লোহিত সাগরের
ঢেউয়ের তলায় বিস্ময়
লোকে বলে যে সুন্দরতা হল উপর উপর। কিন্তু আসল সুন্দরতা থাকে উপরের স্তরের নিচে—এবং সেটি শুধুমাত্র লোকেদের ক্ষেত্রেই খাটে না। আমি আবিষ্কার করি যে এই বিষয়ে লোহিত সাগর সত্য প্রমাণিত হয়। ফাঁকা উপকূল আমাকে বুঝতেই দেয়নি যে অতিমনোরম সৌন্দর্য সেই সাঁতারুকে চমকে দেবে যে জলের উপরের স্তরের নিচে দেখবে।
লোহিত সাগর হল জগতের মধ্যে প্রবাল-প্রাচীর অনুসন্ধান করার সবচেয়ে আগ্রহের জায়গা। তাই আমার সচক্ষে দেখবার ইচ্ছা ছিল যে সেটি সঠিক কি না।
যখন আমি তা দেখলাম, আমি সেই বিষয় আরও ভালভাবে জানতে ইচ্ছুক হলাম। সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানী এরন মিরোজ, যিনি লোহিত সাগরের সামুদ্রিক জীবন সম্বন্ধে বিশেষজ্ঞ তিনি আমার প্রশ্নের উত্তর দেন।
লোহিত সাগরের জল কেন এত উৎপাদনশীল?
“লোহিত সাগর বাধাস্বরূপ দেখায় ও কাজ করে এবং ভারত মহাসাগরের অনেক মাছ সংগ্রহ করে। তার উপর প্রচুর অতুলনীয় প্রবাল আছে। এক বর্গ মিটার পাথরে আপনি অনেক সময় ২০টি বিভিন্ন রকমের প্রবাল দেখতে পাবেন। প্রবাল গড়ে ওঠার জন্য যে বস্তুটি সাহায্য করে তা হল সঠিক তাপ মাত্রা, যা বছরে শুধু কয়েক মাত্রা ওঠা নামা করে। তার উপর খুব কম মাত্রায় বৃষ্টিপাত হওয়ার অর্থ হল খুব কম পলিমাটি সাগরে আসতে পারে। এর ফলে পরিবেশ দূষণের উপাদানগুলির মাত্রা কম হয়, তবুও আমাকে দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে যে বিগত ১৫ বছরে পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেছে।”
এই সামুদ্রিক সম্পদকে রক্ষা করতে কী সমস্যা আসে?
“যখন দূষণ মুক্ত পরিবেশের সঙ্গে কাজ করি, সবচেয়ে বড় সমস্যা হল দূষণ। লোহিত সাগরে দূষণ তিনটি মুখ্য কারণ থেকে আসে: ফস্ফরাস্, মাছ চাষ আর উপকূলবর্তী শহরগুলি থেকে আবর্জ্জনা। ডুবুরির স্থানগুলির জনপ্রিয়তা সমস্যা হতে পারে। কোমল প্রবাল প্রাচীর সহজেই অসতর্ক ডুবুরির দ্বারা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।”
আপনি লোহিত সাগরের প্রবাল প্রাচীর সম্বন্ধে অনেক বছর ধরে পড়াশুনা করছেন। আপনি কি কি জিনিস শিখেছেন?
