“শান্তির চেষ্টা করুক ও তাহার অনুধাবন করুক”
“যিহোবা যিনি তার লোকদের শান্তিতে আনন্দ করেন, তিনি মহিম্মানিত্ব হোন।”—গীতসংহিতা ৩৫:২৭. (NW)
১. কি শান্তি আজ আমরা উপভোগ করি?
কি আনন্দের কারণ এই বিভক্ত জগতে শান্তিতে থাকা! কি পরম আনন্দের কারণ যিহোবাকে সেবা করতে পারা, “যিনি হচ্ছেন শান্তির ঈশ্বর,” এবং তার যে “শান্তির নিয়ম” আছে সেই আশীর্ব্বাদে অংশ নেওয়া! কি উৎসাহজনক ইহা জানা, যে এই জগতের চাপের মধ্যেও, “সমস্ত চিন্তার অতীত যে ঈশ্বরের শান্তি” এবং ‘শান্তির যে যোগবন্ধন’ যা ঈশ্বরের লোকদের একতাবদ্ধ করে তাদের জাতি, ভাষা, বর্ণ, অথবা আর্থিক পরিস্থিতি যাই হোক না কেন!—১ থিষলনীকীয় ৫:২৩; যিহিষ্কেল ৩৭:২৬; ফিলিপীয় ৪:৭; ইফিষীয় ৪:৩.
২, ৩. (ক) যদিও যিহোবার লোকেরা সংগঠনরূপে রক্ষা পাবে, ব্যক্তিগত খ্রীষ্টানদের ক্ষেত্রে কি হতে পারে? (খ) বাইবেল আমাদের কি করতে উত্তেজিত করে?
২ যিহোবার সাক্ষীরূপে, আমরা এই শান্তি মূল্যবান মনে করি। যাইহোক, আমরা এই শান্তি সব সময় থাকবে ধরে নিতে পারি না। এই শান্তি কেবল এই কারণে আসবেনা যে আমরা খ্রীষ্টীয় মণ্ডলীর সাথে যুক্ত বা আমরা খ্রীষ্টীয় পরিবারের সদস্য। যদিও মনোনীত অবশিষ্টাংশরা এবং তাদের সহযোগী “অপর মেষরা” এক পাল হিসাবে শেষ পর্য্যন্ত বিশ্বস্ততা বজায় রাখবে, ব্যক্তিগত রূপে কেউ হয়ত সেই শান্তি হারাতে পারে ও সরে যেতে পারে ।—যোহন ১০:১৬; মথি ২৪:১৩; রোমীয় ১১:২২; ১ করিন্থীয় ১০:১২.
৩ প্রেরিত পৌল তার দিনের মনোনীত খ্রীষ্টানদের সতর্ক করে দেন: “ভ্রাতৃগণ, দেখিও, পাছে অবিশ্বাসের এমন মন্দ হৃদয় তোমাদের কাহারও মধ্যে থাকে যে, তোমরা জীবন্ত ঈশ্বর হইতে সরিয়া পড়।” (ইব্রীয় ৩:১২) এই সাবধাণবাণী বিরাট জনতার লোকদের প্রতিও প্রযোজ্য। সেই কারণে বাইবেল খ্রীষ্টানদের বলে: “শান্তির চেষ্টা করুক, ও তাহার অনুধাবন করুক। কেননা ধার্ম্মিকগণের প্রতি তাঁহার কর্ণ আছে; তাহাদের বিনতির প্রতি তাঁহার কর্ণ আছে; কিন্তু প্রভুর মুখ দুরাচারদের প্রতিকূল।”—১ পিতর ৩:১০-১২; গীতসংহিতা ৩৪:১৪, ১৫.)
“মাংশের ভাব”
৪. কি ঈশ্বরের সাথে আমাদের শান্তিকে বিঘ্নিত করতে পারে ?
