ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w25 মার্চ পৃষ্ঠা ২০-২৫
  • বিশ্বাস দ্বারা চলুন

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • বিশ্বাস দ্বারা চলুন
  • প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য সম্বন্ধে ঘোষণা করে (অধ্যয়ন)—২০২৫
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • চাকরি বাছাইয়ের ক্ষেত্রে
  • জীবনসঙ্গী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে
  • সংগঠনের কাছ থেকে নির্দেশনা পাওয়ার ক্ষেত্রে
  • যে-সিদ্ধান্তগুলো দেখায়, আমরা যিহোবার উপর নির্ভর করি
    আমাদের খ্রিস্টীয় জীবন ও পরিচর্যা—সভার জন্য অধ্যয়ন পুস্তিকা ২০২৩
  • নম্র হোন এবং মেনে নিন যে, আপনি কিছু বিষয় জানেন না
    প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য সম্বন্ধে ঘোষণা করে (অধ্যয়ন)—২০২৫
  • এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজুন
    ২০২৫-২০২৬ সালের সীমা সম্মেলনের বিষয়সূচি—সীমা অধ্যক্ষের সঙ্গে
  • এমন সিদ্ধান্ত নিন, যা যিহোবাকে খুশি করে
    প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য সম্বন্ধে ঘোষণা করে (অধ্যয়ন)—২০২৫
আরও দেখুন
প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য সম্বন্ধে ঘোষণা করে (অধ্যয়ন)—২০২৫
w25 মার্চ পৃষ্ঠা ২০-২৫

অধ্যয়ন প্রবন্ধ ১২

গান ১১৯ বিশ্বাস থাকতে হবে

বিশ্বাস দ্বারা চলুন

“আমরা যা দেখা যায়, সেটার দ্বারা নয়, বরং বিশ্বাস দ্বারা চলি।”—২ করি. ৫:৭.

আমরা কী শিখব?

জীবনে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় কীভাবে আমরা বিশ্বাস দ্বারা চলতে পারি?

১. পৌল কেন নিজের জীবনে আনন্দিত ছিলেন?

প্রেরিত পৌলকে খুব শীঘ্রই মেরে ফেলা হবে। কিন্তু, তিনি আনন্দিত কারণ তিনি এক পরিতৃপ্তিদায়ক জীবন কাটিয়েছেন। তিনি বলেছিলেন, “আমি দৌড় প্রতিযোগিতায় শেষ পর্যন্ত দৌড়েছি, আমি বিশ্বাস বজায় রেখেছি।” (২ তীম. ৪:৬-৮) পৌল যিহোবাকে সেবার করার এক উত্তম সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তিনি নিশ্চিত ছিলেন, যিহোবা তার সিদ্ধান্তে খুশি। আমরাও ভালো সিদ্ধান্ত নিতে চাই, যাতে যিহোবা আমাদের উপর খুশি হন। কীভাবে আমরা তা করতে পারি?

২. বিশ্বাস দ্বারা চলার মানে কী?

২ পৌল নিজের এবং অন্য বিশ্বস্ত প্রেরিতদের বিষয়ে বলেছিলেন, “আমরা যা দেখা যায়, সেটার দ্বারা নয়, বরং বিশ্বাস দ্বারা চলি।” (২ করি. ৫:৭) পৌলের কথাগুলোর মানে কী ছিল? বাইবেলে অনেক জায়গায় যখন ‘চলার’ কথা বলা হয়েছে, তখন সেটার মানে হল, একজন ব্যক্তি কীভাবে জীবনযাপন করে। যা দেখা যায়, একজন ব্যক্তি যখন সেটার দ্বারা চলেন, তখন তিনি শুধুমাত্র নিজের উপর নির্ভর করেন অর্থাৎ তিনি যা দেখেন, শোনেন এবং তার কাছে যা সঠিক বলে মনে হয়, সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু, যে-ব্যক্তি বিশ্বাস দ্বারা চলেন, তিনি যিহোবার উপর নির্ভর করেন এবং কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় খেয়াল রাখেন যে, সেই বিষয়ে যিহোবা কী চিন্তা করেন। তিনি পুরোপুরি নিশ্চিত যে, বাইবেলে যিহোবা যা-কিছু বলেছেন, সেগুলো মেনে চললে তার উপকার হবে। শুধু তা-ই নয়, ভবিষ্যতে যিহোবা তাকে পুরস্কারও দেবেন।—গীত. ১১৯:৬৬; ইব্রীয় ১১:৬.

৩. বিশ্বাস দ্বারা চললে আমরা কোন উপকার পাব? (২ করিন্থীয় ৪:১৮)

৩ এটা ঠিক যে, অনেকসময় আমরা যা দেখি, যা শুনি এবং যা সঠিক বলে মনে করি, সেটার উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিই। কিন্তু, আমরা যদি জীবনে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র এই বিষয়গুলোর উপর ভিত্তি করে নিই, তা হলে সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। কেন? কারণ আমরা যা দেখি ও শুনি, সেটা সবসময় সঠিক না-ও হতে পারে। আর আমরা যদি সঠিক হই, তবুও যা দেখা যায়, সেই অনুযায়ী আমাদের চলা উচিত নয়, তা না হলে আমরা এমন কিছু করে ফেলব, যা যিহোবা পছন্দ করেন না। (উপ. ১১:৯; মথি ২৪:৩৭-৩৯) কিন্তু, আমরা যদি বিশ্বাস দ্বারা চলি, তা হলে আমরা এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারব, যা “প্রভুর প্রীতিজনক” হবে। (ইফি. ৫:১০) ঈশ্বরের পরামর্শ মেনে চললে আমরা মনের শান্তি পাব এবং প্রকৃত সুখী হব। (গীত. ১৬:৮, ৯; যিশা. ৪৮:১৭, ১৮) আমরা যদি ক্রমাগত বিশ্বাস দ্বারা চলি, তা হলে ভবিষ্যতে আমরা অনন্তজীবন লাভ করব।—পড়ুন, ২ করিন্থীয় ৪:১৮.

৪. একজন ব্যক্তি কীভাবে জানতে পারেন যে, তিনি যা দেখা যায়, সেই অনুযায়ী চলছেন, না কি বিশ্বাস দ্বারা চলছেন?

৪ কীভাবে আমরা জানতে পারি, আমরা বিশ্বাস দ্বারা চলছি, না কি যা দেখা যায়, সেই অনুযায়ী চলছি? এটা জানার জন্য নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, ‘আমি কীসের উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিই?’ আমি কি শুধুমাত্র সেই বিষয়গুলোর উপর মনোযোগ দিই, যেগুলো আমি দেখতে পাই? না কি আমি যিহোবার উপর নির্ভর করি এবং তাঁর পরামর্শ মেনে চলি?’ আসুন তিনটে বিষয়ের উপর মনোযোগ দিই এবং দেখি যে, আমরা কীভাবে বিশ্বাস দ্বারা চলতে পারি: (১) যখন আমাদের কোনো চাকরি বাছাই করতে হয়, (২) যখন আমাদের বিবাহসাথি বাছাই করতে হয় এবং (৩) যখন আমরা সংগঠনের কাছ থেকে আসা নির্দেশনা পাই। প্রতিটা বিষয় নিয়ে আলোচনা করার সময় আমরা জানব যে, সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আমাদের কোন বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে।

চাকরি বাছাইয়ের ক্ষেত্রে

৫. চাকরি বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আমাদের কোন বিষয়ে খেয়াল রাখা উচিত?

৫ আমরা সবাই নিজেদের এবং পরিবারের ভরণ-পোষণ জোগাতে চাই। (উপ. ৭:১২; ১ তীম. ৫:৮) কিছু চাকরিতে বেশি টাকা পাওয়া যায়, এটা দিয়ে একজন ব্যক্তি দৈনন্দিন খরচ মেটাতে পারে এবং কিছু টাকা সঞ্চয়ও করতে পারে। কিন্তু, কিছু চাকরিতে বেশি টাকা পাওয়া যায় না, তাই এটা দিয়ে একজন ব্যক্তি শুধুমাত্র নিজের পরিবারের ভরণ-পোষণ জোগাতে পারে। একটা চাকরি বাছাই করার সময় আমাদের এটা দেখতে হবে যে, আমরা কত টাকা পাব। কিন্তু, আমরা যদি কেবল এটা দেখেই চাকরি বাছাই করি, তা হলে বিষয়টা এমন হবে যেন আমরা যা দেখা যায়, সেটার দ্বারা চলছি।

৬. চাকরি বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আমরা কীভাবে দেখাতে পারি যে, আমরা বিশ্বাস দ্বারা চলছি? (ইব্রীয় ১৩:৫)

৬ যে-ব্যক্তি বিশ্বাস দ্বারা চলেন, তিনি কোনো চাকরি বাছাই করার আগে এও চিন্তা করবেন যে, এটা যিহোবার সঙ্গে তার সম্পর্কের উপর কেমন প্রভাব ফেলবে। তিনি নিজেকে জিজ্ঞেস করবেন, ‘আমি যদি এই চাকরিটা করি, তা হলে আমাকে কি এমন কিছু করতে হবে, যেটা যিহোবা ঘৃণা করেন?’ (হিতো. ৬:১৬-১৯) ‘এটা কি আমাকে প্রতিটা সভায় যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা দেবে?’ ‘এটার ফলে আমি কি বাইবেল পড়ার এবং প্রচারে যাওয়ার জন্য কম সময় পাব?’ ‘আমাকে কি দীর্ঘসময় ধরে পরিবার থেকে আলাদা থাকতে হবে?’ (ফিলি. ১:১০) এই প্রশ্নগুলোর উত্তরে তিনি যদি “হ্যাঁ” বলেন, তা হলে ভালো হবে যেন তিনি এইরকম চাকরি না করেন আর এমনকী তিনি অন্য চাকরি খুঁজে না পেলেও। আমরা যদি বিশ্বাস দ্বারা চলি, তা হলে আমাদের সিদ্ধান্তগুলো দেখাবে যে, আমাদের যিহোবার উপর সম্পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আর আমরা নিশ্চিত যে, তিনি কোনো-না-কোনো উপায়ে আমাদের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো জুগিয়ে দেবেন।—মথি ৬:৩৩; পড়ুন, ইব্রীয় ১৩:৫.

৭-৮. জ্যাভিয়ার কীভাবে দেখিয়েছিলেন যে, তিনি বিশ্বাস দ্বারা চলেন? (ছবিও দেখুন।)

৭ দক্ষিণ আমেরিকায় থাকা জ্যাভিয়ারেরa উদাহরণের উপর মনোযোগ দিন। তিনি জানতেন যে, বিশ্বাস দ্বারা চলা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “আমি যে-কোম্পানিতে কাজ করতাম, সেখানেই এমন একটা চাকরির জন্য আবেদন করেছিলাম, যেটা আমার খুবই পছন্দের এবং এটা থেকে আমি দ্বিগুণ বেতন পেতে পারতাম।” কিন্তু, তিনি অগ্রগামী সেবাও করতে চেয়েছিলেন। তিনি বলেন, “কোম্পানির ম্যানেজারের সঙ্গে আমার ইন্টারভিউ ছিল। ইন্টারভিউয়ের আগে আমি যিহোবার কাছে প্রার্থনা করি। আমি নিশ্চিত ছিলাম যে, যিহোবা জানেন আমার জন্য কোনটা সবচেয়ে ভালো হবে। আমি এই চাকরিটা পেতে চেয়েছিলাম ঠিকই, কিন্তু এর ফলে আমি যদি বেশি করে যিহোবার সেবা না করতে পারি, তা হলে আমার এই চাকরির কোনো দরকার নেই।”

৮ জ্যাভিয়ার বলেন, “ইন্টারভিউতে ম্যানেজার আমাকে বলেছিলেন যে, আমাকে প্রায়ই অনেক ঘণ্টা ধরে কাজ করতে হবে। আমি সদয়ভাবে তাকে বলি, আমাকে প্রচারে যেতে হয়, তাই আমার এটা করা সম্ভব নয়।” জ্যাভিয়ার সেই চাকরি গ্রহণ করেন না। দুই সপ্তাহ পর তিনি অগ্রগামী সেবা শুরু করে দেন। কিছু মাস পর তিনি একটা পার্ট-টাইম চাকরি খুঁজে পান। তিনি বলেন, “যিহোবা আমার প্রার্থনা শুনেছিলেন এবং আমাকে এমন একটা চাকরি খুঁজে পেতে সাহায্য করেছিলেন, যার ফলে আমি অগ্রগামী সেবাও করতে পেরেছিলাম। আমি খুবই খুশি যে, আমি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। এখন আমি যিহোবা এবং ভাই-বোনদের জন্য আরও বেশি সময় বের করতে পারি।”

একটা শক্ত টুপি এবং কাজের পোশাক পরা একজন ভাইকে তার সুপারভাইজার একটা খালি অফিসে নিয়ে যাচ্ছেন। সুপারভাইজার তাকে প্রোমোশনের প্রস্তাব দিচ্ছেন।

আপনি যদি কাজের জায়গায় প্রোমোশনের প্রস্তাব পান, তা হলে আপনি কী করবেন? আপনার সিদ্ধান্ত কি দেখাবে যে, যিহোবার উপর আপনার আস্থা রয়েছে? (৭-৮ অনুচ্ছেদ দেখুন)


৯. ট্রেসরের অভিজ্ঞতা থেকে আপনি কী শিখেছেন?

৯ বর্তমানে আপনি যদি এমন একটা চাকরি করেন, যেটার ফলে বিশ্বাস দ্বারা চলা আপনার জন্য কঠিন হচ্ছে, তা হলে আপনি কী করতে পারেন? এই ক্ষেত্রে কঙ্গোতে থাকা ট্রেসরের উদাহরণের উপর মনোযোগ দিন। তিনি বলেন, “আমি এমন একটা চাকরি করছিলাম, যেটা সমস্ত লোক পেতে চায়। এখানে আমি তিন গুণ বেশি বেতন পেতাম এবং প্রত্যেকেই আমাকে অনেক সম্মান করত।” কিন্তু, প্রায়ই তাকে অনেক ঘণ্টা ধরে কাজ করতে হত আর এই কারণে তিনি অনেক বার সভায় যোগ দিতে পারেননি। এ ছাড়া, তার কাজের জায়গায় যে-প্রতারণার কাজগুলো হত, সেগুলো লুকোনোর জন্য তার সহকর্মীরা তাকে মিথ্যা কথাও বলতে বলে। তিনি এই চাকরিটা ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু, তিনি এটাও চিন্তা করছিলেন যে, তিনি যদি এই চাকরিটা ছেড়ে দেন, তা হলে তিনি হয়তো অন্য চাকরি খুঁজে পাবেন না। তিনি কীভাবে এক সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছিলেন? তিনি বলেছিলেন, “হবক্‌কূক ৩:১৭-১৯ পদ আমাকে বুঝতে সাহায্য করেছিল, আমাকে যদি খুব অল্প টাকাতেও সংসার চালাতে হয়, তবুও যিহোবা আমার যত্ন নেবেন। তাই, আমি সেই চাকরিটা ছেড়ে দিই।” তিনি আরও বলেন, “অনেক মালিক এইরকম চিন্তা করে যে, যদি কোনো ব্যক্তিকে মোটা টাকা বেতন দেওয়া হয়, তা হলে সে যেকোনো কাজ করতে রাজি হয়ে যাবে। সে নিজের পরিবার এমনকী ঈশ্বরকেও ছেড়ে দেবে। আমি খুশি যে, আমি এমন কাজ করিনি। এক বছর পর যিহোবার সাহায্যে আমি এমন একটা চাকরি খুঁজে পাই, যেটা আমাকে নিজের ভরণ-পোষণ জোগাতে এবং ঈশ্বরের সেবায় আরও বেশি সময় দিতে সাহায্য করেছিল। আমরা যখন যিহোবাকে আমাদের জীবনে প্রথম স্থানে রাখি, তখন হতে পারে আমরা কিছু সময়ের জন্য আর্থিক সমস্যার মুখোমুখি হব। কিন্তু, যিহোবা আমাদের যত্ন নেবেন।” সত্যিই, আমরা যদি যিহোবার নির্দেশনা মেনে চলি এবং তাঁর প্রতিজ্ঞাগুলোর উপর বিশ্বাস রাখি, তা হলে আমরা বিশ্বাস দ্বারা চলতে পারব এবং অনেক আশীর্বাদ লাভ করব।

জীবনসঙ্গী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে

১০. জীবনসঙ্গী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলো দেখলে আমরা যা দেখা যায়, সেটার দ্বারা চলে ফেলতে পারি?

১০ বিয়ে হল ঈশ্বরের কাছ থেকে পাওয়া একটা উপহার। একটা ছেলে এবং মেয়ে যদি বিয়ে করতে চায়, তা হলে এটা একটা স্বাভাবিক বিষয়। ধরুন, একজন বোন বিয়ে করার কথা চিন্তা করছেন। তিনি হয়তো এই বিষয়গুলো লক্ষ করবেন যে, ছেলেটা কেমন স্বভাবের, ছেলেটা দেখতে কেমন, লোকেরা তার সম্পর্কে কী বলে, অর্থকে সে কীভাবে দেখে বা তার উপর পরিবারের কোন দায়িত্ব রয়েছে। এ ছাড়া, তিনি হয়তো এটাও চিন্তা করতে পারেন যে, তিনি যখন তার সঙ্গে থাকেন, তখন তিনি কেমন অনুভব করেন।b এই বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা করা ভুল নয়। কিন্তু, সেই বোন যদি শুধুমাত্র এই বিষয়গুলোর উপর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত নেন, তা হলে তিনি যা দেখা যায়, সেই অনুযায়ী চলছেন।

১১. জীবনসঙ্গী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আমরা কীভাবে দেখাতে পারি যে, আমরা বিশ্বাস দ্বারা চলছি? (১ করিন্থীয় ৭:৩৯)

১১ কিন্তু, ঈশ্বরের যে-সেবকেরা বিশ্বাস দ্বারা চলে, তারা জীবনসঙ্গী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বাইবেলের পরামর্শ মেনে চলে। যেমন, তারা “যৌবনের কচি বয়স পার” করার পরই কারো সঙ্গে বিয়ের উদ্দেশ্যে মেলামেশা করতে শুরু করে। (১ করি. ৭:৩৬) তারা এটাও খেয়াল রাখে যে, তারা যাকে বিয়ে করার কথা চিন্তা করছে, তার মধ্যে এমন গুণগুলো থাকুক, যেগুলো যিহোবার মান অনুযায়ী একজন ভালো স্বামী বা স্ত্রীর মধ্যে থাকা উচিত। (হিতো. ৩১:১০-১৩, ২৬-২৮; ইফি. ৫:৩৩; ১ তীম. ৫:৮) আর যিহোবার সাক্ষি নয় এমন ব্যক্তিরা যদি তাদের পছন্দ করতে শুরু করে, তা হলে তারা ১ করিন্থীয় ৭:৩৯ পদে দেওয়া পরামর্শ মেনে চলে, যেখানে বলা হয়েছে, কেবলমাত্র একজন ‘প্রভুর অনুসারীকে’ বিয়ে করা উচিত। (পড়ুন।) তারা এগুলো এইজন্য করে কারণ তারা নিশ্চিত যে, যিহোবা তাদের সঙ্গে আছেন এবং প্রতিটা ক্ষেত্রে তাদের সাহায্য করবেন। (গীত. ৫৫:২২) কল্পনা করুন, যখন যিহোবা তাঁর এই সেবকদের দেখেন, তখন তিনি কতই-না গর্বিত অনুভব করেন!

১২. আপনি রোজার অভিজ্ঞতা থেকে কী শিখেছেন?

১২ বোন রোজার উদাহরণের উপর মনোযোগ দিন, যিনি কলম্বিয়ায় অগ্রগামীর কাজ করেন। তিনি যে-কাজ করতেন, সেই সূত্রে একজন ব্যক্তির সঙ্গে তার দেখা হয়, যে তাকে পছন্দ করতে শুরু করে এবং তিনিও তাকে পছন্দ করতে শুরু করেন। রোজা বলেন, “তিনি একজন ভালো ব্যক্তি ছিলেন, তার কোনো খারাপ অভ্যাস ছিল না, তিনি লোকদের সাহায্য করতেন আর আমার সঙ্গেও খুব ভালো আচরণ করতেন। আমি আমার সঙ্গীর মধ্যে যে-বিষয়গুলো থাকুক বলে চাইতাম, সেই সমস্ত কিছু তার মধ্যে ছিল। শুধু সে একজন সাক্ষি ছিল না।” তিনি বলেন, “আসলে, আমি সত্যিই তাকে অনেক পছন্দ করতাম, তাই তাকে না বলা আমার জন্য অনেক কঠিন ছিল। সেই সময় আমার নিজেকে খুব একা বলে মনে হচ্ছিল। আমি বিয়ে করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আমি সত্যে মনের মতো কাউকে খুঁজে পাচ্ছিলাম না।” রোজা শুধুমাত্র যা দেখা যায়, সেই বিষয়গুলোর উপর মনোযোগ দেননি। তিনি এই বিষয় নিয়েও চিন্তা করেছিলেন যে, তিনি যে-সিদ্ধান্ত নেবেন, সেটা যিহোবার সঙ্গে তার সম্পর্কের উপর কেমন প্রভাব ফেলবে। রোজা সেই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলা পুরোপুরিভাবে বন্ধ করে দেন এবং সম্পূর্ণ হৃদয় দিয়ে যিহোবার সেবা করতে শুরু করেন। এর কিছু সময় পরই তিনি ‘রাজ্যের সুসমাচার প্রচারকদের জন্য স্কুলে’ যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন। এখন তিনি বিশেষ অগ্রগামী হিসেবে সেবা করছেন। রোজা বলেন, “যিহোবা আমার জীবন আনন্দে ভরে দিয়েছেন।” আপনি যখন কাউকে পছন্দ করেন, তখন বিশ্বাস দ্বারা চলা সহজ নয়। আপনি যদি যিহোবার পরামর্শ মেনে চলেন, তা হলে আপনি সবসময় উপকার পাবেন।

সংগঠনের কাছ থেকে নির্দেশনা পাওয়ার ক্ষেত্রে

১৩. আমরা যখন সংগঠনের কাছ থেকে নির্দেশনা পাই, তখন কোন বিষয়টা আমাদের যা দেখা যায়, সেই অনুযায়ী চলতে পরিচালিত করতে পারে?

১৩ আমরা প্রায়ই যিহোবার সংগঠনের কাছ থেকে নির্দেশনা পাই, যেমন প্রাচীন, সীমা অধ্যক্ষ, শাখা অফিস অথবা পরিচালকগোষ্ঠীর কাছ থেকে। এই নির্দেশনাগুলো মেনে চললে আমরা আরও ভালোভাবে যিহোবার সেবা করতে পারি। হয়তো কখনো কখনো আমরা যে-নির্দেশনা পাই, সেটার পিছনে থাকা কারণ বুঝতে পারি না। অথবা আমাদের মনে হতে পারে যে, সেই নির্দেশনা কাজে লাগালে আমাদের ক্ষতি হবে। অথবা এটাও হতে পারে, যে-ভাইয়েরা আমাদের নির্দেশনা দেয়, তাদের দুর্বলতাগুলোর উপর আমরা বেশি মনোযোগ দিই।

১৪. সংগঠনের কাছ থেকে আমরা যখন নির্দেশনা পাই, তখন আমরা কীভাবে বিশ্বাস দ্বারা চলতে পারি? (ইব্রীয় ১৩:১৭)

১৪ আমরা যখন বিশ্বাস দ্বারা চলি, তখন আমরা এই আস্থা রাখি, যিহোবাই এই সংগঠন চালাচ্ছেন এবং তিনি জানেন যে, আমাদের জন্য কোনটা সবচেয়ে ভালো হবে। তাই, আমরা যখন কোনো নির্দেশনা পাই, তখন সেটা দ্রুত এবং আনন্দের সঙ্গে মেনে নিই। (পড়ুন, ইব্রীয় ১৩:১৭.) আমরা এটাও মনে রাখি যে, এটা করার মাধ্যমে মণ্ডলীর একতা বজায় থাকবে। (ইফি. ৪:২, ৩) এটা ঠিক যে-ভাইয়েরা নেতৃত্ব নেন, তারা নিখুঁত নন, কিন্তু আমরা যদি তাদের নির্দেশনা মেনে চলি, তা হলে আমরা আস্থা রাখতে পারি যে, যিহোবা আমাদের আশীর্বাদ করবেন। (১ শমূ. ১৫:২২) আর যদি কোনো রদবদলের প্রয়োজন হয়, তা হলে যিহোবা অবশ্যই তা করবেন। —মীখা ৭:৭.

১৫-১৬. নির্দেশনা মেনে চলা যখন কঠিন ছিল, তখনও একজন ভাই কীভাবে বিশ্বাস দ্বারা চলেছিলেন? (ছবিও দেখুন।)

১৫ একটা অভিজ্ঞতার উপর মনোযোগ দিন, যা দেখায় বিশ্বাস দ্বারা চললে উপকার পাওয়া যায়। পেরুতে বেশিরভাগ জায়গায় স্প্যানিশ ভাষা বলা হয়ে থাকে। কিন্তু, সেখানকার অনেক লোক স্থানীয় ভাষায় কথা বলে। এর মধ্যে একটা হল কেচুয়া ভাষা। অনেক বছর ধরে কেচুয়া ভাষা বলে এইরকম ভাই-বোনেরা প্রচারের এলাকায় গিয়ে কেচুয়াভাষী লোকদের খুঁজত। কিন্তু, এরপর লোকদের খোঁজার পদ্ধতিতে রদবদল করা হয়েছিল, যাতে সরকারি নিয়ম ভালোভাবে পালন করা যেতে পারে। (রোমীয় ১৩:১) সেইসময় কিছু ভাই-বোন মনে করেছিল যে, এখন কেচুয়াভাষী লোকদের খোঁজা খুব কঠিন হয়ে যাবে। কিন্তু, ভাইয়েরা সংগঠনের কাছ থেকে পাওয়া নির্দেশনা মেনে চলেছিল, আর তাই যিহোবা তাদের পরিশ্রমে আশীর্বাদ করেছিলেন এবং তারা অনেক লোককে খুঁজে পেয়েছিল।

১৬ কেচুয়াভাষী মণ্ডলীর একজন প্রাচীন ভাই কেভিনেরও এই বিষয়ে অনেক চিন্তা হচ্ছিল। তিনি বলেন, “আমি এই বিষয়ে চিন্তিত ছিলাম যে, এখন কীভাবে আমরা কেচুয়াভাষী লোকদের খুঁজে পাব!” তখন তিনি কী করেছিলেন? তিনি বলেন, “হিতোপদেশ ৩:৫ পদ নিয়ে আমি গভীরভাবে চিন্তা করেছিলাম। আমি মোশির বিষয়েও চিন্তা করেছিলাম। যিহোবা তাকে বলেছিলেন, তিনি যেন ইজরায়েল জাতিকে মিশর দেশ থেকে বের করে লোহিত সাগরের দিকে নিয়ে যান। মোশি এমনটা মনে করতে পারতেন যে, তিনি যদি যিহোবার বাধ্য হন, তা হলে মিশরীয়েরা তাদের সহজে ধরে ফেলবে। কিন্তু, মোশি যিহোবার নির্দেশনার বাধ্য হয়েছিলেন এবং যিহোবা তাকে আশীর্বাদ করেছিলেন। যিহোবা ইজরায়েলীয়দের চমৎকার উপায়ে রক্ষা করেছিলেন।” (যাত্রা. ১৪:১, ২, ৯-১১, ২১, ২২) ভাই কেভিন প্রচার করার পদ্ধতিতে রদবদল করেছিলেন। এর ফলাফল কী হয়েছিল? তিনি বলেন, “যিহোবা যেভাবে আমাদের আশীর্বাদ করেছিলেন, তা দেখে আমরা অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। এর আগে আমরা যখন প্রচার করার জন্য যেতাম, তখন আমাদের অনেক পথ হাঁটতে হত এবং মাত্র এক দু-জন কেচুয়াভাষী লোকের সঙ্গেই দেখা হত। কিন্তু, এখন আমরা এমন এলাকাতে প্রচার করি, যেখানে কেচুয়া ভাষায় কথা বলে এমন অনেক লোক রয়েছে। তাই এখন আমরা অনেক লোকের সঙ্গে কথা বলতে পারি আর আমাদের আগের চেয়ে অনেক বেশি পুনর্সাক্ষাৎ এবং বাইবেল অধ্যয়ন রয়েছে। এ ছাড়া, সভাতেও অনেক লোক আসতে শুরু করেছে।” সত্যিই, যখন আমরা বিশ্বাস দ্বারা চলি, তখন যিহোবা অবশ্যই আমাদের পুরস্কার দেন।

একজন কেচুয়াভাষী ব্যক্তি একজন সাক্ষি দম্পতির সঙ্গে কথা বলছেন, যারা প্রচারে আছেন। তিনি তাদের একটা ঘরের দিকে ইশারা করে দেখাচ্ছেন যে, সেখানে কে থাকে।

অনেক লোক ভাই-বোনদের এই সন্ধান দিয়েছে যে, কেচুয়াভাষী লোকেরা কোথায় থাকে (১৫-১৬ অনুচ্ছেদ দেখুন)


১৭. এই প্রবন্ধ থেকে আপনি কী শিখেছেন?

১৭ এই প্রবন্ধে আমরা এমন তিনটে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি, যে-ক্ষেত্রেগুলোতে আমাদের অবশ্যই বিশ্বাস দ্বারা চলতে হবে। কিন্তু, জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রেও আমাদের বিশ্বাস দ্বারা চলতে হবে, যেমন আমাদের যখন এই সিদ্ধান্ত নিতে হয় যে, কোন ধরনের বিনোদন বাছাই করব, অবসর সময়ে কী করব, কত দূর পড়াশোনা করব অথবা সন্তানদের কীভাবে মানুষ করে তুলব। আমাদের যেকোনো বিষয়ে সিদ্ধান্তই নিতে হোক না কেন, আসুন আমরা যেন কখনোই যা দেখা যায়, সেই অনুযায়ী না চলি। এর পরিবর্তে, আসুন আমরা বিশ্বাস দ্বারা চলি অর্থাৎ যিহোবার সঙ্গে আমাদের যে-সম্পর্ক রয়েছে, সেই বিষয়ে চিন্তা করি, তাঁর নির্দেশনা মেনে চলি এবং তাঁর এই প্রতিজ্ঞার উপর সম্পূর্ণ আস্থা রাখি যে, তিনি আমাদের সবসময় যত্ন নেবেন। আমরা যদি তা করি, তা হলে ‘আমরা যুগে যুগে চিরকাল আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর নামে চলব।’—মীখা ৪:৫.

আমরা কীভাবে বিশ্বাস দ্বারা চলতে পারি . . .

  • চাকরি বাছাইয়ের ক্ষেত্রে?

  • জীবনসঙ্গী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে?

  • সংগঠনের কাছ থেকে নির্দেশনা পাওয়ার ক্ষেত্রে?

গান ১৫৬ বিশ্বাস দিয়ে

a কিছু নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।

b অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, একজন বোন জীবনসঙ্গী খুঁজছেন। কিন্তু, এখানে দেওয়া পরামর্শ ভাইদের জন্যও প্রযোজ্য।

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার