নিরাপত্তার অভাব—এক বিশ্বব্যাপী ব্যাধি
কখনও কখনও কি আপনারও মনে হয়েছে যে আপনার জীবন ও আপনার পৃথিবী অরক্ষিত আর অনিশ্চিত? আপনি একা নন। লক্ষ লক্ষ লোক এরকম মনে করেন। আমাদের জাতি, ধর্ম অথবা সমাজ যাই হোক না কেন, নিরাপত্তার অভাব সারা পৃথিবীতে মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়েছে, মস্কো থেকে ম্যান্হাটন পর্যন্ত লোকেদের যন্ত্রণা দিচ্ছে।
একটি অভিধান বলে যখন আমাদের জীবন অনিরাপদ হয়ে পড়ে তখন “ভয় ও উদ্বেগ আমাদের উপর চেপে বসে।” উদ্বেগ আমাদের মস্তিস্ক ও মনের জন্য এক বোঝা, যা চাপ সৃষ্টি করে আর আমাদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে। কিন্তু কেন আমরা উদ্বিগ্ন হই আর নিরাপত্তার অভাব বোধ করি?
ইউরোপীয় দেশে উদ্বেগ
ইউরোপীয় সংঘের দেশগুলিতে প্রতি ছয় জনের মধ্যে একজন দারিদ্রসীমার নিচে বাস করেন, ১.৮ কোটি লোক বেকার এবং অন্যান্য অসংখ্য ব্যক্তিদের তাদের চাকরি চলে যাওয়ার ভয় আছে। ইউরোপের বেশ কিছু জায়গায় বাবামাদের রাতের ঘুম নষ্ট হয়ে গিয়েছে কারণ তারা ভয়ে ভয়ে থাকেন যে শিশু যৌন উৎপীড়নকারীরা তাদের সন্তানদের ক্ষতি করতে পারে। এইরকমই একটি দেশে, তিন জনের মধ্যে দুই জন ব্যক্তি অপরাধের হুমকির কারণে উদ্বিগ্ন। ইউরোপের বাকি লোকেদের মধ্যে বর্বরতা, সন্ত্রাসবাদ ও দূষণের ভয় বেড়ে চলেছে।
জীবন ও জীবনোপায়, কেবল এইধরনের সামাজিক বিপথগামিতার জন্যই নয় কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণেও বিপদের মধ্যে রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ১৯৯৭ এবং ১৯৯৮ সালে মুষলধারে বৃষ্টিপাত, ভূমিক্ষয় এবং ঘূর্ণিঝড় আমেরিকার কিছু অংশকে বিধ্বস্ত করে দেয়। ১৯৯৭ সালে মধ্য ইউরোপে ওডের ও নেইসা নদীর বাঁধ ভেঙে গিয়েছিল যার ফলে বন্যা হয়েছিল। পোলিস সাপ্তাহিক পত্রিকা পলিটিকা অনুসারে, বড় বড় চাষের জমি আর সেইসঙ্গে ৮৬টি শহর ও নগরী এবং প্রায় ৯০০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছিল। প্রায় ৫০,০০০ পরিবারের ফসল ভেসে যায় এবং প্রায় ৫০ জন ব্যক্তি প্রাণ হারান। ১৯৯৮ সালের প্রথম দিকে, ভূমিক্ষয়ের ফলে দক্ষিণ ইতালিতে অনেক লোক মারা যান।
আমাদের নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়টি
কিন্তু আমাদের কি নিশ্চয়তা দেওয়া হয় না যে দশ বছর আগে যা ছিল তার তুলনায় আমাদের জীবন এখন অনেক বেশি নিরাপদ? ঠাণ্ডা লড়াইয়ের সমাপ্তি কি বোঝায়নি যে সামরিক শক্তি হ্রাস পেয়েছিল? হ্যাঁ, জাতীয় নিরাপত্তায় হয়তো উন্নতি হয়েছে। কিন্তু, যখন আমাদের নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়টি আসে, তখন চার দেওয়ালের ভিতরে এবং বাইরে অর্থাৎ রাস্তায় যা ঘটে চলেছে তা আমাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় হস্তক্ষেপ করে। আমাদের যদি চাকরি চলে যায় কিংবা ছিনতাইকারী বা শিশু যৌন উৎপীড়নকারী আমাদের চারিপাশে ঘুরে বেড়ায় আর ওত পেতে বসে থাকে তবে অস্ত্র যতই হ্রাস করা হোক না কেন, আমরা উদ্বিগ্ন হই এবং নিজেদের অনিরাপদ বোধ করি।
কিছু লোক কিভাবে জীবনের অনিশ্চয়তার সঙ্গে যুদ্ধ করছেন? তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হল যে আপনার জীবন—আর আমাদের সবার জীবন—স্থায়ীভাবে নিরাপদ করার কোন উপায় কি আছে? আসুন পরের প্রবন্ধ দুটিতে আমরা এর উত্তর খুঁজি।
[৩ পৃষ্ঠার চিত্র সৌজন্যে]
UN PHOTO 186705/J. Isaac
[৩ পৃষ্ঠার চিত্র সৌজন্যে]
FAO photo/B. Imevbore