৪ আমাদের শান্তির যে ধাবন তাতে কি আমাদের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে ? একটি বিষয় পৌল বর্ণনা করেন যখন তিনি বলেন: “কারণ মাংশের ভাব মৃত্যু, কিন্তু আত্মার ভাব জীবন ও শান্তি। কেননা মাংশের ভাব ঈশ্বরের প্রতি শত্রুতা।” (রোমীয় ৮:৬, ৭) “মাংশ” সম্বন্ধে বলে এখানে পৌল আমাদের অসিদ্ধ যে মনুষ্য অবস্থার কথা তাই বলচ্ছেন যে আসিদ্ধ গুনাবলী আমরা জন্মসুত্রে পেয়েছি। রক্ত মাংশের এই চাহিদাগুলিতে যদি আমরা নিজেদের সঁপে দিই তা আমাদের যে শান্তি তাকে বিঘ্নিত করবে। যদি কোন খ্রীষ্টান পরিবর্তন না করে চরিত্রহীনতা, মিথ্যা, চুরি, নেশাদায়ক ঔষদ খায়, বা অন্য কোন ভাবে ঐশিক নিয়ম ভাঙ্গে, সে যিহোবার সাথে তার যে শান্তি এক সময় ছিল তা ভঙ্গ করে। (হিতোপদেশ ১৫:৮, ২৯; ১ করিন্থীয় ৬:৯, ১০; প্রকাশিত বাক্য ২১:৮) আরও, যদি আমরা জাগতিক বস্তুকে আমাদের জীবনে বেশী গুরুত্বপূর্ণ হতে দিই আত্মিক বিষয়গুলি থেকে, তবে আমাদের ঈশ্বরের সাথে যে শান্তি তা বিপদগ্রস্ত হবে।—মথি ৬:২৪; ১ যোহন ২:১৫-১৭.
৫. শান্তির প্রচেষ্টার সাথে কি যুক্ত?
৫ অন্যদিকে পৌল বলেন: “কিন্তু আত্মার ভাব জীবন ও শান্তি।” শান্তি হচ্ছে আত্মার ফলের অংশ, আর আমরা যদি আমাদের হৃদয়কে শিক্ষিত করে তুলি আত্মিক বিষয়গুলি উপলব্ধি করতে, তাহলে আমরা “মাংশের ভাব” থেকে নিজেদের রক্ষা করব। (গালাতীয় ৫:২২-২৪) ১ পিতর ৩:১০-১২, পদে শান্তিকে যুক্ত করা হয়েছে ধার্ম্মিকতার সাথে। (রোমীয় ৫:১) পিতর বলেন যে শান্তির অনুধাবন করার অর্থ হচ্ছে ‘মন্দ থেকে ফিরে যাহা ভাল তাহা করা।’ ঈশ্বরের আত্মা আমাদের সাহায্য করতে পারে “ধার্ম্মিকতার অনুধাবন” করতে আর এইভাবে আমরা আমাদের শান্তি ঈশ্বরের সাথে বজায় রাখতে পারি।—১ তীমথিয় ৬:১১, ১২.
৬. মণ্ডলীর শান্তির ব্যাপারে প্রাচীনদের কি দায়িত্ব আছে?
৬ শান্তির চেষ্টা করা মণ্ডলীর প্রাচীনদের জন্য এক বিশেষ চিন্তার বিষয়। উদাহরণস্বরূপ, যদি কেউ ক্ষতিকারক অভ্যাস দ্বারা কলুষিত করার চেষ্টা করে, প্রাচীনদের দায়িত্ত্ব হচ্ছে মণ্ডলীকে রক্ষা করা সেই পাপীকে ভর্ৎসনা করার দ্বারা। যদি সে সেই ভর্ৎসনা গ্রহণ করে, সে তার শান্তি খুজে পাবে। (ইব্রীয় ১২:১১) যদি তা না করে, তাকে হয়ত বের করে দিতে হবে যাতে যে শান্তিপূর্ণ সস্পর্ক ঈশ্বরের সাথে মণ্ডলীর আছে তা বজায় থাকে।—১ করিন্থীয় ৫:১-৫.
আমাদের ভাইদের সাথে শান্তি
৭. ‘মাংশের ভাব’ প্রদর্শন করার ব্যাপারে পৌল করিন্থীয়দের কি সাবধাণবাণী দেন?
