অধ্যয়ন প্রবন্ধ ৫১
গান ১৩২ এবার আমরা এক হলাম
বিয়ের ব্যবস্থা এমনভাবে করুন, যেটা যিহোবার গৌরব নিয়ে আসবে
“সব কিছুই যেন সঠিক উপায়ে এবং সুশৃঙ্খলভাবে করা হয়।” —১ করি. ১৪:৪০.
আমরা কী শিখব?
খ্রিস্টান দম্পতিরা যখন বিয়ের প্রস্তুতি নেয়, তখন তারা কীভাবে যিহোবার গৌরব নিয়ে আসতে পারে?
১-২. যারা বিয়ে করতে চলেছে, তাদের কাছ থেকে যিহোবা কী চান?
আপনার কি এনগেজমেন্ট হয়ে গিয়েছে এবং আপনি কি খুব শীঘ্রই বিয়ে করতে চলেছেন? যদি তা-ই হয়, তা হলে আপনাকে অনেক অভিনন্দন জানাই! আপনি নিশ্চয়ই বিয়ের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। যিহোবাও চান আপনি যেন আপনার বিয়েরa দিনে খুব আনন্দ করেন আর এই দিনটা আপনার জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকে। যিহোবা এটাও চান, আপনারা যেন সবসময় সুখে-দুঃখে একে অন্যের পাশে থাকেন।—হিতো. ৫:১৮; পরম. ৩:১১.
২ আপনার বিয়ে যেন যিহোবার গৌরব নিয়ে আসে। কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ এবং কীভাবে আপনি তা করতে পারেন? যদিও এই প্রবন্ধ সেই খ্রিস্টান দম্পতিদের জন্য লেখা হয়েছে, যারা বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে, কিন্তু এখানে দেওয়া নীতিগুলো মেনে চললে আমরা সবাই যিহোবার গৌরব করতে পারব। কেউ যদি বিয়েতে আমাদের নিমন্ত্রণ করে অথবা বিয়ের ব্যবস্থার জন্য পরামর্শ চায়, তা হলেও আমরা এই নীতিগুলো মনে রাখতে পারি।
কেন যিহোবার গৌরব করবেন?
৩. যারা বিয়ে করার কথা চিন্তা করছে, তাদের কোন বিষয়টা মনে রাখা উচিত এবং কেন?
৩ যে-খ্রিস্টানেরা বিয়ে করতে চলেছে, তাদের সেই নীতিগুলো অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত, যেগুলো যিহোবা বাইবেলে লিখিয়েছেন। কেন? কারণ যিহোবাই প্রথম বিয়ের ব্যবস্থা করেছিলেন। তিনি আদম ও হবাকে বিয়ের বন্ধনে বেঁধেছিলেন। (আদি. ১:২৮; ২:২৪) তাই, যে-খ্রিস্টানেরা বিয়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, তাদের যিহোবার চিন্তাধারাকে মনে রাখা উচিত এবং সেই অনুযায়ী সমস্ত কিছু করা উচিত।
৪. কেন এক খ্রিস্টান দম্পতির নিজেদের বিয়ের দিনে যিহোবার গৌরব করা উচিত?
৪ বিয়ের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় কেন আপনার যিহোবার চিন্তাধারার বিষয়টা মনে রাখা উচিত? এর একটা গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। সেটা হল, যিহোবা হলেন আপনার পিতা এবং আপনার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু। (ইব্রীয় ১২:৯) এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আপনি চান যেন তাঁর সঙ্গে আপনার সম্পর্ক দৃঢ় থাকে। আপনি কখনোই চাইবেন না, আপনার বিয়ের দিন বা অন্য কোনো দিন এমন কিছু হোক, যে-কারণে আপনার বন্ধু কষ্ট পান। (গীত. ২৫:১৪) এটাও চিন্তা করুন, যিহোবা এখনও পর্যন্ত আপনার জন্য কী কী করেছেন এবং ভবিষ্যতে কী কী করবেন। তাই, আপনার কি মনে হয় না যে, আপনার বিয়েতে সমস্ত কিছু এমনভাবে করা উচিত, যেটা যিহোবার গৌরব নিয়ে আসবে?—গীত. ১১৬:১২.
