বিশ্বনিরীক্ষা
বিশ্বের দীর্ঘতম ঝুলন্ত সেতু
আওয়াজি দ্বীপ ও কোবে শহরের সংযোগকারী জাপানের আকাসি কেইকিও সেতুটি এপ্রিল মাসে চালু করা হয়েছে এবং সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বের দীর্ঘতম ঝুলন্ত সেতু হিসাবে রেকর্ড বইয়ে জায়গা করে নিয়েছে। টাইম পত্রিকা উল্লেখ করে, “এটি নির্মাণ করতে প্রায় দশ বছর সময় লেগেছে এবং ৭৭০ কোটি মার্কিন ডলার খরচ হয়েছে। দুটি স্তম্ভের মধ্যে দূরত্ব অর্থাৎ সেতুর মাঝখানের প্রস্থ ১,৯৯১ মিটার।” প্রতিটি স্তম্ভ ৯০ তলাবিশিষ্ট অট্টালিকার চেয়েও দীর্ঘ এবং ২০টি স্পন্দন নিয়ন্ত্রণ কৌশল দ্বারা সজ্জিত; তাই খুব জোরে বাতাস লেগে সেতুটি আন্দোলিত হলেও দোলকগুলি স্তম্ভগুলিকে স্বস্থানে ধরে রাখে।” সেতুটিকে ভূমিকম্প প্রতিরোধী করেও নির্মাণ করা হয়েছে, যেটি ভূ-কম্পন মাপক যন্ত্রে ৮.০ মাত্রা পর্যন্ত কম্পন সহ্য করতে পারে। যদি এর ইস্পাতের তারগুলিকে জোড়া দেওয়া হয়, তাহলে তা দিয়ে পৃথিবীকে সাত বার ঘেরা যেতে পারে।
হাসপাতালে সংক্রমণ
ফরাসী সংবাদপত্র লে ফিগারো বলে যে “রোগীর চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচার করার পর হাসপাতাল থেকে যে সংক্রামক রোগগুলি হয়, জনসাধারণের স্বাস্থ্যের পক্ষে সেগুলি প্রকৃতই ক্ষতিকারক।” কেবল ফ্রান্সেই প্রতি বছর ৮,০০,০০০ লোক আক্রান্ত হন এবং হিসাব অনুযায়ী প্রায় ১০,০০০ জন মারা যান। বিভিন্ন পদক্ষেপ সংক্রমণের ঝুঁকিকে হ্রাস করতে পারে: প্রত্যেক নতুন রোগী আসার আগে কক্ষটিকে জীবাণুমুক্ত করা, জীবাণুশূন্য করার প্রক্রিয়াটি পরীক্ষা করা এবং একজন রোগীকে স্পর্শ করার আগে ভালভাবে হাত ধুয়ে নেওয়া দরকার। প্রায়ই দেখা যায় যে এই অভ্যাসগুলির কোনটিকে অবহেলা করা হয়। প্যারিসের একটি হাসপাতালে করা একটি পরীক্ষা প্রকাশ করেছিল যে হাসপাতালের কেবল ৭২ শতাংশ সহায়ক কর্মীগণ বলেন যে তারা প্রত্যেক রোগীকে স্পর্শ করার পর নিয়মানুযায়ী তাদের হাত ধুয়েছিলেন। এদের মধ্যে শতকরা ৬০ ভাগ কর্মী তাদের হাত ঠিক করে ধোননি। এইধরনের দুঃখজনক পরিসংখ্যান দেখে সংবাদপত্রটি উপসংহার করে, “দেখা যাচ্ছে যে এখনও অনেক কাজ করা বাকি আছে।”
নকল ওষুধ
“বিশ্বে বিক্রি হয় এমন ওষুধগুলির মধ্যে শতকরা আট ভাগই নকল,” লে ফিগারো ম্যাগাজিন উল্লেখ করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুসারে, ব্রাজিলে নকল ওষুধের পরিমাণ শতকরা ৩০ ভাগ এবং আশ্চর্যের বিষয় যে নাইজেরিয়ায় শতকরা ৬০ ভাগ। বিবৃতি অনুযায়ী, ৩০,০০০ কোটি মার্কিন ডলারের নকল ওষুধের ব্যবসা রয়েছে, অপরাধমূলক সংগঠনগুলি যার নেতৃত্ব দিচ্ছে। এই ব্যবসাকে বন্ধ করতে বিভিন্ন ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, পুলিশ এবং আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলি এই সমস্যার কোন সমাধান খুঁজে পায়নি। নকল ওষুধগুলি বড় জোর রোগীর মন মানাতে পারে; আর এর সবচেয়ে খারাপ পরিণতি হল এটি মৃত্যুও ঘটাতে পারে। “নকল ওষুধ অসুস্থ ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য নিয়ে জুয়া খেলে,” লে ফিগারো ম্যাগাজিন মন্তব্য করে।
বিদ্যুৎ বাঁচান
“জার্মানির ঘর ও অফিসগুলিতে সবসময় ব্যবহার করা হয় না কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহার করার জন্য আংশিকভাবে চালু করে রাখা হয় এমন যন্ত্রপাতিগুলির কারণে শতকরা এগার ভাগ বিদ্যুৎ অপচয় হয়,” অ্যাপোথেকেন ওমসাউ নামে একটি ক্ষুদ্র সংবাদপত্র বিবৃতি দেয়। জার্মানির হিসাব অনুসারে, টিভি, ক্যাসেট প্লেয়ার, কমপিউটার এবং অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র যেগুলিকে আংশিকভাবে চালু অবস্থায় রাখা হয় সেগুলি বছরে ২০৫০ কোটি কিলোওয়াট-ঘন্টা বিদ্যুৎ খরচ করে। এই পরিমাণটি দেশের সবচেয়ে বড় শহর বার্লিনে এক বছরে ব্যবহৃত বিদ্যুতের চেয়েও বেশি। কিছু যন্ত্রপাতি আংশিকভাবে চালু অবস্থায় না রেখে, বরং সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করলে বিদ্যুৎ তো বাঁচবেই আর আপনার পয়সা বাঁচানোও সম্ভব হতে পারে।
রাস্তার ছেলেমেয়েরা
“নব্বই শতাংশ রাস্তার ছেলেমেয়েদেরই ঘর-পরিবার রয়েছে। [রাস্তার এই ছেলেমেয়েদের মধ্যে] প্রায় ৯০ শতাংশ তাদের বাবামার অত্যাচারের কারণে পালিয়ে যায় এবং অপরাধ, মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও যৌন নীতিহীন কাজে জড়িত হয়ে পড়ে,” অপব্যবহারের শিকার ছেলেমেয়েদের প্রতি মনোযোগ দানের আঞ্চলিক কেন্দ্র (ক্র্যামি) এর ব্যবস্থাপিকা, এনজা ম্যাটার বলেন। ম্যাটারের মন্তব্য ব্রাজিলের ও এস্টাডো ডে এস. পাওলো সংবাদপত্রে লেখা হয়েছিল যেখানে তিনি দুর্ব্যবহারের লক্ষণের প্রতি সতর্ক হওয়ার জন্য স্বাস্থ্যকর্মী ও শিক্ষকদের পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিছু লক্ষণ এইরকম হতে পারে “আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন, একাকী হয়ে পড়া এবং শরীরে বিভিন্ন চিহ্ন।” নিজে থেকে এগিয়ে এসে সাহায্য করা খুবই জরুরী কারণ যে ঘটনাগুলি ক্র্যামির কাছে আসে তার মধ্যে মাত্র শতকরা পাঁচ ভাগ ছেলেমেয়েরাই নিজে থেকে সাহায্য চায়। অত্যাচারী বাবামারা প্রায়ই সাহায্য নিতে চান না। কেন? ক্র্যামির সভাপতি, জাহুন রবার্টো স্কোমপ্যারিম বলেন: “যে বাবামারা তাদের সন্তানদের প্রচণ্ড মারধোর করেন, তারা তাদের ছোটবেলার অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি করেন আর মনে করেন যে এর দ্বারা তারা তাদের ছেলেমেয়েদের শিক্ষা দিচ্ছেন।”
ভুলো মনের লোকেরা
ইতালিতে, ১,৬০০ জন প্রাপ্ত বয়স্ককে নিয়ে একটি পর্যবেক্ষণে দেখা যায় যে শতকরা ৭৭ জন লোক বলেন যে তারা ভুলে যাওয়ার সমস্যায় ভুগছেন, লা রিপাবলিকা সংবাদপত্র উল্লেখ করে। এদের মধ্যে এক তৃতীয়াংশেরও বেশি লোক গত বছরে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্ষিকী ভুলে গিয়েছিলেন। এছাড়াও, ৪২ শতাংশ লোক প্রায়ই ভুলে যান যে তারা কোথায় তাদের গাড়ি রেখেছেন, ৩০ শতাংশেরও বেশি লোক তাদের ঘরের চাবির কথা ভুলে যান, ২৫ শতাংশেরও বেশি লোক তাদের টাকার ব্যাগের কথা ভুলে যান এবং ১.২ শতাংশ লোক এমনকি তাদের নিজের নাম আর পদবি পর্যন্ত ভুলে যান। অপরদিকে, ২৮ শতাংশ ইতালিয় লোকেরা বলেন যে তারা তাদের বিদ্যালয়ে মুখস্থ করা অন্তত একটি কবিতা এখনও পর্যন্ত মনে করতে পারেন। আপনি আপনার স্মরণ শক্তিকে কিভাবে বাড়াতে পারেন? একজন মনোবিজ্ঞানী কিছু পরামর্শ দেন আর তা হল, যে বিষয়টি আপনি মনে রাখতে চান সেটিকে অন্য একটি বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত করুন, ডায়েরিতে নোট করে সেটাকে বার বার মনে মনে বলুন এবং ফোন নম্বর, গানের সুর, এমনকি লাইসেন্স নম্বর মুখস্থ করুন।
শিশুদের স্পর্শ করা প্রয়োজন
টরোন্টো স্টার সংবাদপত্রে প্রকাশিত একটি পর্যবেক্ষণ অনুসারে, “যে সমস্ত বাচ্চাদের বার বার বা সবসময় জড়িয়ে ধরে আদর করা হয় না, স্পর্শ করা হয় না . . . তাদের চাপ সৃষ্টিকারী হরমোনের পরিমাণ অস্বাভাবিক মাত্রায় বেশি থাকে।” গবেষকগণ মনে করেন যে শৈশবে যদি বাচ্চা মার কাছ থেকে দূরে থাকে অথবা অবহেলা পায় তাহলে তা তার “শিক্ষা ও স্মরণশক্তির উপর দীর্ঘস্থায়ী গুরুতর প্রভাব ফেলে।” হার্ভার্ড ম্যাডিকেল স্কুলের বিজ্ঞানী ম্যারি কার্লসন আরও লক্ষ্য করেছিলেন, যে সমস্ত শিশুকে তাদের বাবামা “সোমবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত কাজের দিনগুলিতে নিম্নমানের সেবা কেন্দ্রে রেখে আসেন তাদের ঐদিনগুলিতে চাপ সৃষ্টিকারী হরমোনের পরিমাণ অস্বাভাবিক মাত্রায় ছিল কিন্তু শনি ও বরিবার বাচ্চারা যখন ঘরে থাকে তখন এইরকম হয়নি।” এই গবেষণাটি আরও প্রমাণ দেয় যে মৃদু স্পর্শ এবং প্রচুর স্নেহ আমাদের বাচ্চাদের জন্য খুবই প্রয়োজন।
যৌন ব্যবসার শিকার
ইউক্রেনের এক সংবাদপত্রে এইরকম একটি বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছিল: “মেয়ে চাই: অবিবাহিতা ও অত্যন্ত সুন্দরী। যুবতী ও দীর্ঘাঙ্গী। তাদেরকে মডেল, সচিব, নর্তকী, নৃত্য পরিচালিকা এবং শরীরকলাবিদ হিসাবে কাজ করার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে।” দ্যা নিউ ইয়র্ক টাইমস বিবৃতি দেয় যে যৌন ব্যবসায়ীরা এইরকম বিজ্ঞাপন ব্যবহার করেই সহজ সরল অল্প বয়সী মেয়েদের পতিতাবৃত্তির ফাঁদে ফেলে। প্রতি বছর, হাজার হাজার ইউক্রেনীয় ও রুশ মহিলা পয়সা উপার্জনের আশায় বিদেশে যান। কিন্তু তারা তাদের অপরিচিত গন্তব্যে গিয়ে পৌঁছানোর পর, সেখানে তাদের অপরাধী “কর্তৃপক্ষেরা” তাদের পাসপোর্ট কেড়ে নেন এবং জোর করে পতিতালয়ে কাজ করান। আর তা না করতে চাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না কারণ তাহলে তাদের মারধোর, ধর্ষণ এবং নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ইউক্রেনীয় মনোবিজ্ঞানী লিউড্মিলা বিরুক, এইধরনের জাল থেকে পালিয়ে আসতে পেরেছে এমন মেয়েদের পরামর্শ দিয়েছিলেন, তিনি বলেছিলেন: “এই বাচ্চা মেয়েদেরকে আপনাদের বলা উচিত যে যদি কোন কিছুকে সত্যি ভাবতে অবিশ্বাস্য বলে মনে হয়, তাহলে আসলে তা সত্য নয়।”