“আমরা লক্ষ্য করেছি যে মাছেদের খাবার সময় রয়েছে। কয়েক ধরনের মাছ সকাল ৭-টায় খেতে শুরু করে, তিন ঘন্টা ধরে খায়, তারপর বিরতি, আবার দুপুরে তিন ঘন্টা খায়। কয়েকটি শুধু রাত্রে খায়। এই তালিকাগুলি খুব গুরুত্বপূর্ণ। ছোট মাছেরা যদি শিকারিদের হাত থেকে বাঁচবার জন্য সকাল বেলা খেতে না পারে তাহলে তারা হয়ত খেতেই পারবে না। মানুষের মত মাছেরা খাবারের বিষয়ে খুঁতখুঁতে হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, নীল-ছোপালা গ্রুপার যারা ফেয়েরি বাসলেটস্ খেতে পছন্দ করে, যা লোহিত সাগরে সহজেই পাওয়া যায়। আমাদের আ্যকোরিয়ামে মাছগুলিরও পছন্দ আছে—কয়েকজন টিউনা পছন্দ আবার অন্যেরা সারডিন পছন্দ করে।”
“আপনি হয়ত মনে করতে পারেন যে মাছের কাছে সব মানুষেরা এক দেখতে। মাছেরা এমনকি অমেরুদণ্ডী প্রাণীরাও লোকেদের চিনতে শেখে। আমার মনে আছে একটি অক্টোপাসের বিষয় যাকে আমাদের একজন কর্মী খেলার ছলে চড় মেরে ছিল। তাকে চড় মারা সে পছন্দ করেনি আর সেই থেকে সে তার কাছ থেকে কখনও খাবার নেয়নি। প্রসঙ্গত, আমরা লক্ষ্য করেছি যে ধীর ব্যক্তিরা মাছেদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক স্থাপন করতে পারে, কিন্তু অপরপক্ষে অধীর কিংবা অধৈর্য ব্যক্তি তাদের ঘাবড়ে দেয়।”
এক নব ডুবুরিকে যা প্রভাবিত করে তা হল অতিসুন্দর সৌন্দর্য এবং রং।
“রংবেরংয়ের মাছ সত্যি প্রভাবিত করে। যা অনেকে বুঝতে পারে না তা হল যে মাছেরা রং ব্যবহার করে সংকেত হিসাবে ঠিক যেমন আমরা ট্রাফিক লাইট ব্যবহার করি। উদাহরণস্বরূপ, রেড গ্রুপার এলাকার উপর নজর রাখার সময় নয় কিন্তু যখন শিকারে বার হয় তখন এর রং কালচে লাল হয়ে যায়। ক্লাউন মাছ, যে সাধারণত গ্রুপারের শিকার হয়ে থাকে, গ্রুপারের রং দেখে বুঝতে পারে কখন গ্রুপার ‘ডিউটি থেকে অফ আছে।’ এই সময়ে ক্লাউন মাছ সাহসের সাথে গ্রুপার মাছকে তাড়িয়ে দেবে যদি তার এলাকায় চলে আসে।”
এই বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই যে ঈশ্বরের সৃষ্টির সৌন্দর্য যেখানে আমরা আশা করি না সেখানে খুঁজে পাই। শুধুমাত্র এই ছোট সৌন্দর্যের উদাহরণটি দেখে আমার জীবনকে আরও উন্নত করে দিয়েছে। ঢেউয়ের তলায় সেই একটিবার যাওয়া আমার এই গ্রহের প্রাকৃতিক ধনের প্রতি উপলব্ধিবোধ আরও বেড়ে গেছে।—প্রদত্ত। (g94 10/8)
একটি লায়েন মাছ অবসরের সাথে ঘুরে বেড়াচ্ছে, শিকারির কোন ভয় না করে। তারা দূরে দূরে থাকে কারণ তাদের কাঁটার মত ডানাগুলি অতি বিষাক্ত।
ক্লাউন মাছ খুব কমই তার ঘর থেকে বেশি দূরে যায়, তা হল বড় আ্যনিমোনের কর্ষিকার মধ্যে। এই গলা জড়ানো সে বুঝতেই পারে না যখন সে আ্যনিমোনকে পরিষ্কার করে।
প্রজাপতি মাছ বিভিন্ন রংয়ের হয়। তাদের পাতলা দেহ নড়তে দেখে আমার প্রজাপতির কথা মনে পড়ে যায়।
পিকাসো মাছ জমকালো ডোরা কাটা দেখে মনে হয় উজ্জ্বল হলুদ রংয়ের লিপস্টিক পরেছে, যা আমাকে আ্যবস্ট্র্যাক্ট চিত্রকারের কথা মনে করিয়ে দেয়।
এমপারার এনজেল মাছ বিভিন্ন রংওয়ালা কোট পরে, যা বড় হওয়ার সাথে সাথে রং এবং নকশা পরিবর্তন করতে থাকে।