কীভাবে যিহোবার গৌরব করবেন?
৫. এক দম্পতি নিজেদের বিয়ের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় কীভাবে বাইবেল থেকে সাহায্য লাভ করতে পারে?
৫ বিয়ের অনুষ্ঠান ও রিসেপশন কীভাবে হবে, সেই বিষয়ে বাইবেলে কোনো নিয়মের তালিকা দেওয়া নেই। তাই, এক দম্পতি নিজেদের পরিস্থিতি, নিজেদের সংস্কৃতি এবং নিজেদের পছন্দ-অপছন্দ অনুযায়ী বিয়ের প্রস্তুতি নিতে পারে। কিন্তু, খ্রিস্টানদের জন্য এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে, তারা যেন বিয়ের বিষয়ে সরকারি আইনকানুন মেনে চলে। (মথি ২২:২১) এক দম্পতি বিয়ের বিষয়ে যে-ব্যবস্থাই নিক না কেন, তারা যখন বাইবেলের নীতির কথা মনে রাখে, তখন এতে যিহোবার গৌরব হয় এবং তিনি অনেক খুশি হন। তাই প্রশ্ন হল, আপনি কোন নীতিগুলো মনে রাখতে পারেন?
৬. কেন এক দম্পতির সরকারি আইনকানুন মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ?
৬ সরকারি আইনকানুন মেনে চলুন। (রোমীয় ১৩:১, ২) বেশিরভাগ দেশের সরকার বিয়ের বিষয়ে কিছু আইন স্থির করেছে। সেইজন্য এক খ্রিস্টান দম্পতির সেই আইনগুলো মেনে চলা উচিত। তাদের বিয়ের আগে এই বিষয়টা জেনে নেওয়া উচিত যে, তাদের দেশ বা এলাকায় বিয়ের বিষয়ে কোন কোন আইন রয়েছে। আপনার যদি এই বিষয়ে আরও বেশি তথ্যের প্রয়োজন হয় অথবা আপনার মনে যদি কোনো প্রশ্ন থাকে, তা হলে নির্দ্বিধায় প্রাচীনদের কাছ থেকে সাহায্য নিন।b
৭. বিয়ের দিনে কেমন পরিবেশ হওয়া উচিত এবং এর জন্য কী করা যেতে পারে?
৭ এক সঠিক পরিবেশ তৈরি করুন। (১ করি. ১০:৩১, ৩২) বিয়ের দিনে এমন এক পরিবেশ হওয়া উচিত, যেখানে জগতের মনোভাব নয় বরং পবিত্র শক্তির ফল প্রকাশ পায়। (গালা. ৫:১৯-২৬) বর যেহেতু পরবর্তী সময়ে পরিবারের মস্তক হবেন, সেইজন্য তার দায়িত্ব হল বিয়ের দিনে সমস্ত ব্যবস্থা যেন ভালোভাবে করা হয়, প্রত্যেকে যেন তা উপভোগ করতে পারে এবং যিহোবার গৌরব হয়। এর জন্য কী করা যেতে পারে? এই দিনে বাইবেলভিত্তিক একটা বিয়ের বক্তৃতার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। যে-ভাই বিয়ের বক্তৃতা দেন, তিনি যখন সেটা প্রেম ও সম্মানের সঙ্গে দেন, তখন সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিরা বুঝতে পারে, বিয়ে হল ঈশ্বরের দেওয়া একটা চমৎকার উপহার। আর তারা এটাও বুঝতে পারে যে, বিয়ের বন্ধনকে শক্তিশালী করা হল একটা গুরুগম্ভীর বিষয়। তাই, যদি সম্ভব হয়, তা হলে খ্রিস্টান দম্পতিরা কিংডম হলে তাদের বিয়ের বক্তৃতার ব্যবস্থা করতে পারে। আপনিও যদি এমনটা করতে চান, তা হলে বিয়ের অনেক আগেই প্রাচীনগোষ্ঠীকে এই বিষয়ে অনুরোধ জানিয়ে একটা চিঠি লিখতে পারেন।
৮. বিয়ের রিসেপশনে সঠিক পরিবেশ বজায় রাখার জন্য আপনি কী করতে পারেন? (রোমীয় ১৩:১৩)
৮ রোমীয় ১৩:১৩ পদ পড়ুন। আপনি যদি রিসেপশনের ব্যবস্থা করতে চান, তা হলে আপনি কী করতে পারেন, যাতে এটা জগতের মনোভাবকে তুলে না ধরে? রোমীয় ১৩:১৩ পদে যে-গ্রিক শব্দকে “উচ্ছৃঙ্খলতাপূর্ণ আনন্দোৎসব” হিসেবে অনুবাদ করা হয়েছে, সেটা এমন অনুষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যেখানে অতিরিক্ত মাত্রায় মদ্যপান করা হয় এবং অনেক রাত পর্যন্ত গান-বাজনা চলতে থাকে। আপনি যদি রিসেপশনে মদ্যপানের ব্যবস্থা করেন, তা হলে এই বিষয়টা খেয়াল রাখবেন যেন কেউ অতিরিক্ত মাত্রায় মদ না খায়।c আর সেখানে যদি গান-বাজনার ব্যবস্থা থাকে, তা হলে এটা খেয়াল রাখবেন, সেটা যেন এত জোরে না বাজে যে, অতিথিদের নিজেদের মধ্যে কথা বলতে অসুবিধা হয়। এটাও খেয়াল রাখুন যে, কোন ধরনের গান বাজানো হবে এবং গানের কথা কেমন হবে। আপনি যে-ধরনের গানই বাছাই করুন না কেন, সেটা থেকে কেউ যেন বিঘ্ন না পায়।
৯. আপনার বিয়ের রিসেপশনে যদি কেউ কিছু বলতে চায় অথবা কোনো ধরনের বিনোদনের ব্যবস্থা করা হয়, তা হলে আপনার কোন বিষয়গুলো খেয়াল রাখা উচিত?
৯ আপনার বিয়ের রিসেপশনে আপনি যদি কোনো ভিডিও বা ছবি দেখাতে চান অথবা বিনোদনের ব্যবস্থা করতে চান কিংবা আপনার পরিবারের সদস্য বা বন্ধুবান্ধব আপনার বিষয়ে অল্প কিছু বলতে চায়, তা হলে এই ক্ষেত্রে আপনি কোন বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে পারেন? যখন এইরকম কিছু ব্যবস্থা করা হয়, তখন বিয়ের দিনটা আমাদের জন্য আরও বিশেষ হয়ে ওঠে। তবে, আপনাকে এই বিষয়ে নিশ্চিত হতে হবে যে, সেখানে যা-কিছু দেখানো হবে, সেগুলো থেকে সবাই যেন উৎসাহিত হয়। (ফিলি. ৪:৮) তাই, নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, ‘এটার মাধ্যমে কি অন্যদের প্রতি সম্মান দেখানো হবে? এটা কি বিয়ের অনুষ্ঠানের শোভাকে বাড়িয়ে তুলবে?’ আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ‘এটা কি যিহোবার গৌরব নিয়ে আসবে?’ বিয়েতে আনন্দ বা মজা করার মধ্যে কোনো দোষ নেই। তবে, কোনো ধরনের অশ্লীল ঠাট্টা বা রসিকতা করা উচিত নয়। (ইফি. ৫:৩) যদি আপনার পরিবারের সদস্য অথবা বন্ধুরা কিছু বলতে চায়, তা হলে আগে থেকে তাদের বলে রাখুন যে, কোন ধরনের কথা তাদের বলা উচিত নয়। এ ছাড়া, আপনার এই বিষয়েও নিশ্চিত হওয়া উচিত যে, তারা যেন আপনার কথা রাখে এবং সম্মান রক্ষা করে।
