ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • km ৬/০৬ পৃষ্ঠা ৩-৫
  • যিহোবার ইচ্ছা পালন করার জন্য সংগঠিত পৃষ্ঠা ১৫-২৭

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • যিহোবার ইচ্ছা পালন করার জন্য সংগঠিত পৃষ্ঠা ১৫-২৭
  • ২০০৬ আমাদের রাজ্যের পরিচর্যা
  • উপশিরোনাম
  • অধ্যায় ৩
  • ‘বিশ্বস্ত ও বুদ্ধিমান্‌ দাসের’ ওপর নির্ভর করা
  • ‘বিশ্বস্ত ও বুদ্ধিমান্‌ দাসকে’ শনাক্ত করা
  • পরিচালক গোষ্ঠীর ভূমিকা
  • যেকারণে আমরা ‘বিশ্বস্ত ও বুদ্ধিমান্‌ দাসের’ ওপর নির্ভর করতে পারি
  • যেভাবে আমরা আমাদের নির্ভরতা দেখিয়ে থাকি
২০০৬ আমাদের রাজ্যের পরিচর্যা
km ৬/০৬ পৃষ্ঠা ৩-৫

যিহোবার ইচ্ছা পালন করার জন্য সংগঠিত পৃষ্ঠা ১৫-২৭

অধ্যায় ৩

‘বিশ্বস্ত ও বুদ্ধিমান্‌ দাসের’ ওপর নির্ভর করা

“এখন, সেই বিশ্বস্ত ও বুদ্ধিমান্‌ দাস কে?” এই প্রশ্নটা দিয়েই যিশু খ্রিস্ট ভবিষ্যদ্বাণীমূলক গুরুত্ব রয়েছে এমন একটা নীতিগল্প অথবা দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছিলেন। এটা হল সেই ‘চিহ্নের’ অংশ, যা তিনি ‘যুগান্ত’ বা বিধিব্যবস্থার শেষ সম্বন্ধে দিয়েছিলেন। (মথি ২৪:​৩, ৪২-৪৭) যিশু ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, শেষকালে এই “দাস” ব্যস্ত থাকবে। আস্থা সহকারে ‘সেই দাসকে’ পৃথিবীস্থ রাজ্যের বিষয়গুলোর দেখাশোনা করার দায়িত্ব দেওয়া হবে ও সেইসঙ্গে ঈশ্বরের লোকেদেরকে “উপযুক্ত সময়ে” আধ্যাত্মিক খাদ্য জোগানোর গুরু দায়িত্ব তার থাকবে। এই সম্বন্ধে যিশু আরও বলেছিলেন: “ধন্য সেই দাস, যাহাকে তাহার প্রভু আসিয়া সেইরূপ করিতে দেখিবেন। আমি তোমাদিগকে সত্য কহিতেছি, তিনি তাহাকে আপন সর্ব্বস্বের অধ্যক্ষ করিবেন।”

এই নীতিগল্প আমাদের জন্য বিবেচ্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করে। “সেই দাস” কে? ‘সর্ব্বস্ব’ কী? ভবিষ্যদ্বাণীমূলক এই দৃষ্টান্তে আলাদা আলাদাভাবে আমরা কোন ভূমিকা পালন করি? এই প্রশ্নগুলোর কেবল উত্তর জানাই যথেষ্ট নয়। এই বিষয়গুলো সঠিকভাবে শনাক্ত করা এবং ‘বিশ্বস্ত ও বুদ্ধিমান্‌ দাসের’ ওপর নির্ভরতা বজায় রাখা, আমাদেরকে ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করতে সাহায্য করে।

‘বিশ্বস্ত ও বুদ্ধিমান্‌ দাসকে’ শনাক্ত করা

দৃষ্টান্তে যিশু বলেছিলেন যে, সেই “দাস” প্রয়োজনীয় আধ্যাত্মিক খাদ্য জোগাবে। প্রথম শতাব্দীতে, যিশু তাঁর অনুসারীদের জন্য খাদ্য জোগাতে কাকে নিযুক্ত করেছিলেন? আর ১৯১৪ সালে তিনি যখন রাজ্য ক্ষমতায় ফিরে গিয়েছিলেন, তখনও কাকে তিনি বিশ্বস্তভাবে সেই কাজ করে যেতে দেখেন? স্পষ্টতই, কোনো মানুষই এত শতাব্দী ধরে বেঁচে থাকেনি। তাই, “সেই বিশ্বস্ত, সেই বুদ্ধিমান্‌ গৃহাধ্যক্ষ” অবশ্যই কোনো নির্দিষ্ট সময়ে পৃথিবীতে বেঁচে থাকা খ্রিস্টের আত্মায় অভিষিক্ত অনুসারীদের গোষ্ঠীকে চিত্রিত করে। (লূক ১২:৪২) হ্যাঁ, বাইবেলের ভবিষ্যদ্বাণীগুলোর পরিপূর্ণতা সম্বন্ধীয় তথ্য প্রকাশ করার ও সেইসঙ্গে রোজকার জীবনে বাইবেলের নীতিগুলো কাজে লাগানোর বিষয়ে সময়োপযোগী নির্দেশনা দেওয়ার জন্য খ্রিস্ট এই গোষ্ঠীকে ব্যবহার করেন। এর ফলে, এই আধ্যাত্মিক খাদ্য যিহোবার সাক্ষিদের স্থানীয় মণ্ডলীগুলোর মাধ্যমে বিতরণ করা হয়।​—⁠যিশা. ৪৩:১০; গালা. ৬:⁠১৬.

তা হলে, ‘সর্ব্বস্ব’ কী? এগুলো হল পৃথিবীস্থ সেইসমস্ত আধ্যাত্মিক সম্পদ, যেগুলো স্বর্গীয় রাজা হিসেবে খ্রিস্টের কর্তৃত্বের ফলে তাঁর সম্পত্তি হয়ে উঠেছে। এগুলোর অন্তর্ভুক্ত হল, যিহোবার সাক্ষিদের প্রধান কার্যালয়ের সুযোগসুবিধা প্রদানকারী উপকরণাদি ও সেইসঙ্গে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন শাখা অফিস, কিংডম হল এবং সম্মেলন হল। এ ছাড়াও, সেই “সর্ব্বস্বের” অন্তর্ভুক্ত হল পৃথিবীব্যাপী ‘রাজ্যের সুসমাচার’ প্রচার করার দায়িত্ব ও যারা এতে সাড়া দেয়, তাদেরকে শিক্ষা দেওয়া। মহাক্লেশের সময় রক্ষা পাবে এমন ‘প্রত্যেক জাতির ও বংশের ও প্রজাবৃন্দের ও ভাষার বিস্তর লোককে’ মণ্ডলীর মধ্যে একত্রিত করার জন্য সেই “দাস” ঈশ্বরের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। (লূক ১২:​৪২-৪৪; মথি ২৪:১৪; প্রকা. ৭:​৯-১৪) বস্তুতপক্ষে, এই বিস্তর লোক পৃথিবীর প্রান্ত পর্যন্ত সুসমাচার প্রচারিত হচ্ছে কি না, তা লক্ষ রাখার ক্ষেত্রে এক বিরাট ভূমিকা পালন করে থাকে। তারা খ্রিস্টের সেই মূল্যবান “সর্বস্বের” অন্তর্ভুক্ত আর তাদের অনুগত, উদ্যোগী সমর্থনের জন্য দাস শ্রেণী তাদেরকে প্রচুর ভালবাসে।

পরিচালক গোষ্ঠীর ভূমিকা

“বিশ্বস্ত ও বুদ্ধিমান্‌ দাস” একতা বজায় রাখার প্রচেষ্টা করে এবং সাংগঠনিকভাবে “সকলই শিষ্ট ও সুনিয়মিতরূপে করা” সম্ভবপর করে তোলে। (১ করি. ১৪:৪০) প্রথম শতাব্দীতে তা করার জন্য বিশ্বস্ত ও বুদ্ধিমান দাসের মধ্যে থেকে একদল অভিষিক্ত খ্রিস্টানকে এর প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। ফলে, বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তারা পৃথিবীর সমস্ত অভিষিক্ত প্রাচীনের সঙ্গে আলোচনা করত না। যিরূশালেম মণ্ডলীতে তাদের অবস্থানে থেকে তারা সমগ্র অভিষিক্ত খ্রিস্টানদের মণ্ডলীর জন্য পরিচালক গোষ্ঠী হিসেবে কাজ করত।

সাধারণ কাল ৩৩ সালের পর থেকে, প্রভু যিশু খ্রিস্টের বিশ্বস্ত প্রেরিতরা নবপ্রতিষ্ঠিত খ্রিস্টীয় মণ্ডলীকে নির্দেশনা দেওয়ার ক্ষেত্রে নেতৃত্ব নিয়েছিল। (প্রেরিত ৪:​৩৩, ৩৫, ৩৭; ৫:​১৮, ২৯) সা.কা. প্রায় ৪৯ সালে, যিশুর প্রেরিতরা ছাড়াও অন্যদেরকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য এই পরিচালক গোষ্ঠীকে আরও বড় করা হয়েছিল। ত্বক্‌চ্ছেদের বিষয়ে যখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তখন সেই গোষ্ঠীর মধ্যে ‘যিরূশালেমের প্রেরিতগণ ও প্রাচীনবর্গরা’ ছিল। (প্রেরিত ১৫:​১, ২) তাদেরই সেই বিষয়গুলো বিবেচনা করার দায়িত্ব ছিল, যেগুলো সমস্ত জায়গার খ্রিস্টানদের প্রভাবিত করে। তারা চিঠিপত্র ও নিয়মাবলি পাঠিয়েছিল, যেগুলোর সমস্তই মণ্ডলীগুলোকে শক্তিশালী করেছিল এবং তা শিষ্যদের জন্য চিন্তাভাবনা ও কাজের ক্ষেত্রে একতাবদ্ধ থাকাকে সম্ভবপর করেছিল। মণ্ডলীগুলো পরিচালক গোষ্ঠীর নির্দেশনা মেনে চলেছিল আর এর ফলে তারা যিহোবার আশীর্বাদ ও উন্নতি লাভ করেছিল।​—⁠প্রেরিত ৮:​১, ১৪, ১৫; ১৫:​২২-৩১; ১৬:​৪, ৫.

এই ধরনের এক ব্যবস্থার মূল্য আজকেও স্পষ্ট দেখা যায়। যে-অভিষিক্ত খ্রিস্টানদের নিয়ে যিহোবার সাক্ষিদের বর্তমান দিনের পরিচালক গোষ্ঠী গঠিত, তারা বহু বছর ধরে বিশ্বস্তভাবে সেবা করছে আর তাই যিহোবার সংগঠন যেভাবে কাজ করে থাকে, সেই সম্বন্ধে তাদের অনেক অভিজ্ঞতা রয়েছে। প্রথম শতাব্দীর পরিচালক গোষ্ঠীর মতো তারাও যিহোবার লোকেদের আধ্যাত্মিক নির্দেশনা দিয়ে থাকে। এ ছাড়াও, পরিচালক গোষ্ঠী প্রচার কাজের দেখাশোনা করে, বাইবেল অধ্যয়নের বিষয়বস্তু উৎপাদন করে এবং সংগঠনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সেবা করতে অধ্যক্ষদের নিযুক্ত করার ব্যবস্থা করে ক্রমাগত তাদের দায়িত্ব পালন করে থাকে। এগুলো হল খ্রিস্টের রাজ্যের কিছু বিষয়, যেগুলোর যত্ন আজকে নেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক খ্রিস্টানদের মতো আমরাও বাইবেলভিত্তিক নির্দেশনা ও উপাসনার ক্ষেত্রে পরিচালনার জন্য আধ্যাত্মিকভাবে পরিপক্ব ব্যক্তিদের ওপর আনন্দের সঙ্গে নির্ভর করি।

প্রথম শতাব্দীর মতো বর্তমানেও পরিচালক গোষ্ঠী অসিদ্ধ মানুষদের নিয়ে গঠিত। তবে, অতীতেও যিহোবা তাঁর ইচ্ছা সম্পাদনের জন্য অসিদ্ধ মানুষদের ব্যবহার করেছেন। তিনি নোহকে একটা জাহাজ তৈরি করার ও তার দিনের আসন্ন ধ্বংস সম্বন্ধে প্রচার করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। (আদি. ৬:​১৩, ১৪, ২২; ২ পিতর ২:⁠৫) যিহোবার লোকেদের মিশর থেকে বের করে নিয়ে আসার জন্য মোশিকে নিযুক্ত করা হয়েছিল। (যাত্রা. ৩:১০) অসিদ্ধ মানুষদের বাইবেল লিখতে অনুপ্রাণিত করা হয়েছিল। (২ তীম. ৩:১৬; ২ পিতর ১:২১) যিহোবা যে আজকে প্রচার ও শিষ্য তৈরির কাজে অসিদ্ধ মানুষদের ব্যবহার করছেন, সেটা ঈশ্বরের সংগঠনের ওপর আমাদের আস্থাকে দুর্বল করে দেয় না। এর পরিবর্তে, আমরা শক্তিশালী হই কারণ আমরা জানি যে, পরিচালক গোষ্ঠী যা কিছু সম্পাদন করছে, সেগুলোর কিছুই যিহোবার সাহায্য ছাড়া কখনোই করতে পারত না।

যেকারণে আমরা ‘বিশ্বস্ত ও বুদ্ধিমান্‌ দাসের’ ওপর নির্ভর করতে পারি

দাস শ্রেণীর ওপর পূর্ণ নির্ভরতা রাখার অনেক কারণ রয়েছে। সর্বপ্রধান কারণটা হল, যিশু তাঁর মূল্যবান “সর্ব্বস্বের” ওপর তাদের নিযুক্ত করেছেন। এটা স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে, তাদের ওপর তাঁর পূর্ণ নির্ভরতা রয়েছে।

দ্বিতীয় কারণটা হল, ঈশ্বরের বাক্য খ্রিস্টানদের উপদেশ দেয় যে, তারা যেন নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিদের পূর্ণরূপে সহযোগিতা করে। কেন তা আমাদের জন্য উপকারজনক? ইব্রীয় ১৩:১৭ পদে যেমন লিপিবদ্ধ করা হয়েছে, প্রেরিত পৌল বলেছিলেন: “তোমরা তোমাদের নেতাদিগের আজ্ঞাগ্রাহী ও বশীভূত হও, কারণ নিকাশ দিতে হইবে বলিয়া তাঁহারা তোমাদের প্রাণের নিমিত্ত প্রহরি-কার্য্য করিতেছেন,​—⁠যেন তাঁহারা আনন্দপূর্ব্বক সেই কার্য্য করেন, আর্ত্তস্বরপূর্ব্বক না করেন; কেননা ইহা তোমাদের পক্ষে মঙ্গলজনক নয়।” আমাদের আধ্যাত্মিক সুরক্ষা ও মঙ্গলের জন্য আমাদের কর্তব্য হচ্ছে, সেই অধ্যক্ষরা যখন ‘আমাদের প্রাণের নিমিত্ত প্রহরি-কার্য্য’ করে, তখন তাদের কাছ থেকে পাওয়া নির্দেশনার প্রতি আমরা বাধ্য ও বশীভূত থাকব।

প্রথম করিন্থীয় ১৬:১৪ পদে যেমন লিপিবদ্ধ করা হয়েছে, পৌল বলেছিলেন: “তোমাদের সকল কার্য্য প্রেমে হউক।” ঈশ্বরের লোকেদের জন্য যে-সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়, সেগুলো এই সর্বোৎকৃষ্ট গুণ প্রেমের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে নেওয়া হয়। প্রেম সম্বন্ধে ১ করিন্থীয় ১৩:​৪-৮ পদ বলে: “প্রেম চিরসহিষ্ণু, প্রেম মধুর, ঈর্ষা করে না, প্রেম আত্মশ্লাঘা করে না, গর্ব্ব করে না, অশিষ্টাচরণ করে না, স্বার্থ চেষ্টা করে না, রাগিয়া উঠে না, অপকার গণনা করে না, অধার্ম্মিকতায় আনন্দ করে না, কিন্তু সত্যের সহিত আনন্দ করে; সকলই বহন করে, সকলই বিশ্বাস করে, সকলই প্রত্যাশা করে, সকলই ধৈর্য্যপূর্ব্বক সহ্য করে। প্রেম কখনও শেষ হয় না।” যেহেতু যিহোবার দাসদের উপকারের জন্য নেওয়া সমস্ত সিদ্ধান্ত প্রেমের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, তাই এই ধরনের নির্দেশনার অধীনে আমাদের নিরাপদ বোধ করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। অধিকন্তু, এটা হল তাঁর সমস্ত লোকের প্রতি যিহোবার প্রেমের এক প্রতিফলন মাত্র।

অনেক কষ্ট ও অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েও দাস শ্রেণী দেখিয়েছে যে, ঈশ্বরের আত্মা তাদের সঙ্গে রয়েছে। আজকে যিহোবার সংগঠনের দৃশ্যত অংশের ওপর প্রচুর আশীর্বাদ বর্ষিত হয়েছে আর তাই আমরা এই সংগঠনকে পূর্ণরূপে সহযোগিতা করি ও এর ওপর নির্ভর করি।

যেভাবে আমরা আমাদের নির্ভরতা দেখিয়ে থাকি

মণ্ডলীতে যাদেরকে দায়িত্বপূর্ণ অবস্থানে নিযুক্ত করা হয়েছে, তারা তাদের নিযুক্তিকরণের বাধ্যবাধকতাকে আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ ও বিশ্বস্তভাবে তা সম্পাদন করার দ্বারা নির্ভরতা দেখায়। (প্রেরিত ২০:২৮) রাজ্য ঘোষণাকারী হিসেবে, আমরা উদ্যোগের সঙ্গে ঘরে ঘরে প্রচার কাজ করি, পুনর্সাক্ষাৎ করি ও সেইসঙ্গে গৃহ বাইবেল অধ্যয়ন পরিচালনা করি। (মথি ২৪:১৪; ২৮:​১৯, ২০) ‘বিশ্বস্ত ও বুদ্ধিমান্‌ দাসের’ দ্বারা বিতরিত প্রচুর আধ্যাত্মিক খাদ্য থেকে পূর্ণ উপকার লাভ করার জন্য আমরা আমাদের সমস্ত খ্রিস্টীয় সভার জন্য ভালভাবে প্রস্তুতি নিই এবং সেখানে উপস্থিত হই। এর মধ্যে প্রতি বছর আয়োজিত সম্মলনগুলোও রয়েছে। এই খ্রিস্টীয় সমাবেশগুলোতে যখন আমাদের ভাইবোনদের সঙ্গে স্বচ্ছন্দে মেলামেশা করা হয়, তখন আমরা পারস্পরিক উৎসাহ প্রদান থেকে প্রচুররূপে উপকার লাভ করি।​—⁠ইব্রীয় ১০:​২৪, ২৫.

এ ছাড়াও, ‘বিশ্বস্ত দাসের’ প্রতি আমাদের নির্ভরতা প্রকাশ পায়, যখন আমরা আমাদের বস্তুগত দানের মাধ্যমে সংগঠনকে সমর্থন করি। (হিতো. ৩:​৯, ১০) আমরা যখন দেখি যে, আমাদের ভাইদের বস্তুগত দিক দিয়ে অভাব রয়েছে, তখন আমরা অবিলম্বে সাড়া দিই। (গালা. ৬:১০; ১ তীম. ৬:১৮) আমরা ভ্রাতৃপ্রেমের প্রকৃত মনোভাব নিয়ে তা করে থাকি এবং আমাদের ওপর যে-মঙ্গলভাব বর্ষিত হয়েছে, তার জন্য যিহোবা ও তাঁর সংগঠনের প্রতি কৃতজ্ঞতা দেখানোর সুযোগগুলোর প্রতি সবসময় লক্ষ রাখি।​—⁠যোহন ১৩:⁠৩৫.

আজকে আমরা যে দাস শ্রেণীর ওপর নির্ভর করি, তা দেখানোর আরেকটা উপায় হল এর সিদ্ধান্তগুলোকে সমর্থন করা। যদিও কিছু সিন্ধান্তের পিছনে যে-কারণ থাকে, আমরা তা পুরোপুরি বুঝতে পারি না কিন্তু আমরা জানি যে, সেগুলো সমর্থন করা আমাদের জন্য চিরস্থায়ী মঙ্গল নিয়ে আসবে। সময়ে সময়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করা হয়েছে আর আমরা সেই সিদ্ধান্তগুলোকে পূর্ণহৃদয়ে সমর্থন করেছি। এর ফলে, যিহোবা আমাদেরকে তাঁর বাক্য ও বিশ্বস্ত বুদ্ধিমান দাসের প্রতি বাধ্য থাকার জন্য আশীর্বাদ করেছেন। এভাবে আমরা প্রভু যিশু খ্রিস্টের প্রতি আমাদের বশ্যতা দেখাই।

হ্যাঁ, ‘বিশ্বস্ত ও বুদ্ধিমান্‌ দাসের’ ওপর পূর্ণরূপে নির্ভর করার যথেষ্ট কারণ আমাদের রয়েছে। এই যুগের দেব শয়তান, যিহোবার নাম ও তাঁর সংগঠনের অপমান নিয়ে আসার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করছে। (২ করি. ৪:⁠৪) শয়তানের দুষ্ট কলাকৌশলের ফাঁদে পড়বেন না। (২ করি. ২:১১) সে জানে যে, তাকে অগাধলোকে নিক্ষেপ করার কাল সংক্ষিপ্ত আর তাই সে যিহোবার লোকেদের মধ্যে থেকে যতজনকে সম্ভব তার সঙ্গে নেওয়ার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। (প্রকা. ১২:১২) কিন্তু, শয়তান তার প্রচেষ্টা জোরদার করার সঙ্গে সঙ্গে আমরাও যেন সেই মাধ্যমের ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করার দ্বারা যিহোবার আরও নিকটবর্তী হই, যেটাকে তিনি আজকে তাঁর লোকেদের নির্দেশনা দেওয়ার জন্য ব্যবহার করছেন। শয়তান “[স্ত্রীলোকটির] বংশের সেই অবশিষ্ট লোকদের” বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে, যাদেরকে আস্থা সহকারে ‘যীশুর সাক্ষ্য ধারণ করিবার’ কাজে নির্দেশনা দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। (প্রকা. ১২:১৭) যিহোবা ও তাঁর ব্যবস্থাগুলোর প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থার ফল হল একতাবদ্ধ ভ্রাতৃসমাজ।

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার