৬৬৬—শুধুমাত্র এক ধাঁধা নয়
“ঐ পশুর ছাব অর্থাৎ নাম কিম্বা নামের সংখ্যা যে কেহ ধারণ না করে, তাহার ক্রয় বিক্রয় করিবার অধিকার বদ্ধ করে। এস্থলে জ্ঞান দেখা যায়। যে বুদ্ধিমান্, সে ঐ পশুর সংখ্যা গণনা করুক; কেননা তাহা মনুষ্যের সংখ্যা, এবং সেই সংখ্যা ছয় শত ছেষট্টি।”—প্রকাশিত বাক্য ১৩:১৭, ১৮.
বাইবেলের অল্প কিছু বিষয়ই এতখানি আগ্রহ ও উদ্বিগ্নতা জাগিয়ে তুলেছে, যতখানি “ঐ পশুর” রহস্যময় ছাপ বা নাম—৬৬৬ সংখ্যা—সম্বন্ধীয় ভবিষ্যদ্বাণী করেছে। টেলিভিশন, ইন্টারনেট ও সেইসঙ্গে চলচ্চিত্র, বইপত্র এবং পত্রিকাগুলোতে সেই পশুর ছাপ অসংখ্য জল্পনাকল্পনার বিষয় হয়ে এসেছে।
কেউ কেউ মনে করে যে, ৬৬৬ হল বাইবেলে উল্লেখিত খ্রিস্টারির ছাপ। অন্যেরা বলে থাকে যে, এটা হল এক ধরনের ছাপ, যেটার দ্বারা মূলত একজনকে সেই পশুর দাস হিসেবে চিহ্নিত করা যায়, যেমন এক উলকি বা শরীরে ঢোকানো এক মাইক্রোচিপ যেটাতে ডিজিটাল কোড রয়েছে। আবার কেউ কেউ মনে করে যে, ৬৬৬ হল ক্যাথলিক পোপের পদাধিকারের ছাপ। পোপের সরকারি উপাধি ভিকরিয়স ফিলি ডেই (ঈশ্বরের পুত্রের প্রতিনিধি) এর প্রতিরূপ অক্ষরগুলোর জায়গায় রোমীয় অক্ষরে লেখা সংখ্যাগুলো বসানোর ফলে এবং সেই সংখ্যাগুলোকে সামান্য এদিকওদিক করে তারা ৬৬৬ সংখ্যাটা পেয়েছে। এ ছাড়া, এইরকমও দাবি করা হয় যে, রোমীয় সম্রাট ডায়োক্লেশিয়ানের ল্যাটিন নাম ও নিরো সিজারের ইব্রীয় নাম থেকে হিসাব করে একই সংখ্যা বের করা যায়।a
কিন্তু, এই কাল্পনিক ও মনগড়া ব্যাখ্যাগুলো, সেই পশুর ছাপ সম্বন্ধে স্বয়ং বাইবেল যা বলে তার চেয়ে অনেক আলাদা, যেমন পরের প্রবন্ধে আমরা দেখব। তবে বাইবেল এটা প্রকাশ করে যে, যাদের এই ছাপ রয়েছে তাদের ওপর ঈশ্বরের প্রচণ্ড ক্রোধ নেমে আসবে, যখন তিনি এই বর্তমান বিধিব্যবস্থার শেষ নিয়ে আসবেন। (প্রকাশিত বাক্য ১৪:৯-১১; ১৯:২০) তাই, ৬৬৬ এর অর্থ বোঝা কেবলমাত্র এক কৌতূহলজনক ধাঁধা সমাধান করার চেয়েও আরও অনেক বেশি কিছু। আনন্দের বিষয় হল, প্রেমের মূর্ত প্রতীক এবং আধ্যাত্মিক আলোর উৎস, যিহোবা ঈশ্বর এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্বন্ধে তাঁর দাসদের অন্ধকারে রাখেননি।—২ তীমথিয় ৩:১৬; ১ যোহন ১:৫; ৪:৮.
[পাদটীকা]
a সংখ্যাতত্ত্বের ওপর আলোচনার জন্য ২০০২ সালের ৮ই সেপ্টেম্বরের সচেতন থাক! (ইংরেজি) পত্রিকা দেখুন।