নিসঃঙ্গতা
এক গোপন নিদারুণ যন্ত্রণা
আ পনি কি ভীড়ের মধ্যে তাদের খুঁজে পান? নিঃসঙ্গতার ভাব কি তাদের মুখের মধ্যে ধরা পড়ে? যখন তারা আপনাকে অভিবাদন জানায় তখন কি তাদের হাসি সেটিকে ঢেকে ফেলে? আপনি কি তাদের হাঁটা, হাবভাব দেখে বলতে পারেন? এক বৃদ্ধকে একা পার্কের বেঞ্চিতে বসে থাকতে বা একটি যুবতীকে শিল্পকলা সংগ্রহশালায় একা থাকতে লক্ষ্য করুন—তারা কি নিঃসঙ্গতার জন্য দারুণ যন্ত্রণা পাচ্ছে? মা, মেয়ে ও নাতনি, এই তিন বংশকে দোকানের সারির সামনে আস্তে আস্তে হেঁটে যেতে লক্ষ্য করুন। তাদের দেখে মনে হচ্ছে তারা বেশ সুখী, কিন্তু আপনি কি এই সম্পর্কে নিশ্চিত? আপনার সহকর্মীদের সম্বন্ধে বিবেচনা করুন। আপনি হয়ত তাদের সুখী ব্যক্তি হিসাবে জানেন যাদের পরিবার যত্নশীল এবং তাদের ভালভাবে ভরনপোষণ করার জন্য তারা যথেষ্ট উপার্জন করে। তবুও, তাদের মধ্যে একজন কি প্রকৃতই বলতে পারেন, “আমি নিঃসঙ্গ বোধ করি”? সেই হাসিখুশি, স্বতঃস্ফূর্ত অল্পবয়সীর একা বোধ করার কী কারণ হতে পারে? এই প্রশ্নগুলির উত্তর আপনাকে হয়ত আশ্চর্যান্বিত করবে।
ওয়েবস্টারস নাইন্থ নিউ কলেজিয়েট ডিকশনারী “নিঃসঙ্গ” শব্দের সংজ্ঞা এইভাবে দেয় “নীরস বা নিরানন্দের মনোভাবের সৃষ্টিকারী।” কোন কিছুর অভাব বোধ করা, অন্তরের শূণ্যতা যা সবসময় কারুর বাহ্যিক চেহারাতে ধরা যায় না। এক গবেষিকা বলেন: “আমাদের সমাজে, নিঃসঙ্গতা হল এক গোপন বিষয় যা প্রকাশ করি না—অনেক সময় আমরা নিজেদের কাছেও প্রকাশ করতে চাই না। নিঃসঙ্গতার সাথে কলঙ্ক জড়িত আছে। লোকেদের ধারণা যে আপনি যদি নিঃসঙ্গ বোধ করেন তাহলে সেটি হল আপনার দোষ। তা না হলে আপনার প্রচুর বন্ধু থাকা উচিত, তাই নয় কি?” অনেক সময় এই বিষয়টি সত্য হতেও পারে, বিশেষকরে যদি আমরা যা যুক্তিযুক্ত তার তুলনায় অপরের কাছ থেকে বেশি আশা বা দাবি করি।
নিঃসঙ্গ মহিলারা
মনে হয় বিশেষজ্ঞরা এই বিষয়ে একমত যে, সকল বয়সের মহিলারা—বিশেষভাবে বিবাহিত মহিলারা—পুরুষদের থেকে জীবনে অনেক বেশি কিছু আশা করে। বোধসাপেক্ষরূপে, বিধবা, স্বামিত্যাগিনী স্ত্রী এবং বয়স্ক অবিবাহিতা মহিলারা অনেকসময় নিঃসঙ্গ বোধ করেন। কিন্তু, পরিবার সহ প্রায় সুখী বিবাহিতা মহিলাদের বিষয় কী? উদাহরণস্বরূপ, ৪০ বছর বয়স্ক এক শিক্ষিকার দুঃখের কথা বিবেচনা করুন: “বন্ধুদের জন্য সময় দিতে আমার কোন সময় নেই; আমি তার অভাব অত্যন্ত বোধ করি, কিন্তু তা বলতে আমি অস্বস্তিবোধ করি। নিঃসঙ্গ বোধ করা সম্পর্কে আমি কিভাবে অভিযোগ করতে পারি . . . ? আমার সমস্ত পরিস্থিতি দেখলে, আমার বিবাহিত জীবন খুবই ভাল, আমার ভাল ছেলেমেয়ে, সুন্দর একটি ঘর আছে এবং আমার ভাল লাগে এমন চাকুরিও আছে। আমি যা সম্পাদন করতে পেরেছি সেই সম্বন্ধে আমি গর্বিত। কিন্তু কিছুর অভাব থেকে গেছে।”
