পরিবারের জন্য সাহায্য
কীভাবে আপনার সাথির প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করবেন?
বিয়ের প্রথম প্রথম স্বামী-স্ত্রী একে অপরের প্রতি খুব ভালোবাসা প্রকাশ করে। কিন্তু, সময় গড়িয়ে যাওয়ার সঙ্গেসঙ্গে কিছু স্বামী-স্ত্রী একে অপরের প্রতি ভালোবাসা দেখানো কম করে দেয় বা একবারেই বন্ধ করে দেয়। আপনার সঙ্গেও যদি এমনটা হয়ে থাকে, তা হলে আপনার কী করা উচিত?
আপনার যা জানা উচিত
বিয়ের বন্ধনকে শক্তিশালী করার জন্য ভালোবাসা খুবই প্রয়োজন। ঠিক যেমন নিয়মিত খাবার ও জল খাওয়া শরীরকে সুস্থসবল রাখে, তেমনই ক্রমাগত ভালোবাসা প্রকাশ করা বিয়ের বন্ধনকে শক্তিশালী করে আর এতে স্বামী-স্ত্রী আনন্দে থাকে। বিয়ের অনেক বছর কেটে যাওয়ার পরও একজন ব্যক্তি চান যেন তার সাথি তার প্রতি ক্রমাগত ভালোবাসা প্রকাশ করে এবং তার যত্ন নেয়।
প্রকৃত প্রেম নিঃস্বার্থ হয়। যে-ব্যক্তি নিজের সাথিকে প্রকৃতই ভালোবাসেন, তিনি নিজের চেয়ে তার সাথিকে বেশি খুশি রাখার চেষ্টা করেন। যখন তার ইচ্ছা করে, কেবল তখনই তিনি তার সাথির প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেন না। এর পরিবর্তে, তিনি তার সাথির জন্য চিন্তা করেন আর বোঝেন যে, তার ভালোবাসা তার সাথির কতটা প্রয়োজন এবং তিনি তা প্রকাশও করে থাকেন।
সাধারণত স্বামীদের চেয়ে স্ত্রীরা বেশি চান যেন তাদের স্বামী তাদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে। একজন স্বামী হয়তো তার স্ত্রীকে খুব ভালোবাসেন। কিন্তু, তিনি যদি শুধুমাত্র দিনের শুরুতে এবং শেষে কিংবা কেবল যৌন সম্পর্ক করার আগে তার স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেন, তা হলে স্ত্রীর পক্ষে মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে যায় যে, তার স্বামী সত্যিই তার জন্য চিন্তা করেন কি না। এই কারণে ভালো হবে যেন আপনি প্রতিদিন দিনের বিভিন্ন সময়ে তার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেন।
আপনার যা জানা উচিত
নিজের কথার মাধ্যমে ভালোবাসা প্রকাশ করুন। আপনি যদি শুধু এটাই বলেন যে, “আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি,” কিংবা “তুমি আমার কাছে খুবই মূল্যবান,” তা হলে আপনার সাথির খুব ভালো লাগবে।
বাইবেলের নীতি: “হৃদয় যা দিয়ে পূর্ণ থাকে, মুখ সেটাই বলে।”—মথি ১২:৩৪.
টিপ: আপনাকে যে কেবল কথার মাধ্যমেই ভালোবাসা প্রকাশ করতে হবে এমনটা নয়। আপনি চাইলে কোনো কার্ড লিখে কিংবা ই-মেল অথবা মেসেজ পাঠানোর মাধ্যমেও এমনটা করতে পারেন।
নিজের কাজের মাধ্যমে ভালোবাসা প্রকাশ করুন। আপনার সাথিকে জড়িয়ে ধরুন, প্রেমের সঙ্গে চুম্বন করুন কিংবা তার হাত ধরুন। এমনটা করার মাধ্যমে আপনার সাথি বুঝতে পারবেন যে, আপনি শুধু মুখেই বলেন না, কিন্তু হৃদয় থেকে তাকে ভালোবাসেন। আপনি যখন প্রেমের সঙ্গে আপনার সাথিকে স্পর্শ করেন, তার দিকে প্রেম সহকারে দেখেন এবং মাঝে মাঝে তাকে কোনো উপহার দেন, তখন তা থেকেও বোঝা যায়, আপনি আপনার সাথির জন্য চিন্তা করেন। এ ছাড়া, আপনি বিভিন্ন উপায়ে আপনার স্ত্রীকে সাহায্য করার মাধ্যমেও তার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারেন। যেমন আপনি কোনো ভারী জিনিস তার হাত থেকে নিতে পারেন, তার জন্য দরজা খুলে দিতে পারেন, বাসনপত্র অথবা জামাকাপড় ধুয়ে দিতে কিংবা রান্না করে দিতে পারেন। অনেকে এই কাজগুলোকে শুধুমাত্র সাহায্য হিসেবেই নয়, কিন্তু সেইসঙ্গে তার সাথির প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ হিসেবেও দেখে থাকেন।
বাইবেলের নীতি: “আমরা যেন শুধু মুখে না বলে বরং আমাদের কাজের মাধ্যমে আন্তরিকভাবে দেখাই যে, আমরা একে অন্যকে প্রেম করি।”—১ যোহন ৩:১৮.
টিপ: আপনার সাথির সঙ্গে ঠিক সেভাবেই প্রেম সহকারে আচরণ করুন, যেমনটা আপনি বিয়ের উদ্দেশ্যে তার সঙ্গে মেলামেশা করার সময় দেখাতেন।
একে অপরের জন্য সময় বের করুন। একে অপরের সঙ্গে সময় কাটানোর মাধ্যমে আপনার বিবাহবন্ধন শক্তিশালী হবে এবং আপনার সাথি বুঝতে পারবেন যে, তার সঙ্গে সময় কাটাতে আপনার ভালো লাগে। এটা ঠিক যে, আপনাদের যদি সন্তান থাকে অথবা প্রতিদিন আপনাকে অনেক কাজ করতে হয়, তা হলে একে অন্যের জন্য সময় বের করা কঠিন হতে পারে। এইরকম পরিস্থিতিতে বেশি কিছু করতে না পারলেও অন্ততপক্ষে কিছু সময়ের জন্য আপনারা একসঙ্গে হাঁটতে যেতে পারেন।
বাইবেলের নীতি: ‘বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নির্ণয় করুন।’—ফিলিপীয় ১:১০.
টিপ: যে স্বামী-স্ত্রীরা ব্যস্ত থাকে, তারা আগে থেকে স্থির করে রাখে যে, নির্দিষ্ট কোনো দিনে সন্ধ্যায় বা সপ্তাহের শেষের দিনগুলোতে তারা কোথাও ঘুরতে যাবে, যাতে একসঙ্গে কিছুটা সময় কাটাতে পারে। আর এমনটা তারা নিয়মিতভাবে করে থাকে।
আপনার সাথিকে ভালোভাবে জানুন। ভালোবাসা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রত্যেক ব্যক্তির চাহিদা আলাদা হয়। আপনার সাথির সঙ্গে কথা বলুন আর জানুন যে, তিনি কী চান। তিনি কি আপনার কাছ থেকে আরও বেশি ভালোবাসা আশা করেন? অথবা তিনি কি চান যে, আপনি অন্য কোনো উপায়ে তার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেন? যদি এমনটা হয়ে থাকে, তা হলে আপনার সাথির প্রয়োজন মেটানোর ক্ষেত্রে যথাসাধ্য করুন। মনে রাখবেন, বিয়ের বন্ধনকে শক্তিশালী করার জন্য ভালোবাসা খুবই প্রয়োজন।
বাইবেলের নীতি: “প্রেম … স্বার্থ চেষ্টা করে না।”—১ করিন্থীয় ১৩:৪, ৫.
টিপ: ভালোবাসা দাবি করার পরিবর্তে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, ‘আমি এমন কী করতে পারি, যাতে আমার সাথি আমাকে আরও বেশি ভালোবাসে?’