ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w৯৭ ৩/১ পৃষ্ঠা ২৫-২৮
  • অন্যদের উপর আস্থা রাখতে আপনি কি ভয় পান?

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • অন্যদের উপর আস্থা রাখতে আপনি কি ভয় পান?
  • ১৯৯৭ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • ভয়কে বুঝতে পারা
  • কেন অবশ্যই সেই দেওয়াল ভাঙতে হবে?
  • আপনার পরিবারের উপর আস্থা রাখুন
  • মণ্ডলীর উপর আস্থা রাখুন
  • কিভাবে আস্থাশীল সম্পর্ক গড়ে তোলা যায়
  • আপনি ভাই-বোনদের উপর আস্থা রাখতে পারেন!
    প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য সম্বন্ধে ঘোষণা করে (অধ্যয়ন)—২০২২
  • এক সুখী জীবনের জন্য নির্ভরতা অতীব গুরুত্বপূর্ণ
    ২০০৩ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • ভাই-বোনেরা কি আপনার উপর আস্থা রাখতে পারে?
    প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য সম্বন্ধে ঘোষণা করে (অধ্যয়ন)—২০২২
  • দুর্দশার সময়ে যিহোবার ওপর পুরোপুরি নির্ভর করুন
    ২০০৩ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
আরও দেখুন
১৯৯৭ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w৯৭ ৩/১ পৃষ্ঠা ২৫-২৮

অন্যদের উপর আস্থা রাখতে আপনি কি ভয় পান?

‘এমন একজনও নেই যার সাথে আমি কথা বলতে পারি। লোকেরা বুঝবে না। তারা তাদের নিজেদের সমস্যা নিয়ে খুবই ব্যস্ত। আমার জন্য তাদের সময় নেই।’ অনেকেই এইরকম মনে করে, তাই তারা বিষয়গুলিকে নিজেদের মধ্যেই রেখে দেয়। যখন অন্যেরা জিজ্ঞাসা করে যে তারা কেমন আছে, তারা প্রায়ই তাদের বলতে চায়, কিন্তু বলতে পারে না। তারা কখনও নিজেদের প্রকাশ করতে পারে না।

এটি সত্য যে, এমন লোকেরা আছে যারা অন্যদের কাছ থেকে সাহায্য চায় না। তবুও, অনেকে আছে যারা ভীষণভাবে সাহায্য চায়, কিন্তু তাদের একান্ত ব্যক্তিগত চিন্তা, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলি প্রকাশ করতে ভয় পায়। আপনি কি তাদের মধ্যে একজন? প্রকৃতই, কি এমন কেউ নেই যার উপর আপনি আস্থা রাখতে পারেন?

ভয়কে বুঝতে পারা

আজকের জগতে আস্থাহীনতার একটি আবহাওয়া রয়েছে। যুবক-যুবতীরা তাদের পিতামাতাদের সাথে কথা বলে না। পিতামাতারা পরস্পরের সাথে কথা বলতে পারে না। যারা কর্তৃত্বে আছেন তাদের সাথে কথা বলতে অল্প লোকই ইচ্ছুক। অন্যদের প্রতি আস্থা রাখতে অসমর্থ হওয়ায়, তাদের সমস্যাগুলি থেকে মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করে কেউ কেউ মদ, নেশাকর ওষুধ অথবা একটি হিংস্র জীবন-ধারার অভিমূখী হয়।—হিতোপদেশ ২৩:২৯-৩৫; যিশাইয় ৫৬:১২.

কর্তৃত্বে আছেন এমন ব্যক্তিরা, যেমন যাজকবর্গ, চিকিৎসক, থেরাপিস্ট এবং শিক্ষকমণ্ডলীর অন্তহীন অসততা এবং অনৈতিকতা প্রকাশ হওয়ার ফলে তাদের উপর আস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে। উদাহরণস্বরূপ, একটি পরিসংখ্যান জানায় যে, ১০ শতাংশেরও বেশি যাজকবর্গ যৌন কুআচরণের সাথে জড়িত। একজন লেখক উল্লেখ করেন, এই “আস্থা ভঙ্গকারীরা, মানব সম্পর্কে গভীর গিরিখাত খনন করে, চিড়, এবং ফাটল ধরায়।” এটি কিভাবে তাদের মণ্ডলীগুলিকে প্রভাবিত করে? এটি আস্থাকে ধ্বংস করে।

বহুবিস্তৃত নৈতিকতার ভাঙ্গন পরিবারকে সংকটের দিকে পরিচালিত করেছে আর তা এমন পর্যায় পর্যন্ত যে অচল পরিবারগুলি কোন ব্যতিক্রম নয়, কিন্তু প্রায় স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। একসময় গৃহে ছিল প্রতিপালনের একটি পরিবেশ। বর্তমানে এটি প্রায়ই ভোজনের সময়ে গলাধঃকরণের কেন্দ্র ছাড়া আর বেশি কিছু নয়। যখন একটি শিশু এক “স্নেহরহিত” পরিবারে বড় হয়ে ওঠে, তখন এর একটি সাধারণ পরিণতি হল, প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় অন্যদের প্রতি আস্থা রাখায় অক্ষমতা।—২ তীমথিয় ৩:৩.

এছাড়া, যেহেতু জগতের অবস্থা মন্দতর হচ্ছে, আমরা ক্রমবর্ধিষ্ণুভাবে অতি মর্মপীড়াদায়ক অভিজ্ঞতাগুলির সাথে পরিচিত হচ্ছি। সমরূপ এক পরিস্থিতিতে, ভাববাদী মীখা লিখেছিলেন: “আত্মীয়েতেও বিশ্বাস করিও না।” (মীখা ৭:৫) আপনি হয়ত একটি সামান্য হতাশা, একটি বিশ্বাস ভঙ্গ অথবা একটি বৃহৎ জীবন সংশয়কারী ঘটনার পর এইরূপ মনে করতে পারেন। পুনরায় অন্যদের প্রতি আস্থা রাখা আপনি কঠিন মনে করেন এবং প্রতিদিন এক আবেগময় দেওয়ালের পিছনে বাস করে আবেগগত দিক দিয়ে অসাড় হয়ে পড়েন। (তুলনা করুন গীতসংহিতা ১০২:১-৭.) সত্য, এইধরনের একটি মনোভাব আপনাকে কার্যকর হতে সাহায্য করবে, কিন্তু আপনার ‘মনের ব্যথা’ জীবনের যে কোন প্রকৃত আনন্দ থেকে আপনাকে বঞ্চিত করবে। (হিতোপদেশ ১৫:১৩) সত্যটি হচ্ছে এই যে, আধ্যাত্মিক, আবেগগত, মানসিক এবং শারীরিকভাবে স্বাস্থ্যবান হয়ে ওঠার জন্য আপনাকে অবশ্যই সেই দেওয়াল ভাঙতে হবে এবং আপনাকে অবশ্যই লোকেদের উপর আস্থা রাখতে শিখতে হবে। সেটি কি সম্ভব? হ্যাঁ।

কেন অবশ্যই সেই দেওয়াল ভাঙতে হবে?

অন্যদের প্রতি আস্থা অশান্ত হৃদয়ে স্বস্তি নিয়ে আসে। হান্নার এই অভিজ্ঞতা হয়েছিল। তার এক সুখী বিবাহ, একটি সুরক্ষিত গৃহ ছিল, তথাপি তিনি ছিলেন গভীরভাবে বিষণ্ণ। যদিও তিনি “তিক্তপ্রাণা” ছিলেন, তবুও তিনি বিজ্ঞতার সাথে “সদাপ্রভুর উদ্দেশে প্রার্থনা করিতে . . . লাগলেন,” এমন আবেগপূর্ণভাবে যে তার নীরব ওষ্ঠাধর নড়েছিল। হ্যাঁ, তিনি যিহোবার প্রতি আস্থা রেখেছিলেন। তারপর তিনি তাঁর হৃদয় ঈশ্বরের প্রতিনিধি, এলির কাছে ব্যক্ত করেছিলেন। ফল কী হয়েছিল? “[হান্না] আপন পথে চলিয়া গেলেন, এবং ভোজন করিলেন; তাঁহার মুখ আর বিষণ্ণ রহিল না।”—১ শমূয়েল ১:১-১৮.

অধিকাংশ সংস্কৃতিই একান্ত ব্যক্তিগত কথা প্রকাশ করার উপকারিতাগুলি সম্বন্ধে জ্ঞাত আছে। উদাহরণস্বরূপ, যারা অনুরূপ পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে, তাদের সাথে মতামত এবং অভিজ্ঞতাগুলি বন্টন করা উপকারজনক প্রমাণিত হতে পারে। গবেষকেরা এই উপসংহারে আসেন যে: “আবেগগত বিচ্ছিন্নতা অসুস্থতার উদ্ভব করে—মানসিকভাবে সুস্থ থাকার জন্য আমাদের বিষয়গুলিকে প্রকাশ করা প্রয়োজন।” বর্ধিত সমষ্টিগত বৈজ্ঞানিক গবেষণার অভীক্ষা অনুপ্রাণিত হিতোপদেশের সত্যতাকে নিশ্চিত করে, যা বলে: “যে পৃথক্‌ হয় সে নিজ অভীষ্ট চেষ্টা করে, এবং সমস্ত বুদ্ধিকৌশলের বিরুদ্ধে উচ্চণ্ড হয়।”—হিতোপদেশ ১৮:১.

যদি আপনি অন্যদের কাছে নিজেকে প্রকাশ না করেন, তাহলে কিভাবে তারা আপনাকে সাহায্য করতে পারে? যদিও যিহোবা ঈশ্বর একজন হৃদয়ের পাঠক, তবুও আপনার অন্তরস্থ চিন্তাধারা এবং অনুভূতিগুলি পরিবার ও বন্ধুদের কাছে একটি বন্ধ পুস্তকস্বরূপ—যদি না আপনি তা উন্মুক্ত করেন। (১ বংশাবলি ২৮:৯) যখন সমস্যাটি ঈশ্বরের নিয়মের সীমা লঙ্ঘন করাকে অন্তর্ভুক্ত করে, তখন একটি বিষয়কে স্বীকার না করা বিষয়টিকে শুধু মন্দতরই করে তোলে।—হিতোপদেশ ২৮:১৩.

নিশ্চিতরূপে, বিষণ্ণতার সময় অন্যের উপর আস্থা রাখার উপকারিতা আঘাত পাওয়ার ঝুঁকিকে অতিমাত্রায় অতিক্রম করে। অবশ্যই, তার অর্থ এই নয় যে, আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য নির্বিশেষে ফাঁস করে দেওয়া উচিত। (তুলনা করুন বিচারকর্ত্তৃগণ ১৬:১৮; যিরমিয় ৯:৪; লূক ২১:১৬.) হিতোপদেশ ১৮:২৪ পদ সতর্ক করে দেয়, “যাহার অনেক বন্ধু, তাহার সর্ব্বনাশ হয়,” কিন্তু তারপর আরও বলে: “ভ্রাতা অপেক্ষাও অধিক প্রেমাসক্ত এক বন্ধু আছেন।” এইধরনের এক বন্ধু আপনি কোথায় পেতে পারেন?

আপনার পরিবারের উপর আস্থা রাখুন

যদি আপনার একটি সমস্যা থাকে, আপনি কি তা আপনার বিবাহ সাথী অথবা আপনার পিতামাতার সাথে আলোচনা করার চেষ্টা করেছেন? একজন অভিজ্ঞ উপদেষ্টা স্বীকার করেন যে “অনেক সমস্যার জন্য, একমাত্র প্রয়োজন সেগুলি গভীরভাবে আলোচনা করা।” (হিতোপদেশ ২৭:৯) খ্রীষ্টান স্বামীরা, যারা ‘তাদের স্ত্রীদের নিজেদের মত প্রেম করেন,’ স্ত্রীয়েরা যারা “নিজ নিজ স্বামীর বশীভূতা” হন এবং পিতামাতারা যারা ‘তাদের সন্তানদিগকে যিহোবার বিষয়ে চেতনা প্রদানে মানুষ করে তোলার জন্য’ তাদের ঈশ্বর-দত্ত দায়িত্বকে গুরুতরভাবে নেন, তারা অনুভূতিপূর্ণ শ্রোতা এবং সাহায্যকারী উপদেষ্টা হওয়ার জন্য কঠোরভাবে পরিশ্রম করবেন। (ইফিষীয় ৫:২২, ৩৩; ৬:৪) যদিও মাংসিক অর্থে তাঁর কোন স্ত্রী অথবা সন্তান কিছুই ছিল না, তবুও এই ক্ষেত্রে যীশু কী এক চমৎকার উদাহরণই না স্থাপন করে গেছেন!—মার্ক ১০:১৩-১৬; ইফিষীয় ৫:২৫-২৭.

যদি সমস্যাটি পরিবারের মধ্যে মীমাংসা করার চেয়ে অতিরিক্ত হয়, সেই ক্ষেত্রে কী? খ্রীষ্টীয় মণ্ডলীতে আমাদের কখনও একা হওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রেরিত পৌল বলেছিলেন, “কে দুর্ব্বল হইলে আমি দুর্ব্বল না হই?” (২ করিন্থীয় ১১:২৯) তিনি পরামর্শ দিয়েছিলেন: “তোমরা পরস্পর এক জন অন্যের ভার বহন কর।” (গালাতীয় ৬:২; রোমীয় ১৫:১) আমাদের আধ্যাত্মিক ভাই এবং বোনেদের মধ্যে নিঃসন্দেহে আমরা একাধিক “ভ্রাতা দুর্দ্দশার জন্য জন্মে” এমন ব্যক্তিদের পেতে পারি।—হিতোপদেশ ১৭:১৭.

মণ্ডলীর উপর আস্থা রাখুন

জগদ্ব্যাপী যিহোবার সাক্ষীদের ৮০,০০০-রও বেশি মণ্ডলীগুলিতে এমন নম্র পুরুষেরা আছেন, যারা “তোমাদের আনন্দের সহকারী” হিসাবে সেবা করেন। (২ করিন্থীয় ১:২৪) এরা হলেন প্রাচীনগণ। যিশাইয় উল্লেখ করেন, “যেমন বাত্যা হইতে আচ্ছাদন, ও ঝটিকা হইতে অন্তরাল, যেমন শুষ্ক স্থানে জলস্রোত ও শ্রান্তিজনক ভূমিতে কোন প্রকাণ্ড শৈলের ছায়া, এক জন মনুষ্য তদ্রূপ হইবেন।” এইরূপ হওয়ার জন্যই প্রাচীনেরা প্রচেষ্টা করেন।—যিশাইয় ৩২:২; ৫০:৪; ১ থিষলনীকীয় ৫:১৪.

প্রাচীনেরা ‘পবিত্র আত্মা দ্বারা নিযুক্ত’ হবার পূর্বে শাস্ত্রীয় চাহিদাগুলি পূরণ করেন। এটি জানা তাদের প্রতি আপনার আস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। (প্রেরিত ২০:২৮; ১ তীমথিয় ৩:২-৭; তীত ১:৫-৯) একজন প্রাচীনের সাথে আপনি যা আলোচনা করেন তা কঠোরভাবে গোপন থাকবে। আস্থাশীল হওয়া হল তার একটি যোগ্যতা।—তুলনা করুন যাত্রাপুস্তক ১৮:২১; নহিমিয় ৭:২.

মণ্ডলীতে প্রাচীনেরা “নিকাশ দিতে হইবে বলিয়া . . . তোমাদের প্রাণের নিমিত্ত প্রহরি-কার্য্য করিতেছেন।” (ইব্রীয় ১৩:১৭) এটি কি এই পুরুষদের প্রতি আপনার আস্থা স্থাপন করতে আপনাকে পরিচালিত করে না? স্বাভাবিকভাবেই, সব প্রাচীনেরাই একই প্রকার গুণাবলিতে উৎকর্ষতা অর্জন করেন না। কেউ কেউ হয়ত অন্যদের চেয়ে অধিকতর সহজগম্য, দয়ালু অথবা বোঝেন বলে মনে হয়। (২ করিন্থীয় ১২:১৫; ১ থিষলনীকীয় ২:৭, ৮, ১১) যে প্রাচীনের সাথে আপনি স্বস্তি অনুভব করেন তার প্রতি আস্থা রাখুন না কেন?

এই পুরুষেরা বেতনভোগী পেশাদার ব্যক্তি নন। বরঞ্চ, তারা হচ্ছেন আপনাকে সাহায্য করার জন্য যিহোবার দ্বারা প্রদত্ত “মনুষ্যদিগকে নানা বর” স্বরূপ। (ইফিষীয় ৪:৮, ১১-১৩; গালাতীয় ৬:১) কিভাবে? দক্ষতার সাথে বাইবেল ব্যবহার করে, তারা আপনার ব্যক্তিগত পরিস্থিতিতে এর আরোগ্যকর শক্তি প্রয়োগ করবেন। (গীতসংহিতা ১০৭:২০; হিতোপদেশ ১২:১৮; ইব্রীয় ৪:১২, ১৩) তারা আপনার সাথে এবং আপনার জন্য প্রার্থনা করবেন। (ফিলিপীয় ১:৯; যাকোব ৫:১৩-১৮) এইধরনের প্রেমময় উপদেষ্টাদের কাছ থেকে সাহায্য একটি বিক্ষুব্ধ আত্মার আরোগ্যের এবং মনের শান্তি পুনঃস্থাপন করার জন্য অনেক কিছু করতে পারে।

কিভাবে আস্থাশীল সম্পর্ক গড়ে তোলা যায়

সাহায্য, পরামর্শ চাওয়া অথবা শুধুমাত্র শ্রোতা হওয়া, দুর্বলতা অথবা ব্যর্থতার কোন চিহ্ন নয়। এটি শুধুমাত্র একটি বাস্তববাদী স্বীকারোক্তি যে আমরা অসিদ্ধ এবং কোন ব্যক্তির কাছেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর নেই। অবশ্যই, সর্বমহান উপদেষ্টা এবং অন্তরঙ্গ বন্ধু আমাদের আছে, তিনি হচ্ছেন আমাদের স্বর্গীয় পিতা, যিহোবা ঈশ্বর। আমরা গীতরচকের সাথে একমত, যিনি লিখেছিলেন: “সদাপ্রভু আমার বল ও আমার ঢাল; আমার অন্তঃকরণ তাঁহার উপরে নির্ভর করিয়াছে, তাই আমি সাহায্য পাইয়াছি।” (গীতসংহিতা ২৮:৭) প্রার্থনায় আমরা যে কোন সময় অকপটে তাঁর কাছে ‘আমাদের মনের কথা ভাঙ্গিয়া’ বলতে পারি, এই বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে যে তিনি আমাদের কথা শোনেন এবং আমাদের জন্য চিন্তা করেন।—গীতসংহিতা ৬২:৭, ৮; ১ পিতর ৫:৭.

কিন্তু কিভাবে আপনি মণ্ডলীর প্রাচীনদের এবং অন্যদের উপর আস্থা রাখতে শিখতে পারেন? প্রথমে নিজের দিকে দেখুন। আপনার ভয় কি বলিষ্ঠভাবে প্রতিষ্ঠিত? অন্যদের উদ্দেশ্য সম্বন্ধে আপনি কি সন্দেহপ্রবণ? (১ করিন্থীয় ১৩:৪, ৭) আঘাত পাওয়ার ঝুঁকিকে কমানোর কি কোন উপায় আছে? হ্যাঁ। কিভাবে? আধ্যাত্মিক পরিবেশে অন্যান্যদের সাথে ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত হতে চেষ্টা করুন। মণ্ডলীর সভাগুলিতে তাদের সাথে কথা বলুন। একত্রে গৃহে গৃহে প্রচারের কাজে অংশগ্রহণ করুন। আস্থা অবশ্যই সম্মানের ন্যায় অর্জন করতে হবে। অতএব, ধৈর্য ধরুন। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যখন একজন আধ্যাত্মিক পালককে জানতে থাকবেন তখন তার উপর আপনার আস্থা বৃদ্ধি পাবে। ক্রমান্বয়ে আপনার উদ্বিগ্নতাগুলি প্রকাশ করুন। যদি তিনি এক যথার্থ, সহানুভূতিশীল এবং বিচক্ষণ উপায়ে সাড়া দেন, তাহলে আপনি হয়ত আরও বেশি কিছু প্রকাশ করতে চেষ্টা করতে পারেন।

যিহোবার সহ উপাসকেরা, বিশেষ করে খ্রীষ্টীয় প্রাচীনেরা একে অপরের সাথে তাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ঈশ্বরের আদরণীয় গুণাবলিগুলি অনুকরণের ক্ষেত্রে কঠোর পরিশ্রম করেন। (মথি ৫:৪৮) এটি মণ্ডলীতে এক আস্থাজনক পরিবেশের ফলস্বরূপ হয়। দীর্ঘ সময় পরিচর্যারত একজন প্রাচীন বলেন: “ভাইয়েদের একটি বিষয় জানতে হবে: একজন ব্যক্তি যাই করুক না কেন, প্রাচীন তার জন্য তার খ্রীষ্টীয় প্রেম হারাবেন না। তিনি হয়ত যা করা হয়েছিল তা পছন্দ করেন না, কিন্তু তিনি তবুও তার ভাইকে ভালবাসবেন এবং তাকে সাহায্য করতে চান।”

সুতরাং, সমস্যার সময় একা মনে করার কোন প্রয়োজন নেই। কোন “আত্মিক” ব্যক্তির সাথে কথা বলুন যিনি আপনার বোঝা বহন করতে সাহায্য করতে পারেন। (গালাতীয় ৬:১) মনে রাখুন “মনুষ্যের মনোব্যথা মনকে নত করে,” কিন্তু “মনোহর বাক্য মৌচাকের ন্যায়; তাহা প্রাণের পক্ষে মধুর, অস্থির পক্ষে স্বাস্থ্যকর।”—হিতোপদেশ ১২:২৫; ১৬:২৪.

[২৬ পৃষ্ঠার বাক্স]

যে কোন খ্রীষ্টানকে হয়ত একজন আত্মীয়, বন্ধু অথবা আত্মিক ভাইয়ের ব্যক্তিগত সমস্যার সময় সাহায্যের জন্য ডাকা হতে পারে। আপনি কি জানেন কিভাবে সাহায্য করতে হয়?

একজন ফলপ্রসূ উপদেষ্টা

সহজগম্য হন: মথি ১১:২৮, ২৯; ১ পিতর ১:২২; ৫:২, ৩

সঠিক পরিবেশকে মনোনয়ন করেন: মার্ক ৯:৩৩-৩৭

সমস্যাটি বোঝার জন্য চেষ্টা করেন: লূক ৮:১৮; যাকোব ১:১৯

অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখান না: কলসীয় ৩:১২-১৪

বেদনাদায়ক আবেগের সময় সাহায্য করেন: ১ থিষলনীকীয় ৫:১৪; ১ পিতর ৩:৮

তার সীমাবদ্ধতাগুলি জানেন: গালাতীয় ৬:৩; ১ পিতর ৫:৫

নির্দিষ্ট পরামর্শ দেন: গীতসংহিতা ১৯:৭-৯; হিতোপদেশ ২৪:২৬

গোপনীয়তা রক্ষা করেন: হিতোপদেশ ১০:১৯; ২৫:৯

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার