যুদ্ধের স্মৃতিগুলির মাঝে শান্তির জন্য প্রার্থনা
নভেম্বর ১৯৯৪ সালে, পোপ জন পল ২য়, ভ্যাটিকানে একটি বিশাল-নির্বাচনার্থক অধিবেশন ডাকেন। জগতের শান্তি সম্বন্ধীয় প্রার্থনাই ছিল অনুষ্ঠানটির বৈশিষ্ট্য। “অতীতে এবং এমনকি বর্তমানের যত সংঘর্ষ আছে,” পোপ তার বক্তৃতার শুরুতেই বলেন, “আমাদের সাধারণ কর্ম ও কর্তব্য হল ধর্ম এবং শান্তির মধ্যে যে সম্পর্ক তা আরও ভালভাবে সর্বজনবিদিত করে তোলা।”
কর্তৃত্বব্যঞ্জকরূপে বলা যায়, এর পরিপ্রেক্ষিতে জগতের ধর্মগুলির খুব দুর্নাম রয়েছে। অধিবেশনের সেক্রেটারি-জেনেরাল, উইলিয়াম ভেন্ডলি স্বীকার করেন যে “পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে ধর্মগুলি নানান রকমের সংঘর্ষের মধ্যে গভীরভাবে লিপ্ত।” বিবেচনা করে দেখুন রুয়াণ্ডার নির্দয় হত্যাকাণ্ডের কথা যেটি হল প্রধানত রোমান ক্যাথলিকদের দেশ।
মে ১৯৯৪ সালে, পোপ জন পল ২য় স্বীকার করেন যে রুয়াণ্ডার এই দুঃখজনক ঘটনা “প্রকৃতপক্ষে ও বাস্তবিক রূপে এক সাম্প্রদায়িক বিলোপসাধন ছিল, আর দুঃখের বিষয় যে, এমনকি ক্যাথলিকরাও এর জন্য দায়ী।” ক্যাথলিকদের এই অংশগ্রহণ কি গির্জার সম্বন্ধে লোকেদের বিশ্বাসকে প্রভাবিত করেছিল? “এই ধ্বংসাত্মক ঘটনা অনেক লোকের বিশ্বাসকে নাড়িয়ে দিয়েছিল,” এক বেলজিয়ান জেসুইট, আন্দ্রে বুলিয়ট, এই মন্তব্য করেন। আর এর পিছনে উত্তম কারণও ছিল।
মিয়ামি হেরাল্ড-এ প্রকাশিত রয়টার অনুসারে, “৪০,০০০ হুটু বন্দীদের মধ্যে যাজক, প্যাস্টার ও নানরাও অন্তর্ভুক্ত ছিল, যারা সাম্প্রদায়িক বিলোপসাধনের অপরাধে বিচারের অপেক্ষায় ছিল।” দ্যা নিউ ইয়র্ক টাইমস রিপোর্ট করে: “অনেক রুয়াণ্ডার বাসিন্দারা জানায় যে তাদের বিশপ ও আর্চবিশপেরা এই ধ্বংসাত্মক কাজগুলির প্রতি তাড়াতাড়ি অথবা দৃঢ়তার সাথে তিরস্কার করেনি এবং তারা হাবিয়ারিমানা সরকারের সঙ্গে খুবই ঘনিষ্ঠ ছিল, যারা হত্যাকারী সৈন্যদলকে অনুশীলন দিতে সাহায্য করত। অন্ততপক্ষে একটি যাজককে ধ্বংসাত্মক কাজের সাথে লিপ্ত থাকার অভিযোগে নতুন টুটসি পরিচালিত সরকারের দ্বারা গ্রেপ্তার করা হয়।” এটা আশ্চর্যের বিষয় নয় যে, “নতুন সরকার,” টাইমস পত্রিকা আরও বলে, “জানায় যে এটি চায় না যে ক্যাথলিক গির্জা আগের মত ক্ষমতাশালী হয়ে উঠুক এবং সৈন্যেরা সেইসব যাজকদের নাজেহাল করেছে এমনকি গ্রেপ্তার করার হুমকিও দিয়েছে যারা অত্যন্ত স্পষ্টবাদী ও স্বাধীনচেতা।”
রক্তের দায়ে দোষী ধর্মীয় মতবাদীদের দ্বারা অর্পিত শান্তির প্রার্থনা যিহোবা ঈশ্বর কী চোখে দেখেন? যিশাইয় ১:১৫ পদ উত্তর দেয়: “তোমরা অঞ্জলি প্রসারণ করিলে আমি তোমাদের হইতে আমার চক্ষু আচ্ছাদন করিব; যদ্যপি অনেক প্রার্থনা কর, তথাপি শুনিব না; তোমাদের হস্ত রক্তে পরিপূর্ণ।”
অপরদিকে, যিহোবার প্রকৃত দাসেরা “জগতের নয়” এবং তার সংঘর্ষেরও অন্তর্ভুক্ত নয়। রুয়াণ্ডায় নির্দয় হত্যাকাণ্ডের সময়, যিহোবার সাক্ষীদের প্রত্যেকটি সম্প্রদায় বিপর্যস্ত সাক্ষীদের অপর সম্প্রদায়ের জন্য নিজেদের ঘরে আশ্রয় দেয় আর এইভাবে তারা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের রক্ষা করে। সাক্ষীদের “বিস্তর লোক”, পৃথিবীর সমস্ত সাম্প্রদায়িক পটভূমিকা থেকে একত্রিত হয়ে, একমাত্র প্রকৃত শান্তি ও নিরাপত্তা হিসাবে ঈশ্বরের রাজ্যের জন্য প্রার্থনা ও প্রচার করে।—যোহন ১৭:১৪; প্রকাশিত বাক্য ৭:৯; মথি ৬:৯, ১০; ২৪:১৪.
[২৪ পৃষ্ঠার চিত্র সৌজন্যে]
Luc Delahaye/Sipa Press