আগস্ট ১০-১৬, ২০২৬
গান ১২২ দৃঢ় থাকো, সুস্থির থাকো
পরীক্ষার সময়ে আমরা কীভাবে বিশ্বস্ত থাকতে পারি?
“প্রভু, আমরা কার কাছে যাব? আপনার কাছে অনন্তজীবনের কথা রয়েছে।”—যোহন ৬:৬৮.
আমরা কী শিখব?
আমরা যেকোনো পরীক্ষার মুখোমুখি হই না কেন, আমরা যিহোবার প্রতি বিশ্বস্ত থাকতে পারি।
১-২. যিশু যখন কফরনাহূমে শিক্ষা দিচ্ছিলেন, তখন কী হয়েছিল?
একবার যিশু যখন কফরনাহূমে শিক্ষা দিচ্ছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন, “তোমরা যদি মনুষ্যপুত্রের মাংস ও রক্ত না খাও, তা হলে তোমরা জীবন লাভ করবে না।” তিনি এও বলেছিলেন, “যে-কেউ আমার মাংস ও রক্ত খায়, সে অনন্তজীবন পায় আর আমি শেষ দিনে তাকে পুনরুত্থিত করব।” (যোহন ৬:৫৩, ৫৪) যিশুর এই কথাগুলো তাঁর অনেক শিষ্যই পছন্দ করেনি। তারা বলেছিল, “এই কথা সহ্য করা যায় না; কে এই কথা গ্রহণ করতে পারে?”—যোহন ৬:৬০.
২ যারা যিশুর এই কথাগুলো শুনে বিঘ্ন পেয়েছিল, তারা তাঁকে ছেড়ে চলে গিয়েছিল। এর মানে কি এই যে, যিশুর প্রতি তাদের কোনো বিশ্বাস ছিল না? আসলে এই ঘটনাটা ঘটার ঠিক আগে কিছু লোক, এমনকী যিশুর শিষ্যেরাও তাঁর কাজ দেখে এতটাই অভিভূত হয়ে পড়েছিল যে, তারা বলেছিল: “ইনি সত্যিই সেই ভাববাদী, যাঁর জগতে আসার কথা ছিল।” (যোহন ৬:১৪) তাই, এটা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, সেই শিষ্যদের যিশুর উপর কিছুটা হলেও বিশ্বাস ছিল। কিন্তু, তাদের বিশ্বাস যখন পরীক্ষিত হয়েছিল, তখন তারা যিশুর প্রতি তাদের বিশ্বস্ততা বজায় রাখতে পারেনি।
৩. যিশুর কথাগুলো শুনে তাঁর প্রেরিতেরা কেমন প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল এবং কেন? (ছবিও দেখুন।)
৩ যিশুর এই কথাগুলোর প্রতি তাঁর প্রেরিতেরা একেবারে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল। যিশু যখন তাদের জিজ্ঞেস করেছিলেন, তারাও অন্যান্য শিষ্যের মতো তাঁকে ছেড়ে চলে যেতে চায় কি না, তখন পিতর বলেছিলেন: “প্রভু, আমরা কার কাছে যাব? আপনার কাছে অনন্তজীবনের কথা রয়েছে। আমরা বিশ্বাস করেছি এবং জানতে পেরেছি, আপনিই ঈশ্বরের সেই পবিত্র ব্যক্তি।” (যোহন ৬:৬৮, ৬৯) লক্ষ করুন, যিশু যখন তাঁর মাংস এবং রক্ত খাওয়ার কথা শিষ্যদের বলেছিলেন, তখন পিতর এটা বলেননি যে, তিনি এবং অন্যান্য প্রেরিতেরা যিশুর ওই কথাগুলোর অর্থ পুরোপুরি বুঝতে পেরেছে। তবে, সেইসময় তারা যা-কিছুই বুঝে থাকুক না কেন, তারা যিশুর প্রতি বিশ্বস্ততা বজায় রেখেছিল। কেন? কারণ তারা নিশ্চিত ছিল, যিশুই হলেন “ঈশ্বরের সেই অভিষিক্ত ব্যক্তি।”—লূক ৯:২০, ৩৫.
অনেক শিষ্য যদিও যিশুকে ছেড়ে চলে গিয়েছিল, কিন্তু পিতর এবং অন্যান্য প্রেরিতেরা তাঁর সঙ্গে ছিল (৩ অনুচ্ছেদ দেখুন)
৪. যিহোবার প্রতি আমাদের বিশ্বস্ততা কীভাবে পরীক্ষিত হতে পারে?
