যথেষ্ট পরিমাণে কি জল থাকবে?
“পৃথিবীতে মোট যত জলের আয়তন আছে তার মধ্যে কেবল ২ শতাংশ হল স্বচ্ছ জল আর ২/৩ হিম প্রদেশে বরফের আকার ধারণ করে রয়েছে আর এর ফলে আমাদের কাছে ১ শতাংশেরও [কম] বিশুদ্ধ জল তরল আকারে এসে পৌঁছায়।”—রিসার্চ অ্যান্ড এক্সপ্লোরেশন, ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক পাবলিকেশন।
আপনার ঘরে কি প্রচুর পরিমাণে পানীয় জল আছে? তাহলে আপনি নিশ্চয়ই অল্প কিছু ব্যক্তিদের মধ্যে একজন যার এই সুবিধা রয়েছে। কোটি কোটি লোককে বহু কিলোমিটার দূরে গিয়ে জল বয়ে আনতে হয়—আর এর পরেও দেখা যায় যে তা পান করার অযোগ্য। অন্যান্যদের আবার এই মূল্যবান তরল পদার্থটিকে জোগাড় করার জন্য জনসাধারণের কল অথবা জল সরবরাহকারী ট্রাকের সামনে লাইন দিতে হয়। রিসার্চ অ্যান্ড এক্সপ্লোরেশন জানায় যে: “যতই জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, ততই জলের ব্যবহার ও তার নিয়ন্ত্রণের সমস্যা বাড়ছে। এই সমস্যাগুলি পৃথিবীর উন্নতিশীল দেশগুলিতে আরও জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে যেখানে ১০০ কোটি লোকের পক্ষে ইতিমধ্যেই পানীয় জল জোগাড় করা কঠিন অথবা দুষ্প্রাপ্য হয়ে দাঁড়াচ্ছে।” এর অর্থ হল যে পৃথিবীর মোট জনসংখ্যা অনুসারে ৫ জনের মধ্যে ১ জনের পক্ষে ব্যবহার করার মত জল পাওয়া মুশকিল হয়ে পড়ছে।
জলের এই অভাবের ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ সংঘর্ষের বীজ এখনই বপন করা শুরু হয়ে গেছে। একজন বিশেষজ্ঞ জানান: “ক্রমবর্ধমান সংখ্যায় লোকেদের পক্ষে তাদের জীবনধারা উন্নতি করা সম্ভব হয়ে উঠবে না, বস্তিতে থেকে দারিদ্র, সাংস্কৃতিক মূল্যের অভাব ও সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ থেকে বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা পানীয় জলের, চাষ করার জন্য জমির এবং বাস করার জন্য স্থানের অভাব এই প্রচেষ্টাকে নিষ্ফল করে দেবে।”
এই মূল্যবান তরল পদার্থটিকে সঠিকভাবে ব্যবহার করার জন্য আমরা ব্যক্তিগতভাবে কী করতে পারি? পরিমিতভাবে ও সচেতনতার সাথে ব্যবহার করুন—এটি মূল্যবান ও এর শেষ আছে।
১) জল নষ্ট করবেন না। অকারণে কল খুলে রাখবেন না—যেমন দাঁত মাজা অথবা দাঁড়ি কামানোর সময়। সাওয়ারের তলায় অনেকক্ষণ থাকবেন না—এই ভেবে যে আপনার খুবই সৌভাগ্য, আপনার কাছে সাওয়ারে স্নান করার মত সুবিধা আছে!
২) জল নষ্ট বা দূষিত করবেন না। আপনি যেখানে থাকেন সেখান থেকে যদি কোন দূষিত নদী বা জলধারা বয়ে যায় তাহলে মনে রাখবেন যে উপরাঞ্চলে থাকে এমন কোন ব্যক্তি যে আপনার সমাজের গুরুত্বপূর্ণ জীবন রেখাটিকে নষ্ট করে দিচ্ছে। প্রায়ই এই দূষণের জন্য দায়ী থাকে শহরের কর্তৃপক্ষেরা, শিল্পপতিরা, কৃষকেরা ও অন্যান্য ব্যক্তিবিশেষেরা যারা তাদের রাসায়নিক উৎপাদনের আবর্জনাগুলি নদী বা জলধারার মধ্যে ফেলে থাকে।
যেভাবে আমরা আমাদের এই গ্রহের ব্যবহার করে থাকি তার জন্য পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা ও মালিক ঈশ্বরের কাছে আমাদের জবাবদিহি করতে হবে। বাইবেল ভবিষ্যদ্বাণী করে যে যিহোবা অবশ্যই ‘পৃথিবীর নাশকদিগকে নাশ করবেন।’—প্রকশিত বাক্য ১১:১৮.