খণ্ড ৪
সৃষ্টিকর্তা কে?
লোকেরা অনেক দেব-দেবী বা ঈশ্বরের উপাসনা করে থাকে। কিন্তু, পবিত্র শাস্ত্র শিক্ষা দেয় যে, কেবল একজন সত্য ঈশ্বর আছেন। তিনি হলেন অদ্বিতীয়, সর্বশ্রেষ্ঠ, এবং অনন্তকালীন ঈশ্বর। তিনি স্বর্গের ও পৃথিবীর সমস্তকিছু সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি আমাদের জীবন দান করেছেন। তাই, একমাত্র তিনিই আমাদের উপাসনা পাওয়ার যোগ্য।
ভাববাদী মোশির মাধ্যমে যে-ব্যবস্থা দেওয়া হয়েছিল, সেটি ‘স্বর্গদূতদের দ্বারা বলা বাক্য’
ঈশ্বরের অনেক উপাধি রয়েছে কিন্তু মাত্র একটাই ব্যক্তিগত নাম রয়েছে আর সেই নাম হল যিহোবা। ঈশ্বর মোশিকে বলেছিলেন: “তুমি তাদের [ইস্রায়েলীয়দের] আরও বলবে যে, তাদের পূর্বপুরুষ অব্রাহাম (ইব্রাহিম), ইস্হাক ও যাকোবের (ইয়াকুবের) ঈশ্বর সদাপ্রভু [“যিহোবা,” পবিত্র বাইবেল, O.V.] তোমাকে তাদের কাছে পাঠিয়েছেন। আমার চিরকালের নাম সদাপ্রভু। বংশের পর বংশ ধরে আমাকে এই নামেই লোকে মনে রাখবে।” (যাত্রাপুস্তক ৩:১৫) পবিত্র শাস্ত্রে যিহোবা নামটি প্রায় ৭,০০০ বার পাওয়া যায়। গীতসংহিতা ৮৩:১৮ পদ ঈশ্বর সম্বন্ধে বলে, “তোমার নাম সদাপ্রভু [“যিহোবা,” NW], হ্যাঁ, কেবল তুমিই সারা পৃথিবীর মহান ঈশ্বর।”
প্রাচীন ডেড সী স্ক্রোল পাণ্ডুলিপিতে ঈশ্বরের নাম দেখা যায়
কোনো মানুষই কখনো ঈশ্বরকে দেখেনি। ঈশ্বর মোশিকে বলেছিলেন: “তুমি আমার মুখ দেখতে পাবে না, কারণ আমাকে দেখবার পর কেউ বেঁচে থাকতে পারে না।” (যাত্রাপুস্তক ৩৩:২০) ঈশ্বর স্বর্গে বাস করেন এবং মানুষের দৃষ্টিতে তিনি অদৃশ্য। তাই, কোনো মূর্তি, ছবি অথবা ঈশ্বরের প্রতিকৃতি তৈরি বা সেগুলোর কাছে প্রার্থনা করা ভুল। যিহোবা ঈশ্বর ভাববাদী মোশির মাধ্যমে আজ্ঞা দিয়েছিলেন: “পূজার উদ্দেশ্যে তোমরা কোন মূর্তি তৈরী করবে না, তা আকাশের কোন কিছুর মত হোক বা মাটির উপরকার কোন কিছুর মত হোক কিম্বা জলের মধ্যেকার কোন কিছুর মত হোক। তোমরা তাদের পূজাও করবে না, তাদের সেবাও করবে না, কারণ কেবলমাত্র আমি সদাপ্রভুই [“যিহোবাই,” NW] তোমাদের ঈশ্বর। আমার পাওনা ভক্তি আমি চাই।” (যাত্রাপুস্তক ২০:২-৫) পরে, ভাববাদী যিশাইয়ের (ইসাইয়ার) মাধ্যমে ঈশ্বর বলেছিলেন: “আমিই প্রভু। আমার নাম যিহোবা। আমার মহিমা আমি অপরকে দেব না। যে মহিমা আমার পাওয়া উচিৎ সেই প্রশংসা মূর্ত্তিদের আমি নিতে দেব না।”—যিশাইয় ৪২:৮, বাংলা ইজি-টু-রিড ভারসন।
কিছু লোক ঈশ্বরকে বিশ্বাস করে ঠিকই কিন্তু তারা হয়তো মনে করে যে, তাঁকে জানা যায় না এবং তাঁর নিকটবর্তী হওয়া যায় না, তিনি এমন কেউ যাঁকে ভালোবাসার চেয়ে বরং ভয় পেতে হয়। আপনি কী মনে করেন? ঈশ্বর কি ব্যক্তিগতভাবে আপনার প্রতি আগ্রহী? আপনি কি আসলেই তাঁকে জানতে পারেন আর এমনকী তাঁর নিকটবর্তী হতে পারেন? আসুন আমরা দেখি যে, ঈশ্বরের ব্যক্তিগত গুণাবলি সম্বন্ধে শাস্ত্র কী বলে।