৪ যিহোবার প্রতি আমাদের বিশ্বস্ততাও বিভিন্নভাবে পরীক্ষিত হতে পারে। উদাহরণ স্বরূপ, বাইবেলের কোনো পদের বোধগম্যতায় যখন কিছু রদবদল হয় অথবা প্রচার কাজের কোনো পদ্ধতির পরিবর্তন হয়, তখন আমরা কেমন প্রতিক্রিয়া দেখাই? বা যখন আমরা কোনো কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাই এবং বুঝতে পারি না যে, কেন যিহোবা আমাদের প্রতি এমনটা ঘটতে দিয়েছেন, তখন আমরা কী ধরনের মনোভাব দেখাই? আমাদের বিশ্বাস সেইসময়ও পরীক্ষিত হতে পারে, যখন আমাদের কাছের কোনো বন্ধু আমাদের আঘাত দেয় অথবা যাকে আমরা সম্মান করি, তিনি আমাদের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করেন।
৫. কেন আমাদের বিশ্বাসের ভিত মজবুত হওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ? একটা উদাহরণ দিন। (কলসীয় ১:২৩)
৫ আমাদের বিশ্বাসের ভিত মজবুত হওয়া খুবই প্রয়োজন। এটা বোঝার জন্য আসুন আমার একটা উদাহরণের কথা চিন্তা করি। একটা ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় যখন কোনো বিল্ডিং নির্মাণ করা হয়, তখন সেটার ভিত মজবুত হওয়া খুবই প্রয়োজন। তা না হলে, সেটা ভেঙে যেতে পারে। ঠিক একইভাবে, আমাদের বিশ্বাস যখন পরীক্ষিত হয়, যেমনটা আমরা আগের অনুচ্ছেদে দেখলাম, তখন সেই বিশ্বাস বজায় রাখার জন্য এর ভিত মজবুত হওয়া খুবই প্রয়োজন। আমরা যদি আমাদের বিশ্বাসের ভিত ক্রমাগত মজবুত করি, তা হলে আমরা সমস্যার সময়েও দৃঢ় থাকব এবং যিহোবার প্রতি আনুগত্য বজায় রাখতে পারব।—১ করি. ১৫:৫৮; পড়ুন, কলসীয় ১:২৩.
৬. কোন বিষয়গুলো প্রেরিতদের যিশুর প্রতি বিশ্বস্ত থাকতে সাহায্য করেছিল?
৬ অনেকে যখন যিশুকে ছেড়ে চলে গিয়েছিল, তখন কোন বিষয়গুলো প্রেরিতদের যিশুর প্রতি বিশ্বস্ত থাকতে সাহায্য করেছিল? প্রেরিতেরা এই বিষয়ে নিশ্চিত ছিল যে, যিহোবাই একমাত্র উপাসনা পাওয়ার যোগ্য কারণ তিনি সমস্ত কিছু সৃষ্টি করেছেন, যিশু হলেন ঈশ্বরের পুত্র এবং তাঁর কাছে “অনন্তজীবনের কথা রয়েছে” আর যিহোবা তাঁকে সম্পূর্ণভাবে সমর্থন করেন। আমরা ইতিমধ্যেই কয়েকটা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছি, যেগুলোর ফলে আমাদের বিশ্বাস পরীক্ষিত হতে পারে। এখন আসুন, আমরা তিনটে সত্যের উপর মনোযোগ দিই, যেগুলো আমাদের যেকোনো পরীক্ষার সময়ে যিহোবার প্রতি বিশ্বস্ততা বজায় রাখতে সাহায্য করবে। (১) যিহোবা সমস্ত কিছুর সৃষ্টিকর্তা। (২) বাইবেল হল যিহোবার অনুপ্রাণিত বাক্য। (৩) বর্তমানে যিহোবাই তাঁর সংগঠনকে পরিচালনা দিচ্ছেন। আমরা যদি এই তিনটে সত্য সম্বন্ধে নিশ্চিত থাকি, তা হলে আমাদের বিশ্বাস পরীক্ষিত হলেও আমরা বিশ্বস্ত থাকব।
যিহোবা সমস্ত কিছুর সৃষ্টিকর্তা
৭. প্রকাশিত বাক্য ৪:১১ পদ আমাদের যিহোবার বিষয়ে কী মনে করিয়ে দেয় আর এটা আমাদের কঠিন পরিস্থিতিতে কীভাবে সাহায্য করে?