১০. বিয়ের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় এক দম্পতির কেন নিজেদের সীমাবদ্ধতা বোঝা উচিত? (১ যোহন ২:১৫-১৭)
১০ আপনার সীমাবদ্ধতা বুঝুন। (পড়ুন, ১ যোহন ২:১৫-১৭.) যিহোবার সেবকেরা যখন নিজেদের সীমাবদ্ধতা বোঝে এবং নিজেদের প্রতি বেশি মনোযোগ না দিয়ে যখন যিহোবার গৌরবের কথা চিন্তা করে, তখন এটা দেখে তিনি খুবই খুশি হন। যে-খ্রিস্টানেরা নিজেদের সীমাবদ্ধতা বোঝে, তারা নিজেদের বিয়েতে অতিরিক্ত টাকাপয়সা খরচ করার এবং “নিজের জীবনোপায় জাহির করার মনোভাব” থেকে দূরে থাকে। আপনি যদি বিয়ের ব্যবস্থা করার সময় এই বিষয়টা খেয়াল রাখেন, তা হলে এর কোন উপকার আসতে পারে? লক্ষ করুন, মাইক নামে নরওয়ের একজন ভাই এই বিষয়ে কী বলেন: “আমরা কোনো ঋণ নিইনি আর এই কারণে আমরা অগ্রগামীর সেবা করে চলতে পেরেছি। আমরা ধুমধাম করে বিয়ে করিনি, কিন্তু সমস্ত কিছু খুব ভালোভাবে হয়েছিল। আমাদের বিয়ের দিনটা সবসময় মনে থাকবে।” ভারতের একজন বোন টাবিথা বলেন, “আমরা আমাদের বিয়েতে বেশি কিছু করিনি, তাই আমাদের অতিরিক্ত চিন্তা করার এবং বেশি প্রস্তুতি নেওয়ারও প্রয়োজন পড়েনি। শুধু তা-ই নয়, এমন খুবই কম বিষয় ছিল, যেখানে আমাদের একে অন্যের মতামত একটু আলাদা ছিল।”
বর ও কনে যেখানেই বাস করুক না কেন, তাদের পক্ষে এমনভাবে বিয়ের ব্যবস্থা করা সম্ভব, যেটা সম্মানীয়, আনন্দদায়ক এবং স্মরণীয় হবে (১০-১১ অনুচ্ছেদ দেখুন)
১১. বর ও কনে যে-পোশাক পরে, সেটা কীভাবে দেখায় যে, তারা নিজেদের সীমাবদ্ধতা বোঝে? (ছবিগুলোও দেখুন।)
১১ আপনি আপনার বিয়েতে কী পরবেন, সেটা কি ঠিক করেছেন? সবাই চায়, বিয়ের দিন যেন তাদের খুবই সুন্দর দেখায়। বাইবেল থেকে জানা যায়, অতীতেও বিয়ের দিনে বর ও কনে খুব ভালোভাবে সাজত। (যিশা. ৬১:১০) হতে পারে, আপনি আপনার বিয়ের দিনে কিছু বিশেষ ধরনের কাপড় পরতে চান, যেটা আপনি হয়তো অন্য সময়ে পরবেন না। কিন্তু খেয়াল রাখবেন, আপনি যেটাই পরুন না কেন, সেটা যেন মার্জিত হয়। (১ তীম. ২:৯) এটাও খেয়াল রাখবেন, আপনার পোশাক-আশাক, সাজগোজ অথবা অন্য কোনো জিনিস যেন আপনার বিয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে না ওঠে।—১ পিতর ৩:৩, ৪.
১২. কেন খ্রিস্টান দম্পতিদের এই বিষয়ে খেয়াল রাখা উচিত যে, তারা যেন তাদের বিয়েতে মিথ্যা রীতিনীতিগুলো পালন না করে?
১২ মিথ্যা রীতিনীতিগুলো প্রত্যাখ্যান করুন। (প্রকা. ১৮:৪) শয়তানের এই জগতে বিয়েকে কেন্দ্র করে এমন অনেক রীতিনীতি পালন করা হয়, যেগুলো প্রেতচর্চা, অন্ধবিশ্বাস এবং মিথ্যা শিক্ষার সঙ্গে জড়িত। যিহোবা আমাদের স্পষ্টভাবে বলেছেন, এইরকম অশুচি বিষয় থেকে আমরা যেন দূরে থাকি। (২ করি. ৬:১৪-১৭) হতে পারে, আপনি যেখানে থাকেন, সেখানে এমন রীতিনীতি পালন করা হয়, যেগুলোর বিষয়ে আপনার এই সন্দেহ থাকতে পারে যে, সেগুলো আসলে পালন করা ঠিক হবে কি না। এই ক্ষেত্রে, আপনার কী করা উচিত? সেই রীতিনীতিগুলোর উৎস কী, সেই বিষয়ে আপনার গবেষণা করা উচিত। এরপর, বাইবেলের নীতিগুলো নিয়েও চিন্তা করুন এবং সিদ্ধান্ত নিন যে, আপনি সেই রীতিনীতিগুলো পালন করবেন কি না।
১৩. যখন উপহার নেওয়ার বিষয়টা আসে, তখন এক খ্রিস্টান দম্পতি কীভাবে যিহোবাকে অনুকরণ করতে পারে?
১৩ হতে পারে, আপনি যেখানে থাকেন, সেখানে বর ও কনেকে উপহার দেওয়ার রীতি রয়েছে। এই ক্ষেত্রে হয়তো অতিথিরা তাদের আর্থিক অবস্থা অনুযায়ী উপহার দিতে পারে। কেউ কেউ হয়তো দামি উপহার দেয় আবার কেউ কেউ হয়তো কোনো ছোটো উপহার দেয়। বাইবেলে খ্রিস্টানদের উৎসাহিত করা হয়েছে যেন তারা উদার হয় এবং সেই আনন্দ লাভ করে, যা অন্যদের দেওয়ার মাধ্যমে পাওয়া যায়। (হিতো. ১১:২৫; প্রেরিত ২০:৩৫) কিন্তু, আমরা কোনোভাবে আমাদের অতিথিদের জোর করব না যে, তাদের কিছু-না-কিছু দিতেই হবে এবং সেটা দামি হতে হবে। এই ক্ষেত্রে আমরা যিহোবাকে অনুকরণ করতে পারি, যিনি কাউকে জোর করেন না বরং তিনি চান যেন প্রত্যেকে তাদের পরিস্থিতি অনুযায়ী আনন্দের সঙ্গে তাঁকে দান করে।—২ করি. ৯:৭.
কীভাবে প্রস্তুতির সময়ে আসা সমস্যাগুলোর সঙ্গে মোকাবিলা করা যায়?
১৪. কিছু খ্রিস্টান দম্পতিকে কোন সমস্যাগুলোর মুখোমুখি হতে হয়?
১৪ আপনি যদি চান, আপনার বিয়ে যিহোবার গৌরব নিয়ে আসুক, তা হলে প্রস্তুতি নেওয়ার সময় আপনার সামনে কিছু সমস্যা আসতে পারে। যেমন, আপনি হয়তো বেশি ধুমধাম করে বিয়ে করতে চান না, কিন্তু এমনটা করা আপনার জন্য সহজ না-ও হতে পারে। ভাই চার্লি, যিনি শলোমন দ্বীপপুঞ্জে থাকেন, তিনি বলেন: “বিয়ের রিসেপশনে আমরা কাকে কাকে ডাকব, সেটা ঠিক করা আমাদের জন্য সহজ ছিল না। আমাদের অনেক বন্ধু রয়েছে এবং আমাদের এলাকায় প্রত্যেকে এটা আশা করে যে, তাদের অবশ্যই বিয়েতে ডাকা হবে।” টাবিথা যার বিষয়ে আগে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি বলেন, “আমাদের এখানে বিয়ের রিসেপশনে অনেক লোককে নিমন্ত্রণ করা হয়। কিন্তু, আমরা ঠিক করেছিলাম, আমরা শুধুমাত্র ১০০ জনকেই ডাকব।” এই বিষয়টা মেনে নিতে আমার বাবা-মায়ের কিছুটা সময় লেগেছিল। বোন সারা যিনি ভারতে থাকেন, তিনি বলেন, “আমাদের এখানকার লোকেরা এটা দেখে যে, আমরা বিয়েতে কতটা খরচ করেছি। আমার জ্যাঠার ও কাকার ছেলে-মেয়েদের বিয়েতে তারা প্রচুর টাকা খরচ করেছিল। তাই, অন্যেরা আমাকে চাপ দিতে থাকে যেন আমার বিয়ে আরও ধুমধাম করে হয়।” কীভাবে আপনি এই ধরনের সমস্যাগুলোর সঙ্গে মোকাবিলা করতে পারেন?
