ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • g৯৭ ৭/৮ পৃষ্ঠা ১৮-২১
  • পম্পেই যেখানে সময় থমকে গেছে

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • পম্পেই যেখানে সময় থমকে গেছে
  • ১৯৯৭ সচেতন থাক!
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • সা.কা. ৭৯ সালের বিস্ফোরণ
  • হারকোলানিয়ামে নিরাপত্তা নেই
  • সময় থমকে গেছে
  • ব্যক্তিগত জীবন
  • এখন নীরব থাকার সময় নয়
  • আগের চেয়ে এখন আরও বেশি করে জেগে থাকুন!
    ২০০৩ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • এক ঘুমন্ত দৈত্যের ছায়ায় বসবাস করা
    ২০০৭ সচেতন থাক!
  • সমস্ত দুর্যোগ—শীঘ্রই শেষ
    ২০০৬ সচেতন থাক!
  • আপনি কি আমাদের সময় সম্বন্ধে সচেতন?
    ১৯৯৮ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
আরও দেখুন
১৯৯৭ সচেতন থাক!
g৯৭ ৭/৮ পৃষ্ঠা ১৮-২১

পম্পেই যেখানে সময় থমকে গেছে

ইতালীর সচেতন থাক! সংবাদদাতা কর্তৃক

চুলার উপর কড়াই সহ রান্নাঘর, সুসজ্জিত দোকান, জলহীন ফোয়ারা, অক্ষত রাস্তা—এক বসতিহীন, শূন্য এবং জনমানবহীন শহরে, পূর্বে যেভাবে ছিল ঠিক সেভাবেই আছে। এটি হচ্ছে পম্পেই, যেখানে সময় থমকে গেছে বলে মনে হয়।

১,৯০০ বছরেরও বেশি আগে, বিপর্যয়ের দিনে সমস্ত কিছু যেভাবে ছিল সেভাবেই আছে, যেদিন নেপলস্‌ উপসাগরের কাছে ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরি বিস্ফোরিত হয়েছিল, এর ফলে পম্পেই, হারকোলানিয়াম, স্টাব্বিয়া এবং চতুর্দিকে অবস্থিত গ্রামাঞ্চল ছাই ও লাভা দ্বারা সমাহিত হয়েছিল।

পম্পেই বইটি বলে, ‘ভিসুভিয়াসের আগ্নেয় স্বভাব সম্বন্ধে প্রাচীন লোকেদের এক অস্পষ্ট ধারণা ছিল এবং তারা এটিকে একটি শ্যামল পর্বত হিসাবে মনে করত যেখানে মনোরম আঙ্গুরক্ষেত সহ নিবিড় বনগুলি এদিকে সেদিকে ছড়িয়ে ছিল।’ কিন্তু সা.কা. ৭৯ সালের আগস্ট মাসের ২৪ তারিখে, অনেক বছরের নীরবতার পর, সেই পর্বত প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জেগে উঠেছিল।

সা.কা. ৭৯ সালের বিস্ফোরণ

আগ্নেয়গিরি গ্যাস, ম্যাগ্‌মা এবং রাশিকৃত পাথর খণ্ডের এক স্তম্ভ উদ্‌গিরণ করেছিল যা আকাশকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করে তুলেছিল এবং এর কারণে ছাই এবং ল্যাপিল্লি অর্থাৎ লাভার ছোট ছোট টুকরো ভয়ংকরভাবে বৃষ্টির মত পড়েছিল। দুদিনের মধ্যেই পম্পেই এবং গ্রামাঞ্চলের বিশাল এলাকা, প্রায় আড়াই মিটার গভীর, ঘন স্তর দ্বারা আচ্ছাদিত হয়েছিল। প্রবল ভূ-কম্পন ভূপৃষ্ঠকে আন্দোলিত করার সময়ে, অদৃশ্য কিন্তু প্রাণনাশক বিষাক্ত গ্যাসের এক প্রকাণ্ড মেঘ, শহরটিকে ছেয়ে ফেলেছিল এবং মৃত্যুজনক আলিঙ্গণে আবদ্ধ করেছিল। পম্পেই ধীরে ধীরে সমাহিত হওয়ার সময়ে, হারকোলানিয়াম এক মুহূর্তের মধ্যে অদৃশ্য হয়েছিল। রেস্‌কোপ্রীরে পম্পেই (পম্পেইয়ের পুনঃআবিষ্কার) নামক বই অনুসারে, হারকোলানিয়াম শহরটি “মাটি ও আগ্নেয়গিরির ধ্বংসাবশেষের প্রবাহ দ্বারা নিমজ্জিত হয়েছিল যার গভীরতা উপকূলের নিকটে ২২ মিটার [৭২ ফুট] পর্যন্ত পৌঁছেছিল।”

পম্পেইয়ের প্রায় ১৫,০০০ জন অধিবাসীদের প্রতিক্রিয়া ছিল বিভিন্ন প্রকার। শুধুমাত্র যারা তৎক্ষণাৎ পলায়ন করেছিল তারাই রক্ষা পেয়েছিল। কয়েকজন, তাদের বাড়ি এবং যা কিছু সেখানে ছিল তা পরিত্যাগ করতে চায়নি বরং সেখানে থেকেই, বিপদ হতে মুক্তির আশা করছিল। কিছু লোকেরা, যারা তাদের মূল্যবান বস্তু রক্ষা করতে উদ্বিগ্ন ছিল এবং পলায়নের পূর্বে ইতস্ততঃ করেছিল তারা তাদের বাড়ির ছাদে চাপা পড়েছিল, যেগুলি ছাইয়ের ওজনে ভেঙ্গে পড়ে।

উদাহরণস্বরূপ “ফউন ভবন” এর কর্ত্রী, যাকে দেখে মনে হয় যে তিনি তার ধনসম্পদ পরিত্যাগ করতে ইচ্ছুক ছিলেন না। রবার্ট এটিয়েন তার লা ভিয়ে কটিডেন অ্যা পম্পে (পম্পেইয়ের প্রাত্যহিক জীবন) বইতে বলেন, “ভবনটির সম্ভ্রান্ত মহিলা অত্যন্ত দ্রুত তার সর্বাপেক্ষা মূল্যবান রত্নগুলি যেমন: সর্পের আকার বিশিষ্ট স্বর্ণের ব্রেসলেট, আংটি, চুলের কাঁটা, কানের দুল, একটি রুপার আয়না, এক ব্যাগ পূর্ণ সোনার মুদ্রা সংগ্রহ করে পলায়নের জন্য প্রস্তুত হয়েছিলেন।” সম্ভবত ছাইয়ের পতন দেখে, তিনি আতঙ্কিত হয়ে, ভবনের অভ্যন্তরে রয়ে গিয়েছিলেন। এটিয়েন আরও বলেন, “কিছুক্ষণ পরেই ছাদ ভেঙ্গে পড়ে হতভাগ্য মহিলা ও তার মহামূল্যবান সম্পদগুলিকে সমাহিত করেছিল।” চারিদিকে ছড়িয়ে পড়া বিষাক্ত গ্যাসগুলি দ্বারা অন্যান্যেরা শ্বাসরুদ্ধ হয়েছিল।

যারা দ্বিধা করেছিল তারা জীবন বাঁচানোর জন্য লাভা ছাইয়ের স্তরের উপর দিয়ে দৌড়াতে আরম্ভ করল, যা ইতিমধ্যে স্তূপীকৃত হয়েছিল। তারা যেখানে পড়েছিল সেখানেই, প্রাণনাশক গ্যাস নিঃশ্বাসের সাথে গ্রহণের দ্বারা শ্বাসরুদ্ধ হয়ে পড়ে রইল এবং সূক্ষ্ম ছাইয়ের বিরতিহীন বৃষ্টির ফলে ঢেকে গিয়েছিল। অনেক অনেক শতাব্দী পর তাদের করুণ মৃতদেহ মূল্যবান সম্পদগুলি সহ পাওয়া যায়। শহরটি এবং এর বাসিন্দারা ২০ ফুটেরও বেশি গভীর ছাইয়ের স্তরের নিচে সমাহিত হয়েছিল।

তবুও সেই প্রাণনাশক বৃষ্টির কারণে, শহরের বাসিন্দারা পুনর্দৃষ্টিতে এসেছে। আপনি কি জানেন কিভাবে? এই পৃষ্ঠার ছবিতে তাদের দেহের গঠনগুলিকে লক্ষ্য করুন। কিভাবে তাদের আকার দেওয়া হয়েছে? ছাইয়ের মধ্যে ক্ষয়ে যাওয়া মাংসের খালি অংশে প্লাস্টার অফ প্যারিস ঢেলে দেওয়ার দ্বারা, প্রত্নতত্ত্ববিদরা আমাদের সেই দুঃখজনক পরিস্থিতির শিকারদের শেষ যন্ত্রণাদায়ক অঙ্গভঙ্গি দেখাতে সক্ষম হয়েছেন। আমরা দেখতে পারি “একজন যুবতী মেয়ে তার বাহুর উপর মাথা রেখে শুয়ে আছে; একজন লোক, রুমাল দ্বারা তার মুখ ঢেকে রেখেছে যা ধূলা এবং বিষাক্ত গ্যাসের শ্বাসগ্রহণকে বাধা দিতে পারেনি; সর্বসাধারণের স্নানাগারে পরিচারকেরা, শ্বাসরুদ্ধ হওয়ার ফলে ঝাঁকি এবং অনৈচ্ছিক পেশীর সংকোচনের অশোভন ভঙ্গিতে পড়ে রয়েছে; . . . এক মা তার ছোট মেয়েকে করুণ কিন্তু ব্যর্থ অন্তিম আলিঙ্গণে আবদ্ধ করে রেখেছে।”—আরকিও।

হারকোলানিয়ামে নিরাপত্তা নেই

পম্পেই থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে, হারকোলানিয়ামে, যারা তৎক্ষণাৎ পলায়ন করেনি তারা ফাঁদে পতিত হয়েছিল। হয়ত সমুদ্রের দ্বারা রক্ষা পাওয়ার আশা করে, অনেকে সৈকতের দিকে পলায়ন করেছিল, কিন্তু প্রবল সমুদ্র কম্পন উপকূল হতে নৌকাগুলির যাত্রাকে প্রতিরোধ করেছিল। সম্প্রতি হারকোলানিয়ামের প্রাচীন সৈকত খনন করে ৩০০-র বেশি কঙ্কাল পাওয়া গেছে। এই লোকেরা সমুদ্র হতে দেখা যায় এমন উঁচু সমতল স্থানে আশ্রয় নিয়েছিল কিন্তু মাটি এবং আগ্নেয়গিরির ধ্বংসাবশেষের প্রবাহ দ্বারা জীবন্ত সমাহিত হয়েছিল। এখানেও, অনেকে তাদের সর্বাপেক্ষা মূল্যবান সম্পদগুলি যেমন: স্বর্ণের অলঙ্কার, রূপার পাত্র, শল্যচিকিৎসার যন্ত্রপাতির সম্পূর্ণ সেট রক্ষা করতে চেষ্টা করেছিল। এখনও সেইসব তাদের মালিকদের মৃতদেহের নিকটে, ব্যর্থ অবস্থায় পড়ে আছে।

সময় থমকে গেছে

প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখে জীবনের নশ্বরতা সম্বন্ধীয় জীবন্ত প্রামাণিক সাক্ষ্য পম্পেই বহন করছে। বিশ্বের আর কোন প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান, পম্পেই এবং পারিপার্শ্বিক এলাকার ধ্বংসের মত দৃশ্য সরবরাহ করতে পারবে না যা আধুনিক পণ্ডিত ও কৌতূহলীদের সা.কা. প্রথম শতাব্দীর প্রাত্যহিক জীবনকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করতে সক্ষম করবে।

এলাকাটির সমৃদ্ধি মূলতঃ কৃষি, শ্রমশিল্প এবং বাণিজ্যের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল। জনশক্তিকে প্রচুররূপে ব্যবহার করার দ্বারা—প্রতিদিন দাস এবং স্বাধীন লোকেদের ভাড়া করে—উর্বর গ্রামাঞ্চলগুলি অঢেল শস্য উৎপাদন করত। শহরের অনেক কার্যক্রম খাদ্যের কাঁচামাল ক্রয় বিক্রয়ের সাথে যুক্ত ছিল। যে কেউ যারা পম্পেই শহরকে দর্শন করে তারা এখনও শস্য চূর্ণ করার কল, সবজি বাজার এবং ফলের ও মদ ব্যবসায়ীদের দোকানগুলি দেখতে পারে। আপনি দালানগুলি দেখতে পারেন যেগুলি একসময়ে বাণিজ্যের জন্য ব্যবহার করা হত—শিল্পে ব্যবহারিক মাত্রায় পশম ও লিনেন কাপড় প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং সূতা কাটা ও কাপড় বোনার জন্য। কয়েক ডজন ছোট মাপের শিল্প সহ, জহুরির কারখানা থেকে ধাতব সামগ্রীর দোকান, এই দালানগুলির সাথে বাড়িগুলি নিয়ে একটি শহর গড়ে উঠেছিল।

এক সময়কার জনবহুল, সংকীর্ণ রাস্তাগুলি পাথরের টুকরো দ্বারা ঢেকে গেছে। রাস্তাগুলির উভয় পাশে উঁচু ফুটপাত এবং জল প্রণালীর দক্ষ পদ্ধতির দ্বারা সরবরাহকৃত জনসাধারণের ফোয়ারাগুলি অবস্থিত ছিল। প্রধান রাস্তাগুলির মোড়ে অদ্ভুত সাজসজ্জা দেখা যেতে পারে। আধুনিক পথচারী পারাপারের পূর্বসূরীর মত সেখানে রাস্তার মধ্যস্থানে স্থাপিত বড় বড় উঁচু পাথরের টুকরোগুলি যখন বৃষ্টি হত তখন পথচারীদের পা না ভিজিয়ে চলার সুবিধা প্রদান করত। যারা শহরের মধ্যে টানা গাড়ি চালাত তাদের এইগুলি এড়াতে কিছু দক্ষতা থাকতে হত। উঁচু পাথরগুলি, এখনও সেখানে রয়েছে! কোন কিছুই পরিবর্তিত হয়নি।

ব্যক্তিগত জীবন

এমনকি পম্পেইবাসীদের ব্যক্তিগত জীবনের গোপনীয়তা সদুত্ত্বও তারা আধুনিক লোকেদের নজর এড়াতে পারেনি। শিবিরের মধ্যে এক মল্ল যোদ্ধার বাহুতে জমকাল রত্নখচিত অলঙ্কার পরিহিত একজন মহিলাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পারেন। বাড়ি এবং দোকানগুলির দরজা সম্পূর্ণ খোলা রয়েছে। চুলার উপর কড়াই, তন্দুরের মধ্যে কাঁচা রুটি এবং দেওয়ালের উপর ঠেস দেওয়া বড় কলসিগুলিসহ রান্নাঘরগুলিকে কয়েক মিনিট আগে পরিত্যাগ করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। কক্ষগুলি জমকাল প্লাস্টার, চিত্রকর্ম এবং শিল্পকর্মগুলি দ্বারা সজ্জিত, যেখানে ধনীরা বিস্ময়কর সূক্ষ্ম কাজের রৌপ্যের পেয়ালা এবং পাত্রগুলি ব্যবহার করার দ্বারা, স্বচ্ছন্দে ভোজের আয়োজন করত। শান্তিপূর্ণ আভ্যন্তরীণ বাগানগুলি স্তম্ভশ্রেণীর দ্বারা পরিবেষ্টিত এবং মনোরম ফোয়ারাগুলি দ্বারা সজ্জিত যা এখন অকেজো হয়ে গেছে। নিখুঁত কারিগরি দক্ষতার মার্বেল ও ব্রোঞ্জের মূর্তিগুলি এবং গৃহ দেবতাদের বেদীগুলিও দেখা যায়।

অপরপক্ষে, অধিকাংশের জীবন ধারা ছিল অত্যন্ত সাধারণ। যাদের বাড়িতে রান্নার সুযোগসুবিধা ছিল না তারা বারংবার অসংখ্য পানশালাগুলিতে যেত, যেখানে তারা কম খরচে, খোশ গল্প করতে, জুয়া খেলতে অথবা খাবার ও পানীয় কিনতে পারত। এইগুলির মধ্যে কয়েকটি সম্ভবত পতিতালয় ছিল যেখানে, খদ্দেরদের মদ সরবরাহ করার পর, পরিচারিকারা, যাদের অধিকাংশই ক্রীতদাসী তারা পতিতা হিসাবে কাজ করত। এইধরনের অসংখ্য পানশালার পাশাপাশি, খনিত এলাকার বহু স্থানে পতিতালয় আবিষ্কৃত হয়েছে। এইগুলি প্রায়ই অত্যন্ত অশ্লীল চিত্রকর্ম এবং লেখাগুলি দ্বারা চিহ্নিত ছিল।

এখন নীরব থাকার সময় নয়

পম্পেই শহরের আকস্মিক ধ্বংস একজনকে ভাবিয়ে তোলে। স্পষ্টতই, হাজার হাজার লোকেরা যারা প্রাণ হারিয়েছে তারা আসন্ন দুর্দশার বিপদ সংকেতগুলির প্রতি যথেষ্ট তৎপরতার সাথে সাড়া প্রদান করেনি। তারা পুনঃ পুনঃ সংঘটিত ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির প্রচণ্ড বিস্ফোরণ এবং ল্যাপিল্লির ভয়ংকর বৃষ্টিকে উপেক্ষা করেছিল। সম্ভবত তারা তাদের আরামদায়ক জীবন এবং সম্পদগুলি ছাড়তে চায়নি বলে ইতস্ততঃ করেছিল। তারা হয়ত আশা করেছিল পূর্বের মত, তাদের বিপদ কেটে যাবে অথবা পরিস্থিতি অধিকতর খারাপ হলে তখনও পলায়নের সময় থাকবে। দুঃখের বিষয়, তারা ভ্রান্ত হয়েছিল।

শাস্ত্র আমাদের জানায় যে আজকে সমস্ত জগৎ একই অবস্থায় রয়েছে। কলুষিত সমাজ যেখানে আমরা বাস করি তা ঈশ্বরের নিকট হতে বিচ্ছিন্ন। এই সমস্ত কিছু আকস্মিকভাবে ধ্বংস হতে যাচ্ছে। (২ পিতর ৩:১০-১২; ইফিষীয় ৪:১৭-১৯) সমস্ত প্রমাণ ইঙ্গিত দেয় যে সেই সময় সন্নিকট। (মথি ২৪:৩-৪২; মার্ক ১৩:৩-৩৭; লূক ২১:৭-৩৬) আর পম্পেই শহরের করুণ ধ্বংসাবশেষ সিদ্ধান্তহীনতার বোকামির নীরব সাক্ষী হিসাবে দাঁড়িয়ে আছে।

[২০ পৃষ্ঠার বাক্স]

খ্রীষ্টীয় ক্রুশগুলি?

একটি বেকারির দেওয়ালের চিত্রকর্ম সহ, পম্পেই শহরে বিভিন্ন প্রকারের ক্রুশ পুনরুদ্ধার করা হয়েছিল। এইগুলির প্রাপ্তিকে কয়েকজন সা.কা. ৭৯ সালে ধ্বংস হওয়ার পূর্বে শহরে খ্রীষ্টানদের উপস্থিতির প্রমাণ হিসাবে ব্যাখ্যা করে। এটি কি যুক্তিযুক্ত অনুমান?

স্পষ্টতই না। আন্তুনিয়ো ভারোন তার প্রিজেন্স গুইডাইকি এ ক্রিসটেইন অ্যা পম্পে (পম্পেই শহরে যিহূদী ও খ্রীষ্টানদের উপস্থিতি) নামক বইতে বলেন, “ক্রুশের পূর্ণ উপাসনা খুঁজতে চাইলে আমাদের চতুর্থ শতাব্দী পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে, যখন সম্রাটের এবং পৌত্তলিক জনসাধারণের ধর্মান্তরিতকরণের ফলে ক্রুশের এইরূপ উপাসনা তাদের আধ্যাত্মিকতার সাথে আরও বেশি যুক্ত হয়েছিল।” ভারোন আরও বলেন, “এমনকি দ্বিতীয় ও তৃতীয় শতাব্দী এবং কনস্টেনটাইনের সময় পর্যন্ত খ্রীষ্টতদুত্ত্বর সাথে এইরূপ প্রতীকের স্পষ্ট যোগাযোগ খুঁজে পাওয়া দুর্লভ ছিল।”

যদি এইরূপ প্রতীক খ্রীষ্টধর্মের না হয়, তবে এর উৎপত্তি কোথা থেকে? এই প্রতীক যাকে ক্রুশ বলে মনে করা হত তার শনাক্তিকরণ সম্বন্ধে সন্দেহ আছে এবং একই বেকারিতে সর্পের আকারবিশিষ্ট দেবতার চিত্রকর্ম পাওয়া যায়। এছাড়াও “কিছু অত্যন্ত অশ্লীল বস্তু পাওয়া যায় যা বেকারির মালিককে খ্রীষ্টান বলে অনুমান করার সাথে সামঞ্জস্য বিধান করা কঠিন,” ভারোন বলেন। তিনি আরও বলেন, “এটি জানা যায় যে সভ্যতার শুরুতে, যে কোন উপায়ে পরিত্রাণের চিহ্নে পরিণত হবার পূর্বে, ক্রুশাকৃতির প্রতীক স্পষ্টতই জাদু এবং প্রথাগত অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত হত।” এই লেখক ব্যাখ্যা করেন যে, প্রাচীনকালে, ক্রুশকে মন্দ প্রভাব প্রতিহত অথবা ধ্বংস করার উপযুক্ত হিসাবে চিন্তা করা হত এবং প্রধানতঃ মন্ত্রপূত তাবিজ হিসাবে ব্যবহৃত হত।

[১৯ পৃষ্ঠার চিত্র]

নেপথ্যে ভিসুভিয়াস পর্বত সহ কালেগূলা তোরণ

[১৯ পৃষ্ঠার চিত্র]

উপরে: পম্পেই বাসীদের প্লাস্টার দেহ

বামে: নেরো তোরণ এবং জুপিটার মন্দিরের কিছু অংশের দৃশ্য

[১৯ পৃষ্ঠার চিত্র সৌজন্য]

Vertical borders: Glazier

Photos on pages 2 (bottom), 22, and 23: Soprintendenza Archeologica di Pompei

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার