দীর্ঘ জীবনের জন্য আমাদের আকাঙ্ক্ষা কীভাবে পূর্ণ হতে পারে?
কেউ কেউ মনেপ্রাণে আশা করেন যে আগামী সহস্রাব্দে দীর্ঘ জীবন পাওয়ার জন্য মানুষের চেষ্টা অনেকখানি সফল হবে। আমেরিকান একাডেমি অফ অ্যান্টি-এজিং মেডিসিন এর প্রেসিডেন্ট ডা. রোনাল্ড ক্লাটজ হলেন তাদেরই একজন। এই সংগঠনের চিকিৎসক এবং বিজ্ঞানীরা মানুষের আয়ু বাড়ানোর জন্য নতুন নতুন উপায় খুঁজে বের করতে নিজেদের নিয়োজিত করেছেন। ডা. ক্লাটজ এবং তার সহকর্মীরা অনেক অনেক দিন বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখেন। তিনি বলেন, “আমি কমপক্ষে ১৩০ বছর বেঁচে থাকব বলে আশা করি।” “বার্ধক্য আসবেই একথা আমরা বিশ্বাস করি না। আজকে আমাদের কাছে এমন প্রযুক্তি আছে যা বুড়ো হওয়াকে ধীর করতে পারে, থামিয়ে দিতে পারে এবং এমনকি আরও আশ্চর্যের কথা হল যে তা মানুষকে আবারও যৌবন ফিরিয়ে দিতে পারে।” দীর্ঘ জীবন পাওয়ার আকাঙ্ক্ষায় ডা. ক্লাটজ প্রতিদিন প্রায় ৬০টা করে ট্যাবলেট খান।
হরমোন থেরাপি এবং বংশগতিবিদ্যা—কি কোন আশা দেয়?
হরমোন থেরাপি হল একটা ক্ষেত্র যা লোকেদের মনে আশা দেয়। গবেষণাগারে পশুদের নিয়ে পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে ডিএইচইএ হরমোন থেরাপি পশুদের বার্ধক্যকে ধীর করে দিয়েছে।
সুইডেনের অ্যাফটোনব্লেডেট খবরের কাগজে উদ্ভিদ হরমোন কাইনেটিন সম্বন্ধে ডেনমার্কের আরহাস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সুরেশ রতন বলেন: “গবেষণাগারে আমরা যে সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছি তা দেখায় যে কাইনেটিন হরমোনের মধ্যে রাখা মানুষের ত্বক কোষে সেই পরিবর্তন আসে না যা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের ত্বকে আসে। এগুলো যতদিন বেঁচে থাকে ততদিনই সতেজ থাকে।” কথিত আছে, যে পোকামাকড়ের মধ্যে হরমোন চিকিৎসা প্রয়োগ করা হয়েছে সেগুলো স্বাভাবিকের চেয়ে ৩০ থেকে ৪৫ শতাংশ বেশি সময় পর্যন্ত বেঁচে থাকে।
কথিত আছে যে মেলাটোনিন হরমোন প্রয়োগ করে ইঁদুরদের আয়ু ২৫ শতাংশ বাড়ানো গেছে। এছাড়াও ইঁদুরদের আরও তেজী, মোটাসোটা এবং ছটফটে হতে দেখা গেছে।
দেহের সামগ্রিক বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণকারী (hGH) হরমোন নিয়ে গবেষণা করছেন এমন ব্যক্তিরা দাবি করেন যে এই হরমোন ত্বককে আরও কোমল করে, মাংস পেশীকে মজবুত করে, যৌন সক্রিয়তা বাড়ায়, হাসিখুশি রাখে, বুদ্ধি বাড়ায় এবং বিপাক প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে, যেমন একজন তরুণের দেহে থাকে।
অনেকে বংশগতিবিদ্যার ওপর ভরসা করেন। বিজ্ঞানীরা মনে করেন যে জিনকে তাদের সুবিধা মতো কাজে লাগিয়ে তারা নেমাটোড বা গোলকৃমির আয়ু বাড়াতে পারেন আর তারা তাতে সফল হবেন। আসলে তারা কিছু গোলকৃমিকে তাদের স্বাভাবিক আয়ুর চেয়ে ছয় গুণ বেশি দিন বাঁচিয়ে রাখতে সফলও হয়েছিলেন। আর এইজন্যই তারা আশা করেছেন যে মানুষের মধ্যেও তারা এই জিন খুঁজে পাবেন এবং সুবিধা মতো কাজে লাগাতে পারবেন। টাইম পত্রিকা, মনট্রিলের ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. সিগফ্রেড হেকিমির কথা হুবহু তুলে ধরে: “আমরা যদি মানুষের আয়ু নির্ধারক সমস্ত জিনগুলোকে খুঁজে পাই, তাহলে সেগুলোর কাজকে আমরা হয়তো কিছুটা ধীর গতি করে দিয়ে মানুষের আয়ুকে বাড়াতে পারব।”
জীববিজ্ঞানীরা অনেক আগে থেকেই জানেন যে প্রত্যেকবার কোষ বিভাজনের সময় ক্রোমোজোমের প্রান্তীয় মেরু যাকে টেলোমিয়ার বলে তা ছোট হয়ে যায়। কিন্তু টেলোমিয়ার যখন প্রায় ২০ শতাংশ দৈর্ঘ্য হারিয়ে ফেলে তখন কোষের বিভাজন ক্ষমতা লোপ পায় এবং কোষ মরে যায়। টেলোমারেস নামে এক বিশেষ ধরনের এনজাইম টেলোমিয়ারের দৈর্ঘ্যকে আবার বাড়াতে পারে ফলে কোষ আবার বিভাজন প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে পারে। বেশির ভাগ কোষেই এই এনজাইম থাকে না বা তা কাজ করে না, কিন্তু কিছু কিছু কোষে সক্রিয় টেলোমারেসকে স্থাপন করা হলে সেগুলো বৃদ্ধি পায় এবং স্বাভাবিকের চেয়ে আরও অনেক গুণ বেশি বিভাজিত হতে পারে।
গবেষকদের মতে, এতে বার্ধক্যজনিত রোগগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করার অনেক সম্ভাবনা খুলে যায়। দেহের মুখ্য কোষগুলোকে (যে কোষগুলো দেহের কলা গঠনে সাহায্য করে) যদি সক্রিয় টেলোমারেসের দ্বারা “অমর” করা কোষ দিয়ে পালটে দেওয়া যায়, তাহলে কী হবে? ড. উইলিয়াম এ. হেসেলটাইন বলেন: “মানুষকে অমর করে তোলার জন্য এটা একটা পরিষ্কার ধারণা আর এটাকে আগামী ৫০ বছরের মধ্যে ধীরে ধীরে কাজে লাগানো যাবে।”—নিউ ইয়র্ক টাইমস।
ন্যানোটেকনোলজি ও হিমায়িতকরণ কি কোন উত্তর দিতে পারে?
ন্যানোমিটারের (যে পরিমাপযন্ত্র একশ কোটি ভাগে বিভক্ত) সাহায্যে হিসাব করার বিজ্ঞানকে বলে ন্যানোটেকনোলজি আর এটাও আশা দেয়। এই ক্ষেত্রে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ আশাকারী গবেষকেরা দাবি করেন যে ভবিষ্যতে এমন মেশিন তৈরি করা যাবে যেগুলো কমপিউটার দিয়ে চালানো হবে আর যেগুলো আকারে কোষের চেয়েও অনেক অনেক ছোট হবে। এগুলো আমাদের শরীরের অণুতে কাজ করবে আর তা আমাদের যে কোষ, কলা এবং অঙ্গগুলো পুরনো হয়ে গেছে সেগুলোকে আবার নতুন করে দেবে এবং যৌবন ফিরিয়ে আনবে। বার্ধক্য রোধ সম্বন্ধীয় একটা সম্মেলনে একজন গবেষক বলেছিলেন যে একবিংশ শতাব্দীর চিকিৎসকেরা হয়তো ন্যানোটেকনোলজিকে কাজে লাগিয়ে মানুষের শরীরকে অমর করে তুলবেন।
হিমায়িতকরণ পদ্ধতিতে এই আশা নিয়ে মানুষকে হিমায়িত করা হয় যে বিজ্ঞান যদি কোন একসময় মৃত কোষগুলোকে আবারও সজীব করতে পারে, তাহলে মানুষ আবার বেঁচে উঠবে। পুরো দেহ কিংবা শুধু মস্তিষ্ককে হিমায়িত করা যায়। একজন লোক একবার একটা বিছানার চাদরকে হিমায়িত করেছিলেন। কেন তিনি চাদরকে হিমায়িত করেছিলেন? এটা তার এক নিখোঁজ বন্ধুর চাদর ছিল যেখানে শুধু তার কিছু ত্বক কোষ ও কিছু চুল পড়েছিল। তিনি সেটাকে হিমায়িত করতে চেয়েছিলেন কারণ তিনি আশা করেছিলেন যে বিজ্ঞান যখন একসময় এতখানি উন্নতি করবে যে শুধু কয়েকটা বা একটা মাত্র কোষ দিয়ে মানুষকে আবার গঠন করতে পারবে, তখন তিনি তার বন্ধুকে আবার ফিরে পাবেন।
আমরা কীসে আস্থা রাখতে পারি?
