তাদের সকলের উপর যারা ‘হত্যার কাজ সম্বন্ধে এবং তাদের যে ভৌতিক কৃয়াকলাপ ও অনৈতিকতা এবং চুরি থেকে অনুতপ্ত হয় না, তাদের উপর যিহোবার তীক্ষ্ণ বিচারজ্ঞা ঘোষণা করে। পাদ্রীরা—উভয় ক্যাথলিক এবং প্রটিস্ট্যান্ট্—যারা সক্রিয়ভাবে এই শতাব্দীর হত্যাকারী যুদ্ধগুলিকে সমর্থন করেছে, এবং তারও সেই বিকৃত কামলালসাপূর্ণ পাদ্রীরা ও বৈকৃতকাম টিভি প্রচারকরা, এর মধ্যে সংযুক্ত যাদের বিপক্ষে এই বিচার বার্ত্তা পরিচালিত।
১২. কেন খ্রীষ্টীয় জগতের নেতারা বিচারজ্ঞা পাওয়ার যোগ্য, এবং মহতি বাবিলের সব সদস্যদের সাথে, শীঘ্রই তাদেরও কি হবে?
১২ এইরূপ দুশ্চরিত্র “ভদ্রলোকদের” প্রতি যারা সাদা পোষাক পরে ঘোরে, যিহোবার আদেশ স্পষ্টভাবে বাজে: “হে মত্তগণ, জাগিয়া উঠ ও রোদন কর; হে মদ্যপায়ী সকলে, মিষ্ট দ্রাক্ষারসের জন্য হাহাকার কর; কেননা তাহা তোমাদের মুখ হইতে অপহৃত হইয়াছে।” (যোয়েল ১:৫) এই বিংশ শতাব্দীতে, খ্রীষ্টীয় জগতের ধর্ম্ম ঈশ্বরের বাক্যের বিশুদ্ধ নৈতিক নীতিকে জগতের অবৈদ্ধ যৌন সহনশীল নিতির দ্বারা প্রতিস্থাপিত করেছে। মিথ্যা ধর্ম্ম ও তার যাজক-পল্লীর অধিবাসীদের কাছে জগতের পথকে পান করা খুব মিষ্ট মনে হয়েছে, কিন্তু তার জন্য তারা আত্মিক ও দৈহিক রোগের কি ফসল না কেটেছে! শীঘ্রই, প্রকাশিত বাক্যে ১৭:১৬, ১৭ পদে বর্ণনা করা আছে, কারণ ঈশ্বর “প্রবৃত্তি” দেবেন যাতে রাজনৈতিক শক্তিগুলি সমস্ত মিথ্যা ধর্ম্মের সাম্রাজ্য, মহতি বাবিলের বিপক্ষে ওঠে, এবং তাকে বিধ্বস্ত করে। কেবল তখন, যখন সে দেখবে যিহোবার বিচার তার বিপক্ষে সম্পন্ন হচ্ছে, তখনই কেবল সে “জেগে ওঠবে” তার সেই মত্ত অচেতন অবস্থা থেকে।
“বলবতী এক মহাজাতি”
১৩. কি কারণে পঙ্গপালের এই জাতিবিশেষকে খ্রীষ্টীয় জগতের মনে হয় “বৃহৎ ও শক্তিশালী”?
১৩ যিহোবার ভাববাদী সেই পঙ্গপালের বড় দলকে এই ভাবে বর্ণনা করেন: “বলবতী এক মহাজাতি,” মহতী বাবিলের কাছে সেইরূপ মনে হয়। (যোয়েল ২:২) উদাহরণস্বরূপ, তার পাদ্রীরা, বিলাপ করে এই ব্যাপারে যে খ্রীষ্টীয় জগতের ধর্ম্মগুলি বুধিষ্ট জাপানে ধর্মান্তরিত করার কাজে বিফল হয়েছে। কিন্তু, আজ, প্রায় ১৬০,০০০ উপরে জাপানি যিহোবার সাক্ষীরা সমস্ত দেশে ছেয়ে গেছে এবং তারা ব্যক্তিগত ভাবে প্রায় ২০০,০০০ উপরে গৃহ বাইবেল অধ্যয়ন করছে। ইতালিতে যে ১৮০,০০০ যিহোবার সাক্ষীরা রয়েছেন তারা সেখানে এখন সংখ্যায় ক্যাথলিকদের পরের স্থানে আছেন। বৃথাই একজন রোমান ক্যাথলিক মঁসেঁইয়্যার্ বিলাপ করেন এই বিষয় যে যিহোবার সাক্ষীরা গির্জ্জা থেকে প্রতি বৎসর প্রায় ১০,০০০ বিশ্বস্ত ক্যাথলিকদের নিয়ে নিচ্ছে।a সাক্ষীরা এইরূপ ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ করতে খুব আনন্দিত।—যিশাইয় ৬০:৮, ২২.
১৪, ১৫. যোয়েল এই পঙ্গপালের দলকে কি ভাবে বর্ণনা করেন, এবং আজ ইহা কি ভাবে পরিপূর্ণতা লাভ করছে?
১৪ মনোনীত আবশিষ্টাং সাক্ষীদের পঙ্গপালের মহা দলকে বর্ণনা করতে গিয়ে, যোয়েল ২:৭-৯ পদ বলে: “তাহারা বীরগণের ন্যায় দৌড়ে, যোদ্ধাদের ন্যায় প্রাচীরে উঠে, প্রত্যেক জন আপন আপন পথে অগ্রসর হয়, আপনাদের মার্গ জটিল করে না। তাহারা এক জন অন্যের উপরে চাপাচাপি করে না; সকলেই আপন আপন মার্গে অগ্রসর হয়, এবং শূলাগ্রের উপরে পড়িলেও ভগ্নপঙ্ক্তি হয় না। তাহারা নগরের উপরে লম্ফ দেয়, প্রাচীরের উপরে দৌড়ে, গৃহমধ্যে উঠে, চোরের ন্যায় গবাক্ষ দিয়া প্রবেশ করে।”
১৫ যে সৈন্যদল সেই মনোনীত “পঙ্গপাল,” এবং এখন তাদের সাথে যোগ দিয়েছে যে ৪০ লক্ষ সাথীরা, যারা অপর মেষ তাদের এক সুস্পষ্ট চিত্র! ধর্ম্মীয় ঘৃণার কোন “প্রাচীর” তাদের পিছু হটাতে পারে না। সাহসের সাথে তারা “একই পদ্ধতিতে নিয়ম অনুযায়ী আগিয়ে চলতে থাকে” তা হল জনসাধারণে সাক্ষ্য এবং অন্যান খ্রীষ্টীয় কাজকর্ম্মে। (তুলনা করুন ফিলিপীয় ৩:১৬; NW) আপোস করা অপেক্ষা, তারা মৃত্যু বরণ করতে প্রস্তুত, যেমন সহস্র সহস্র সাক্ষীরা করে যারা ‘সেই ক্ষেপণাস্ত্রের মাঝে পতিত হয়’ কারণ তারা নাৎসি জার্মানির ক্যাথলিক হিটলারকে উপাসন (হেইল) করতে অসম্মত হয়। এই পঙ্গপালের বিরাট দল খ্রীষ্টীয় জগতের “নগরগুলিতে” সম্পূর্ণ সাক্ষ্যের কাজ করেছে, যে বাধাসকল এসেছে তা অতিক্রম করেছে, ঘরে ঘরে প্রচার কার্য্যে তারা চোরের ন্যায় লোকের গৃহে প্রবেশ করেছে বাইবেলের লক্ষ লক্ষ সাহিত্যাদি বিতরণ করে। ইহা যিহোবার ইচ্ছা যে এইরূপ সাক্ষ্য দেওয়া হোক, এবং স্বর্গ কি পৃথিবীর কোন শক্তি ইহা রোধ করতে পারবে না।—যিশাইয় ৫৫:১১.
“আত্মায় পরিপূর্ণ”
১৬, ১৭. (ক) যোয়েল ২:২৮, ২৯ পদের কখন উল্লেখযোগ্য পরিপূর্ণতা হয়? (খ) যোয়েলের ভাববাণীমূলক কোন কথাগুলির প্রথম শতাব্দীতে সম্পূর্ণ পূর্ণতা ঘটেনি?
১৬ যিহোবা তার সাক্ষীদের বলেন: “তাহাতে তোমরা জানিবে আমি [আত্মিক] ইস্রায়েলের মধ্যবর্ত্তী, এবং আমি তোমাদের ঈশ্বর যিহোবা অন্য কেহ নাই।” (যোয়েল ২:২৭; NW) তার লোকেরা মূল্যবান অনুভব পায় যখন যিহোবা তার বাক্য পূর্ণ করতে আরম্ভ করেন যোয়েল ২:২৮, ২৯: “আমি মর্ত্ত্যমাত্রের উপরে আমার আত্মা সেচন করিব, তাহাতে তোমাদের পুত্রকন্যাগণ ভাববাণী বলিবে।” ইহা ঘটে পঞ্চাশত্তমীর দিনে ৩৩ স্বাধারণ শতাব্দীতে, যখন যীশুর একত্রিত শিষ্যরা অভিষিক্ত হন “তাহারা আত্মায় পরিপূর্ণ হইলেন।” সেই পবিত্র আত্মার শক্তিতে তারা প্রচার কাজ করেন, এবং একদিনে “কমবেশ তিন হাজার লোক তাহাদের সাথে যুক্ত হইল।”—প্রেরিত ২:৪, ১৬, ১৭, ৪১.
১৭ সেই আনন্দপূর্ণ উপলক্ষে, পিতর উদ্ধৃতি করেন যোয়েল ২:৩০-৩২: “আমি আকাশ ও পৃথিবীতে অদ্ভুত লক্ষণ দেখাইব, রক্ত, অগ্নি ও ধূমস্তম্ভ দেখাইব। যিহোবার ঐ মহৎ ও ভয়ঙ্কর দিনের আগমনের পূর্ব্বে সূর্য্য অন্ধকার ও চন্দ্র রক্ত হইয়া যাইবে। আর যে কেহ যিহোবার নামে ডাকিবে, সেই রক্ষা পাইবে।” (NW) এই কথাগুলি আংশিকভাবে পূর্ণ হয় যখন যিরুশালেম ধ্বংস হয় সাধারণ শতাব্দীর ৭০ সালে।
১৮. যোয়েল ২:২৮, ২৯ পদের বৃহৎ আকারে পূর্ণতা কখন থেকে শুরু হয়?
১৮ যোয়েল ২:২৮-৩২ পদের অবশ্য, আরও প্রয়োগ হবে। বাস্তবিকপক্ষে, এই ভবিষৎবাণীর উল্লেখযোগ্য পরিপূর্ণতা দেখা গেছে ১৯১৯ সাল থেকে। সেই সময় যিহোবার সাক্ষীদের এক স্মরণীয় অধিবেশন করা হয় সিডার পয়েন্ট, ওহাইও, ইউ. এস. এ. -তে। ঈশ্বরের আত্মা পরিষ্কার ভাবে পরিলক্ষিত হয়, এবং তার মনোনীত সেবকদের উদ্দীপিত করা হয় যাতে তারা বিশ্বব্যাপী প্রচারের কাজ শুরু করে যা আমাদের বর্তমান দিন পর্য্যন্ত প্রসারিত হয়েছে। ফলস্বরূপ কি বিরাট বিস্তার না ঘটেছে! যে ৭,০০০ ব্যক্তিরা সিডার পয়েন্টে অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন তাদের সেই সংখ্যা বেড়ে ১০,৬৫০,১৫৮ দাঁড়িয়েছে যারা উপস্থিত ছিলেন যীশুর মৃত্যুর স্মরণার্থে মার্চ ৩০, ১৯৯১ সালে। এদের মধ্যে কেবলমাত্র ৮,৮৫০ দাবী করেন যে তারা মনোনীত খ্রীষ্টান। কি মহা আনন্দই না আসে যিহোবার শক্তিশালী আত্মার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী যে ফল আসছে তা দেখে!—যিশাইয় ৪০:২৯, ৩১.
১৯. যিহোবার দিনের নিকটবর্তীতা স্মরণে রেখে, আমাদের মনোভাব কিরূপ হওয়া উচিত?
১৯ আমাদের সম্মুখেই আছে “যিহোবার ঐ মহৎ ও ভয়ঙ্কর দিনের আগমন” যা শয়তানের জগত ব্যবস্থাকে বিধ্বস্ত করবে। (যোয়েল ২:৩১; NW) আনন্দের সাথে “যে কেহ যিহোবার নামে ডাকিবে সে পরিত্রাণ পাইবে।” (প্রেরিত ২:২১; NW) কি করে? প্রেরিত পিতর আমাদের বলেন যে, “যিহোবার দিন চোরের ন্যায় আসিবে” এবং যোগ করেন: “এইরূপ যখন এই সমস্তই বিলীন হইবে, তখন পবিত্র আচার ব্যবহার ও ভক্তিতে কিরূপ লোক হওয়া তোমাদের উচিত, সেই দিনের অপেক্ষা করে যিহোবার প্রকাশের দিন যেন স্মরণে রাখি।” যিহোবার সেই দিন খুব নিকটে তা স্মরণে রেখে, আমরা আনন্দ করব যিহোবার প্রতিশ্রুতির পরিপূর্ণতা দেখতে সেই ধার্ম্মিক “নতুন আকাশমণ্ডলের ও নতুন পৃথিবীর।”—২ পিতর ৩:১০-১৩. (NW) (w92 5/1)
[পাদটীকাগুলো]
a লা রিপাবলিকা, রোম, ইটালি, নভেম্বার ১২, ১৯৮৫, এবং লা রিভিষ্টা ডেল ক্লরো ইটালিয়্যানো, মে ১৯৮৫.
আপনি কি ব্যাখ্যা করতে পারেন?
▫ “যিহোবার সেই দিন” কি?
▫ কি করে যীশু ‘পৃথিবীর দ্রাক্ষালতার-গুচ্ছ,’ সকল ছেদন করবেন এবং কেন?
▫ কি করে ১৯১৯ সাল থেকে পঙ্গপালের সন্তাপ খৃষ্টীয় জগতকে উৎপীড়িত করেছে?
▫ কি করে যিহোবা তার আত্মা তাঁর লোকদের উপর ঢেলে দেন প্রথমে ৩৩ সা. শ., এবং আবার ১৯১৯ সালে?