যদিও স্ত্রীয়েরা হয়ত তাদের স্বামীদের প্রকৃতই ভালবাসতে পারে ও তাদের প্রতি তারা সম্পূর্ণ বিশ্বস্ত থাকে এবং স্বামীদের কাছ থেকেও সেইরূপ প্রতিক্রিয়া পায়, কিন্তু সেই প্রকৃতির প্রেম যে তাদের বন্ধুত্বের চাহিদাকে মিটাতে পারে তা নয়। উপরে উল্লিখিত স্কুলের শিক্ষিকাটি বলেন: “আমার স্বামী আমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু হলেও ভাল বান্ধবী থাকার অভাবকে তা পূরণ করে না। পুরুষেরা শোনে কিন্তু মহিলারা কর্ণপাত করে। আমার স্বামী জানতে চান না যে আমি কতটা বিচলিত। তিনি শীঘ্রই সমাধান করতে চান। কিন্তু আমার বান্ধবীরা আমাকে বলতে সুযোগ দেবে। অনেক সময় আমি শুধু কথা বলতে চাই।”
যখন কোন মহিলা মৃত্যুতে বা বিবাহবিচ্ছেদে তার প্রিয়জনকে হারায় তখন সে মানসিকরূপে অত্যন্ত বিচলিত হয়ে পড়ে। তখন নিঃসঙ্গতা আসে। শোকার্ত বিধবা বা স্বামিত্যাগিনী সমর্থনের জন্য যে শুধুমাত্র তার পরিবার বা বন্ধুবান্ধবের কাছে যাবে তা নয় কিন্তু তাকে এই নতুন বাস্তবতার সাথে মানিয়ে নিতে তার অন্তরের নিজস্ব শক্তির প্রতিও তাকাতে হবে। যদিও সে যা হারিয়েছে তা তার জীবনের চিরকালের অংশ হয়ে থেকে গেলেও, তার এই উপলব্ধি করা দরকার যে তাকে সক্রিয় থাকতে তা যেন তার জীবনে এক বাধাস্বরূপ না হয়। বিশেষজ্ঞরা দেখেছেন যে, যাদের দৃঢ় ব্যক্তিত্ব আছে তারা তাদের নিঃসঙ্গ বোধ অন্যদের থেকে আগে অতিক্রম করতে পারে।
কার অবস্থা বেশি কষ্টকর সেই নিয়ে মতবিরোধ আছে—বিধবা বা স্বামিত্যাগিনী। ৫০ বছরের পরে (ইংরাজিতে পাওয়া যায়) নামক পত্রিকাটি বলে: “যখন আমরা বিধবাদের সমর্থন দলে স্বামিত্যাগিনীদের আমন্ত্রণ জানাই, তখন দুই দলের মধ্যে এই নিয়ে তর্কবিতর্ক আরম্ভ হয় যে কাদের দুঃখ বেশি। যিনি বিধবা তিনি বলেন, ‘অন্তত আপনার সাথীটি তো জীবিত আছেন,’ আর স্বামিত্যাগিনী বলেন, ‘আপনাকে ব্যক্তিগতভাবে কেউ এমনভাবে অস্বীকার করেনি। আপনি কখনও ব্যর্থতা বোধ করেননি।’ ”
নিঃসঙ্গ পুরুষেরা
নিঃসঙ্গতা সম্পর্কে, পুরুষেরা গর্ব করে এই বলতে পারে না যে পুরুষ ও মহিলাদের মধ্যে তারাই শক্ত হয়। “পুরুষেরা কোন কিছু মানসিকভাবে মোকাবিলা না করে দৈহিকভাবে করে থাকে,” বলেন অ্যান্ স্টাড্নার, এ এ আর পি (আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অফ রিটায়ার্ড পারসনস্)-এর বিধবাদের সেবার কার্যক্রম বিশেষজ্ঞ। “মহিলারা তাদের দুঃখ লক্ষ লক্ষ বার বলে, কিন্তু পুরুষেরা দুঃখের সাথে না থেকে পুনর্বিবাহ করে থাকে।” শোকার্ত পুরুষকে তার মানসিক অবস্থা সম্বন্ধে আস্তে আস্তে ব্যক্ত করাতে পুরুষ পরামর্শদাতাদের হয়ত বেশ অনেকটা সময় ব্যয় করতে হয়।
বিশেষজ্ঞরা এও দেখেছেন যে, পুরুষেরা মহিলাদের মত হয় না, তারা অপর কোন পুরুষের কাছে তাদের মনের কথা বলে না কিন্তু তারা মহিলার সঙ্গ চায়। রচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের নিঃসঙ্গতার সম্পর্কে এক বিশেষজ্ঞ ডা. ল্যাড হুইলার বলেন যে, পুরুষেরা মানসিকরূপে সম্পর্কযুক্ত বোধ করার মত পরস্পরের কাছে তারা গভীরভাবে দুঃখ প্রকাশ করে না। “স্ত্রীকে হারাবার পর বিভ্রান্তিকর মানসিক নিঃসঙ্গতা থেকে পালিয়ে, পরে কোন বান্ধবীর সাথে পরস্পর ভাব-বিনিময় করার ইচ্ছা হয়ত এটি ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করে যে কেন পুরুষেরা বিপত্নীক হলে বা স্ত্রীকে ত্যাগ করলে খুব শীঘ্রই পুনরায় বিবাহ করে।”—৫০ বছরের পরে পত্রিকা।
নিঃসঙ্গ অল্প বয়স্কেরা
কেন ছেলেমেয়েরা এবং যুবক-যুবতীরা নিঃসঙ্গ বোধ করে তার অনেক কারণ আছে—বয়স্ক লোকেদের মতই প্রায় তাদের কারণগুলি এক হয়ে থাকে। বন্ধুদের ছেড়ে নতুন জায়গায় যাওয়া; নতুন স্কুলের সহপাঠীরা তাকে অপছন্দ করলে; ধর্মীয় ও জাতিগত পটভূমি; ঘরেতে বিবাহবিচ্ছেদ; বাবা-মা তাকে ভালবাসে না এমন বোধ করা; বিপরীত লিঙ্গের সদস্যদের দ্বারা তাকে পরিত্যাগ—নিঃসঙ্গতা সৃষ্টিকারী বিষয়গুলির মধ্যে এই সকল উল্লেখযোগ্য।
খুব ছোটদেরও প্রয়োজন হয় কারুর সাথে খেলা করার। তাদের দরকার মানসিক সমর্থন ও বোঝাপড়া। তাদের প্রয়োজন স্নেহ এবং নিজেদের যোগ্যতার প্রতি দৃঢ় প্রত্যয়। তাদের জানা দরকার যে অপরেরাও হবে কর্তব্যনিষ্ঠ ও বিশ্বাসযোগ্য। তাদের যদি ভালবাসা হয় তারা সুরক্ষিত বোধ করে এবং তারা অপরকে ভালবাসতে শেখে। এই ধরনের সামাজিক সমর্থন আসে বিভিন্ন উৎস থেকে—পরিবার, সহসাথী ও এমনকি পোষা জন্তু-জানোয়ারের কাছ থেকেও।
ছেলে ও মেয়ে উভয়েই, স্কুলের সবচেয়ে প্রথম ক্লাস থেকে কলেজ অবধি একই পরিমাণে নিঃসঙ্গ বোধ করে, যা অনেক সময় তাদের সহসাথীরা তাদের গ্রহণ না করলে হয়ে থাকে। “আমি একা বলে আমার খুব খারাপ লাগে আর আমি কথা বলি না,” উচ্চ বিদ্যালয়ের এক ছাত্রী দুঃখ করে বলে। “আমি শিক্ষিকার কথা শুনি, স্কুলের হোমওয়ার্ক করি, তাছাড়া আর কিছুই করি না। সময় থাকলে আমি বসে বসে ছবি আঁকি বা কিছু করি। সকলে সকলের সাথে কথা বলে কিন্তু আমার সাথে কেউই কথা বলে না। . . . আমি জানি যে আমি চিরকাল কথা না বলে থাকতে পারব না। কিন্তু এখন, আমার তা করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই।”
যাইহোক, অন্য ব্যক্তিদের অনাগ্রহ বা অবজ্ঞা করাকে সব সময় দোষ দিলে চলবে না। হয়ত কোন ব্যক্তির স্বভাব বা সামাজিক দিক দিয়ে কোন অসুবিধা থাকতে পারে, যেমন সে হয়ত খুবই লাজুক, মেজাজি ও অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হতে পারে এবং তার সহসাথীর সাথে মিলেমিশে থাকতে তার অসুবিধা বোধ হতে পারে। শারীরিক অক্ষমতা এক বিনাশকারী ভূমিকা গ্রহণ করে সকল বয়সের যুবক-যুবতীদের নিঃসঙ্গ বোধ করাতে, যদি না তারা দৃঢ় এবং মিশুকে হয়।
নিজেকে সাহায্য করার প্রয়োজনটি
ক্যাল স্টেট ফুলারটন্-এর স্বাস্থ্য শিক্ষিকা ডালরস্ ডাল্কোমা, মূল সত্যটিকে শনাক্ত করেন যখন তিনি এক ব্যক্তির নিঃসঙ্গতার বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রচেষ্টা সম্পর্কে মন্তব্য করেন: “প্রচেষ্টা তার ভিতর থেকে আসা উচিত। অবশেষে তাকে তার সমস্যাটি বুঝতেই হবে, কারণ লোকেরা তাকে যতই সাহায্য করার চেষ্টা করুক না কেন তাকে খোলস থেকে বার হয়ে আসার জন্য একমাত্র একজনই সাহায্য করতে পারে, সে হল, সে নিজে।”
যারা মানিয়ে নিতে অসুবিধা বোধ করে তাদের ডা. ওয়ারেন্ জোনস্ বলেন নিঃসঙ্গ-প্রবণ ব্যক্তিত্ব: “এই ধরনের লোকেরা অজান্তেই এমন কিছু করে যা তাদের অপরের কাছে ঘনিষ্ঠ বোধ করায় না। কিভাবে কর্ণপাত করে শুনতে হবে তা অনেকে জানে না এবং তারা কথাবার্তাকে একচেটিয়া করে তোলে। তারা নিজেদের ও অপরের সম্পর্কে বেশি সমালোচক হয়; তারা খুব কমই প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করে এবং প্রায়ই দুঃখজনক বা বিরক্তিকর মন্তব্য করে বন্ধুত্ব নষ্ট করে দেয়।”
যারা সাধারণত আত্ম-বিশ্বাসের অভাব বোধ করে তাদের ছাড়াও, অন্যেরা আছে যাদের অপরকে কিছু বলতে সামাজিক দক্ষতার অভাব থাকে। তাদের সম্বন্ধে ইভ্লিন মোশেটা নামক এক মহিলা চিকিৎসক বলেন: “নিঃসঙ্গ ব্যক্তিদের নিজেদের সম্বন্ধে খুব একটা ভাল ধারণা থাকে না। তারা মনে করে যে তাদের অস্বীকার করা হবেই, তাই তারা উন্নতি করতে চায় না।”
যাইহোক, সাধারণত যা মনে করা হয় তার বিপরীতে গবেষকেরা দেখেছেন যে বয়স্ক স্ত্রী ও পুরুষেরা, কম বয়স্কদের থেকে কম নিঃসঙ্গ বোধ করে। কেন তারা এরূপ বোধ করেন এই সম্পর্কে তারা নিশ্চিত নন। তারা এও দেখেছেন যে, যদি বয়স্ক ব্যক্তিরা নিঃসঙ্গ বোধ করে তাহলে তা আত্মীয়ের অভাবের থেকেও বন্ধুর অভাবের জন্য। “বয়স্ক ব্যক্তিদের কাছে পারিবারিক সম্পর্ক যে গুরুত্বপূর্ণ নয়, তা নয়। তারা সাহায্যের জন্য পরিবারের কাছে যায়। কিন্তু তাদের সাহায্য করতে অনেক আত্মীয় থাকতে পারে কিন্তু তবুও তারা অত্যন্ত নিঃসঙ্গ বোধ করে তাদের যদি কোন বন্ধু-বান্ধব না থাকে।”
ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের প্রয়োজন
যে কোন বয়সের লোকেদের কাছে পরিবার ও আত্মীয়স্বজন যার অভাব পূরণ করতে পারে না তা অনেক সময় ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা করে থাকে। মানুষের প্রয়োজন ঘনিষ্ঠ এক বন্ধুর, যার কাছে সে সবকিছু বলতে পারে বা ব্যথা না পেয়ে নিজেকে ব্যক্ত করতে পারে। যদি সেই ধরনের কোন বন্ধু না থাকে তাহলে নিঃসঙ্গ বোধ বৃদ্ধি পেতে পারে। সেই ধরনের বন্ধু সম্পর্কে মার্কিনী প্রবন্ধকার র্যাল্ফ ওয়াল্ডো ইমারসন্ লেখেন: ‘বন্ধু হল সেই যার কাছে আমি প্রকাশ্যে চিন্তা করতে পারি।’ সেই প্রকারের ব্যক্তি এক বিশ্বাস্য ব্যক্তি হয় যার কাছে আপনি বিশ্বাসঘাতকতার কোন ভয় না করেই বা আপনার গোপন কথাগুলি আপনাকে অবজ্ঞা করতে ব্যবহার করা হবে বা সেই নিয়ে যে সকলের সাথে ঠাট্টা করা হবে বলে অত্যন্ত চিন্তিত না হয়ে আপনি সব কিছু ব্যক্ত করতে পারবেন। যাদের আপনি বিশ্বাস্য বন্ধু বলে মনে করেছিলেন তারা যে সব সময় আপনার বিশ্বাস রক্ষা করেছে তা নাও হতে পারে, কিন্তু এমন “বন্ধু” আছে যে “পরের গুপ্ত কথা প্রকাশ করে না,” এবং যে “ভ্রাতা অপেক্ষাও অধিক প্রেমাসক্ত।”—হিতোপদেশ ১৮:২৪; ২৫:৯.
আবার এমন ব্যক্তিরাও আছে যারা নিজেদের দৃঢ় বলে এবং তাদের কারুর প্রয়োজন নেই বলে মনে করে। তারা নিজেদের স্বাধীন ও আত্ম-তৃপ্ত বলে প্রকাশ করে। যাইহোক, তারা সাধারণত দলে দলে জড়ো হয় যাদের সাধারণত গুণ্ডা বলা হয়। ছোট ছেলেমেয়েদের সংঘ আছে, তারা ক্লাবঘর, দল তৈরি করে; যুবক-যুবতীরা মোটরসাইকেলের দল তৈরি করে; অপরাধীদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু আছে যারা তাদের সম্বন্ধে অন্যদের খবর দেয় না; যাদের মদ খাওয়া সম্পর্কীয় সমস্যা আছে তারা আ্যল্কহলিক্স্ আ্যনোনিমাস্ সংস্থায় যোগ দেয়; যারা অস্বাভাবিক রকমের মোটা তারা ওজন সচেতন ব্যক্তিদের সংস্থায় যোগ দেয়। লোকে সমাজবদ্ধ হয়ে থাকতে ভালবাসে; সমর্থনের জন্য তারা দলবদ্ধ হয়। এমনকি দুঃখকষ্টের সময়ও তারা সঙ্গীসাথী ভালবাসে। আর সকলেই নিঃসঙ্গতা অপছন্দ করে। নিঃসঙ্গতা সম্পর্কে কী করা যেতে পারে? (g93 9/22)
“নিঃসঙ্গ ব্যক্তিদের নিজেদের সম্বন্ধে খুব একটা ভাল ধারণা থাকে না।”