মানুষ বেঁচে থাকতে চায় আর তার এই ইচ্ছা জন্মগত। তাই দীর্ঘ জীবন পাওয়ার জন্য বৈজ্ঞানিক উন্নতির খুবই প্রশংসা করা হয় এবং এর সঙ্গে অনেক আশাও জুড়ে আছে। কিন্তু জোরালো কোন প্রমাণই নেই যে ডিএইচইএ, কাইনেটিন, মেলাটোনিন, hGH অথবা অন্য কোন পদ্ধতি আসলেই বার্ধক্যকে রোধ করতে পারে। সন্দেহবাদীরা মনে করেন যে কোষের ভিতরে টেলোমারেসকে কাজে লাগানোর ফলে কেবল ক্যানসার কোষই সৃষ্টি হবে। আর ন্যানোটেকনোলজি ও হিমায়িতকরণ এখনও পর্যন্ত কাজে লাগানো হয়নি, তা শুধু বৈজ্ঞানিকদের কল্পনা জগতেই রয়ে গেছে।
বিজ্ঞান কিছু লোকেদের জন্য দীর্ঘ জীবন ও ভাল স্বাস্থ্য এনে দিতে পারে ঠিকই এবং হয়তো দিয়েছেও কিন্তু এটা কখনও অনন্ত জীবন দিতে পারবে না। কেন পারবে না? সহজ কথায় বলা যায় যে বার্ধক্য ও মৃত্যুর মূল কারণ খুঁজে বের করে তা দূর করা বিজ্ঞানের ক্ষমতার বাইরে।
বার্ধক্য ও মৃত্যুর মূল কারণ
বেশির ভাগ বিজ্ঞানী মনে করেন যে বার্ধক্য ও মৃত্যু আমাদের জিনের মধ্যেই মিশে আছে। তাহলে প্রশ্ন আসে: কখন, কীভাবে আর কেন এগুলো আমাদের জিনের মধ্যে ঢুকে গিয়েছিল?
বাইবেল আমাদেরকে এর সহজ উত্তর দেয়—যদিও এই উত্তর বাইবেল বংশগতিবিদ্যা অথবা ডিএনএ-এর ভাষায় দেয় না। রোমীয় ৫:১২ পদ বলে: “অতএব যেমন এক মনুষ্য দ্বারা পাপ, পাপ দ্বারা মৃত্যু জগতে প্রবেশ করিল; আর এই প্রকারে মৃত্যু সমুদয় মনুষ্যের কাছে উপস্থিত হইল, কেননা সকলেই পাপ করিল।”
প্রথম মানুষ আদম চিরকাল বেঁচে থাকতে পারত। তার দেহকে চিরকাল বেঁচে থাকার মতো এবং অনন্ত জীবন উপভোগ করার মতো করে তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু, চিরকাল বেঁচে থাকার জন্য একটা শর্ত ছিল। চিরকাল বেঁচে থাকার জন্য আদমকে তার জীবনদাতা, তার সৃষ্টিকর্তার কথা মতো কাজ করতে হতো এবং তাঁর বাধ্য হতে হতো।—আদিপুস্তক ১:৩১; ২:১৫-১৭.
কিন্তু আদম ঈশ্বরের অবাধ্য হয়েছিল। আসলে আদম দাবি করেছিল যে ঈশ্বরের সাহায্য ছাড়াই মানুষ নিজে নিজে আরও ভালভাবে শাসন করতে পারবে। ফলে সে পাপ করেছিল। আর এরপর থেকেই তার জিনের গঠন যেন বদলে গিয়েছিল। তার বংশধরদের উত্তরাধিকার হিসেবে অনন্ত জীবন দেওয়ার বদলে সে তাদের পাপ এবং মৃত্যু দিয়েছিল।—আদিপুস্তক ৩:৬, ১৯; রোমীয় ৬:২৩.
প্রকৃত আশা
কিন্তু এই অবস্থা সবসময়ের জন্য নয়। রোমীয় ৮:২০, ২১ পদ বলে: “সৃষ্টি অসারতার বশীকৃত হইল, স্ব-ইচ্ছায় যে হইল, তাহা নয় কিন্তু বশীকর্তার নিমিত্ত; এই প্রত্যাশায় হইল।” মানুষের স্রষ্টা যিহোবা ঈশ্বর, মানুষদের মৃত্যুর দাস করেছিলেন কারণ তারা তাঁর বিরুদ্ধে পাপ করেছিল, তবে এর সঙ্গে সঙ্গে তিনি আশার এক ভিত্তিও দিয়েছিলেন।
এই ভিত্তিটা কী ছিল তা স্পষ্ট হয়েছিল যখন যীশু পৃথিবীতে এসেছিলেন। যোহন ৩:১৬ পদ বলে: “কারণ ঈশ্বর জগৎকে এমন প্রেম করিলেন যে, আপনার একজাত পুত্ত্রকে দান করিলেন, যেন, যে কেহ তাঁহাতে বিশ্বাস করে, সে বিনষ্ট না হয়, কিন্তু অনন্ত জীবন পায়।” কিন্তু, যীশু খ্রীষ্টে বিশ্বাস করা কীভাবে আমাদেরকে মৃত্যু থেকে মুক্তি দিতে পারে?
পাপই যদি মৃত্যুর কারণ হয়, তাহলে মৃত্যুকে শেষ করতে হলে আগে পাপকে দূর করতে হবে। যীশুর পরিচর্যার প্রথম দিকে, খ্রীষ্ট সম্বন্ধে যোহন বাপ্তাইজক বলেছিলেন: “ঐ দেখ, ঈশ্বরের মেষশাবক, যিনি জগতের পাপভার লইয়া যান।” (যোহন ১:২৯) যীশু খ্রীষ্টের কোন পাপ ছিল না। তাই তিনি মৃত্যুর দাস ছিলেন না, কারণ পাপের শাস্তি হল মৃত্যু। তবুও তিনি স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণ করেছিলেন। কিন্তু কেন? কারণ তা করে তিনি আমাদের পাপের মূল্য শোধ করেছিলেন।—মথি ২০:২৮; ১ পিতর ৩:১৮.
আর সেই মূল্য শোধ করার ফলে, যারা যীশুতে বিশ্বাস করবেন তাদের সবার জন্য চিরকাল বেঁচে থাকার আশা খুলে গিয়েছিল। বিজ্ঞান হয়তো আমাদের আয়ুকে কিছুটা বাড়াতে পারে কিন্তু যীশুকে বিশ্বাস করাই হল অনন্ত জীবনের প্রকৃত পথ। স্বর্গে যীশু এই অমর জীবন লাভ করেছেন আর তাঁর বিশ্বস্ত প্রেরিতেরা ও আরও কিছু ব্যক্তিরাও এমন জীবন লাভ করবেন। কিন্তু, বেশির ভাগ লোকেরা অর্থাৎ আমরা যারা যীশুতে বিশ্বাস রেখে চলব আমরা এই পৃথিবীতে অনন্ত জীবন পাব, যখন যিহোবা ঈশ্বর পৃথিবীকে আবার পরমদেশ বানাবেন।—যিশাইয় ২৫:৮; ১ করিন্থীয় ১৫:৪৮, ৪৯; ২ করিন্থীয় ৫:১.
পরমদেশ পৃথিবীতে অনন্ত জীবন
একজন লোক জিজ্ঞাসা করেছিলেন: “মানুষ যদি না-ই মরে, তাহলে আমাদের মধ্যে কত জন লোক জীবনের মূল্য বুঝবে?” চিরকাল বেঁচে থাকতে থাকতে জীবন কি একঘেয়ে হয়ে যাবে না? বাইবেল আমাদেরকে আশ্বাস দেয় যে তা হবে না। “তিনি সকলই যথাকালে মনোহর করিয়াছেন, আবার তাহাদের হৃদয়মধ্যে চিরকাল রাখিয়াছেন; তথাপি ঈশ্বর আদি অবধি শেষ পর্য্যন্ত যে সকল কার্য্য করেন, মনুষ্য তাহার তত্ত্ব বাহির করিতে পারে না।” (উপদেশক ৩:১১) যিহোবা ঈশ্বরের সৃষ্টিতে এত কিছু আছে ও তা এত জটিল যে আমরা যতদিনই বেঁচে থাকি না কেন, এমনকি চিরকাল আমরা সেগুলো শিখতে চাইব, সেগুলো আমাদেরকে কৌতুহলী করবে ও আনন্দ দেবে।
একজন ব্যক্তি সাইবেরিয়ার জে পাখির ওপর গবেষণা করে সেটাকে “এক অনন্য, মনোরম পরিচয়” বলেছিলেন এবং তিনি আরও বলেছিলেন যে এই পাখিদের জীবনযাত্রা দেখা হল তার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অভিজ্ঞতা। সেই পাখি নিয়ে তিনি যত বেশি গবেষণা করেছিলেন, তার কাছে সেটা তত বেশি আগ্রহজনক হয়ে উঠেছিল। তিনি বলেছিলেন যে এমনকি ১৮ বছর ধরে গবেষণার পরেও তার আরও অনেক কিছু জানার আছে। শুধু একটা প্রজাতির পাখিই যদি ১৮ বছর ধরে একজন বুদ্ধিমান লোককে আগ্রহী করে তুলতে পারে, কৌতূহল জাগাতে পারে এবং আনন্দ দিতে পারে তাহলে, পুরো পৃথিবীর সৃষ্টি সম্বন্ধে জানা আরও কত বেশি আনন্দ এবং তৃপ্তি দেবে, তা একবার ভেবে দেখুন।
সেই দিনের কথা কল্পনা করুন যখন কোন একজনের জন্য অফুরন্ত সময় থাকবে আর তখন বিজ্ঞানের কত আলাদা আলাদা ক্ষেত্র তার সামনে খুলে যাবে। ঘুরে বেড়ানোর জন্য কত সুন্দর সুন্দর জায়গা থাকবে এবং জানার জন্য কত আলাদা আলাদা লোকেরা থাকবেন তা একবার ভেবে দেখুন। ভেবে দেখুন যে আমরা কত কিছু কল্পনা করতে পারব, সৃষ্টি করতে পারব, তৈরি করতে পারব তার কোন শেষ নেই। আমাদের সৃজনশীল মনকে কাজে লাগানোর জন্য কোন বাধা থাকবে না। আমরা যখন এই বিশাল সৃষ্টিকে দেখি তখন এটা পরিষ্কার হয়ে যায় যে আমরা জীবনে যা কিছু করতে চাই তা করার জন্য অনন্ত জীবনই হল একমাত্র সময়।
বাইবেল দেখায় যে যারা মারা গেছেন তারাও পুনরুত্থিত হয়ে চিরকাল বেঁচে থাকতে পারবেন। (যোহন ৫:২৮, ২৯) ইতিহাসের অনেক অজানা বিষয় আমাদের সামনে পরিষ্কার হয়ে উঠবে যখন সেই সময়ের ব্যক্তিরা আমাদেরকে পুরনো ঘটনাগুলো জানাবেন ও আমাদের প্রশ্নের উত্তর দেবেন। ইতিহাসের বিভিন্ন সময় সম্বন্ধে পুনরুত্থিত ব্যক্তিরা আমাদের কত চমৎকার সব তথ্য দেবেন তা কল্পনা করুন।—প্রেরিত ২৪:১৫.
সেই সময় কেমন হবে তা কল্পনা করতে গিয়ে আপনিও হয়তো একমত হবেন যে পুনরুত্থিত ইয়োব হয়তো তার কথাগুলোকে বদলে নিতে চাইবেন যা বাইবেলের ইয়োব ১৪:১ পদে লেখা আছে। এই কথার বদলে তিনি হয়তো তখন বলবেন ‘মনুষ্য, অবলাজাত সকলে, চিরকাল বেঁচে থাকবে ও তারা সুখী।’
যারা যিহোবার উপরে আস্থা রাখবেন এবং যীশুকে বিশ্বাস করবেন তারা যে চিরকাল বেঁচে থাকতে পারবেন তা কেবল একটা স্বপ্ন নয়। এটা খুব শীঘ্রই সত্যি হবে। বার্ধক্য এবং মৃত্যু শেষ হয়ে যাবে। তখন গীতসংহিতা ৬৮:২০ পদের কথা পূর্ণ হবে যেখানে লেখা আছে: “মৃত্যু হইতে উত্তরণ প্রভু সদাপ্রভুরই বশে।”—প্রকাশিত বাক্য ২১:৩, ৪.
[৪, ৫ পৃষ্ঠার চিত্র]
বিজ্ঞানের উন্নতি দীর্ঘ জীবনের সম্ভাবনায় আশা জুগিয়েছে
[৭ পৃষ্ঠার চিত্র]
আমরা জীবনে যা কিছু করতে চাই তা করার জন্য অনন্ত জীবনই হল একমাত্র সময়