যীশুর জীবন ও পরিচর্য্যা
একজন জন্মান্ধ ব্যক্তিকে সুস্থ করা
যখন যিহূদীরা যীশু মন্দিরে থাকাকালীন তাকে পাথর মারার চেষ্টা করে, তিনি লুকিয়ে পড়েন এবং বেরিয়ে আসেন। কিন্তু তিনি যিরূশালেম ছেড়ে যান না। পরে, বিশ্রামবারে, তিনি এবং তার শিষ্যরা শহরে ঘুরে বেড়াবার সময় একজন জন্মান্ধ ব্যক্তিকে দেখতে পান। “রব্বি, কে পাপ করিয়াছিল,” শিষ্যরা যীশুকে জিজ্ঞাসা করে, “এ ব্যক্তি, না ইহার পিতামাতা, যাহাতে এ অন্ধ হইয়া জন্মিয়াছে?”
হয়তো শিষ্যরা বিশ্বাস করে, কিছু রব্বিদের মত, যে একজন ব্যক্তি তার মায়ের গর্ভে পাপ করতে পারে। কিন্তু যীশু উত্তর দেন: “পাপ এ করিয়াছে, কিম্বা ইহার পিতামাতা করিয়াছে, তাহা নয়; কিন্তু এই ব্যক্তিতে ঈশ্বরের কার্য্য যেন প্রকাশিত হয়, তাই এমন হইয়াছে।” এই ব্যক্তিটির অন্ধত্ব কোন বিশেষ ভুল অথবা পাপের ফল নয় যা সে অথবা তার পিতামাতা করেছে। প্রথম মনুষ্য আদমের পাপের জন্য সমস্ত মানুষ অসিদ্ধ হয়েছে, এবং তাই জন্মান্ধ হওয়ার মত খুঁত নিয়ে জন্মাতে পারে। এই লোকটির খুঁত এখন যীশুকে একটি সুযোগ দিয়েছে যাতে ঈশ্বরের কার্য্য প্রকাশিত হয়।
এই কাজ করার গুরুত্বের ওপর যীশু জোর দেন। “যতক্ষণ দিনমান ততক্ষণ, যিনি আমাকে পাঠাইয়াছেন, তাঁহার কার্য্য আমাদিগকে করিতে হইবে,” তিনি বলেন। “রাত্রি আসিতেছে, তখন কেহ কার্য্য করিতে পারে না। আমি যখন জগতে আছি, তখন জগতের জ্যোতি রহিয়াছি।” শীঘ্রই যীশুর মৃত্যু তাকে কবরের অন্ধকারে পতিত করবে যেখানে তিনি কিছুই করতে পারবেন না। ইতিমধ্যে, তিনি জগতের জ্যোতির উৎস।
এই কথা বলার পরে যীশু মাটিতে থুথু ফেলেন এবং তাই দিয়ে কিছুটা কাদা তৈরী করেন। সেই অন্ধ ব্যক্তিটির চোখে সেই কাদা লাগিয়ে তিনি তাকে বলেন: “শীলোহ সরোবরে যাও, ধুইয়া ফেল।” আর সে যখন তাই করে, সে দেখতে পায়! ফিরে এসে সে কত আনন্দ প্রকাশ করে, জীবনে প্রথমবার সে দেখতে পাচ্ছে!
প্রতিবাসীরা এবং অন্যেরা যারা তাকে জানে তারা আশ্চর্য্য হয়। “এ কি সেই নয়, যে বসিয়া ভিক্ষা চাহিত?” তারা জিজ্ঞাসা করে। “সেই বটে,” কেউ কেউ উত্তর দেয়। কিন্তু অন্যেরা বিশ্বাস করতে পারে না: “না, কিন্তু তাহারই মত।” কিন্তু সেই লোকটি বলে: “আমি সেই।”
“তবে কি প্রকারে তোমার চক্ষু খুলিয়া গেল?” লোকেরা জানতে চায়।
“যীশু নামে সেই ব্যক্তি কাদা করিয়া আমার চক্ষুতে লেপন করিলেন, আর আমাকে বলিলেন, ‘শীলোহে যাও, ধুইয়া ফেল।’ তাহাতে আমি গিয়া ধুইয়া ফেলিলে দৃষ্টি পাইলাম।”
“সে ব্যক্তি কোথায়?” তারা জিজ্ঞাসা করল।
“তাহা জানি না,” সে উত্তর দিল।
লোকেরা তখন সেই পূর্বের অন্ধ ব্যক্তিটিকে তাদের ধর্মীয় নেতাদের, ফরীশীদের কাছে নিয়ে গেল। তারাও তাকে জিজ্ঞাসা করল কিভাবে সে দৃষ্টি ফিরে পেয়েছে। “তিনি আমার চক্ষের উপরে কাদা দিলেন, পরে অমি ধুইয়া ফেলিলাম, আর দেখিতে পাইতেছি,” সে ব্যাখ্যা করে।
অবশ্যই, ফরীশীদের উচিৎ ছিল এই ভিক্ষুক যাকে সুস্থ করা হয়েছে, তার সাথে আনন্দ করা! কিন্তু, পরিবর্তে তারা যীশুকে দোষারোপ করতে শুরু করে। “সে ব্যক্তি ঈশ্বর হইতে আইসে নাই,” তারা অভিযোগ করে। কেন তারা এই কথা বলে? “কেননা সে বিশ্রামবার পালন করে না।” কিন্তু তবুও অন্য ফরীশীরা চিন্তা করে: “যে ব্যক্তি পাপী, সে কি প্রকারে এমন সকল চিহ্ন-কার্য্য করিতে পারে?” তাই তাদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিল।
সুতরাং, তারা সেই ব্যক্তিটিকে জিজ্ঞাসা করল: “তুমি তাহার বিষয়ে কি বল, কারণ সে তোমারই চক্ষু খুলিয়া দিয়াছে?”
“তিনি ভাববাদী,” সে উত্তর দিল।
ফরীশীরা এই কথা বিশ্বাস করতে অস্বীকার করল। তারা নিশ্চিৎ যে যীশু এবং এই ব্যক্তিটির মধ্যে কোন গোপন চুক্তি হয়েছে যাতে লোকেদের প্রতারণা করা যায়। তাই এই ঘটনার নিত্তি করতে তারা সেই ভিক্ষুকের পিতামাতাকে ডেকে পাঠায়। যোহন ৮:৫৯; ৯:১-১৮.
◆ লোকটির অন্ধত্বের কারণ কি ছিল এবং কি ছিল না?
◆ কোন্ রাত্রে কোন ব্যক্তি কাজ করতে পারে না?
◆ যখন সেই ব্যক্তিকে সুস্থ করা হয়, যারা তাকে জানে তাদের প্রতিক্রিয়া কিরূপ হয়?
◆ সেই ব্যক্তিকে সুস্থ করা সম্বন্ধে ফরীশীদের মধ্যে কিরূপ মতভেদ ছিল? (w88 6/1)