১৫. বিয়ের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সময় প্রার্থনা করা কেন খুবই গুরুত্বপূর্ণ?
১৫ বিয়ের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সময় প্রার্থনা করুন। আপনি কোন বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তিত এবং আপনি কেমন অনুভব করছেন, তা নিয়ে যিহোবার কাছে প্রার্থনা করতে পারেন। (ফিলি. ৪:৬, ৭) এ ছাড়া, যখন আপনার খুবই দুশ্চিন্তা হয়, তখন এক শান্ত হৃদয়ের জন্য যিহোবার কাছে প্রার্থনা করতে পারেন। কখনো কখনো আপনার কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার এবং সাহসের সঙ্গে কাজ করার প্রয়োজন হতে পারে, সেইসময়ও আপনি যিহোবার কাছে প্রার্থনা করতে পারেন। (১ পিতর ৫:৭) এরপর, আপনি যখন দেখবেন যে, যিহোবা কীভাবে আপনাকে সাহায্য করছেন, তখন তাঁর প্রতি আপনার আস্থা আরও বেড়ে যাবে। টাবিথা এও বলেন, “আমি ও আমার হবু স্বামী এই বিষয়টা নিয়ে খুবই চিন্তিত ছিলাম যে, যখন বিয়ের ব্যবস্থা নিয়ে কথাবার্তা হবে, তখন আমরা দু-জন এবং আমাদের পরিবারের সদস্যেরা একে অপরের সঙ্গে একমত হবে কি না। তাই, যখনই আমরা কথাবার্তার জন্য মিলিত হতাম, তখন সবচেয়ে প্রথমে প্রার্থনা করতাম। আমরা দেখতে পেয়েছিলাম, যিহোবা কীভাবে আমাদের সাহায্য করেছিলেন এবং আমাদের মধ্যে শান্তি বজায় ছিল।”
১৬-১৭. বিয়ের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় নিজেদের মধ্যে খোলাখুলিভাবে আলোচনা করে নেওয়া কেন গুরুত্বপূর্ণ?
১৬ খোলাখুলিভাবে কথা বলার সময় প্রেম ও সম্মান দেখান। (হিতো. ১৫:২২) আপনাদের দু-জনকেই বিয়ের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যেমন, আপনি কোন তারিখে বিয়ে করবেন, কত খরচ করবেন এবং কাকে কাকে ডাকবেন, ইত্যাদি। যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একসঙ্গে মিলে আলোচনা করুন যে, কোনো বিষয়ে কী করা যেতে পারে। আপনি সেই বিষয়ের সঙ্গে জড়িত বাইবেলের নীতিগুলো নিয়ে চিন্তা করতে পারেন এবং পরিপক্ব ও অভিজ্ঞ খ্রিস্টানদের কাছ থেকে পরামর্শ নিতে পারেন। আপনি যখন অন্যদের বলবেন যে, আপনি কী চান, তখন সেটা প্রেমের সঙ্গে বলুন, তাদের প্রতি সম্মান দেখান এবং মানিয়ে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকুন। আপনার বাবা-মা অথবা কাছের আত্মীয় যদি এমন কিছু করার জন্য বলে, যেটা মেনে নেওয়া যেতে পারে, তা হলে তাদের কথা শুনুন। মনে রাখবেন, আপনার বিয়ের দিনটা তাদের জন্যও খুব বিশেষ একটা দিন। কিন্তু, আপনারা যদি তাদের কথায় একমত না হতে পারেন, তা হলে প্রেমের সঙ্গে এর কারণটা তাদের বুঝিয়ে বলুন। (কল. ৪:৬) আপনাদের পরিবারের সদস্যদের বলুন যে, আপনারা এটাই চান যেন আপনাদের বিয়ে আনন্দদায়ক হয় এবং এটা যিহোবার গৌরব নিয়ে আসে।
১৭ আপনাদের বাবা-মা যদি যিহোবার সাক্ষি না হয়ে থাকে, তা হলে আপনাদের পছন্দ এবং অপছন্দের বিষয়টা তাদের বোঝানো কঠিন হতে পারে। তবে, অতিরিক্ত চিন্তিত হবেন না, আপনারা এমনটা করতে পারবেন। ভারতের একজন ভাই সন্তোষ বলেন, “আমরা দু-জনে হিন্দু পরিবার থেকে এসেছি, তাই আমাদের পরিবারের সদস্যেরা চায়, আমরা যেন তাদের কিছু রীতিনীতি মেনে চলি। আমাদের এটা বোঝাতে বেশ সময় লেগেছিল যে, কেন আমরা তাদের রীতিনীতি পালন করতে পারব না। কিন্তু, যে-ক্ষেত্রগুলোতে তাদের পছন্দ যিহোবার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ছিল না, সেই ক্ষেত্রগুলোতে আমরা তাদের কথা শুনেছিলাম। যেমন, আমাদের বিয়ের রিসেপশনে আমরা যে-খাবারের মেনু ঠিক করেছিলাম, সেই ক্ষেত্রে আমরা কিছু রদবদল করি এবং তাদের পছন্দ অনুযায়ী খাবার পরিবেশন করি। রিসেপশনে আমরা নাচ-গানের বিষয়েও চিন্তা করেছিলাম, কিন্তু আমরা সিদ্ধান্ত নিই যে, আমরা এগুলো করব না কারণ আমাদের পরিবার এই সমস্ত কিছুর সঙ্গে অভ্যস্ত নয়।”
১৮. আপনার বিয়ের দিন যেন সমস্ত কিছু ভালোভাবে হয়, সেটার জন্য আপনি কী করতে পারেন? (১ করিন্থীয় ১৪:৪০) (ছবিও দেখুন।)
১৮ ভালোভাবে পরিকল্পনা করুন। আপনি যদি ভালোভাবে প্রস্তুতি নেন এবং সমস্ত কিছু যদি আগে থেকে ভেবে-চিন্তে ঠিক করে রাখেন, তা হলে বিয়ের দিন আপনাকে বেশি চিন্তা করতে হবে না। (পড়ুন, ১ করিন্থীয় ১৪:৪০.) বেন নামে একজন ভাই যিনি তাইওয়ানে থাকেন, তিনি বলেন: “বিয়ের দিন আমরা সেই ভাই-বোনদের সঙ্গে মিটিং করি, যারা সেই দিন সমস্ত কিছুর দেখাশোনা করবে।” আমরা তাদের সঙ্গে বিয়ের সমস্ত ব্যবস্থার বিষয়ে কথা বলি এবং সেই অনুষ্ঠানে কী কী হবে, তা নিয়ে প্র্যাক্টিসও করি, যাতে সমস্ত কিছু ভালোভাবে হতে পারে। আপনি যদি সমস্ত কিছু সুশৃঙ্খল এবং সময়মতো করেন, তা হলে আপনি অতিথিদের প্রতি সম্মান দেখাতে পারবেন।
বিয়ের আগে ভালোভাবে পরিকল্পনা করলে আপনারা এই বিষয়টা খেয়াল রাখতে পারবেন যেন সমস্ত কিছু সুশৃঙ্খলভাবে হয় (১৮ অনুচ্ছেদ দেখুন)
১৯. আপনারা কীভাবে এই বিষয়টা খেয়াল রাখতে পারেন যেন আপনাদের বিয়েতে সমস্ত কিছু সুশৃঙ্খলভাবে হয়?
১৯ আপনারা যদি আগে থেকে কিছু বিষয় চিন্তা করে রাখেন, তা হলে বিভিন্ন সমস্যা এড়াতে পারবেন। (হিতো. ২২:৩) আপনার এলাকায় কিছু লোক যদি নিমন্ত্রণ ছাড়াই অনুষ্ঠানে চলে আসে, তা হলে চিন্তা করুন আপনি কী করতে পারেন, যাতে এমনটা না হয়। আপনাদের আত্মীয়েরা যদি সাক্ষি না হয়, তা হলে তাদের বলুন যে, বিয়ের সঙ্গে জড়িত কিছু রীতিনীতির বিষয়ে আপনারা কী মনে করেন এবং আপনাদের বিয়েতে কী কী হবে। আপনারা তাদের jw.org ওয়েবসাইট থেকে “যিহোবার সাক্ষিদের বিয়ের অনুষ্ঠানে কী হয়?” শিরোনামের প্রবন্ধ দেখাতে পারেন। আপনারা একজন পরিপক্ব ভাইকে “ভোজাধ্যক্ষের” দায়িত্ব পালন করার জন্য বলতে পারেন। (যোহন ২:৮) আপনারা যদি সেই ভাইকে বিয়ের সমস্ত ব্যবস্থার বিষয়ে স্পষ্টভাবে এবং খোলাখুলিভাবে বলেন, তা হলে তিনি সেই বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন এবং সমস্ত কিছু আপনাদের ইচ্ছা অনুযায়ী আর সুশৃঙ্খলভাবে হবে। এর ফলে, যিহোবার গৌরব হবে।
২০. এক খ্রিস্টান দম্পতি তাদের বিয়ের বিষয়ে কী মনে রাখতে পারে?
২০ এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, বিয়ের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় আপনাদের বিভিন্ন রকমের চিন্তা আসতে পারে। কিন্তু মনে রাখবেন, আপনার বিয়ের দিনটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নয়। সেই দিনের পর থেকে আপনারা যে এক সুন্দর জীবন শুরু করবেন এবং একসঙ্গে যিহোবার সেবা করবেন, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, ধুমধাম করে বিয়ে করার পরিবর্তে চেষ্টা করুন যেন সবকিছু সুশৃঙ্খলভাবে হয় এবং যিহোবার গৌরব হয়। যিহোবার উপর আস্থা রাখুন। তাঁর পরামর্শ মেনে চললে আপনারা বিয়ের ব্যবস্থা ভালোভাবে করতে পারবেন। আর বিয়ের অনেক বছর পর আপনারা যখন আপনাদের বিয়ের দিনটা স্মরণ করবেন, তখন আপনারা সেই স্মৃতিগুলো থেকে প্রচুর আনন্দ লাভ করবেন এবং আপনাদের কোনোরকম আপশোস হবে না।—গীত. ৩৭:৩, ৪.
গান ১০৭ যিহোবার আদর্শ প্রেম
a এটার মানে কী? কিছু দেশে, বিয়েতে একটা বক্তৃতার ব্যবস্থা করা হয়, বর ও কনে একে অপরকে আংটি পরায় এবং ঈশ্বরের সামনে বিয়ের শপথ নেয়। এরপর একটা রিসেপশনের ব্যবস্থা থাকে, যেখানে তারা তাদের বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়দের সঙ্গে খাওয়া-দাওয়া এবং আনন্দ করে। আবার কিছু জায়গায় বর ও কনে এইরকম কিছু অনুষ্ঠান করে অথবা করে না। তা সত্ত্বেও, ভালো হবে যেন এক দম্পতি নিজেদের বিয়ের দিনে সমস্ত কিছু বাইবেলের নীতি অনুযায়ী করে।
b বিয়ের বিষয়ে সরকার যে-আইন স্থির করেছে, সেই বিষয়ে খ্রিস্টানদের কেমন মনোভাব রাখা উচিত, তা জানার জন্য ২০০৬ সালের অক্টোবর মাসের ১৫ তারিখের প্রহরীদুর্গ পত্রিকায় দেওয়া “যে-বিয়েগুলো ঈশ্বর ও মানুষের দৃষ্টিতে সম্মানীয়” শিরোনামের প্রবন্ধ দেখুন।
c jw.org ওয়েবসাইটে দেওয়া অতিথিদের মদ পরিবেশন করা কি ঠিক হবে? শিরোনামের ভিডিওটা দেখুন।