ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • g৯৯ ৪/৮ পৃষ্ঠা ৫-৭
  • সারা বিশ্বেই বিপদ

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • সারা বিশ্বেই বিপদ
  • ১৯৯৯ সচেতন থাক!
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • তারা যাদের বিশ্বাস করেছিল তারাই ধোকা দিয়েছে
  • মারাত্মক পরিণতি
  • দুষ্টতার মুখোমুখি হওয়ার সময়ে প্রেম ও ন্যায়বিচার
    প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে (অধ্যয়ন)—২০১৯
  • কে আমাদের শিশুদের রক্ষা করবে?
    ১৯৯৯ সচেতন থাক!
  • শিশুদের যৌন শোষণ—বিশ্বব্যাপী একটি সমস্যা
    ১৯৯৭ সচেতন থাক!
  • অত্যাচারী পিতামাতা
    ১৯৯৩ সচেতন থাক!
আরও দেখুন
১৯৯৯ সচেতন থাক!
g৯৯ ৪/৮ পৃষ্ঠা ৫-৭

সারা বিশ্বেই বিপদ

ব্রাজিলে রাস্তার অনাথ শিশুদের নির্দয়ভাবে খুন করা হয় আর এটা অবাঞ্ছিত শিশুদের নিরাপত্তার যে কতটা অভাব রয়েছে তার একটা উদাহরণ। ওই দেশের বিভিন্ন রিপোর্ট বলেছিল যে প্রত্যেক বছর শত শত শিশুদের হত্যা করা হয়।

স্কটল্যান্ডের ডানব্লেন ও ইংল্যান্ডের উলভারহ্যাম্পটন আর অন্য অনেক এলাকায় শিশুদের ওপর পাশবিক অত্যাচার করা হয়ে থাকে। উদাহরণ হিসেবে অ্যাঙ্গোলার ১২ বছর বয়সী অনাথ মারিয়ার কষ্টের কথা কল্পনা করুন। তাকে ধর্ষণ করা হয় ফলে সে গর্ভবতী হয়ে পড়ে। পরে তাকে ভয় দেখিয়ে ৩২০ কিলোমিটার পথ হেঁটে যেতে বাধ্য করা হয় যার পরে সে একটা অপরিণত শিশুর জন্ম দেয়, যে শুধু দুই সপ্তাহ বেঁচেছিল। তার এক সপ্তাহ পর মারিয়াও রোগে আর অপুষ্টিতে ভুগে মারা যায়।

১৯৯২ সালে রাষ্ট্রসংঘের শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) রিপোর্ট বলেছিল, “‘শিশুদের ওপর হামলা’ হল বিংশ শতাব্দীর দান।” ১৯৯৬ সালের ইউনিসেফ রিপোর্ট জানায় যে কিছুজন মনে করেন, ‘শত্রুদের আগামী প্রজন্ম অর্থাৎ শত্রুদের সন্তানদেরও শেষ করে দেওয়া উচিত।’ একজন রাজনৈতিক রিপোর্টার এটাকে এভাবে বলেছিলেন: “ধেড়ে ইঁদুরদের শেষ করার জন্য আপনাকে ইঁদুরছানাদের হত্যা করতেই হবে।”

সম্প্রতি দশ বছরের মধ্যে কুড়ি লাখ শিশুকে নৃশংসভাবে মারা হয়েছে। বিস্ফোরক বোমাগুলো ফাটানোয় আরও চল্লিশ লাখ শিশু পঙ্গু ও অন্ধ হয়ে গিয়েছে, মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছে আর অনেকে যুদ্ধের কারণে ঘরছাড়া হয়েছে। এরা সবাই কোনরকমে বেঁচে থাকার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করে চলেছে। তাই একটা রিপোর্টের এই শিরোনাম পড়ে অবাক হওয়ার কিছুই নেই, যা বলে: “যুদ্ধের নৃশংসতা শিশুদের কাছে দুঃস্বপ্ন।”

শিশুদের ওপর এই নিষ্ঠুর অত্যাচার মানবতার কলঙ্ক আর এগুলো নিশ্চিত প্রমাণ দেয় যে শিশুরা বিপদের মধ্যে রয়েছে, কেবল কিছু দেশে নয় বরং সারা বিশ্বে। আর যে সব শিশুদের অপব্যবহার করা হয়েছে তাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতাও করা হয়েছে।

তারা যাদের বিশ্বাস করেছিল তারাই ধোকা দিয়েছে

শিশুদের ধোকা দিলে তারা প্রচণ্ডভাবে মানসিক আঘাত পায়। আর সেই আঘাত আরও বেড়ে যায় যখন শিশুরা বাবা, মা, বন্ধুবান্ধব বা শিক্ষকদের কাছ থেকে ধোকা খায়। বাবামারা তাদের বাচ্চাদের যে কীভাবে অপব্যবহার করেন তা সেই সময় দেখা গিয়েছিল যখন আমেরিকায় “আতঙ্ককর নীরবতা: শিশু অপব্যবহারকে ফাঁস করা ও শেষ আনা” নামের একটা অনুষ্ঠান সম্প্রচার করার পরে বিভিন্ন জায়গা থেকে অগণিত ফোন আসতে থাকে। এই অনুষ্ঠানের উপস্থাপিকা ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের টক শো খ্যাত ওপ্রা উইনফ্রে। এর নির্বাহী প্রযোজক আরনল্ড সেপিরো চিলড্রেন টুডে পত্রিকায় বলেছিলেন, “সবচেয়ে বেদনাদায়ক ফোনগুলো ছোট বাচ্চাদের কাছ থেকে এসেছিল যারা ভয়ে ভয়ে বলেছিল যে তারা শারীরিক যন্ত্রণা ও যৌন অপব্যবহার থেকে রক্ষা পেতে চায়।”

এই অনুষ্ঠান থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট হয়ে যায় যে শিশু অপব্যবহারকারীরা দৈত্যাকার ভয়ঙ্কর চেহারার ভীনদেশী লোক নয়। সত্যি বিষয়টা হল যে “বেশিরভাগ সময়ই বাবামা ও কাছের আত্মীয়রা অপব্যবহার করে থাকেন,” সেপিরো বলেছিলেন। অন্য এক গবেষণাও এই ব্যাপারটাকে সমর্থন করে আর এও দেখায় যে কখনও কখনও বিশ্বাসী পারিবারিক বন্ধুরা বাচ্চাদের অপব্যবহার করে থাকেন। প্রথমে তারা বাচ্চা ও পরিবারের বিশ্বাস জয় করেন যাতে পরে অপব্যবহার করতে পারেন। ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের মধ্যে ব্যভিচার হল বিশ্বাস নষ্ট করে দেওয়ার সবচেয়ে জঘন্য উপায়।

শিশুগামীদের দ্বারা যৌন উৎপীড়ন হল সারা বিশ্বে শিশুদের জন্য আর একটা বিপদ। অপরাধ ও অপরাধীর ন্যায্যতার রূপ ও বিষয় (ইংরেজি) সংবাদ-পত্রিকা এই সংজ্ঞা দেয়: “শিশুগমন বলতে শিশুদের প্রতি যৌন আকর্ষণকে বোঝায়। . . . শিশুগমনের মধ্যে সবসময়ই এইরকম অপরাধগুলো পড়ে যেমন ধর্ষণ, অশ্লীলতা আর শিশু পর্ণোগ্রাফির সঙ্গে যুক্ত অপরাধ।”

সারা পৃথিবীর সব জায়গা থেকে শিশুগামীদের চক্র সম্বন্ধে প্রচুর জঘন্য রিপোর্ট পাওয়া যায়। এই চক্র শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়ন করে। (৭ পৃষ্ঠার বাক্সটা দেখুন।) ছোট ছেলে ও মেয়ে কারোরই এদের হাত থেকে রক্ষা নেই। চরিত্রহীন লোকেরা লোভ দেখিয়ে এদের নিয়ে গিয়ে তাদের ওপর যৌন উৎপীড়ন করে আর পরে ভয় দেখিয়ে বা খুব বেশি প্রশ্রয় দিয়ে তাদের এই “চক্রে” থেকে যেতে বাধ্য করে। সাধারণত সমাজের নামীদামি নেতারা এইরকম বাজে পরিকল্পনা ও কাজ করেন আর কখনও কখনও তারা পুলিশ ও প্রশাসনের জানা মতেই এবং তাদের ছত্রছায়াতেই এই কাজ করে থাকেন।

ধর্মগুরুরাও শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়ন করেন আর সেটাও ক্ষোভের কারণ। সারা পৃথিবী থেকে পাওয়া খবরগুলো দেখায় যে ধর্মগুরুরা শিশুদের ওপর কতখানি যৌন উৎপীড়ন করে থাকেন। কখনও কখনও তারা ঈশ্বরের নামে পর্যন্ত তা করেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, একজন অভিযুক্ত অ্যাংলিকান পাদ্রি ১০ বছরের এক ছেলেকে বলেছিলেন যে “ঈশ্বর তার [পাদ্রির] মধ্য দিয়ে কথা বলছিলেন আর তিনি বা [সেই ছেলে] যা কিছুই করেছিলেন ঈশ্বর তা পছন্দ করেছিলেন আর তাই তা করা ঠিক ছিল।”

অস্ট্রেলিয়ায় লড়াই ও তার পরিণতি: শিশু যৌন অপব্যবহার যুদ্ধ (ইংরেজি) নামের বইটা ধর্মগুরু ও অন্যান্য বিশ্বাসী ব্যক্তিরা শিশুদের সঙ্গে যে দুর্ব্যবহার করেন তা নিয়ে সমালোচনা করেছিল। এটা বলেছিল যে অভিযুক্ত সংগঠনগুলো কী করে তাদের নিজেদের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখবে আর কী করে নিজেদের রক্ষা করবে সেই চিন্তাতেই মত্ত কিন্তু অসহায় বাচ্চাদের রক্ষা করার জন্য তাদের কোন তাগিদ নেই।

মারাত্মক পরিণতি

শিশুরা যখন কাউকে বিশ্বাস করে তখন সাধারণত পুরোপুরিই বিশ্বাস করে, তাদের মনে কোনরকম সন্দেহ থাকে না। তাই সেই বিশ্বাস নষ্ট করা হলে তা কচি মনে এক মারাত্মক ছাপ ফেলে। শিশু অপব্যবহার ও অবহেলা (ইংরেজি) নামের প্রকাশনা বলে: “যে লোকেদের ও জায়গাগুলোকে আগে নিরাপদ আশ্রয় মনে করা হতো এখন সেগুলো বিপদজনক ও আতঙ্কের জায়গা হয়ে পড়েছে। শিশুর জগৎ নিরাপত্তাহীন ও অস্থির হয়ে পড়ছে।”

বছরের পর বছর ধরে এইরকম অপব্যবহার হয়েই চলেছে, যার ফলে কিছু শিশুরা বড় হয়েও সামাজিক ও মানসিক রোগে ভুগে। এই বিশ্বাসঘাতকতা মারাত্মক ক্ষতি করে কারণ তারা শিশু বলেই তাদের কাছ থেকে এইরকম সুযোগ নেওয়া হয়েছে। আর যাদের ওপর অত্যাচার করা হয়েছে এমন অনেক শিশু কখনও এই বিষয়ে অভিযোগ করে না যার ফলে অপব্যবহারকারীরা সেই সুযোগটা নেয়।

সম্প্রতি, সারা পৃথিবীতেই শিশু অপব্যবহার বেড়ে চলেছে ফলে আজকে আমাদের হাতে এর এত বেশি প্রমাণ রয়েছে যে তা আর উপেক্ষা বা তুচ্ছ করা যায় না। কিন্তু বেশিরভাগ লোকই মনে করেন যে শিশু অপব্যবহারকে শেষ করা এক অসাধ্য কাজ। তাই এই প্রশ্নগুলো ওঠে: এমন কেউ কি আছেন যিনি সত্যিই আমাদের শিশুদের বাঁচাতে পারেন? আমরা বাবামারা কীভাবে আমাদের ঈশ্বরের দেওয়া উপহারদের রক্ষা করতে আর আমাদের শিশুদের কচি জীবনের যত্ন নিতে পারি যারা আজ বিপদের মধ্যে রয়েছে? সাহায্যের জন্য বাবামা কার মুখের দিকে তাকাতে পারেন?

[৭ পৃষ্ঠার বাক্স//চিত্র]

ইন্টারনেট গুপ্ত অভিযান

কয়েক মাস আগে, ইন্টারনেট শিশু অশ্লীলতার বিরুদ্ধে বিরাট গুপ্ত অভিযান চালিয়ে ১২টা দেশের পুলিশ, শিশু অপব্যবহারকারী হিসেবে সন্দেহ করা হয় এমন ১০০ জনেরও বেশি লোকেদের বাড়িতে হানা দিয়েছিল। আমেরিকার শুধু একটা শিশু অপব্যবহারকারী চক্রের কাছ থেকেই তারা শিশুদের ১,০০,০০০রও বেশি অশ্লীল ছবি আটক করেছিল।

ব্রিটিশ গোয়েন্দা যিনি পাঁচ মাস ধরে ইন্টারনেটে তদন্ত চালিয়েছেন তিনি বলেছিলেন: “ছবিগুলো এতই নোংরা ছিল যে সেগুলো দেখে যে কোন সুস্থ মনের মানুষের গা গুলাবে।” ছবিগুলো ছিল ছোট ছোট ছেলে ও মেয়েদের, এমনকি দুবছর বয়সের শিশুদের ছবিও সেখানে ছিল। বেলজিয়ামের পুলিশ বলেছিলেন যে ইন্টারনেটের ছবিগুলো ছিল “শিশু অশ্লীলতার সবচেয়ে জঘন্য চিত্র। . . . লোকেরা এতটাই নিচে নেমে গিয়েছে যে তারা নিজেদের বাচ্চাদের অশ্লীল ছবিকে সবচেয়ে আকর্ষণীয় করার জন্য তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে।” একজন লোক তার নিজের ভাইঝিকে ধর্ষণ করে আর সেই জঘন্য ছবি তুলে তার কম্পিউটারে ঢুকিয়ে দেয়।

যাদের সন্দেহ করা হয়েছিল তাদের মধ্যে শিক্ষক, বিজ্ঞানী, আইনের ছাত্র, মেডিকেল ছাত্র, স্কাউটমাস্টার, হিসাবরক্ষক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিলেন।

[৬ পৃষ্ঠার চিত্র]

বিস্ফোরক বোমা এই ছেলেটার ডান হাতকে পঙ্গু করে দিয়েছে

[সজন্যে]

UN/DPI Photo by Armineh Johannes

[৭ পৃষ্ঠার চিত্র সৌজন্যে]

Photo ILO/J. Maillard

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার