ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • g৯৫ ১০/৮ পৃষ্ঠা ৬-৮
  • আসক্ত জুয়াড়িরা—সবক্ষেত্রেই ব্যর্থ

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • আসক্ত জুয়াড়িরা—সবক্ষেত্রেই ব্যর্থ
  • ১৯৯৫ সচেতন থাক!
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • জুয়াখেলার নবপ্রবিষ্টেরা—যুবকবৃন্দ!
    ১৯৯৫ সচেতন থাক!
  • আমি জুয়া খেলায় আসক্ত! আমি কিভাবে জুয়া খেলা বন্ধ করতে পারি?
    ১৯৯৩ সচেতন থাক!
  • পাঠকদের থেকে প্রশ্নসকল
    ২০০২ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • বাইবেল কি জুয়াখেলাকে নিন্দা করে?
    ২০১১ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
আরও দেখুন
১৯৯৫ সচেতন থাক!
g৯৫ ১০/৮ পৃষ্ঠা ৬-৮

আসক্ত জুয়াড়িরা—সবক্ষেত্রেই ব্যর্থ

“জুয়াখেলার প্রতি আসক্তি হল এক ধরনের রোগ ঠিক যেমন মদ ও ড্রাগের প্রতি আসক্ত হওয়াও হল একটি রোগ,” ফ্রান্সের এক অধ্যাপক, জ্যাঁ অ্যাডিস ঘোষণা করেন। “এটি ড্রাগ ছাড়াই এক ধরনের আসক্তি,” তিনি বলেন আর “ক্রমবর্ধমান সংখ্যায় লোকেরা আবিষ্কার করছে যে তারা এর প্রতি আসক্ত।” এমনকি যদিও বা আসক্ত জুয়াড়িরা অনেক টাকা হেরেও যায়, তবুও তারা সেই হেরে যাওয়া টাকাকে ফিরে পাওয়ার জন্য আরও বেশি পরিমাণে জুয়া খেলে থাকে। “অধিকাংশ হেরে যাওয়া খেলোয়াড়িরা অতি শীঘ্রই তাদের হতাশাকে ভুলে যায়। কিন্তু কিছু লোকের ক্ষেত্রে, জুয়াখেলার প্রবণতা এতই অনিয়ন্ত্রিত হয়ে ওঠে যে এটি তাদের জীবন নষ্ট করে দেয়,” ফ্রান্সের এক সংবাদদাতা লেখেন। “তারা অনবরত নিজেদের কাছে প্রতিজ্ঞা করে যে এই অভ্যাস তারা ছেড়ে দেবে, কিন্তু কোন রকমভাবেই তারা তা করতে পারে না। তারা জুয়াখেলার প্রতি আসক্ত হয়।”

দক্ষিণ আফ্রিকার এক জুয়াড়ি স্বীকার করে: “আপনি যদি জুয়াখেলার প্রতি আসক্ত হয়ে থাকেন আর যদি রুলের চাকা অথবা ব্ল্যাকজ্যাক টেবিলের সামনে বসেন, তাহলে কোন কিছুই আপনার চোখের সামনে আসবে না। আপনার স্নায়ুর মধ্যে দিয়ে অ্যাডরেনালিন বয়ে চলবে আর চক্রটি আর একবার ঘোরানোর জন্য অথবা তাস পড়ার অপেক্ষায় আপনি আপনার শেষ পয়সাটুকু পর্যন্ত বাজিতে লাগিয়ে দেবেন। . . . এই অ্যাডরেনালিন সম্ভারের সুযোগ নিয়ে, দিনের পর দিন ও রাতের পর রাত আমি একনাগাড়ে জেগে থাকতে পারি, কার্ডগুলি ও তার নম্বর­গুলির প্রতি দৃষ্টি রেখে আর সেই অপরিসীম টাকা পাওয়ার জন্য আমি অনন্তকাল ধরে অপেক্ষা করতে পারি।” পরিশেষে সে বলে: “আমার মত আরও অনেকে আছে যারা একশো অথবা কয়েক হাজার র্‌যাণ্ডের মধ্যে থেমে থাকতে পারে না। আমরা জুয়া খেলেই যাব যতক্ষণ না আমাদের যা কিছু আছে তা চলে যাবে আর আমাদের পারিবারিক সম্পর্ক সম্পূর্ণরূপে ভেঙেচুরে নষ্ট হয়ে যাবে।”

নিউ ইয়র্কের সেন্ট. জনস্‌ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞানের অধ্যাপক, হেনরী আর. লেসিওর লেখেন যে জুয়াখেলায়, জেতা বা হারার প্রবণতা এতই প্রবল হয়ে ওঠে “যে বহু জুয়াড়িরা দিনের পর দিন ঘুমায় না, খায় না এমনকি বাথরুমে পর্যন্ত যায় না। এই কাজে ব্যস্ততা তাদের অন্য সমস্ত ভাবনাকে ভুলিয়ে দেয়। উৎকণ্ঠার এই মুহূর্তে, ‘উত্তেজিত’ হওয়ার প্রবণতাও দেখা যায়, যা বিশেষকরে প্রকাশ পায় ঘর্মাক্ত করতলগুলি, দ্রুত হৃদকম্পন আর বমনেচ্ছার দ্বারা।”

পূর্বকালীন জুয়াখেলায় আসক্ত এক ব্যক্তি স্বীকার করেন যে, বহুদিন ধরে তার এই অভ্যাসকে চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার পিছনে জেতবার বিষয়টি ছিল না, বরঞ্চ “উত্তেজনার,” ব্যাপারটি ছিল অর্থাৎ জুয়াখেলার উত্তেজনাটাই আসল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। “জুয়াখেলা এক অসাধারণ উগ্র মনোভাবের সৃষ্টি করে,” তিনি বলেন। “যখন রুলের চাকা ঘুরতে থাকে, যখন আপনি অপেক্ষা করে থাকেন এর ফল জানার জন্য, তখন এমন এক মুহূর্তের সৃষ্টি হয় যার ফলে আপনার মাথা ঘুরতে থাকবে আর আপনার প্রায় অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মত অবস্থা হবে।” আন্দ্রে নামক এক ফরাসী জুয়াড়ি স্বীকার করেন: “আপনি যখন একটি ঘোড়ার উপর ১০,০০০ ফ্র্যান্ক বাজি রাখেন আর যখন দেখেন যে দৌড় শেষ হওয়ার জন্য এখনও ১০০ মিটার বাকি আছে, তখন কেউ যদি আপনাকে এসে খবর দেয় যে, আপনার স্ত্রী অথবা আপনার মা মারা গেছেন তখন আপনি সেই বিষয়টি নিয়ে চিন্তাই করবেন না।”

আন্দ্রে বর্ণনা করেন যে বড় রকমভাবে হেরে যাওয়া সত্ত্বেও কিভাবে তিনি জুয়াখেলা চালিয়ে গেছেন। তিনি ব্যাঙ্ক, বন্ধুদের এবং টাকা ধার দেয় যারা, তাদের কাছ থেকে বিশাল সুদের হারে টাকা ধার নিতেন। তিনি চেক বই চুরি করতেন এবং পোস্ট অফিসের পাশ বই পর্যন্ত জাল করতেন। ক্যাসিনোতে গিয়ে তিনি একাকী স্ত্রীলোকেদের প্রতারণা করতেন আর তাদের ক্রেডিট কার্ড নিয়ে উধাও হয়ে যেতেন। “সেই সময়,” একজন ফরাসী সংবাদদাতা লেখেন, আন্দ্রে “এমনকি তার এই বিপর্যস্ত অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে সামলে নেওয়ার প্রয়োজন পর্যন্ত বোধ করেনি। তার এই আসক্তিই ছিল ঘুরে বেড়ানোর পিছনে এক প্রধান কারণ।” তিনি অপরাধের পথ অবলম্বন করেন এবং তাকে জেলে পাঠানো হয়। তার বিবাহ পর্যন্ত ভেঙে যায়।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে জুয়ার প্রতি আসক্ত ব্যক্তিরা, ড্রাগের ও মদের প্রতি আসক্ত ব্যক্তিদের মতই জুয়া খেলেই চলে, যদিও এর জন্য তাদের হয়ত নিজেদের চাকুরি, ব্যবসা, স্বাস্থ্য এবং পরিশেষে তাদের পরিবারকে পর্যন্ত বিসর্জন দিতে হয়।

ফ্রান্সের অনেক শহর সম্প্রতিকালে তাদের জুয়াখেলার আস্তানা খুলেছে। যেখানে অন্যান্য ব্যবসাগুলি ভেঙে পড়েছে, সেখানে বন্ধকী ব্যবসা উত্তম গতিতে সমৃদ্ধি লাভ করছে। মালিকেরা জানায় যে প্রায়ই জুয়াড়িদের সমস্ত অর্থ ও ট্রেইড রিংস, ঘড়ি, পোশাক ও অন্যান্য মূল্যবান বস্তুগুলিকে হারাতে হয় গাড়ির তেল জোগাড় করতে যাতে করে তারা বাড়িতে ফিরে যেতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলবর্তী কয়েকটি শহরে, নতুন কিছু বন্ধকী দোকান খোলা হয়েছে; আর কয়েকটি জায়গায় একই ধারে তিনটি অথবা চারটি দোকান বা তারও বেশি একসাথে পর পর দেখতে পাওয়া যায়।

অনেকে আবার তাদের এই জুয়াখেলার অভ্যাসকে চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য অপরাধের জীবনকে বেছে নিয়েছে। অধ্যাপক লেসিওর দ্বারা পরিচালিত সমীক্ষাগুলির তথ্য অনুসারে, “আসক্ত জুয়াড়িদের মধ্যে ব্যাপকভাবে বিভিন্ন রকমের বেআইনি আচরণগুলি প্রকাশ পেযেছে . . . চেক জালিয়াতি, অর্থ তসরুফি, চুরি, সশস্ত্র ডাকাতি, পেশাধারি ঘোড়দৌড়, প্রতারণা, ভুয়ো জুয়াখেলা চালানো এবং চুরি করা দ্রব্য বিক্রি করা।” এর সাথে যোগ দিতে হয় ছদ্মবেশী অপরাধগুলিকেও যেখানে জুয়াড়িরা তাদের নিয়োগকর্তাদের কাছ থেকে চুরি করে থাকে। ইনস্টিটিউট ফর দ্যা এডুকেশন অ্যান্ড ট্রিটমেন্ট অফ কম্পালসিভ গ্যাম্বলারস, নামক এই সংগঠনের ডিরেক্টর, গেরি টি. ফুলকারের কথা অনুসারে সহস্রাধিক আসক্ত জুয়াড়ি হিসাবে প্রমাণিত ব্যক্তিদের মধ্যে ৮৫ শতাংশই স্বীকার করেছে যে তারা তাদের নিয়োগকর্তাদের ঠকিয়ে থাকে। “বস্তুতপক্ষে, কেবলমাত্র অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দেখতে গেলে, জুয়াখেলার প্রতি আসক্তি হল মদ ও নেশাকর দ্রব্যের অপব্যবহারের চাইতেও আরও অনেক বেশি খারাপ,” তিনি বলেন।

আরও অতিরিক্ত গবেষণা দেখায়, যে কারাবদ্ধ হয়নি এমন আসক্ত জুয়াড়িদের মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এবং কারাবদ্ধদের মধ্যে ৯৭ শতাংশ জুয়াখেলার জন্য টাকা যোগাড় করতে অথবা জুয়া সংক্রান্ত ধার মেটানোর জন্য বেআইনি আচরণের মধ্যে লিপ্ত হয়েছে। ১৯৯৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গাল্ফের উপকূলবর্তী শহরগুলিতে, যেখানে আইনত জুয়াখেলা ব্যাপক প্রসারী, সেখানে ১৬টি ব্যাঙ্ক ডাকাতির ঘটনা ঘটে, যা হল গত বছরের তুলনায় চারগুণ বেশি বৃদ্ধি। একজন ব্যক্তি মোট আটটি ব্যাঙ্ক লুট করে ৮৯,০০০ ডলার টাকা ব্যয় করে তার জুয়াখেলার অভ্যাসকে চালিয়ে নিয়ে যেতে। অন্যান্য ব্যঙ্কগুলিতে জুয়াড়িরা বন্দুক দেখিয়ে জোর করে বিশাল অঙ্কের টাকা আদায় করে নেয়।

“যখন আসক্ত জুয়াড়িরা এই অভ্যাসটিকে ছাড়তে চায় তখন তা তাদের পক্ষে খুব কঠিন হয়ে পড়ে, ঠিক যেমন ধূমপায়ী অথবা নেশাকর দ্রব্যের প্রতি আসক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে,” দ্যা নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়। অবশ্য, জুয়াড়িরা স্বীকার করে যে অন্যান্য অভ্যাস ছেড়ে দেওয়ার তুলনায় জুয়াখেলার অভ্যাস ছাড়া অনেক বেশি কষ্টকর। “আমাদের মধ্যে অনেকের আবার মদ ও ড্রাগের অপব্যবহার করারও অভিজ্ঞতা আছে,” একজন বলে “এবং আমরা সকলে স্বীকার করি যে জুয়াখেলার প্রতি আসক্তি হল যে কোন আসক্তির চাইতে অনেক বেশি খারাপ।”। হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আসক্তি সংক্রান্ত গবেষণা কেন্দ্রের সাথে সংযুক্ত ডা. হাওয়ার্ড শেফার বলেন যে, আসক্ত জুয়াড়িদের মধ্যে যারা এই অভ্যাসকে বর্জন করার চেষ্টা করছে, তাদের মধ্যে কমপক্ষে অন্তত ৩০ শতাংশ “বিরক্তিবোধ অথবা পেট ব্যথা, অনিদ্রা, স্বাভাবিকের চেয়ে অধিক রক্ত ও স্নায়ু চাপ ভোগ করে থাকে।”

এমনকি তারা যদি বাজি খেলেই চলে, ডা. ভ্যালেরি লোরেন্জ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাল্টিমোর, মেরিল্যান্ডের, ন্যাশনাল সেন্টার ফর প্যাথালজিকাল গ্যাম্বলিঙের ডিরেক্টর জানান যে আসক্ত “জুয়াড়িরা চিকিৎসাগত সমস্যাগুলির সম্মুখীন হয় যেমন: দীর্ঘস্থায়ী মাথা ব্যথা, কপালের একধারে মাথা ধরে থাকা, নিঃশ্বাসের কষ্ট, বুক ব্যথা, হার্ট অ্যারিথমিয়াস এবং হাত ও পা অবশ হয়ে যাওয়া।”

এছাড়াও আছে আত্মহত্যার বিষয়টি। সাধারণভাবে যাকে বলা হয়ে থাকে “প্রাণনাশকহীন আসক্তি” যার ফলে মৃত্যু ঘটে, এর চাইতে আরও খারাপ জিনিস আর কী হতে পারে? উদাহরণস্বরূপ, আমেরিকার একটি দেশে, যেখানে সম্প্রতি জুয়াখেলার ক্যাসিনো খোলা হয়েছে সেখানে, “অপ্রত্যাশিতভাবে আত্মহত্যার হার দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে,” দ্যা নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকা রিপোর্ট করে, “যদিও কোন স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্তৃপক্ষ এই বৃদ্ধিকে জুয়াখেলার সাথে সম্পর্কযুক্ত বলে মেনে নিতে চায়নি।” দক্ষিণ আফ্রিকায়, তিনজন জুয়াড়ি এক সপ্তাহের মধ্যে আত্মহত্যা করে। জুয়াখেলার হেতু এবং আইন অথবা বেআইনি উপায়ে এইভাবে ধার নেওয়ার জন্য, প্রকৃতপক্ষে কতজন আত্মহত্যা করে থাকে তার হিসাব পাওয়া যায়নি।

জুয়াখেলার এই মন্দ অভ্যাসের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আত্মহত্যার সাহায্য নেওয়া কতই না এক দুঃখময় পথ। পরবর্তী প্রবন্ধে, বিবেচনা করে দেখুন যে কিভাবে কিছু ব্যক্তি এক উত্তম পথ খুঁজে পেয়েছে।

[৬ পৃষ্ঠার ব্লার্ব]

বন্ধকী দোকানগুলি সমৃদ্ধি লাভ করছে​—⁠আর তার সাথে অপরাধও

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার