মার্চ ১৬-২২, ২০২৬
গান ২০ তোমার প্রিয় পুত্রকে দিলে
কেন আমাদের মুক্তির মূল্যের প্রয়োজন?
“এই দেহ, যা আমাকে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যাচ্ছে, সেটা থেকে কে আমাকে উদ্ধার করবে?”—রোমীয় ৭:২৪.
আমরা কী শিখব?
আমরা জানব যে, কীভাবে মুক্তির মূল্য আমাদের পাপকে ক্ষমা করে, আমাদের নিখুঁত হয়ে ওঠার আশাকে দৃঢ় করে এবং যিহোবার সঙ্গে আমাদের পুনরায় সম্মিলিত করে।
১-২. কোথা থেকে আমাদের উদ্ধারের প্রয়োজন এবং কেন? (রোমীয় ৭:২২-২৪) (ছবিও দেখুন।)
একটা দৃশ্য কল্পনা করুন। একটা বিল্ডিং ভেঙে পড়েছে এবং একজন ব্যক্তি ধ্বংসস্তূপের মাঝে আটকে পড়েছেন। তিনি বেঁচে আছেন, কিন্তু কোনোভাবেই সেখান থেকে বের হতে পারছেন না। তিনি শুধু সাহায্যের জন্য চিৎকারই করতে পারেন এবং আশা রাখতে পারেন যে, কেউ হয়তো তাকে উদ্ধার করবে।
২ আমরাও ঠিক একইরকম পরিস্থিতিতে রয়েছি। কীভাবে? আদম যখন ঈশ্বরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন, তখন তিনি পাপী হয়ে যান। আমরা যেহেতু আদমের বংশধর, তাই আমরাও আদমের কাছ থেকে সেই পাপ পেয়েছি। এর ফলে, সমস্ত মানবজাতি উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া পাপের এই ধ্বংসস্তূপের মাঝে আটকে পড়েছে আর আমরা কোনোভাবেই এর প্রভাব থেকে নিজেদের উদ্ধার করতে পারি না। প্রেরিত পৌল রোমীয়দের উদ্দেশে লেখা তার চিঠিতে সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যে, পাপী হওয়ার ফলে আমরা কেমন অনুভব করি। (পড়ুন, রোমীয় ৭:২২-২৪.) পৌল সেই ‘দেহ, যা তাকে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যাচ্ছে,’ সেটা থেকে উদ্ধার পাওয়ার জন্য বিনতি করেছিলেন। পৌল উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া পাপের জালে আটকে পড়েছিলেন, যেটা তাকে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যাচ্ছিল। (রোমীয় ৬:২৩) আমাদের পরিস্থিতিও ঠিক একইরকম। আমাদেরও এমন একজন ব্যক্তির প্রয়োজন, যিনি আমাদের এই পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করবেন!
একজন ব্যক্তি যেমন একটা ভেঙে পড়া বিল্ডিং-এর ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়েন, ঠিক একইভাবে আমরাও পাপ ও মৃত্যুর জালে আটকে পড়েছি এবং আমাদের সেখান থেকে উদ্ধারের প্রয়োজন (১-২ অনুচ্ছেদ দেখুন)
৩. কোন কোন ক্ষেত্রে মুক্তির মূল্য আমাদের উদ্ধার করে?
৩ পৌল যে শুধুমাত্র পাপ সম্বন্ধেই বলেছিলেন তা নয়, এর পাশাপাশি তিনি একটা আশার কথাও উল্লেখ করেছিলেন। “এই দেহ, যা আমাকে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যাচ্ছে, সেটা থেকে কে আমাকে উদ্ধার করবে?” এই প্রশ্ন করার পর পৌল দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “আমাদের প্রভু যিশু খ্রিস্টের মাধ্যমে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিই!” (রোমীয় ৭:২৫) পৌল এখানে যিশুর মুক্তির মূল্যের কথাই বলছিলেন।a এই মুক্তির মূল্য (১) আমাদের পাপকে ক্ষমা করে (২) আমাদের নিখুঁত হয়ে ওঠার আশাকে দৃঢ় করে এবং (৩) যিহোবার সঙ্গে আমাদের পুনরায় সম্মিলিত করে। এই বিষয়গুলো নিয়ে বিবেচনা করলে যিহোবার প্রতি আমাদের ভালোবাসা আরও বাড়বে, “যিনি প্রত্যাশা প্রদান করেন।” (রোমীয় ১৫:১৩) এ ছাড়া, যিশুর প্রতি আমাদের উপলব্ধিবোধ বাড়বে, যাঁর “মাধ্যমে মুক্তির মূল্য জোগানোর দ্বারা আমাদের মুক্ত করা হয়েছে।”—কল. ১:১৪.
মুক্তির মূল্য আমাদের পাপকে ক্ষমা করে
৪-৫. কেন প্রত্যেকটা মানুষের মুক্তির মূল্যের প্রয়োজন? (উপদেশক ৭:২০)
৪ আমাদের পাপের ক্ষমা লাভ করার জন্য মুক্তির মূল্যের প্রয়োজন। প্রত্যেকটা মানুষ অসিদ্ধতার কারণে কথায় বা কাজে পাপ করে ফেলে। (পড়ুন, উপদেশক ৭:২০.) কিছু পাপ খুবই গুরুতর হয়। উদাহরণ স্বরূপ, মোশির ব্যবস্থা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি ব্যভিচার করত এবং কাউকে হত্যা করত, তা হলে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হত। (লেবীয়. ২০:১০; গণনা. ৩৫:৩০, ৩১) যদিও কিছু পাপ ততটাও গুরুতর নয়, তবে সেগুলোকে পাপ হিসেবেই ধরা হয়। যেমন, গীতরচক দায়ূদ বলেছিলেন: “আমি খুব সতর্ক থাকব, যেন আমি আমার জিভ দিয়ে পাপ করে না ফেলি।” (গীত. ৩৯:১, NW) হ্যাঁ, অনেকসময় আমরা আমাদের কথার মাধ্যমেও পাপ করে ফেলি।—যাকোব ৩:২.
৫ আপনি অতীতে যে-কথাগুলো বলেছিলেন অথবা কাজগুলো করেছিলেন, সেগুলো নিয়ে একবার চিন্তা করুন। আপনি কি কাউকে এমন কোনো কথা বলেছিলেন, যেগুলো আপনি ফিরিয়ে নিতে চান? আপনি কি এমন কোনো কাজ করেছিলেন, যেটার জন্য আপনার আপশোস হয়? নিঃসন্দেহে, আপনি এই প্রশ্নের উত্তরে হ্যাঁ-ই বলবেন। বাইবেল বলে: “আমরা যদি বলি, ‘আমাদের মধ্যে কোনো পাপ নেই,’ তা হলে আমরা নিজেদের ভোলাচ্ছি এবং সত্য আমাদের মধ্যে নেই।”—১ যোহন ১:৮.
৬-৭. যিহোবা কীসের ভিত্তিতে আমাদের পাপ ক্ষমা করেন? (ছবিও দেখুন।)
৬ মুক্তির মূল্যের উপর ভিত্তি করেই যিহোবা আমাদের পাপ ক্ষমা করেন। (ইফি. ১:৭) তবে, এর মানে এই নয় যে, যিহোবা আমাদের পাপগুলো উপেক্ষা করেন অথবা তিনি সেগুলোকে কোনো গুরুত্বই দেন না। যেকোনো পাপকেই তিনি গুরুতর বলে মনে করেন। (যিশা. ৫৯:২) যিহোবার নিখুঁত ন্যায়বিচারের মান অনুযায়ী, আমাদের পাপকে ক্ষমা করার জন্য একটা ভিত্তির প্রয়োজন।
৭ মোশির ব্যবস্থা অনুযায়ী ইজরায়েলীয়েরা তাদের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করার জন্য পশু বলি উৎসর্গ করত। (লেবীয়. ৪:২৭-৩১; ১৭:১১) এই বলিদানগুলো দেখিয়েছিল যে, মানুষের পাপকে ক্ষমা করার জন্য আরও বড়ো এক বলিদানের প্রয়োজন। একমাত্র যিশুর বলিদানই মানবজাতির জন্য প্রচুর আশীর্বাদ নিয়ে আসবে। আমাদের পাপ ক্ষমা করার জন্য যিশুর বলিদানই হল সেই বৈধ ভিত্তি। পৌল বুঝতে পেরেছিলেন, যিশুর বলিদান মানবজাতির জন্য কোন উপকার নিয়ে আসবে, যেটা আমরা করিন্থের খ্রিস্টানদের উদ্দেশে লেখা তার চিঠি থেকে জানতে পারি। এই চিঠিতে তিনি সেই খ্রিস্টানদের অতীতে করা খারাপ কাজগুলোর বিষয়ে উল্লেখ করার পর বলেন: “এখন তোমাদের শুচি করা হয়েছে; তোমাদের পবিত্র করা হয়েছে; প্রভু যিশু খ্রিস্টের নামে এবং আমাদের ঈশ্বরের পবিত্র শক্তির মাধ্যমে তোমাদের ধার্মিক বলে ঘোষণা করা হয়েছে।”—১ করি. ৬:৯-১১.
ইজরায়েলীয়েরা তাদের পাপের ক্ষমা লাভ করার জন্য পশুবলি উৎসর্গ করত। এই বলিদান যিশুর মুক্তির মূল্যের একটা ছায়ামাত্র ছিল, যেটা থেকে মানবজাতি প্রচুর আশীর্বাদ লাভ করবে (৬-৭ অনুচ্ছেদ দেখুন)
৮. এই বছর স্মরণার্থ সভার জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সময় আপনি কোন বিষয়ে চিন্তা করতে পারেন?
৮ এই বছর স্মরণার্থ সভার জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সময়, একটু থেমে চিন্তা করুন, যিহোবার ক্ষমা আপনার জন্য কোন অর্থ রাখে। উদাহরণ স্বরূপ, আপনার অতীতে করা পাপগুলোর জন্য আপনি যদি অনুতপ্ত হয়ে থাকেন, তা হলে মুক্তির মূল্যের ভিত্তিতে আপনার নিজেকে অতিরিক্ত দোষী বলে মনে করার প্রয়োজন নেই। আপনার কি এটা মেনে নেওয়া কঠিন বলে মনে হয়? আপনি হয়তো নিজেকে বলেছিলেন, ‘আমি জানি, যিহোবা আমাকে ক্ষমা করতে পারেন, কিন্তু আমি নিজেকে ক্ষমা করতে পারছি না।’ আপনার যদি এমনটা মনে হয়, তা হলে মনে রাখবেন: একমাত্র যিহোবাই আমাদের ক্ষমা করতে পারেন এবং বিচার করার দায়িত্ব তিনি শুধুমাত্র তাঁর পুত্রকেই দিয়েছেন। কে তাঁর ক্ষমা পাবে অথবা পাবে না, এটা বিচার করার দায়িত্ব যিহোবা আপনাকে বা অন্য কোনো ব্যক্তিকে দেননি। বাইবেল বলে: “[যিহোবা] যেমন আলোতে আছেন, তেমনই আমরা যদি আলোতে চলে থাকি, তা হলে . . . তাঁর পুত্র যিশুর রক্ত সমস্ত পাপ থেকে আমাদের শুচি করে।” (১ যোহন ১:৬, ৭) বাইবেলের অন্যান্য শিক্ষার মতো আমরা এই কথাটার উপর সম্পূর্ণ আস্থা রাখতে পারি। মুক্তির মূল্যের উপর ভিত্তি করেই যিহোবা আমাদের ক্ষমা করেন এবং তাঁর বাক্য বলে, তিনি “ক্ষমা করার জন্য প্রস্তুত।”—গীত. ৮৬:৫, NW.
মুক্তির মূল্য আমাদের নিখুঁত হয়ে ওঠার আশাকে দৃঢ় করে
৯. বাইবেলে পাপ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? (গীতসংহিতা ৫১:৫ এবং পাদটীকা)
৯ বাইবেলে পাপ শব্দটা শুধুমাত্র কোনো খারাপ কাজকেই বোঝায় না কিন্তু এর পাশাপাশি, এটা এমন এক পাপপূর্ণ অবস্থাকে বোঝায়, যেটা আমরা সেই মুহূর্তে পেয়েছি, যখন আমরা মায়ের গর্ভে এসেছিলাম। (পড়ুন, গীতসংহিতা ৫১:৫ এবং পাদটীকা।) এই অবস্থার কারণে আমাদের মধ্যে শুধুমাত্র খারাপ কাজ করার প্রবণতাই থাকে না, সেইসঙ্গে আমরা ধীরে ধীরে এতটাই দুর্বল হয়ে পড়ি যে, আমরা অসুস্থতা, বার্ধক্য এবং মৃত্যুরও শিকার হই। এই কারণে এমনকী নবজাত শিশুরাও কোনো পাপ না করা সত্ত্বেও অসুস্থ হয় এবং মারা যায়। এ ছাড়া, এটা আমাদের বুঝতে সাহায্য করে, কেন ভালো ও মন্দ উভয় প্রকার লোকই কষ্ট পায় এবং মারা যায়। আদমের পাপের কারণে আমরা সবাই উত্তরাধিকারসূত্রে এই পাপপূর্ণ অবস্থা পেয়েছি।
১০. আদম ও হবা পাপ করার পর কেমন অনুভব করেছিলেন?
১০ একবার চিন্তা করে দেখুন, পাপ করার পর প্রথম মানব দম্পতি কেমন অনুভব করেছিলেন। এটা তাদের হৃদয়ে এক ঝড় তুলেছিল। ঈশ্বরের “আইন তাদের হৃদয়ে লেখা” ছিল, কিন্তু বিদ্রোহ করার পরই, আদম ও হবা বুঝতে পেরেছিলেন যে, ঈশ্বরের আইনের অবাধ্য হওয়ার পরিণতি কী। (রোমীয় ২:১৫) তারা হঠাৎই নিজেদের মধ্যে একটা পরিবর্তন লক্ষ করেন। তারা অনুভব করেন যে, তাদের শরীরের কিছু অংশ ঢাকার প্রয়োজন রয়েছে এবং তারা অপরাধীর মতো তাদের সৃষ্টিকর্তার কাছ থেকে নিজেদের লুকিয়ে রাখেন। (আদি. ৩:৭, ৮) প্রথম বার আদম ও হবা নিজেদের দোষী বলে মনে করতে শুরু করেন, তারা দুশ্চিন্তার মধ্যে থাকেন, উদ্বিগ্নতা তাদের ঘিরে ধরে, তারা কষ্ট পান এবং লজ্জাবোধ করেন। আর যতদিন না তাদের মৃত্যু হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত তাদের এই অনুভূতিগুলোর সঙ্গে লড়াই করতে হবে।—আদি. ৩:১৬-১৯.
১১. পাপপূর্ণ অবস্থার কারণে আমরা কেমন অনুভব করি?
১১ পাপপূর্ণ অবস্থার কারণে আদম ও হবা যেমন অনুভব করেছিলেন, আমরাও ঠিক একইরকম অনুভব করি। আমাদের পাপপূর্ণ অবস্থার কারণে আমরা শারীরিক ও মানসিকভাবে কষ্ট পাই। আমরা যত চেষ্টাই করি না কেন, আমরা কোনোভাবেই নিজেদের সমস্যার সমাধান করতে পারি না। কেন? কারণ বাইবেল বলে, আমাদের “অসারতার বশীভূত করা হয়েছে।” (রোমীয় ৮:২০) এটা শুধুমাত্র ব্যক্তিবিশেষের প্রতি নয়, কিন্তু পুরো মানবজাতির প্রতিও প্রযোজ্য। চিন্তা করে দেখুন, পরিবেশ রক্ষা করার ক্ষেত্রে, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে, দরিদ্রতা দূর করার ক্ষেত্রে এবং জাতিগতভাবে শান্তি আনার ক্ষেত্রে মানুষ কতটা প্রচেষ্টা করে। এই সমস্ত ক্ষেত্রে, কিছুটা উন্নতি করলেও, তাদের প্রচেষ্টা ব্যর্থই রয়ে যায়। কীভাবে মুক্তির মূল্য আমাদের এই পাপপূর্ণ অবস্থা থেকে উদ্ধার করতে পারে?
১২. মুক্তির মূল্য আমাদের কোন আশা দেয়?
১২ মুক্তির মূল্য আমাদের এই আশা দেয় যে, “সৃষ্টিকে ক্ষয়ের দাসত্ব থেকে মুক্ত করা হবে।” (রোমীয় ৮:২১) ঈশ্বরের নতুন জগতে মুক্তির মূল্যের উপকারিতা যখন পুরোপুরিভাবে প্রয়োগ করা হবে, তখন আমরা আর শারীরিক, মানসিক অথবা আবেগগতভাবে কষ্ট পাব না। আর এমনকী আমরা নিজেদের দোষ দেব না, দুশ্চিন্তা করব না, উদ্বিগ্ন হব না, কষ্ট পাব না এবং লজ্জিত হব না। এ ছাড়া, এই পৃথিবীতে শান্তিতে বসবাস করার জন্য আমরা যে-প্রচেষ্টা করব, সেটা কখনো ব্যর্থ হবে না বরং আমরা এই বিষয়ে সফল হব কারণ আমাদের শাসক যিনি আমাদের জন্য মুক্তির মূল্য প্রদান করেছেন, তিনি হলেন “শান্তির রাজা” যিশু খ্রিস্ট।—যিশা. ৯:৬, ৭, NW.
১৩. এই বছর স্মরণার্থ সভায় যোগ দেওয়ার আগে আপনি আর কোন বিষয় নিয়ে চিন্তা করতে পারেন?
১৩ একটু চিন্তা করুন, আপনি যখন নিখুঁত হয়ে উঠবেন, তখন আপনার জীবন কেমন হবে। কল্পনা করুন, প্রতিদিন সকালে আপনি যখন ঘুম থেকে উঠবেন, তখন আপনার এই দুশ্চিন্তা হবে না যে, আপনি অথবা আপনার প্রিয়জনেরা না খেয়ে থাকবে, অসুস্থ হবে বা মারা যাবে। এমনকী বর্তমানেও আপনি এই ‘প্রত্যাশা দৃঢ়ভাবে ধরে রাখতে পারেন . . . এই প্রত্যাশা আমাদের জীবনের জন্য এক নোঙরের মতো, যা কোনোরকম সন্দেহ না করে আমাদের দৃঢ় থাকতে সাহায্য করে।’ (ইব্রীয় ৬:১৮, ১৯) ঠিক যেমন, একটা নোঙর নৌকাকে ধরে রাখে, একইভাবে আপনার আশা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা আপনার বিশ্বাসকে দৃঢ় রাখতে এবং আপনার সমস্যাগুলো সহ্য করতে সাহায্য করবে। তাই, আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন, “যারা আন্তরিকভাবে তাঁর অন্বেষণ করে, তিনি তাদের পুরস্কার দেন।” (ইব্রীয় ১১:৬) একমাত্র মুক্তির মূল্যের মাধ্যমেই আপনি বর্তমানে সান্ত্বনা পেতে পারেন এবং ভবিষ্যতের জন্য এক প্রকৃত আশা লাভ করতে পারেন।
মুক্তির মূল্য যিহোবার সঙ্গে আমাদের পুনরায় সম্মিলিত করে
১৪. পাপ কীভাবে সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের উপর প্রভাব ফেলেছে এবং কেন?
১৪ আদম ও হবা যখন পাপ করেছিলেন, তখন থেকে প্রত্যেকটা মানুষ ঈশ্বরের কাছ থেকে দূরে চলে গিয়েছিল। এমনকী বাইবেল বলে, পুরো মানবজাতি সৃষ্টিকর্তার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। (রোমীয় ৮:৭, ৮; কল. ১:২১) কেন? কারণ যিহোবা হলেন নিখুঁত এবং তিনি কখনো পাপকে সহ্য করেন না। বাইবেল যিহোবা সম্বন্ধে বলে: “তুমি এমন নির্ম্মলচক্ষু যে মন্দ দেখিতে পার না, এবং দুষ্কার্য্যের প্রতি তুমি দৃষ্টিপাত করিতে পার না।” (হবক্. ১:১৩) এভাবে পাপ ঈশ্বর ও মানুষের মধ্যে একটা দূরত্বের সৃষ্টি করেছে। এই দূরত্বকে পূরণ করা না গেলে কেউই কখনো যিহোবার সঙ্গে তাদের সম্পর্ককে জোড়া লাগাতে পারবে না। একমাত্র মুক্তির মূল্যই আমাদের যিহোবার বন্ধু হয়ে উঠতে সাহায্য করতে পারে।
১৫. কীভাবে মুক্তির মূল্য মানুষকে যিহোবার সঙ্গে আবারও এক উত্তম সম্পর্ক গড়ে তুলতে সাহায্য করেছিল?
১৫ বাইবেল বলে, যিশু হলেন আমাদের “পাপের জন্য এক প্রায়শ্চিত্তমূলক বলিদান।” (১ যোহন ২:২, পাদটীকা) মুক্তির মূল্য কীভাবে যিহোবাকে সন্তুষ্ট করেছিল? এমনটা নয় যে, তাঁর পুত্রের মৃত্যুতে তিনি সন্তুষ্ট হয়েছিলেন। আসলে, এই মুক্তির মূল্য যিহোবার ন্যায়বিচারের মানকে সন্তুষ্ট করেছিল। এখন যিহোবা মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ককে জোড়া লাগানোর একটা ভিত্তি পেলেন! (রোমীয় ৩:২৩-২৬) যিহোবা এমনকী সেই সমস্ত ব্যক্তিকেও ধার্মিক হিসেবে “গণনা” করেন, যারা খ্রিস্টের মৃত্যুর আগে বিশ্বস্তভাবে যিহোবার উপাসনা করেছিল। (আদি. ১৫:১, ৬) কীভাবে? ভবিষ্যতে দেওয়া মুক্তির মূল্যের উপর ভিত্তি করে। যিহোবা সম্পূর্ণ নিশ্চিত ছিলেন যে, তাঁর পুত্র যিশুই মুক্তির মূল্য দিতে পারবেন। (যিশা. ৪৬:১০) মুক্তির মূল্যের মাধ্যমেই একজন ব্যক্তি যিহোবার সঙ্গে পুনরায় সম্মিলিত হতে পারবে।
১৬. এই বছর স্মরণার্থ সভার জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সময় আপনি আর কোন বিষয় নিয়ে চিন্তা করতে পারেন? (ছবিও দেখুন।)
১৬ চিন্তা করুন, যিহোবার সঙ্গে এক উত্তম সম্পর্ক থাকার কারণে আপনি কতটা সুখী। যেমনটা যিশু শিখিয়েছিলেন, আপনি হয়তো যিহোবাকে আপনার “পিতা” বলে ডাকেন। (মথি ৬:৯) আবার কখনো কখনো আপনি হয়তো যিহোবাকে আপনার “বন্ধু” বলেও ডাকেন। তবে, আমরা যখন যিহোবাকে আমাদের “পিতা” ও “বন্ধু” বলি, তখন যেন সেটা গভীর সম্মান ও নম্রতার সঙ্গে বলি। কেন? কারণ আমরা যেহেতু পাপী, তাই আমরা কখনোই নিজেদের যোগ্যতায় যিহোবার এতটা নিকটবর্তী হতে পারি না। একমাত্র মুক্তির মূল্যের মাধ্যমেই আমরা যিহোবার সঙ্গে এক ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি। যিহোবা যিশুর মাধ্যমেই অর্থাৎ ‘যাতনাদণ্ডে তাঁর পাতিত রক্তের মাধ্যমে শান্তি স্থাপন করে . . . সমস্ত কিছুকে নিজের সঙ্গে পুনরায় সম্মিলিত করেন।’ (কল. ১:১৯, ২০) তাই, অসিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও আমরা যিহোবার সঙ্গে এক উত্তম সম্পর্ক উপভোগ করতে পারি।
মুক্তির মূল্যের ভিত্তিতেই যিহোবা আবারও মানুষের সঙ্গে এক উত্তম সম্পর্ক গড়ে তোলেন (১৬ অনুচ্ছেদ দেখুন)
মুক্তির মূল্য দেখায় যে, যিহোবা কতটা করুণাময়
১৭. মুক্তির মূল্য থেকে আমরা যিহোবার করুণার বিষয়ে কী জানতে পারি? (ইফিষীয় ২:৪, ৫)
১৭ মুক্তির মূল্য দেখায়, যিহোবার “করুণা অসীম।” তিনি “আমাদের জীবিত করেছেন . . . যখন কিনা আমরা আমাদের অপরাধের কারণে মৃত ছিলাম।” (পড়ুন, ইফিষীয় ২:৪, ৫.) “যাদের অনন্তজীবন লাভ করার জন্য সঠিক মনোভাব” রয়েছে, তারা বুঝতে পারছে যে, উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া পাপের জালে তারা আটকে রয়েছে এবং তাদের উদ্ধার করার প্রয়োজন আর এর জন্য তারা সাহায্য চাইছে। (প্রেরিত ১৩:৪৮) তাই, যিহোবা এই ব্যক্তিদের কাছে তাঁর রাজ্যের বার্তা পৌঁছে দেন, যাতে তারা তাঁকে এবং তাঁর পুত্র যিশুকে জানতে পারে। (যোহন ১৭:৩) শয়তান যদি এটা ভেবে থাকে যে, আদম ও হবার পাপের কারণে যিহোবার উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়ে গিয়েছে, তা হলে সে সম্পূর্ণ ভুল ছিল।
১৮. মুক্তির মূল্য নিয়ে চিন্তা করার সময় আমাদের কোন বিষয়টা মনে রাখতে হবে?
১৮ মুক্তির মূল্যের উপকারগুলো নিয়ে চিন্তা করার সময় আমাদের আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখতে হবে। যিহোবা শুধুমাত্র আমাদের রক্ষা করার জন্যই মুক্তির মূল্যের ব্যবস্থা করেননি, কিন্তু সেইসঙ্গে আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ কারণে তিনি এই ব্যবস্থা করেছিলেন। সেটা হল, যিহোবা মুক্তির মূল্যের মাধ্যমে এদন উদ্যানে করা শয়তানের দাবির উত্তর দিয়েছিলেন। (আদি. ৩:১-৫, ১৫) মুক্তির মূল্যের মাধ্যমে যিহোবা তাঁর নামকে পবিত্র করছেন এবং তাঁর নামের উপর আসা সমস্ত নিন্দা দূর করছেন। যিহোবা হলেন প্রেমের ঈশ্বর, তাই তিনি আমাদের পাপ ও মৃত্যু থেকেও উদ্ধার করবেন। যিহোবার মহাদয়ার কারণে আমরা পাপী হওয়া সত্ত্বেও, তিনি আমাদের শয়তানকে মিথ্যা প্রমাণ করার সুযোগ করে দিয়েছেন। (হিতো. ২৭:১১) কীভাবে আপনি মুক্তির মূল্যের প্রতি আপনার উপলব্ধিবোধ দেখাতে পারেন? আমরা পরের প্রবন্ধে এই প্রশ্নের উত্তর জানতে পারব।
গান ১৯ প্রভুর সান্ধ্যভোজ
a এটার মানে কী? কোনো ব্যক্তিকে মুক্ত করার জন্য যে-মূল্য দেওয়া হয়, সেটাকে মুক্তির মূল্য বলে। যিশু খ্রিস্ট সবচেয়ে বড়ো মুক্তির মূল্য দিয়েছিলেন। তিনি বাধ্য মানবজাতিকে পাপ ও মৃত্যু থেকে উদ্ধার করার জন্য নিজের জীবন দান করেছিলেন।