৭ ‘মাংশের ভাব’ কেবল যে আমাদের শান্তি ঈশ্বরের সাথে নষ্ট করতে পারে তা নয় কিন্তু অন্য খ্রীষ্টানদের সাথেও আমাদের সম্পর্ক নষ্ট করতে পারে। পৌল করিন্থীয় খ্রীষ্টানদের লেখেন: “কারণ এখন তোমরা মাংশিক রহিয়াছ; তোমাদের মধ্যে ঈর্ষা ও বিবাদ রহিয়াছে, তখন তোমরা কি মাংশিক নও, এবং মনুষ্যের রীতিক্রমে কি চলিতছ না?” (১ করিন্থীয় ৩:৩) ঈর্ষা ও বিবাদ শান্তির বিপরীত।
৮. (ক) যে মণ্ডলীতে বিবাদ ও ঈর্ষা উৎপন্ন করে তার কি হতে পারে? (খ) ঈশ্বরের সাথে আমাদের শান্তি কিসের উপর নির্ভরশীল?
৮ মণ্ডলীর শান্তি ঈর্ষা ও বিবাদের মাধ্যমে নষ্ট করা খুব চিন্তার ব্যাপার। শান্তি আত্মার ফলের এক গুরুতর অংশ বলতে গিয়ে, প্রেরিত যোহন সাবধান করেন: “যদি কেহ বলে, ‘আমি ঈশ্বরকে প্রেম করি,’ আর আপন ভ্রাতাকে ঘৃণা করে, সে মিথ্যাবাদী; কেননা যাহাকে দেখিয়াছে, আপনার সেই ভ্রাতাকে যে না প্রেম করে, সে যাঁহাকে দেখে নাই সেই ঈশ্বরকে প্রেম করিতে পারে না।” (১ যোহন ৪:২০) একই ভাবে, যদি একজন ব্যক্তিগতরূপে ঈর্ষা ও বিবাদ উৎপন্ন করে ভাইদের মধ্যে, সে কি সত্যই ঈশ্বরের সাথে শান্তিতে থাকতে পারে ? অবশ্যই না! আমাদের অনুরোধ করা হয়েছে: “হে ভ্রাতৃগণ, আনন্দ কর, পরিপক্ক হও, আশ্বাস গ্রহণ কর, একতাভাববিশিষ্ট হও, শান্তিতে থাক; তাহাতে প্রেমের ও শান্তির ঈশ্বর তোমাদের সঙ্গে সঙ্গে থাকিবেন।” (২ করিন্থীয় ১৩:১১) হাঁ, যদি একে অপরের সাথে আমরা শান্তিতে থাকি, তাহলে প্রেমের ও শান্তির ঈশ্বর আমাদের সাথে থাকবেন।
৯. আমরা কি করে জানি যে খ্রীষ্টানদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও মতের পার্থক্য দেখা দেবে?
৯ এর অর্থ এই নয় যে খ্রীষ্টানদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হবে না। পঞ্চাসত্তমীর পরের সপ্তাহগুলিতে, সেই নব খ্রীষ্টীয় মণ্ডলীতে বিবাদ দেখা দেয় প্রত্যহ দিনের খাদ্য সরবরাহ নিয়ে। (প্রেরিত ৬:১) এক সময় পৌল ও বার্ণবার মধ্যে বিবাদ পরিচালিত করে “বিতণ্ডতায়।” (প্রেরিত ১৫:৩৯) পৌলকে ইউদিয়া ও সিন্তাকিকে উপদেশ দিতে হয়, যদিও তারা খুব উয্যেগী বোন ছিল, “যাতে তারা খ্রীষ্টে এক মনা হয়।” (ফিলিপীয় ৪:২, NW) কোন সন্দেহ নেই যে যীশু উপদেশ দেন কি করে বিবাদ মিটিয়ে ফেলতে হবে শান্তি বজায় রাখার জন্য এবং এই বিষয়ে দেরি না করার গুরুত্বের উপরেও জোর দেন! (মথি ৫:২৩-২৫; ১৮:১৫-১৭) তিনি এই উপদেশ দিতেন না যদি তিনি তার অনুগামীদের মধ্যে সমস্যা আশা না করতেন।
১০. মণ্ডলীতে কি পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে, আর ইহা জড়িত সকলের উপর কি দায়িত্ব নিয়ে আসে?
১০ আজ, তাহলে, ইহা হতে পারে যে একজন হয়ত কারুর কথায় বা বিদ্রুপে ব্যাথা পেতে পারে। একজনের চরিত্র হয়ত অন্যকে তিক্ত করে তুলতে পারে। ব্যক্তিত্বের দ্বন্দ্ব দেখা দিতে পারে। একজন হয়ত প্রাচীনরা যে নিষ্পত্তি করেছে তার বিপক্ষতা করতে পারে। প্রাচীন গোষ্ঠির মধ্যে হয়ত একজন প্রাচীন থাকতে পারেন যিনি খুব দৃঢ়চিন্তার লোক ও অন্যদের তার মত করে ভাবতে পরিচালিত করতে পারেন। যদিও এই সব কিছু হয়ে থাকে, আমাদের তবুও শান্তি অনুধাবন করতে হবে ও রক্ষা করতে হবে। চ্যালেঞ্জ হল এই সমস্যাগুলিকে খ্রীষ্টীয় পথে মোকাবিলা করা যাতে আমরা “শান্তির যোগবন্ধনকে” রক্ষা করতে পারি।”—ইফিষীয় ৪:৩.
১১. একে অন্যের সাথে শান্তি বজায় রাখার জন্য যিহোবা আমাদের জন্য কি ব্যবস্থা রেখেছেন?
১১ বাইবেল বলে: “যিহোবা গৌরবান্বিত হোন যিনি তাঁর সেবকদের শান্তিতে আনন্দ করেন।” (গীতসংহিতা ৩৫:২৭, NW) হাঁ, যিহোবা চান আমরা শান্তিতে থাকি। সেইকারণে তিনি দুইটি উত্তম উপায় করেছেন যাতে আমরা নিজেদের মধ্যে এবং তাঁর সাথে শান্তি বজায় রাখতে পারি। একটি হল তার পবিত্র আত্মা, যার একটি ফল হল শান্তি, যেমন দীর্ঘসহিষ্ণুতা, মাধুর্য্য, মৃদুতা ও ইন্দ্রিয়দমন। (গালাতীয় ৫:২২, ২৩) অন্যটি হল ঐশ্বরিক প্রজ্ঞা, যার সম্বন্ধে আমরা পড়ি: “যে জ্ঞান উপর হইতে আইসে, তাহা পথমে শুচি, পরে শান্তিপ্রিয়, ক্ষান্ত, সহজে অনুনীত, দয়া ও উত্তম উত্তম ফলে পরিপূর্ণ।”—যাকোব ৩:১৭, ১৮.
১২. যদি আমাদের শান্তি অন্য ভাইয়ের সাথে বিঘ্নিত হয় তাহলে কি করার প্রয়োজন?
১২ সেই কারণে, যখন আমাদের শান্তি অন্যদের মাধ্যমে বিঘ্নিত হয়, আমাদের প্রার্থনা করা উচিত ঐশ্বরিক প্রজ্ঞার জন্য যাতে তা আমাদের সাহায্য করে যে আমরা কি ভাবে কাজ করব, এবং আমাদের পবিত্র আত্মার শক্তি চাওয়া দরকার যেন যাহা সঠিক তা আমরা করতে পারি। (লূক ১১:১৩; যাকোব ১:৫; ১ যোহন ৩:২২) আমাদের প্রার্থনার সাথে মিল রেখে পরিচালনার জন্য, আমরা ঐশিক প্রজ্ঞার উৎসের দিকে তাকাতে পারি, বাইবেল এবং যে সাহিত্যাদিগুলি পাওয়া যায় বাইবেল সংক্রান্ত তাহা অনুসন্ধান করে ও শাস্ত্রগুলিকে ব্যবহার করে। (২ তীমথিয় ৩:১৬) আমরা মণ্ডলীর প্রাচীনদের কাছ থেকে উপদেশ চাইতে পারি। শেষ পদক্ষেপ হবে যে উপদেশ পাওয়া গেছে তাহা ব্যবহার করা। যিশাইয় ৫৪:১৩ বলে: “আর তোমার সন্তানেরা যিহোবার কাছে শিক্ষা পাইবে আর তোমার সন্তানদের পরম শান্তি হইবে।” (NW) এর অর্থ হচ্ছে আমাদের শান্তি নির্ভর করে যিহোবা আমাদের যা শিক্ষা দিচ্ছে তা কাজে প্রয়োগ করার মাধ্যমে।
“যারা শান্তিপ্রীয় তারা সুখী”
১৩, ১৪. (ক) যীশু যখন বলেন “শান্তি সৃষ্টিকারী” তিনি কি বলতে চান? (খ) আমরা কি করে শান্তি সৃষ্টিকারী হতে পারি?
১৩ যীশু, তার পার্ব্বত্য উপদেশে, বলেন: “ধন্য যাহারা শান্তিপ্রিয়, কারণ তাদের ‘ঈশ্বরের সন্তান’ বলা হবে।” (মথি ৫:৯, NW) “শান্তিপ্রিয়” বলতে এখানে এমন ব্যক্তিকে বলা হচ্ছে না যে কেবল স্বভাবে শান্ত। মূল গ্রীক কথার অর্থ হচ্ছে “শান্তি সৃষ্টিকারী।” একজন নিপুণ শান্তি সৃষ্টিকারী শান্তি পুনপ্রতিষ্ঠা করে যখন তা বিঘ্নিত হয়। আরও গুরুত্বপূর্ণ, যে একজন শান্তি সৃষ্টিকারী, প্রথমেই চেষ্টা করে যেন শান্তি কোনভাবে বিঘ্নিত না হয়। ‘শান্তি তার হৃদয়কে রক্ষা করে।’ (কলসীয় ৩:১৫) যদি ঈশ্বরের লোকেরা চেষ্টা করে শান্তি সৃষ্টিকারী হতে, তাহলে তাদের মধ্যে যে সমস্যা তা অনেক কম হবে।
১৪ শান্তি সৃষ্টিকারী হবার মধ্যে জড়িত আছে আমাদের দুর্বলতাগুলিকে মেনে নেওয়া। উদাহরণস্বরূপ, একজন খ্রীষ্টানের হয়ত ক্রোধ পরায়ণ হতে পারে বা অতন্ত অনুভূতিশীল এবং সহজে বিঘ্ন পেতে পারে । যখন সে চাপের মুখে পড়ে তা হয়ত তাকে বাইবেলের যে নীতি আছে তা ভুলিয়ে দেয়। অসিদ্ধ মনুষ্যদের মধ্যে এমন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। (রোমীয় ৭:২১-২৩) যাহাহোক, শত্রুতা, বিবাদ, রাগ, সেগুলি মাংশের কার্য্য। (গালাতীয় ৫:১৯-২১) আমরা যদি আমাদের মধ্যে এইরকম গুণগুলিকে পাই—বা অন্যরা যদি তা আমাদের দৃষ্টিতে নিয়ে আসে—তাহলে আমাদের অবিরত প্রাথর্না করতে হবে যাতে আমরা নিজেদের মধ্যে মৃদুতা ও ইন্দ্রিয়দমন যিহোবার আত্মার মাধ্যমে গড়ে তুলতে পারি। অবশ্যই, সকলকে সচেষ্ট হতে হবে এই গুণগুলিকে গড়ে তুলতে নতুন ব্যক্তিত্বের অংশ রূপে।—ইফিষীয় ৪:২৩, ২৪; কলসীয় ৩:১০, ১৫.
১৫. কি করে উপর হইতে যে জ্ঞান আসে তা একগুয়েমির বিপক্ষতা করে?
১৫ কোন কোন ক্ষেত্রে, হয়ত প্রাচীনদের গোষ্ঠী অসুবিধায় পড়েন এমন ব্যক্তিকে নিয়ে যে খুব একগুয়ে, সব সময় জোর দেয় তার মত করে কাজ করতে। সত্য, যে ঐশিক আইনের ব্যাপারে, একজন খ্রীষ্টানকে দৃঢ় মনা হতে হবে, এমন কি অনমনিয়। আর আমরা যদি মনে করি যে আমাদের কাছে ভাল চিন্তাধারা আছে যা অন্যকে সাহায্য করবে, এতে কোন ভুল নেই সেই বিষয় বলা, যতক্ষন আমরা আমাদের কারণ বর্ণনা করি। কিন্তু আমরা জগতের লোকদের মত হতে চাইনা যারা “কোন বিষয় সম্মত হতে নারাজ।” (২ তীমথিয় ৩:১-৪, NW) উপর থেকে যে প্রজ্ঞা আসে তা শান্তিপ্রিয়, বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন। যাদের কাজের মাধ্যমে প্রমাণ হয় যে তারা একগুয়ে এবং নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে না তাদের পৌল ফিলিপীয়দের যে উপদেশ দেন তা শোনা উচিত ‘দর্পের বশে কিছুই করিও না।’—ফিলিপীয় ২:৩.
১৬. কি করে পৌলের উপদেশ ফিলিপীয়ের পুস্তকে আমাদের আমিত্বের ভাব অতিক্রম করতে সাহায্য করে?
১৬ একই পত্রে, পৌল বিনতি করেন যে আমরা, ‘নম্রভাবে’ নিষ্টার সাথে মেনে নিই যে ‘অন্যরা শ্রেষ্ট।’ ইহা অমিত্বের ঠিক বিপরীত। একজন পরিপক্ক খ্রীষ্টান কেবল নিজের চিন্তাধারাকে প্রথমে জোর দিতে চায় না, নিজের মুখ রক্ষা করা, বা নিজের যে কর্তৃত্ব তা সব সময় বজায় রাখা। ইহা পৌল যে বিষয় উপদেশ দেন ‘প্রত্যেক জন আপনার বিষয় নয় কিন্তু পরের বিষয় লক্ষ্য রাখ,’ তার বিপরীত।—ফিলিপীয় ২:৪; ১ পিতর ৫:২, ৩, ৬.
শান্তিযুক্ত কথা
১৭. কিভাবে জিহ্বার ভুল ব্যবহার মণ্ডলীর শান্তিকে নষ্ট করতে পারে?
১৭ যে শান্তি সৃষ্টিকারী সে বিশেষ করে সাবধাণ হবে কি করে তার জিহ্বা ব্যবহার করবে। যাকোব সাবধাণ করেন: “জিহ্বা ক্ষুদ্র অঙ্গ বটে, কিন্তু মহাদর্পের কথা কহে। দেখ! কেমন অল্প অগ্নি কেমন বৃহৎ বন প্রজ্জ্বলিত করে!” (যাকোব ৩:৫) ক্ষতিকর গুজব, অন্যদের বিষয় তাদের পেছনে বলা, কঠিন ও নির্দয় কথাবার্তা, বচসা এবং সর্ব্বদা অভিযোগ করা, বা নিজের সুবিধার জন্য কোন ব্যক্তির খুব সুখ্যাতি করা—এই সব মাংশের কাজ যা ঈশ্বরের লোকদের যে শান্তি তা বিঘ্নিত করে।—১ করিন্থীয় ১০:১০; ২ করিন্থীয় ১২:২০; ১ তীমথিয় ৫:১৩; যিহুদা ১৬.
১৮. (ক) যখন হঠাৎ ভুলভাবে জিহ্বা ব্যবহার হয়, তখন যারা সকলে জড়িত আছে তাদের কি করা প্রয়োজন? (খ) যখন ক্রোধে কেউ কিছু বলে তখন পরিপক্ক খ্রীষ্টানরা তার কি প্রতিক্রিয়া দেখান?
১৮ যাকোব, সত্যই বলেছেন: “জিহ্বা দমন করিতে কোন মনুষ্যের ক্ষমতা নেই।” (যাকোব ৩:৮) এমনকি পরিপক্ক খ্রীষ্টানরা অনেক সময় অনেক কিছু বলে বসে যা তারা পরে অনুশোচনা করে। আমরা সকলে আশা করব অন্যরা আমাদের ক্ষমা করবে যেমন আমরা অন্যদের ক্ষমা করি। (মথি ৬:৯, ১০) অনেক সময় মুহুর্তের ক্রোধ হয়ত অনেক ক্ষতিকারক কথা আমাদের দিয়ে বলাতে পারে। তাই, একজন শান্তি সৃষ্টিকারী মনে রাখবে যে, “কোমল বাক্য ক্রোধ নিবারণ করে, কিন্তু কটুবাক্য কোপ উত্তেজিত করে।” (হিতোপদেশ ১৫:১) প্রায়ই, হয়ত তাকে এক দীর্ঘ নিঃশ্বাস নিতে হবে ও নিজেকে বিরত রাখতে হবে যখন কেউ ক্রোধের সাথে কিছু বলছে তখন আরও ক্রোধের সাথে উত্তর না দিতে। পরে, যখন ক্রোধ ঠান্ডা হয়েছে, এক উদার শান্তি সৃষ্টিকারী জানে কি করে সেই বিষয়গুলি ভুলে যেতে হবে যা ক্রোধের সময় বলা হয়েছে। আর একজন নম্র খ্রীষ্টান জানবে কি করে ক্ষমা চেয়ে নিয়ে সে যে ব্যাথা অন্যকে দিয়েছে তা সারিয়ে তুলবে। সত্যই এর জন্য নৈতিক সাহসের প্রয়োজন যে বলতে পারে , “আমায় ক্ষমা করুন।”
১৯. পৌল ও যীশুর কাছ থেকে কি ভাবে পরামর্শ দিতে হবে সেই সম্বন্ধে আমরা কি শিখি?
১৯ জিহ্বা হয়ত ব্যবহার করতে হবে অন্যকে উপদেশ দেবার জন্য। পৌল জনসাধারণে পিতরকে ভর্ৎসনা করেন যখন তিনি ভুল আচরণ করেন আন্তখিয়াতে। আর যীশু খুব দৃঢ়তার সাথে তার সংবাদগুলি প্রদান করেন সাতটি মণ্ডলীকে। (গালাতীয় ২:১১-১৪; প্রকাশিত বাক্য, ২ ও ৩ অধ্যায়) আমরা যদি এই উদাহরণগুলি অধ্যয়ন করি, আমরা দেখব যে পরামর্শ এত মৃদুতার সাথে হবে না যে তা কোন অর্থই রাখবে না। যাহাহোক, যীশু বা পৌল তারা কেউ কঠোর বা নির্দয় হননি। তারা পরামর্শ তাদের নৈরাশ্যের বশে দেননি। তারা সত্যই তাদের ভাইদের সাহায্য করতে চাইছিলেন। যদি একজন যে পরামর্শ দিচ্ছে সে মনে করে যে সে তার জিহ্বাকে বশে রাখতে পারবেনা, তবে তার অপেক্ষা করা দরকার নিজেকে শান্ত করে তারপর কথা বলা প্রয়োজন। তা না হলে, সে হয়ত সমস্যা আরও বাড়িয়ে দেবে যা আছে তার থেকে।—হিতোপদেশ ১২:১৮.
২০. আমরা আমাদের ভাইদের সাথে বা সম্বন্ধে যা বলি ও করি তাতে কি আমাদের পরিচালনা দেবে?
২০ যেমন এখন পর্য্যন্ত বর্ণনা করা হয়েছে, শান্তি এবং প্রেম, উভয় আত্মার ফলের সাথে দারুণভাবে জড়িত। আমরা আমাদের ভাইদের যা বলি—বা তাদের সম্বন্ধে যা বলি—তাহা সব সময় তাদের জন্য প্রেম প্রযুক্ত হয়, তবে তাহা মণ্ডলীর শান্তিতে সাহায্য করবে। (যোহন ১৫:১২, ১৩) আমরা যাহা বলি তা যেন “অনুগ্রহ যুক্ত হোক, লবণের আস্বাদযুক্ত হোক।” (কলসীয় ৪:৬) সেইগুলি যেন আস্বাদযুক্ত হয়, হৃদয় স্পর্শ করে। যীশু উপদেশ দেন: “তোমরা আপনাদের মধ্যে লবণ রাখ, এবং পরস্পর শান্তিতে থাক।”—মার্ক ৯:৫০, NW.
“সর্ব্বশক্তি দিয়া চেষ্টা কর”
২১. ঈশ্বরের লোকদের সাপ্তাহিক সভায় এবং তাদের আধিবেশন ও সম্মেলনে কি প্রকাশ পায়?
২১ গীতরচক লেখেন: “দেখ! ইহা কেমন উত্তম ও কেমন মনোহর যে, ভ্রাতারা একসঙ্গে বাস করে!” (গীতসংহিতা ১৩৩:১) সত্যই, আমরা আনন্দ পাই আমাদের ভাইদের সাথে থাকতে, বিশেষ করে আমাদের যে সাপ্তাহিক সভা হয় তাতে এবং অধিবেশনে এবং যে বড় সম্মেলনগুলি হয় তাতে। এই সময় আমাদের যে শান্তি তা অন্যদের কাছেও পরিলক্ষিত হয়।
২২. (ক) কি ভ্রান্ত শান্তি জাতিগণ মনে করবে তারা পেতে চলেছে, তাহা কিসে পরিচালিত করবে? (খ) ঈশ্বরের শান্তির নিয়ম কোন সত্যিকারের শান্তির দিকে পরিচালিত করবে?
২২ শীঘ্রই জাতিগণ মনে করবে যে তারা যিহোবাকে ছাড়া শান্তি খুজে পেয়েছে। কিন্তু যখন তারা বলবে, “শান্তি ও অভয়!” তাহাদের উপর হঠাৎ ধ্বংস আসবে যারা ঈশ্বরের সাথে শান্তিতে নেই। (১ থিষলনীকীয় ৫:৩) এরপর, সেই মহান শান্তিরাজ তিনি কাজ করবেন মানবজাতিকে সেই আদিতে শান্তির ব্যাঘাত ঘটার জন্য যে সমস্যা দেখা দেয় তার ক্ষত থেকে মানুষকে আরোগ্য করার জন্য। (যিশাইয় ৯:৬, ৭; প্রকশিত বাক্য ২২:১, ২) তখন ঈশ্বরের যে শান্তির নিয়ম জগতব্যাপি শান্তি নিয়ে আসবে। এমন কি ক্ষেত্রের পশুরা তারাও তাদের হিংস্রভাব ত্যাগ করবে।—গীতসংহিতা ৩৭:১০, ১১; ৭২:৩-৭; যিশাইয় ১১:১-৯; প্রকাশিত বাক্য ২১:৩, ৪.
২৩. যদি আমরা সেই নতুন জগতে শান্তিময় পরিস্থিতির জন্য আগ্রহী, আমাদের এখন কি করা উচিৎ?
২৩ কি গৌরবোজ্জ্বল সময় না তাহা হবে! আপনি তার দিকে কি অধির আগ্রহে তাকিয়ে আছেন? যদি থাকেন, তাহলে “সকল মনুষ্যের সাথে শান্তির অনুধাবন করুন।” (NW) আপনার ভাইদের সাথে এখন শান্তি রাখার চেষ্টা করুন, এবং বিশেষ করে যিহোবার সাথে। হাঁ, “তোমরা যখন এই সকলের অপেক্ষা করিতেছ, তখন যত্ন কর, যেন তাঁহার কাছে তোমাদিগকে নিষ্কলঙ্ক ও নির্দ্দোষ অবস্থায় শান্তিতে দেখিতে পাওয়া যায়।”—ইব্রীয় ১২:১৪; ২ পিতর ৩:১৪. (w91 3/1)
আপনার কি স্মরণে আছে?
◻ কি যিহোবার সাথে আমাদের শান্তিকে ভঙ্গ করে দিতে পারে?
◻ কি ধরনের ভুল বোঝাবুঝি মণ্ডলীতে ঠিক করতে হতে পারে?
◻ কি ব্যবস্থা ঈশ্বর করেছেন যাতে আমরা শান্তি অনুসন্ধাণ করতে পারি ও তার অনুধাবন করতে পারি?
◻ কি মাংশের ভাব মণ্ডলীর যে শান্তি তা বিঘ্নিত করতে পারে, কি করে আমরা তা মোকাবিলা করতে পারি?
[Pictures on page 25]
যারা যিহোবার দ্বারা শিক্ষাপ্রাপ্ত তারা শান্তিতে পরিপূর্ণ
[Pictures on page 27]
যে ভাইরা একতায় সেবা করে তাদের মধ্যে একতা কত মধুর