ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w৯৭ ১০/১৫ পৃষ্ঠা ৫-৭
  • প্রকৃত সুখ—চাবিটি কী?

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • প্রকৃত সুখ—চাবিটি কী?
  • ১৯৯৭ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • আধ্যাত্মিকতা সুখে পরিচালিত করে
  • নির্বাচন করার জন্য আমাদের ক্ষমতা
  • ঈশ্বরীয় প্রজ্ঞা এবং বাধ্যতা—চাবিস্বরূপ
  • প্রকৃত সুখ আসে যিহোবার সেবায়
    ১৯৯২ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • সুখী তারাই, যারা সুখী ঈশ্বরের সেবা করে
    প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে (অধ্যয়ন)—২০১৮
  • প্রকৃত সুখ কোথায় পাওয়া যেতে পারে?
    ১৯৯৭ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • কীভাবে প্রকৃত সুখ লাভ করা যায়?
    প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য সম্বন্ধে ঘোষণা করে (অধ্যয়ন)—২০২২
আরও দেখুন
১৯৯৭ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w৯৭ ১০/১৫ পৃষ্ঠা ৫-৭

প্রকৃত সুখ—চাবিটি কী?

মনুষ্যদের সুখী হওয়ার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছিল। এই বিষয়ে কেন আমরা নিশ্চিত হতে পারি? মানুষের আরম্ভ সম্বন্ধে বিবেচনা করুন।

যিহোবা ঈশ্বর প্রথম মনুষ্য দম্পতিকে সুখ উপভোগ করার ক্ষমতা দিয়ে সৃষ্টি করেছিলেন। আদম আর হবাকে একটি পরমদেশে রাখা হয়েছিল, সুখাভিলাষ উপভোগের এক উদ্যান যেটি এদন নামে পরিচিত। সৃষ্টিকর্তা তাদের জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত বস্তুগত দ্রব্য প্রদান করেছিলেন। বাগানটিতে “সর্ব্বজাতীয় সুদৃশ্য ও সুখাদ্য-দায়ক বৃক্ষ” ছিল। (আদিপুস্তক ২:৯) আদম এবং হবা স্বাস্থ্যবান, শক্তিশালী ও সুন্দর ছিল—তারা সিদ্ধ এবং প্রকৃতই সুখী ছিল।

তাহলে, তাদের সুখের চাবিটি কী ছিল? এটি কি ছিল তাদের পরমদেশীয় গৃহ অথবা তাদের শারীরিক সিদ্ধতা? ঈশ্বরের কাছ থেকে এই উপহারগুলি তাদের জীবনকে উপভোগ করার ক্ষেত্রে অবশ্যই অবদান রেখেছিল। কিন্তু তাদের সুখ এইধরনের বস্তুগত বিষয়গুলির উপর নির্ভরশীল ছিল না। এদন উদ্যান একটি সুন্দর প্রমোদ উদ্যানের চেয়েও আরও বেশি কিছু ছিল। এটি ছিল একটি পবিত্র স্থান, ঈশ্বরের উপাসনার স্থান। তাদের অনন্ত সুখের চাবিটি ছিল সৃষ্টিকর্তার সাথে এক প্রেমপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন ও সেটিকে রক্ষা করে চলার ক্ষমতা। সুখী হওয়ার জন্য প্রথমে তাদের আধ্যাত্মিক হওয়ার প্রয়োজন ছিল।—মথি ৫:৩ পদের সাথে তুলনা করুন।

আধ্যাত্মিকতা সুখে পরিচালিত করে

প্রথমে ঈশ্বরের সাথে আদমের এক আধ্যাত্মিক সম্পর্ক ছিল। এটি এক প্রেমপূর্ণ কোমল সম্পর্ক ছিল যেমন একজন পিতার সাথে তার পুত্রের থাকে। (লূক ৩:৩৮) এদন উদ্যানে আদম ও হবার জন্য এক আদর্শ পরিস্থিতি ছিল যা তাদের উপাসনা করার আকাঙ্ক্ষাকে পরিতৃপ্ত করতে পারত। যিহোবার প্রতি তাদের ইচ্ছুক, প্রেমপূর্ণ বাধ্যতার দ্বারা তারা ঈশ্বরের জন্য সম্মান ও গৌরব নিয়ে আসতে পারত যেটি পশু সৃষ্টি যা করতে পারে তার চেয়ে অনেক বেশি উৎকৃষ্ট। তারা তাঁর অপূর্ব গুণাবলির জন্য বুদ্ধিমত্তা সহকারে ঈশ্বরের প্রশংসা করতে পারত এবং তাঁর সার্বভৌমত্বকে সমর্থন করতে পারত। এছাড়াও তারা অবিরত যিহোবার প্রেমময় ও কোমল যত্ন পেতে পারত।

সৃষ্টিকর্তার সাথে এই সম্বন্ধ ও তাঁর ব্যবস্থার প্রতি বাধ্যতা আমাদের প্রথম পিতামাতার জন্য অকৃত্রিম সুখ নিয়ে এসেছিল। (লূক ১১:২৮) আদম ও হবার ক্ষেত্রে সুখের চাবি খুঁজে বের করার আগে বহু বছর ধরে প্রচেষ্টা ও ভুলের নীতি পরীক্ষা করে দেখার প্রয়োজন ছিল না। তাদের সৃষ্টির মুহূর্ত থেকে তারা সুখী ছিল। ঈশ্বরের সাথে শান্তিতে থাকা ও তাঁর কর্তৃত্বের বশীভূত হওয়া তাদের সুখী করেছিল।

কিন্তু, এই সুখ শেষ হয়ে গিয়েছিল সেই মুহূর্তে যখন তারা ঈশ্বরের অবাধ্য হয়েছিল। বিদ্রোহ করার দ্বারা আদম ও হবা যিহোবার সাথে তাদের আধ্যাত্মিক সম্পর্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। তারা আর ঈশ্বরের বন্ধু রইল না। (আদিপুস্তক ৩:১৭-১৯) এটি স্পষ্ট প্রতীয়মান যে, যে দিন তাদের উদ্যান থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল সেই দিন থেকে যিহোবা তাদের সাথে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছিলেন। তারা তাদের সিদ্ধতা, অনন্তকাল বেঁচে থাকার প্রত্যাশা ও তাদের উদ্যান গৃহ হারিয়েছিল। (আদিপুস্তক ৩:২৩) কিন্তু আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি ছিল, যেহেতু তারা ঈশ্বরের সাথে তাদের সম্পর্ক হারিয়েছিল, তারা তাদের সুখের চাবিটি হারিয়ে ফেলেছিল।

নির্বাচন করার জন্য আমাদের ক্ষমতা

মৃত্যুর পূর্বে, আদম ও হবা তাদের মনুষ্য চরিত্র বৈশিষ্ট্যগুলি, তাদের সহজাত বিবেক ও আধ্যাত্মিকতার প্রতি তাদের সামর্থ তাদের সন্তানদের মধ্যে দিয়েছিল। মনুষ্য পরিবারকে পশু পর্যায়ের নিম্নস্তরে নিয়ে যাওয়া হয়নি। আমরা ঈশ্বরের সাথে পুনরায় সম্পর্ক স্থাপন করতে পারি। (২ করিন্থীয় ৫:১৮) বুদ্ধিমান প্রাণী হিসাবে মানুষের এখনও এটি নির্বাচন করার ক্ষমতা আছে যে তারা ঈশ্বরের বাধ্য হবে অথবা হবে না। অনেক শতাব্দী পরে এটি চিত্রিত করা হয়েছিল যখন যিহোবা নবগঠিত ইস্রায়েল জাতির সম্মুখে জীবন অথবা মৃত্যু সম্বন্ধে এক মনোনয়ন রেখেছিলেন। তাঁর মুখপাত্র মোশির মাধ্যমে ঈশ্বর বলেছিলেন: “আমি অদ্য তোমার সম্মুখে জীবন ও মঙ্গল এবং মৃত্যু ও অমঙ্গল রাখিলাম।”—দ্বিতীয় বিবরণ ৩০:১৫-১৮.

এমনকি এখনও, আদি পরমদেশ হারিয়ে যাওয়ার সহস্রাধিক বছর পরেও আমরা মানুষেরা সঠিক মনোনয়নটি করার ক্ষেত্রে ক্ষমতাসম্পন্ন। আমাদের এক কার্যকারী বিবেক ও ঈশ্বরের আইনের বাধ্য হওয়ার মৌলিক ক্ষমতা আছে। বাইবেল “আন্তরিক মনুষ্য” এবং “আন্তরিক” মানুষের সম্বন্ধে বলে। (২ করিন্থীয় ৪:১৬; রোমীয় ৭:২২) এই অভিব্যক্তিগুলি ঈশ্বরের ব্যক্তিত্বকে প্রতিফলিত করা, তাঁর চিন্তাধারার অনুরূপ চিন্তা করা ও আধ্যাত্মিকমনা হওয়ার জন্য আমাদের সকলের মধ্যে যে সহজাত সম্ভাবনা আছে তার বর্ণনা করে।

আমাদের নৈতিক স্বভাব ও বিবেক সম্বন্ধে প্রেরিত পৌল লিখেছিলেন: “যে পরজাতিরা কোন ব্যবস্থা পায় নাই, তাহারা যখন স্বভাবতঃ ব্যবস্থানুযায়ী আচরণ করে, তখন কোন ব্যবস্থা না পাইলেও আপনাদের ব্যবস্থা আপনারাই হয়; যেহেতুক তাহারা ব্যবস্থার কার্য্য আপন আপন হৃদয়ে লিখিত বলিয়া দেখায়, তাহাদের সংবেদও সঙ্গে সঙ্গে সাক্ষ্য দেয়, এবং তাহাদের নানা বিতর্ক পরস্পর হয় তাহাদিগকে দোষী করে, না হয় তাহাদের পক্ষ সমর্থন করে।”—রোমীয় ২:১৪, ১৫.

ঈশ্বরীয় প্রজ্ঞা এবং বাধ্যতা—চাবিস্বরূপ

কিন্তু একজন হয়ত জিজ্ঞাসা করতে পারে ‘যদি ঈশ্বরের উপাসনা করার জন্য আমাদের সকলেরই এক স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে আর যার ফলস্বরূপ অকৃত্রিম সুখ উপভোগ করা যায়, তাহলে কেন নিরানন্দ এত ব্যাপক?’ এর কারণ হল সুখী হওয়ার জন্য আমাদের প্রত্যেককে অবশ্যই আধ্যাত্মিকভাবে বৃদ্ধি পেতে হবে। যদিও মূলত ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিতে সৃষ্টি করা হয়েছিল, মানুষ তার সৃষ্টিকর্তার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। (ইফিষীয় ৪:১৭, ১৮) অতএব, আমাদের প্রত্যেকের উচিত ঈশ্বরের সাথে এক আধ্যাত্মিক সম্পর্ক স্থাপন ও রক্ষা করার জন্য নির্দিষ্ট পদক্ষেপগুলি নেওয়া। এইধরনের এক সম্পর্ক আপনা আপনিই গড়ে উঠবে না।

আধ্যাত্মিকতাকে বৃদ্ধি করার জন্য যীশু দুটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি সম্বন্ধে উল্লেখ করেছিলেন। একটি হল ঈশ্বর সম্বন্ধে যথার্থ জ্ঞান অর্জন করা এবং অন্যটি হল বাধ্যতার সাথে তাঁর ইচ্ছার বশীভূত হওয়া। (যোহন ১৭:৩) ঈশ্বরের বাক্য থেকে উদ্ধৃতি করে যীশু বলেছিলেন: “লেখা আছে, ‘মনুষ্য কেবল রুটীতে বাঁচিবে না, কিন্তু ঈশ্বরের মুখ হইতে যে প্রত্যেক বাক্য নির্গত হয়, তাহাতেই বাঁচিবে।’” (মথি ৪:৪) আর একটি পরিস্থিতিতে যীশু উল্লেখ করেছিলেন: “আমার খাদ্য এই, যিনি আমাকে পাঠাইয়াছেন, যেন তাঁহার ইচ্ছা পালন করি ও তাঁহার কার্য্য সাধন করি।” (যোহন ৪:৩৪) প্রচেষ্টা ও ভুলের নীতি প্রয়োগ করে সুখ খোঁজার জন্য আমাদের আর দশকের পর দশক অতিবাহিত করতে হবে না। অভিজ্ঞতা সুখের চাবি নয়। বরঞ্চ, কেবলমাত্র ঈশ্বরীয় প্রজ্ঞা ও আমাদের সৃষ্টিকর্তার প্রতি বাধ্যতা জীবনকে প্রকৃত সুখের দিকে পরিচালিত করতে পারে।—গীতসংহিতা ১৯:৭, ৮; উপদেশক ১২:১৩.

স্পষ্টতই, সুখ যা ঈশ্বরীয় প্রজ্ঞা অনুশীলন ও ঈশ্বরের সামনে এক উত্তম অবস্থানের দ্বারা এসে থাকে তা আমাদের নাগালের বাইরে নয়। (প্রেরিত ১৭:২৬, ২৭) যিহোবা ও তাঁর উদ্দেশ্য সম্বন্ধীয় জ্ঞান প্রত্যেকের জন্য প্রাপ্তিসাধ্য। অসংখ্য ভাষায় সহস্র কোটি প্রতিলিপিসহ বাইবেল আজও বিশ্বের সর্বাপেক্ষা ব্যাপক বিতরিত বই। বাইবেল আপনাকে ঈশ্বরের বন্ধু হতে ও অকৃত্রিম সুখ উপভোগ করতে সাহায্য করতে পারে, কারণ শাস্ত্র আমাদের বলে যে “ধন্য [“সুখী,” NW] সেই জাতি, সদাপ্রভু যাহার ঈশ্বর।”—গীতসংহিতা ১৪৪:১৫.

[৬ পৃষ্ঠার বাক্স]

সুখের প্রতি পদক্ষেপগুলি

১. আধ্যাত্মিকতার প্রতি উপলব্ধি প্রদর্শন করুন ও তা অর্জন করুন। যীশু বলেছিলেন: “ধন্য [“সুখী,” NW] তাহারাই, যাহারা ঈশ্বরের বাক্য শুনিয়া পালন করে।”—লূক ১১:২৮.

২. ধন অথবা বিলাসের চেয়ে ঈশ্বরের অনুমোদন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়টি শনাক্ত করুন। পৌল লিখেছিলেন: “বাস্তবিকই ভক্তি, সন্তোষযুক্ত হইলে, মহালাভের উপায়, . . . গ্রাসাচ্ছাদন পাইলে আমরা তাহাতেই সন্তুষ্ট থাকিব।”—১ তীমথিয় ৬:৬-৮.

৩. বাইবেল প্রশিক্ষিত বিবেক উৎপন্ন করতে ও তার প্রতি সাড়া দিতে প্রচেষ্টা করুন।—রোমীয় ২:১৪, ১৫.

৪. যিহোবা ঈশ্বরের বাধ্য হওয়ার জন্য স্থিরসংকল্প হোন আর এইভাবে তাঁর লোকেদের একজন হওয়ার জন্য যোগ্য হোন। প্রাচীনকালের দায়ূদ লিখেছিলেন: “সুখী সেই জাতি, সদাপ্রভু যাহার ঈশ্বর।”—গীতসংহিতা ১৪৪:১৫.

[৭ পৃষ্ঠার চিত্র]

“ধন্য [“সুখী,” NW] যাহারা আত্মাতে দীনহীন।”—মথি ৫:৩

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার