আমাদের কথা শুনবে এমন কাউকে আমাদের প্রয়োজন
মানুষ হিসাবে, আমরা জীবনে আনন্দ এবং পরিতৃপ্তি পেতে চাই। কিন্তু যখন ব্যক্তিগত সমস্যার উত্থাপন হয়, তখন আমাদের অসুবিধা সম্বন্ধে কথা বলার জন্য কেউ থাকলে তা কত সাহায্যকারী ও সান্ত্বনাদায়ক হয়!
ডা. জর্জ এস. স্টিভেনসন বলেন: “কোন বিষয় সম্বন্ধে কথা বলা চাপের উপশম ঘটায়, আপনার উদ্বিগ্নতা আরও ভাল ভাবে বুঝতে সাহায্য করে, প্রায়ই আপনি সেই সম্বন্ধে কি করতে পারেন তা দেখতে সাহায্য করে।” ডা. রোজ হিলফারডিন উল্লেখ করেন: “আমাদের সকলের নিজেদের অসুবিধা ভাগ করে নিতে হবে। আমাদের উদ্বিগ্নতা ভাগ করে নিতে হবে। আমাদের অনুভব করতে হবে যে জগতে এমন কেউ আছে যে শুনতে ইচ্ছুক এবং বুঝতে সক্ষম।”
অবশ্যই, কোন মানুষই এই প্রয়োজন সম্পূর্ণরূপে পূরণ করতে পারবে না। সময় এবং অন্যান্য বিষয়ের অভাবের কারণে, আমাদের বিশ্বসনীয় মানব বন্ধুরা হয়তো তখন নাও থাকতে পারে যখন তাদের প্রয়োজন আমরা সবচেয়ে বেশী বোধ করি, অথবা কিছু বিষয় হয়তো আমরা আমাদের খুব অন্তরঙ্গ বন্ধুদের সঙ্গেও আলোচনা করতে সঙ্কোচ বোধ করি।
সত্য খ্রীষ্টানরা, যাইহোক, কখনও সম্পূর্ণরূপে একজন শ্রোতাবিহীন হবে না, কারণ প্রার্থনার পথ সর্বদা খোলা আছে। বাইবেল বারংবার আমাদের সৃষ্টিকর্তা, ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করতে উৎসাহ দেয়, যাঁর নাম যিহোবা। আমাদের নিষ্ঠাপূর্বকভাবে, যীশুর নামে, এবং ঈশ্বরের ইচ্ছার সাথে সমতা রেখে প্রার্থনা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি ব্যক্তিগত এবং গোপন ব্যাপারও প্রার্থনার যথার্থ বিষয় হতে পারে। “সর্ব্ববিষয়ে . . . তোমাদের যাচ্ঞা সকল ঈশ্বরকে জ্ঞাত কর,” ফিলিপীয় ৪:৬ পদে আমাদের বলা হয়। কি অপূর্ব উপহার! এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সার্বভৌম শাসনকর্তা তাঁর নম্র সেবকদের প্রার্থনাকে আমন্ত্রণ জানাতে এবং গ্রহণ করতে সর্বদা প্রস্তুত, যখনই তারা তাঁর কাছে যাওয়ার ইচ্ছা করে।—গীতসংহিতা ৮৩:১৮; মথি ৬:৯-১৫; যোহন ১৪:১৩, ১৪; ১ যোহন ৫:১৪.
তবুও, ঈশ্বর কি সত্যিই শোনেন? কিছু লোকে ভাবতে পারে প্রার্থনার কার্যকারীতা মানুষের ক্ষমতার মধ্যে সীমাবদ্ধ কিনা: একজন ব্যক্তি প্রার্থনা করে, তার চিন্তাধারাকে গুছিয়ে এবং কথার মাধ্যমে তা প্রকাশ করে। এইভাবে তার সমস্যাকে ব্যাখ্যা করে, সে একটি মানানসই সমাধান খোঁজে এবং যা কিছু সেই সমাধানের প্রতি কিছু অবদান রাখতে পারে সেইগুলির প্রতি সচেতন থাকে। যখন তার সমস্যার সমাধান হয়, সে ঈশ্বরকে কৃতিত্ত্ব দিতে পারে, কিন্তু আসলে তার নিজের মস্তিষ্ক এবং প্রচেষ্টা বাঞ্ছনীয় ফল উৎপন্ন করে।
বর্তমানে অনেকে মনে করে যে প্রার্থনার ক্ষেত্রে নিজের বুদ্ধি এবং প্রচেষ্টা প্রয়োগ করাই সবকিছু। আপনি কি তাই মনে করেন? প্রার্থনার ক্ষমতা কি এইভাবে সীমাবদ্ধ? মানতে হবে যে, একজন ব্যক্তির প্রার্থনার সাথে সামঞ্জস্য রেখে তার মানসিক এবং শারীরিক প্রচেষ্টা উত্তর পাওয়ার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা গ্রহণ করে। যাইহোক, এই বিষয়ে ঈশ্বরের নিজের ভূমিকা কি? আপনি যখন তাঁর কাছে প্রার্থনা করেন ঈশ্বর কি শোনেন? তিনি কি আপনার প্রার্থনাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করেন, তার বিষয়বস্তুর প্রতি মনোযোগ দেন এবং তার প্রতি সাড়া দেন?
এই প্রশ্নগুলির উত্তর গুরুত্বপূর্ণ। যদি ঈশ্বর আমাদের প্রার্থনার প্রতি মনোযোগ দেন না, তাহলে প্রার্থনার মনোবিদ্যাগত ছাড়া আর কোন মূল্য নেই। অপরপক্ষে, ঈশ্বর যদি আমাদের প্রত্যেকটি প্রার্থনা গ্রহণ করেন এবং আগ্রহ সহকারে শোনেন, এই ব্যবস্থার জন্য আমাদের কত কৃতজ্ঞ হওয়া উচিৎ! ইহার দ্বারা প্রত্যেক দিন এই ব্যবস্থার সদ্ব্যবহার করার জন্য আমাদের পরিচালিত হওয়া উচিৎ।
আমরা আপনাকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি, তাহলে, আরও পড়ে দেখতে, যখন এই বিষয়গুলি পরবর্তী প্রবন্ধে আলোচনা করা হবে। (w92 4⁄15)