যীশুর জীবন ও পরিচর্য্যা
কুটীরবাস পর্ব্বে
যীশু তার বাপ্তিস্মের তিন বছরের মধ্যে বিখ্যাত হয়ে উঠেছেন। বহু হাজার লোক তার অলৌকিক কাজ দেখেছেন, ও তার কার্য্যকলাপের বিবরণ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এখন, লোকেরা যিরূশালেমে কুটীরবাস পর্বের জন্য একত্রিত হয়ে, তাকে খুঁজতে থাকে। “সেই ব্যক্তি কোথায়?” তারা জানতে চায়।
যীশু এক বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছেন। “তিনি ভাল লোক,” কেউ বলে। “তাহা নয়, বরং সে লোকসমূহকে ভুলাইতেছে,” অন্যেরা দাবি করে। এই ধরনের নানা কথাবার্তা পর্বের প্রথম কয়েকদিন চলতে থাকে। তবুও কারো সাহস হয় না যীশুর পক্ষে সর্বসমক্ষে কথা বলতে। তার কারণ লোকেরা যিহুদী নেতাদের শাস্তির ভয় পায়।
অনুষ্ঠান যখন অর্ধেক শেষ হয়ে গেছে, যীশু এসে পৌঁছান। তিনি মন্দিরে যান, যেখানে লোকেরা তার শিক্ষাপ্রদানে দক্ষতায় আশ্চর্য্য হয়ে যায়। যেহেতু যীশু কখনও রাব্বিনীয় বিদ্যালয়ে যান নি, যিহুদীরা চিন্তা করতে থাকে: “এ ব্যক্তি শিক্ষা না করিয়া কি প্রাকারে শাস্ত্রজ্ঞ হইয়া উঠিল?”
“আমার উপদেশ আমার নহে,” যীশু ব্যাখ্যা করলেন, “কিন্তু যিনি আমাকে পাঠাইয়াছেন, তাঁহার। যদি কেহ তাঁহার ইচ্ছা পালন করিতে ইচ্ছা করে, সে এই উপদেশের বিষয়ে জানিতে পারিবে, ইহা ঈশ্বর হইতে হইয়াছে, না আমি আপনা হইতে বলি।” যীশুর উপদেশ ঈশ্বরের আদেশের সাথে ঘনিষ্ট ভাবে জড়িত। তাই, ইহা স্পষ্ট হওয়া উচিৎ যে তিনি ঈশ্বরের মহিমা চাইছিলেন, তার নিজের নয়। “মোশি তোমাদিগকে কি ব্যবস্থা দেন নাই?” যীশু জিজ্ঞাসা করেন। আর তিরস্কারের স্বরে বলে চলেন: “তথাপি তোমাদের মধ্যে কেহই সেই ব্যবস্থা পালন করে না।”
“কেন আমাকে বধ করিতে চেষ্টা করিতেছ?” তারপর যীশু জিজ্ঞাসা করেন।
সেই জনতা, হয়তো সেই শহরে পর্যটক, এইরকম কোন চেষ্টা সম্বন্ধে অবগত নয়। তারা মনে করে যে এইরকম দক্ষ একজন শিক্ষককে হত্যা করা চিন্তারও অতীত। তাই তারা মনে করে যে যীশুর এইরূপ বলার কারণ তিনি সুস্থ নন। “তোমাকে ভূতে পাইয়াছে,” তারা বলে। “কে তোমাকে বধ করিতে চেষ্টা করিতেছে?”
যিহুদী নেতারা চায় যীশুকে হত্যা করা হোক, যদিও জনতা সে সম্বন্ধে কিছু জানে না। যখন দেড় বছর আগে যীশু বিশ্রামবারে একজন ব্যক্তিকে সুস্থ করেন, নেতারা তাকে বধ করতে চেষ্টা করে। তাই যীশু তাদের অযৌক্তিকতা উল্লেখ করে তাদের জিজ্ঞাসা করেন: “মোশির ব্যবস্থা লঙ্ঘন যেন না হয়, তজ্জন্য যদি বিশ্রামবারে মানুষে ত্বক্ছেদ প্রাপ্ত হয়, তবে আমি বিশ্রামবারে একটী মানুষকে সর্ব্বাঙ্গীন সুস্থ করিয়াছি বলিয়া আমার উপরে কি ক্রোধ করিতেছ? দৃশ্য মতে বিচার করিও না, কিন্তু ন্যায্য বিচার কর।”
যিরূশালেমবাসীরা, যারা পরিস্থিতি সম্বন্ধে জানে, এখন বলে: “এ কি সেই নহে, যাহাকে তাঁহারা বধ করিতে চেষ্টা করেন? আর দেখ, এ প্রকাশ্যরূপে কথা কহিতেছে, আর তাঁহারা ইহাকে কিছুই বলেন না। অধ্যক্ষগণ কি বাস্তবিক জানেন যে, এ সেই খ্রীষ্ট?” যিরূশালেমবাসীরা ব্যাখ্যা করে কেন তারা বিশ্বাস করে না যে যীশুই হলেন খ্রীষ্ট: “এ কোথা হইতে আসিল, তাহা আমরা জানি; খ্রীষ্ট যখন আইসেন, তখন তিনি কোথা হইতে আসিলেন, তাহা কেহ জানে না।”
যীশু উত্তর দিলেন: “তোমরা ত আমাকে জান, এবং আমি কোথা হইতে আসিয়াছি, তাহাও জান। আর আমি আপনা হইতে আসি নাই; কিন্তু যিনি আমাকে পাঠাইয়াছেন, তিনি সত্যময়; তোমরা তাঁহাকে জান না; আমিই তাঁহাকে জানি, কেননা আমি তাঁহার নিকট হইতে আসিয়াছি, আর তিনিই আমাকে প্রেরণ করিয়াছেন।” এই কথা শুনে তারা তাকে ধরতে চেষ্টা করে হয়তো তাকে কারাগারে রাখতে অথবা হত্যা করতে। কিন্তু তারা সফল হয় না কারণ যীশুর মৃত্যুর সময় এখনও আসে নি।
তবুও, অনেকে যীশুর প্রতি বিশ্বাস প্রদর্শন করে, যেমন তাদের করা উচিৎ ছিল। কেন, তিনি জলের ওপর হেঁটেছেন, বাতাসকে শান্ত করেছেন, সমুদ্রে ঝড় থামিয়েছেন, অলৌকিক ভাবে হাজার হাজার লোককে কয়েকটি রুটি ও মাছের দ্বারা খাইয়েছেন, অসুস্থ্যদের সুস্থ্য করেছেন, খঞ্জদের হাঁটিয়েছেন, অন্ধদের পুনর্দৃষ্টি দিয়েছেন, কুষ্ঠরোগীদের সুস্থ করেছেন, এমনকি মৃতদের পুনরুত্থিত করেছেন। তাই তারা জিজ্ঞাসা করে: “খ্রীষ্ট যখন আসিবেন, তখন ইহার কৃত কার্য্য অপেক্ষা তিনি কি অধিক চিহ্ন-কার্য্য করিবেন?”
যখন ফরীশীরা শোনে যে জনতা এই সমস্ত কথা বলছে, তারা ও মহা যাজকরা যীশুকে গ্রেপ্তার করতে পদাতিকদের পাঠায়। যোহন ৭:১১-৩২।
◆ যীশু কখন অনুষ্ঠানে এসে পৌঁছান, এবং সেখানে তার বিষয়ে কি কথাবার্তা হয়?
◆ কেন কিছু লোক বলে যে যীশু ভূতগ্রস্থ?
◆ যীশুর সম্বন্ধে যিরূশালেমের লোকেদের কি মনোভাব আছে?
◆ কেন অনেকে যীশুর কথায় বিশ্বাস স্থাপন করে? (w88 4/1)