৭ প্রকাশিত বাক্য ৪:১১ পদ পড়ুন। এই শাস্ত্রপদটা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, যিহোবা সমস্ত কিছুর সৃষ্টিকর্তা। তাই, এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ কারণ যেন আমরা একমাত্র তাঁরই উপাসনা করি। এ ছাড়া, আমরা যখন তাঁর অসীম ক্ষমতার বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তা করি, তখন আমরা পুরোপুরি নিশ্চিত হই যে, তিনি আমাদের সমস্ত কঠিন পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করবেন। কিন্তু, শয়তান সারা জগতে এই মিথ্যা ছড়িয়ে দিয়েছে যে, ঈশ্বরের কোনো অস্তিত্ব নেই। এমনকী বিজ্ঞানীরাও দাবি করে, ঈশ্বর বলে কেউ নেই। এটা গুরুত্বপূর্ণ আমরা যেন এই বিষয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত হই যে, যিহোবা হলেন আমাদের সৃষ্টিকর্তা এবং তিনি আমাদের ভালোবাসেন। আর এই বিশ্বাস যদি আমাদের মধ্যে থাকে, তা হলে আমরা তাঁর অস্তিত্ব নিয়ে সন্দেহ করব না এবং নিশ্চিত থাকতে পারব যে, কঠিন পরিস্থিতিতেও তিনি আমাদের অবশ্যই সাহায্য করবেন।—ইব্রীয় ১১:৬.
৮-৯. যিহোবাই যে সৃষ্টিকর্তা, এই বিষয়ে আপনার যদি সন্দেহ থাকে, তা হলে আপনি কী করতে পারেন? (ছবিও দেখুন।)
৮ যিহোবাই যে সমস্ত কিছু সৃষ্টি করেছেন, এই বিষয়ে যদি আপনার কোনো সন্দেহ থাকে, তা হলে দ্রুত পদক্ষেপ নিন। আমাদের প্রকাশনাগুলো থেকে গভীরভাবে গবেষণা করার মাধ্যমে আপনি বিশ্বাস করতে পারবেন যে, যিহোবাই সমস্ত কিছু সৃষ্টি করেছেন। জীবনকে কি সৃষ্টি করা হয়েছিল? (ইংরেজি) এবং জীবনের উৎপত্তি—জিজ্ঞেস করা যথার্থ এমন পাঁচটা প্রশ্ন (ইংরেজি) ব্রোশারে আপনি এমন অনেক তথ্য খুঁজে পাবেন, যেগুলো আপনার বিশ্বাসকে দৃঢ় করবে। এ ছাড়া, আপনি jw.org ওয়েবসাইটে “এটা কি সুপরিকল্পিতভাবে সৃষ্ট?” শিরোনামের ধারাবাহিক প্রবন্ধে এই বিষয়ে আরও প্রমাণ পাবেন। জেসিকা নামে একজন অল্পবয়সি বোন যিনি যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন, তিনি বলেন: “জীবনের উৎপত্তি নামক ব্রোশারটা পড়ার পর আমি নিশ্চিত হয়েছিলাম যে, সমস্ত সৃষ্টির পিছনে একজন বুদ্ধিমান ডিজাইনার বা নকশাবিদ রয়েছেন। আমি ইতিমধ্যেই এই বিষয়টা জানতাম, কিন্তু এই ব্রোশারে যে-যুক্তিগুলো তুলে ধরা হয়েছে, সেগুলো পড়ে আমি সেই বিষয়ে আরও বেশি নিশ্চিত হয়েছিলাম।” অনেকে আবার “চিরকাল জীবন উপভোগ করুন!” বইয়ের পাঠ ৬ ও ৭ থেকে উপকার লাভ করেছে। আপনি হয়তো আগেও এই পাঠগুলো পড়েছেন। কিন্তু, আপনি চাইলে আবারও এগুলো পড়তে পারেন।
৯ ঈশ্বর যে আছেন, এই বিষয়ে আরও কিছু প্রমাণ পাওয়ার জন্য আপনি হয়তো পরবর্তী ব্যক্তিগত স্টাডি প্রজেক্টে এই বিষয় নিয়ে অধ্যয়ন করতে পারেন। আপনার এই অধ্যয়ন বা গবেষণা শুধুমাত্র যিহোবার অস্তিত্ব সম্বন্ধে আপনার বিশ্বাসকে দৃঢ় করবে এমন নয়, কিন্তু এর পাশাপাশি আপনি তাঁর ব্যক্তিত্ব সম্বন্ধে অনেক কিছু জানতে পারবেন। (রোমীয় ১:২০) এ ছাড়া, যাদের ঈশ্বরের অস্তিত্ব নিয়ে সন্দেহ রয়েছে, তাদেরও আপনি সাহায্য করতে পারবেন। মূল বিষয়টা হল, যিহোবা যে আমাদের সৃষ্টিকর্তা, সেই বিষয়ে তিনি আমাদের প্রচুর প্রমাণ দিয়েছেন।
Nebula: IAC/RGO/David Malin Images; fish and car: Mercedes-Benz USA; plane: Kristen Bartlett/University of Florida
আপনি হয়তো ইতিমধ্যেই জীবনকে কি সৃষ্টি করা হয়েছিল? (ইংরেজি) ব্রোশার পড়েছেন। কিন্তু, আপনি চাইলে আবারও এটা পড়তে পারেন (৮ অনুচ্ছেদ দেখুন)
বাইবেল হল যিহোবার অনুপ্রাণিত বাক্য
১০. বাইবেল কেন আমাদের জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ? (২ তীমথিয় ৩:১৬, ১৭)
১০ দ্বিতীয় তীমথিয় ৩:১৬, ১৭ পদ পড়ুন। বাইবেল হল মানুষের জন্য যিহোবার কাছ থেকে আসা এক বার্তা। এটি আমাদের জীবনের বড়ো বড়ো প্রশ্নের উত্তর দেয়। সেইসঙ্গে বাইবেল থেকে আমরা জানতে পারি, যিহোবার ইচ্ছা কী এবং তিনি আমাদের কাছ থেকে কী চান। আমরা বিশ্বাস করি যে, যিহোবাই বাইবেল লিখিয়েছেন আর তাই এই বইটি আমাদের জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা তাঁর বাক্য ভালোভাবে বুঝতে চাই আর তা কাজে লাগানোর জন্য যথাসাধ্য করতে চাই।
১১. কেন আপনি নিশ্চিত যে, বাইবেল হল ঈশ্বরের অনুপ্রাণিত বাক্য?
১১ আমরা কেন নিশ্চিত যে, বাইবেল ঈশ্বরের অনুপ্রাণিত বাক্য? এর পিছনে বেশ কয়েকটা কারণ রয়েছে। অতীতের বিষয়ে বাইবেলে যা-কিছু বলা হয়েছে, সেগুলো সঠিক। (লূক ৩:১, ২) প্রকৃতির বিষয়েও বাইবেলে একেবারে সঠিক তথ্য রয়েছে। (ইয়োব ২৬:৭) পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি বিতরিত বইগুলোর মধ্যে বাইবেল হল একটা, যদিও শয়তান এটিকে সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। প্রায় ১৬০০ বছর ধরে ৪০ জন ব্যক্তি বাইবেল লিখেছে, কিন্তু তা সত্ত্বেও তাদের বার্তার মধ্যে কোনো অমিল নেই। এটির মধ্যে এমন পরামর্শ রয়েছে, যেগুলো বর্তমানেও লক্ষ লক্ষ মানুষকে তাদের দৈনন্দিন জীবনে সাহায্য করছে। (হিতো. ১৩:২০; ১৫:২১; মথি ৭:১২) এ ছাড়া, বাইবেলের অনেক ভবিষ্যদ্বাণী পরিপূর্ণতা লাভ করেছে আর এই বিষয়টা দেখায় যে, আমরা বাইবেলের উপর পুরোপুরি নির্ভর করতে পারি। (যিহো. ২৩:১৪) তাই আমরা নিশ্চিত, বাইবেল হল ঈশ্বরের অনুপ্রাণিত বাক্য।
১২. বাইবেল যে ঈশ্বরের অনুপ্রাণিত বাক্য, এই বিষয়ে আমরা যদি সন্দেহ করতে শুরু করি, তা হলে আমাদের কী করা উচিত?
১২ বাইবেল যে ঈশ্বরের অনুপ্রাণিত বাক্য, এই বিষয়ে আমরা যদি সন্দেহ করতে শুরু করি, তা হলে আমাদের কী করা উচিত? আমাদের উচিত এই বিষয় নিয়ে যিহোবার কাছে প্রার্থনা করা এবং সেই প্রার্থনার সঙ্গে মিল রেখে কাজ করা। লক্ষ করুন, জর্ডন নামে একজন অল্পবয়সি ভাই, যিনি সত্যে বড়ো হয়ে উঠেছিলেন, তিনি কী বলেছিলেন: “আমার বাবা-মা আমাকে বলেছেন বলেই যে আমি সবকিছু মেনে নিয়েছি, এমনটা নয়। আমি নিজে সমস্ত কিছু যাচাই করেছি। এখনও আমি যা পড়ি বা শুনি, সেই বিষয়ে আমার মনে সন্দেহ আসে। সেইসময় আমি আমাদের প্রকাশনাগুলো থেকে আমার প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার চেষ্টা করি আর এইভাবে আমার সন্দেহ দূর করি।” আমরা যত এই বিষয়ে নিশ্চিত হব যে, বাইবেল হল ঈশ্বরের অনুপ্রাণিত বাক্য, তত আমরা আমাদের বিশ্বাসের ভিতকে দৃঢ় করতে পারব।—১ করি. ৩:১২, ১৩.
বর্তমানে যিহোবাই তাঁর সংগঠনকে পরিচালনা দিচ্ছেন
১৩. বর্তমানে যিহোবাই তাঁর সংগঠনকে পরিচালনা দিচ্ছেন, এই বিষয়ে সন্দেহ এলে আমাদের কী করা উচিত?
১৩ বর্তমানে যিহোবাই তাঁর সংগঠনকে পরিচালনা দিচ্ছেন, এই বিষয়ে যদি আমাদের মনে কখনো সন্দেহ আসে, তা হলে আমরা যেন সেটাকে বাড়তে না দিই। এর পরিবর্তে, সন্দেহ দূর করার জন্য আমরা নিজেকে এই প্রশ্নগুলো জিজ্ঞেস করতে পারি: ‘কারা আজকে বাইবেলের মান অনুযায়ী জীবনযাপন করার জন্য যথাসাধ্য করছে? কোন সংগঠন বাইবেলকে তাদের সমস্ত বিশ্বাসের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করে?’ (২ তীম. ৪:৩, ৪) ‘কারা বর্তমানে যিহোবার ইচ্ছা পালন করছে?’—মথি ৭:২০, ২১.
১৪. কীভাবে যিহোবার সাক্ষিরা মথি ২৪:১৪ পদে দেওয়া ভবিষ্যদ্বাণী পরিপূর্ণ করছে?
১৪ ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করার বিষয়টা যখন আসে, তখন আমরা নিজেদের এই প্রশ্ন করতে পারি, ‘শেষকালে সুসমাচার প্রচার করার বিষয়ে যিশু যে-ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, বর্তমানে কারা সেই কাজ করছে?’ (মথি ২৪:১৪) এর উত্তর একেবারে স্পষ্ট। ঈশ্বর তাঁর লোকদের অর্থাৎ যিহোবার সাক্ষিদের সুসমাচার প্রচার কাজ করার জন্য ব্যবহার করছেন। আমরা যিহোবার সাক্ষিরা দেশ ও দ্বীপ মিলিয়ে ২৪০-টারও বেশি জায়গায় ঈশ্বরের রাজ্যের সুসমাচার প্রচার করছি। যিশুর নির্দেশনায় আমরা ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই কাজ করে আসছি। আমরা সবসময় আমাদের প্রচার ও শিক্ষা দেওয়ার কাজকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে এসেছি।—মথি ২৮:১৯, ২০.
১৫. কীভাবে যিহোবার সাক্ষিরা বর্তমানে ঈশ্বরের নামের গৌরব নিয়ে এসেছে? (মথি ৬:৯; যিশাইয় ৪৩:১০)
১৫ মথি ৬:৯ এবং যিশাইয় ৪৩:১০ পদ পড়ুন। আমাদের পরিচয়ের সঙ্গে ঈশ্বরের ব্যক্তিগত নাম যিহোবা জড়িয়ে রয়েছে আর আমরা গর্বিত যে, আমাদের যিহোবার সাক্ষি বলা হয়। জগতের অধিকাংশ মানুষ আজকে ঈশ্বরের নাম জানে না। কিন্তু, আমাদের সংগঠন কঠোর পরিশ্রম করে ঈশ্বরের নামকে বাইবেলের উপযুক্ত স্থানে আবার ফিরিয়ে এনেছে। পবিত্র বাইবেল—নতুন জগৎ অনুবাদ বাইবেলে ৭০০০-রেরও বেশি বার সেই নাম পাওয়া যায়, ঠিক যেমনটা মূল ভাষার বাইবেলে পাওয়া গিয়েছিল।
১৬. কেন আমরা বলতে পারি, যিহোবার সাক্ষিরা যোহন ১৩:৩৪, ৩৫ পদে দেওয়া আজ্ঞা পালন করছে? (ছবিও দেখুন।)
১৬ যোহন ১৩:৩৪, ৩৫ পদ পড়ুন। এই বিভক্ত জগতে আমাদের ভ্রাতৃসমাজের মধ্যে যে-প্রেম ও একতা রয়েছে, সেটা অদ্বিতীয়। যদিও আমরা পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গা থেকে এসেছি এবং আমাদের পটভূমি ও পরিস্থিতি আলাদা, কিন্তু তারপরও আমরা নিজেদের মধ্যে শান্তি ও প্রেম বজায় রাখার জন্য অনেক প্রচেষ্টা করি। আপনি কি আপনার নিজের মণ্ডলী ছাড়াও অন্য কোনো মণ্ডলীতে গিয়েছেন? যদি না গিয়ে থাকেন, তা হলে আপনি যখন অন্য কোনো মণ্ডলীতে যাবেন, তখন ভাই-বোনদের মধ্যে যে-প্রেম ও একতা রয়েছে, সেটা লক্ষ করার চেষ্টা করুন। এটা স্পষ্টভাবে দেখাবে যে, যিহোবা বর্তমানে তাঁর উদ্দেশ্য পরিপূর্ণ করার জন্য তাঁর সাক্ষিদের ব্যবহার করছেন। এই বিষয়টা মাথায় রাখলে আমরা যেকোনো কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও যিহোবার প্রতি বিশ্বস্ততা বজায় রাখতে পারব।
আমাদের ভ্রাতৃসমাজের মধ্যে যে-প্রেম ও একতা রয়েছে, সেটা অদ্বিতীয় (১৬ অনুচ্ছেদ দেখুন)a
যিহোবাকে কখনো ছেড়ে দেবেন না
১৭-১৮. (ক) আমাদের সামনে কোন কোন পরিস্থিতি আসতে পারে? (খ) কিন্তু, আমরা নিশ্চিতভাবে কী বলতে পারি?
১৭ এই শেষকালে আমাদের এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে, যেটার সঙ্গে মোকাবিলা করা আমাদের পক্ষে কঠিন হতে পারে। (২ তীম. ৩:১, ১৩) আমরা হয়তো অন্যান্য সমস্যারও মুখোমুখি হতে পারি। যিহোবার সংগঠন আমাদের এমন কোনো নির্দেশনা দিতে পারে, যেটা হয়তো আমরা পুরোপুরি বুঝতে পারব না। অথবা কোনো ভাই বা বোন আমাদের হয়তো ভুল বুঝতে পারে বা আঘাত দিতে পারে। আমরা হয়তো সঙ্গেসঙ্গে আমাদের সমস্যাগুলোর কোনো সমাধান খুঁজে পাব না অথবা বুঝতে পারব না যে, কেন এটা আমাদের সঙ্গে ঘটছে।
১৮ আমরা যদি এই বিষয়ে নিশ্চিত হই যে, যিহোবাই সমস্ত কিছু সৃষ্টি করেছেন, বাইবেল হল তাঁর অনুপ্রাণিত বাক্য এবং যিহোবার সাক্ষিরাই হল তাঁর লোক, তা হলে আমাদের পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক না কেন, আমরা সবসময় যিহোবার প্রতি বিশ্বস্ত থাকতে পারব। প্রেরিত পিতর যেমনটা যিশুকে বলেছিলেন, আমরাও ঠিক তারই মতো যিহোবাকে বলতে পারব: “আমরা কার কাছে যাব? আপনার কাছে অনন্তজীবনের কথা রয়েছে।”
গান ১২৩ আমরা যিহোবার ও তাঁর সংগঠনের বশীভূত থাকি
a ছবি সম্বন্ধে বর্ণনা: একজন মা এবং তার মেয়ে বাসে করে কোথাও যাচ্ছে আর সেই বাস থেকে ভাই-বোনদের প্রচার করতে দেখে তারা খুব আনন্দ পাচ্ছে।