ঝকঝকে তকতকে পানকৌড়ি
“ঝকঝকে তকতকে” সঠিকভাবে পানকৌড়িকেই বর্ণনা করে। এর অর্থ হল ‘চেহারায় পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি, চলাফেরা ও আচরণে সতর্ক ও প্রাঞ্জল।’ আপনি যদি আরও মর্যাদা দিতে চান তাহলে আপনি হয়ত এর ল্যাটিন নাম ব্যবহার করতে পারেন, সিনক্লাস্ সি. গুলারিস্।
আমি প্রথম এই পানকৌড়িকে উত্তর ইংলন্ডে দ্রুত বয়ে যাওয়া একটি ছোট নদীর মাঝখানে এক বড় পাথরের উপর বসে থাকতে লক্ষ্য করি। ঠোঁট থেকে লেজের ডগা পর্যন্ত পাখিটি ছিল দৈর্ঘ্যে মাত্র ১৮ সেন্টিমিটার। গাঢ় খয়েরি রঙের পালকের ফিটফাটভাবে পরিচ্ছদ পরা পানকৌড়ি একটি পরিষ্কার সাদা বস্ত্রখণ্ড পরে আছে যা তার ঠোঁটের নিচের অংশ থেকে বুকের অর্দ্ধাংশ অবধি নেমে গেছে, ভিজে সবুজ শেওলা ঢাকা পাথরের মধ্যে তা খুবই ফুটে উঠেছে।
কাছের ঝর্ণার আওয়াজ ও কলকল শব্দকে উপেক্ষা করে পাখিটি যেন কবজা লাগানো পায়েতে দাঁড়িয়ে আছে, তার মাথাটা নিচু করে ঝাঁকাচ্ছে। হঠাৎ তা জলেতে ডুব দেয় ও নিচের দিকে “উড়ে” যায়। তারপর জলের তলাতেই হাঁটতে আরম্ভ করে খাবারের খোঁজে যা হল ক্যাডিস্ কেঁচো, জলের পোকা, জলের ছারপোকা, মাকড়সা, ব্যাঙাচি ও মেফ্লাই ও ফড়িঙের শূককীট, আবার অনেকসময় ছোট ছোট মাছ। যখন সে খাবার খোঁজে পানকৌড়ির চোখ একটি তৃতীয় নেত্রপলক দিয়ে সুরক্ষিত থাকে। যখন সে ডাঙ্গায় থাকে এই চোখের পাতাটিকে অনেকসময় দেখা যায় যখন সেটি চোখের উপর পিটপিট করে, দেখে মনে হয় যেন সে চোখ মারছে।
পানকৌড়ির পিঠের ঢাল এমনভাবে সৃষ্টি যে জলের তোড় তার মাথাটাকে নিচে নামিয়ে দেয়। তার দেহের জলের উপর ভেসে থাকার স্বাভাবিক ক্ষমতাটিকে প্রতিরোধ করতে এটি তার ডানাগুলি ব্যবহার করে। মাঝে মাঝে পানকৌড়ি শ্বাস নেওয়ার জন্য উপরে উঠে আসে ও জলের উপর ভাসে বা সাঁতার কাটে যদিও এর লিপ্তপাদ নেই। আর যখন সে পাথরে বসার জন্য আবার ফিরে আসে তখন সে সেইরকমই ফিটফাট দেখায় যেমন সে জলে ডোবার আগে ছিল।
আমি যে পানকৌড়িটিকে লক্ষ্য করছিলাম তার মনে হয় খাদ্য সংগ্রহ করা হয়ে গেছে ও ছানাগুলিকে খাওয়াবার জন্য বাসায় ফিরে এসেছে। পানকৌড়ি পাথরের মুখে, গাছের মূলের নিচে বা পাথরের খাঁজে অথবা ঝুলে থাকা ফার্ণ গাছের তলায় শুকনো ঘাস দিয়ে বুনে শেওলার তৈরি সুন্দর গম্বুজাকারের বাসা বাঁধে। কিন্তু বাসাটি এমন ছদ্মবেশে রাখা হয় যে তার নিচে দাঁড়িয়েও হয়ত বোঝা যাবে না যে সেটি সেখানে রয়েছে। আমি কিছুক্ষণ এই পাখির বাসাটি খুঁজি কিন্তু ব্যর্থ হই।
তারপর, আমি যখন আবার দেখতে আরম্ভ করি হঠাৎ পানকৌড়িটি সোজা ঝর্ণার মধ্যে দিয়ে উড়ে যায়! আমি আস্তে আস্তে স্রোতের তীর ধরে হাঁটতে হাঁটতে ঝর্ণার পিছনে যাই। এর বাসাটি ঝর্ণার পিছনে এক পাথরের ফাটলে বাঁধা ছিল। তার ছানাকে খাওয়ার জন্য এই পাখিকে জলের মধ্যে উড়ে যেতে দেখার দৃশ্যটি কতই না অপূর্ব ছিল!
ঝকঝকে তকতকে এই ছোট পানকৌড়িটি আমার দিনকে স্মরণীয় করে তুলেছিল।—নিবেদিত। (g94 3/22)