ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w৯৭ ২/১৫ পৃষ্ঠা ৪-৭
  • যখন দুঃখকষ্ট আর থাকবে না

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • যখন দুঃখকষ্ট আর থাকবে না
  • ১৯৯৭ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • তাঁর ইচ্ছা তৎক্ষণাৎই কার্যকারী করা হয়নি কেন?
  • যা সঠিক তা করতে মানুষকে বাধ্য করা হোক না কেন?
  • সমস্ত নিরপরাধ শিকারদের সম্পর্কে কী বলা যায়?
  • যারা দুঃখকষ্ট ভোগ করছে তাদের জন্য প্রকৃত সান্ত্বনা?
  • সেই ‘সমস্ত বিষয়ের পুনঃস্থাপন’
  • বাইবেল কী বলে?
    প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে (জনসাধারণের সংস্করণ)—২০১৭
  • যারা কষ্ট ভোগ করছে তাদের জন্য সান্ত্বনা
    ২০০৩ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • কেন ঈশ্বর দুঃখকষ্ট থাকতে দিয়েছেন?
    বাইবেল প্রকৃতপক্ষে কী শিক্ষা দেয়?
  • দুঃখকষ্ট সহ্য করার মাধ্যমে আমরা উপকার লাভ করতে পারি
    ২০০৭ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
আরও দেখুন
১৯৯৭ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w৯৭ ২/১৫ পৃষ্ঠা ৪-৭

যখন দুঃখকষ্ট আর থাকবে না

মানব পরিবারের জন্য দুঃখকষ্ট ঈশ্বরের আদি উদ্দেশ্যের অংশ ছিল না। তিনি এটি পরিকল্পনা করেননি, অথবা তিনি কখনও তা চাননি। আপনি হয়ত জিজ্ঞাসা করবেন, ‘যদি তাই হয়, এটি কিভাবে শুরু হয়েছিল এবং কেন ঈশ্বর এখনও পর্যন্ত তা ঘটে চলতে অনুমোদন করেছেন?’—তুলনা করুন যাকোব ১:১৩.

মানব ইতিহাসের অতি প্রাচীন বিবরণী বাইবেলে, বিশেষভাবে আদিপুস্তকে এর উত্তর পাওয়া যায়। এটি জানায় যে আমাদের প্রথম পিতামাতা, আদম ও হবা, ঈশ্বরের বিরুদ্ধে তার বিদ্রোহে শয়তান দিয়াবলকে অনুসরণ করেছিল। তাদের কার্যগুলি মৌলিক বিচার্য বিষয়গুলির উত্থাপন করেছিল যা বিশ্বের নিয়ম ও শৃঙ্খলার ভিত্তিকে নাড়া দেয়। যখন তারা নিজেদের জন্য ভাল ও মন্দের বিচার করার অধিকার সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি দাবি করে, তখন তারা ঈশ্বরের সার্বভৌমত্বের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। তারা তাঁর শাসন করার অধিকার সম্বন্ধে এবং “সদসদ্‌” [“ভাল ও মন্দের,” NW] একমাত্র বিচারক হওয়া সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছিল।—আদিপুস্তক ২:১৫-১৭; ৩:১-৫.

তাঁর ইচ্ছা তৎক্ষণাৎই কার্যকারী করা হয়নি কেন?

আপনি হয়ত জিজ্ঞাসা করবেন, ‘তাহলে ঈশ্বর তাঁর ইচ্ছা তৎক্ষণাৎই কার্যকারী করেননি কেন?’ অনেকেই বিষয়টিকে খুবই সহজ বলে মনে করে। ‘ঈশ্বরের শক্তি ছিল। বিদ্রোহীদের ধ্বংস করার জন্য তাঁর সেটিকে ব্যবহার করা উচিত ছিল,’ তারা বলে থাকে। (গীতসংহিতা ১৪৭:৫) কিন্তু নিজেকে এটি জিজ্ঞাসা করুন, ‘সকলে যারা তাদের ইচ্ছা কার্যকারী করার জন্য উচ্চতর ক্ষমতা ব্যবহার করেন আমি কি তাদের নিঃসঙ্কোচে সমর্থন করি? যখন একজন একনায়ক শাসক তার শত্রুদের নিশ্চিহ্ন করার জন্য হত্যাকারী দলকে ব্যবহার করে, আমি কি তখন সহজাতভাবে এক বিতৃষ্ণা অনুভব করি না? বেশির ভাগ যুক্তিসম্পন্ন লোকই এইরূপ বিষয়ে বিরক্ত হবেন।

আপনি বলবেন, ‘কিন্তু ঈশ্বর যদি সেই ক্ষমতা ব্যবহার করতেন, তাহলে কেউ তাঁর কাজ সম্পর্কে প্রশ্ন করত না।’ আপনি কি নিশ্চিত? এটি কি সত্য নয় যে লোকেরা ঈশ্বরের শক্তির প্রয়োগ সম্পর্কে প্রশ্ন করে? তারা প্রশ্ন করে যে, মন্দ সহ্য করার পরিপ্রেক্ষিতে কখনও কখনও তিনি তাঁর শক্তি প্রয়োগ করেননি কেন। আর তারা প্রশ্ন করে যে অন্যান্য সময় তিনি তাঁর শক্তি প্রয়োগ কেন করেছেন। এমনকি তাঁর শত্রুদের বিরুদ্ধে ঈশ্বরের শক্তি প্রয়োগ সম্পর্কে বিশ্বস্ত অব্রাহামেরও সমস্যা ছিল। স্মরণ করুন ঈশ্বর যখন সদোম ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। অব্রাহাম ভুলবশতঃ আশঙ্কা করেছিলেন যে মন্দের সাথে ভাল লোকেরাও মারা যাবে। তিনি উচ্চরবে বলেছিলেন: “দুষ্টের সহিত ধার্ম্মিকের বিনাশ করা, এই প্রকার কর্ম্ম আপনা হইতে দূরে থাকুক।” (আদিপুস্তক ১৮:২৫) এমনকি অব্রাহমের মত সৎহৃদয়বান লোকেদেরও নিশ্চিত হওয়ার প্রয়োজন ছিল যে সার্বভৌম ক্ষমতার অপব্যবহার করা হবে না।

অবশ্য, ঈশ্বর সেই সময়েই আদম, হবা এবং শয়তানকে ধ্বংস করে দিতে পারতেন। কিন্তু চিন্তা করুন এর দ্বারা অন্যান্য স্বর্গদূত অথবা ভবিষ্যৎ সৃষ্টি কিভাবে প্রভাবিত হত, পরবর্তীকালে যারা হয়ত তাঁর কাজ সম্পর্কে অবগত হত। এর ফলে ঈশ্বরের শাসনের সঠিকতা সম্পর্কে তাদের মধ্যে বিরক্তিকর প্রশ্নগুলি কি থেকেই যেত? এটি কি ঈশ্বরের প্রতি এই অভিযোগ প্রকাশ করে না যে তিনি ছিলেন একপ্রকার সর্বগ্রাসী উৎপীড়ক, নীট্‌শ যাঁকে বর্ণনা করেন, এমন একজন ঈশ্বর যিনি যে কেউ তাঁর বিরোধিতা করে তাকে নির্মমভাবে নিশ্চিহ্ন করেন?

যা সঠিক তা করতে মানুষকে বাধ্য করা হোক না কেন?

কিছুজন হয়ত জিজ্ঞাসা করবেন, ‘ঈশ্বর কি যা সঠিক লোকেদের দিয়ে ঠিক তাই করাতে পারতেন না?’ তাহলে আসুন, এই বিষয়টিও বিবেচনা করি। সমগ্র ইতিহাসে, সরকারগুলি তাদের চিন্তাধারার প্রতি মানুষকে বাধ্য করানোর চেষ্টা করেছে। কিছু সরকার অথবা ব্যক্তি শাসকেরা মগজ ধোলাইয়ের বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করেছে সম্ভবত নেশাকর ওষুধ অথবা শল্যচিকিৎসা প্রয়োগ করে, যা তাদের শিকারদের স্বাধীন ইচ্ছার অপূর্ব দান অপহরণ করেছে। এমনকি যদিও সেই দান অপব্যবহার করা সম্ভব, তথাপি আমরা স্বাধীন নৈতিক প্রতিনিধি হওয়ার মূল্যায়ন করি না কি? আমাদের সেই স্বাধীনতাকে হরণ করার ক্ষেত্রে কোন সরকার অথবা শাসকের প্রচেষ্টাকে কি আমরা প্রশ্রয় দিই?

তাহলে, ঈশ্বরের আইন তৎক্ষণাৎ কার্যকারী করার ক্ষমতাকে প্রয়োগ করার সম্বন্ধে আর কী বিকল্প ছিল? যিহোবা ঈশ্বর স্থির করেছিলেন যে এই বিদ্রোহের সবচাইতে উত্তম মীমাংসা এইভাবে করা যেতে পারে, যদি তিনি সাময়িকভাবে যারা তাঁর নিয়মকে প্রত্যাখ্যান করেছিল তাদের তাঁর শাসন থেকে অব্যাহতি দেন। এটি আদম ও হবার বংশধর থেকে আগত মানব পরিবারকে ঈশ্বরের নিয়মের বশীভূত হওয়া ব্যতিরেকেই এক সীমিত সময়ের জন্য নিজেদের শাসন করার সুযোগ দেবে। তিনি এটি কেন করেন? কারণ তিনি জানতেন যে, কালক্রমে, এক বিতর্কহীন বিষয় গড়ে উঠবে, যেটি প্রমাণ করে যে তাঁর শাসন করার পদ্ধতি সবসময়ই সঠিক ও ন্যায্য, এমনকি তাঁর ইচ্ছাকে কার্যকারী করার জন্য যখন তিনি তাঁর অসীম ক্ষমতা প্রয়োগ করেন আর তখন তার ফলস্বরূপ তাঁর বিরুদ্ধে যে কোন বিদ্রোহ হয়, শীঘ্র অথবা পরে তার চরম দুর্দশা ঘটবে।—দ্বিতীয় বিবরণ ৩২:৪; ইয়োব ৩৪:১০-১২; যিরমিয় ১০:২৩.

সমস্ত নিরপরাধ শিকারদের সম্পর্কে কী বলা যায়?

আপনি হয়ত জিজ্ঞাসা করেন, ‘ইতিমধ্যে সমস্ত নিরপরাধ শিকারদের সম্পর্কেই বা কী? ব্যবস্থার কিছু বিষয়কে প্রমাণ করার জন্য তাদের এই ব্যথা কি প্রকৃতই কোন মূল্য রাখে?’ তাহলে, ঈশ্বর কেবলমাত্র ব্যবস্থার কোন অস্পষ্ট বিষয় প্রমাণ করার জন্য মন্দকে থাকতে দেননি। বিপরীতে, এটি নির্দিষ্ট এবং চূড়ান্তভাবে এই মৌলিক সত্যটিকেই প্রতিষ্ঠা করার জন্য যে একমাত্র তিনিই হলেন সার্বভৌম আর তাই তাঁর সমস্ত সৃষ্টির অবিরত শান্তি ও সুখের জন্য তাঁর নিয়মগুলির প্রতি বাধ্যতা অপরিহার্য।

একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখতে হবে যে ঈশ্বর জানেন এই মানব পরিবারের মধ্যে এটি যে কোন ক্ষতিই আনুক না কেন তিনি তা সম্পূর্ণভাবে মুক্ত করতে পারেন। তিনি জানেন যে সুদূর ভবিষ্যতে সাময়িক সময়ের ব্যথা ও দুঃখকষ্ট, এক উপকারজনক ফল নিয়ে আসবে। একজন মায়ের কথা চিন্তা করুন যিনি তার শিশুকে শক্তভাবে ধরে রাখেন যখন চিকিৎসক ভ্যাকসিন ইন্‌জেকশন্‌ দেওয়ার মাধ্যমে ব্যথা দেন, কারণ সেগুলি কিছু রোগের থেকে সুরক্ষিত করে অন্যথায় যা হয়ত শিশুকে মেরে ফেলতে পারে। কোন মা চান না যে তার শিশু ব্যথা পায়। কোন চিকিৎসক তার রোগীকে যন্ত্রণা দিতে চান না। সেই সময় শিশু তার ব্যথার কারণকে বুঝতে পারে না, কিন্তু পরবর্তী সময়ে সে বুঝতে পারবে কেন তা অনুমোদন করা হয়েছিল।

যারা দুঃখকষ্ট ভোগ করছে তাদের জন্য প্রকৃত সান্ত্বনা?

কিছুজন হয়ত মনে করে যে যারা দুঃখকষ্ট ভোগ করছে এই বিষয়গুলি জানা তাদের কাছে কেবল সামান্যই সান্ত্বনার বিষয় হবে। হান্স ক্যুং এই বিষয়ে বলেন যে দুঃখকষ্ট অস্তিত্বে থাকার একটি যুক্তিসম্পন্ন ব্যাখ্যা হচ্ছে, “যে তা কষ্টভোগকারীর কাছে ততখানিই সহায়ক যেমন একজন ক্ষুধার্ত ব্যক্তির কাছে খাদ্যবস্তুর রাসায়নিক প্রক্রিয়া সম্বন্ধে বক্তৃতা।” তিনি জিজ্ঞাসা করেন: “যে মানুষ দুঃখকষ্টে প্রায় জর্জরিত, তাকে এই সকল তুখোড় যুক্তি কি নব উদ্দীপনা দিতে পারে?” যারা ঈশ্বরের বাক্য, বাইবেলকে অবজ্ঞা করে, সেই সকল মানুষদের “তুখোড় যুক্তি” দুঃখগ্রস্তদের উদ্দীপনা প্রদান করেনি। এইধরনের মনুষ্যযুক্তি শুধুমাত্র সমস্যা বাড়িয়েছে এই পরামর্শগুলি প্রদান করার দ্বারা যে ঈশ্বর মানুষের দুঃখকষ্ট চেয়েছেন আর সেইকারণে পৃথিবীকে অশ্রু প্রবাহের জন্য সাজিয়েছেন অথবা যারা অবশেষে স্বর্গে জীবন লাভ করবে তাদের জন্য এক পরীক্ষা ক্ষেত্র করছেন। এটি কতই না ঈশ্বরনিন্দা!

তথাপি, বাইবেল স্বয়ং প্রকৃত সান্ত্বনা প্রদান করে। এটি দুঃখকষ্টের অস্তিত্ব সম্বন্ধে কেবলমাত্র একটি সঙ্গতিপূর্ণ ব্যাখ্যাই দেয় না, কিন্তু ঈশ্বরের নিশ্চিত প্রতিজ্ঞার উপর প্রত্যয়ও গড়ে তোলে যে এই সাময়িক দুঃখকষ্ট অনুমতি দেওয়ার কারণে যে ক্ষতি হয়েছে তিনি সে সমস্ত নির্মূল করবেন।

সেই ‘সমস্ত বিষয়ের পুনঃস্থাপন’

খুব শীঘ্রই ঈশ্বর তাঁর প্রথম সৃষ্ট মানুষ বিদ্রোহ করার পূর্বে তাদের জন্য যেরূপ চেয়েছিলেন ঠিক সেইভাবে তিনি বিষয়গুলি পুনঃস্থাপন করবেন। মানুষের স্বতন্ত্র শাসনের জন্য তাঁর নিরূপিত সময় প্রায় শেষ। আমরা সেই সময়ে বাস করছি যখন তিনি “যীশুকে” পাঠাবেন, “যাঁহাকে স্বর্গ নিশ্চয়ই গ্রহণ করিয়া রাখিবে, যে পর্য্যন্ত না সমস্ত বিষয়ের পুনঃস্থাপনের কাল উপস্থিত হয়, যে কালের বিষয় ঈশ্বর নিজ পবিত্র ভাববাদিগণের মুখ দ্বারা বলিয়াছেন, যাঁহারা পুরাকাল হইতে হইয়া গিয়াছেন।”—প্রেরিত ৩:২০, ২১.

যীশু খ্রীষ্ট কী করবেন? তিনি পৃথিবীকে ঈশ্বরের সমস্ত শত্রুদের থেকে মুক্ত করবেন। (২ থিষলনীকীয় ১:৬-১০) মানব একনায়কদের মাধ্যমে যেমন পরিমাণ করা হয়েছে এটি তেমনি কোন সংক্ষিপ্ত সংহার নয়। মানুষের অন্যায় শাসনের ভয়াবহ পরিণতির পর্বতপ্রমাণ সাক্ষ্য দেখাবে যে ঈশ্বর তাঁর ইচ্ছা কার্যকারী করার জন্য শীঘ্র তাঁর অসীম ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ন্যায্য। (প্রকাশিত বাক্য ১১:১৭, ১৮) প্রাথমিকভাবে এর অর্থ হবে “ক্লেশ” যা এই পৃথিবী পূর্বে কখনও অভিজ্ঞতা করেনি, অনুরূপ হলেও কিন্তু নোহের দিনের জলপ্লাবনের চেয়ে অনেক বৃহৎ। (মথি ২৪:২১, ২৯-৩১, ৩৬-৩৯) যারা এই ‘মহাক্লেশ’ থেকে রক্ষা পাবে তারা “তাপশান্তির সময়” অভিজ্ঞতা করবে, যখন তারা ঈশ্বরের “পবিত্র ভাববাদিগণের মুখ দ্বারা” প্রদত্ত সমস্ত প্রতিজ্ঞার পরিপূর্ণতা দেখবে। (প্রেরিত ৩:১৯; প্রকাশিত বাক্য ৭:১৪-১৭) ঈশ্বর কী প্রতিজ্ঞা করেছেন?

ঈশ্বরের পুরাকালের ভাববাদীরা বলেন যে যুদ্ধ ও রক্তপাতের কারণে যে দুঃখকষ্ট তার সমাপ্তি ঘটবে। উদাহরণস্বরূপ, গীতসংহিতা ৪৬:৯ পদ আমাদের বলে: “তিনি পৃথিবীর প্রান্ত পর্য্যন্ত যুদ্ধ নিবৃত্ত করেন।” আর নিরপরাধ ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা এবং দুঃখার্ত শরণার্থীরা আর থাকবে না ও আর কেউ ধর্ষিত, পঙ্গু এবং নিষ্ঠুর যুদ্ধে হত হবে না! যিশাইয় ভাববাদী বলেন: “এক জাতি অন্য জাতির বিপরীতে আর খড়্গ তুলিবে না, তাহারা আর যুদ্ধ শিখিবে না।”—যিশাইয় ২:৪.

ভাববাদীরা এও ভাববাণী করেন, অপরাধ ও অবিচারের কারণে যে দুঃখকষ্ট সেগুলিরও সমাপ্তি হবে। হিতোপদেশ ২:২১, ২২ পদ প্রতিজ্ঞা করে, যে “সরলগণ দেশে বাস করিবে,” আর যারা ব্যথা ও দুঃখকষ্টের কারণ তারা “তথা হইতে উম্মূলিত হইবে।” আর “এক জন অন্যের উপরে তাহার অমঙ্গলার্থে কর্ত্তৃত্ব” করবে না। (উপদেশক ৮:৯) সমস্ত দুষ্টেরা চিরকালের জন্য দূরীভূত হবে। (গীতসংহিতা ৩৭:১০, ৩৮) প্রত্যেকে দুঃখকষ্ট থেকে মুক্ত হয়ে শান্তি ও নিরাপত্তায় বাস করতে পারবে।—মীখা ৪:৪.

এছাড়া, ভাববাদীরা আরও প্রতিজ্ঞা করেন যে শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতার কারণে যে সমস্ত দুঃখকষ্ট তার পরিসমাপ্তি ঘটবে। (যিশাইয় ৩৩:২৪) যিশাইয় প্রতিজ্ঞা করেন যে অন্ধ, বধির, বিকলাঙ্গ এবং যারা অসুস্থতা ও রোগে আক্রান্ত, সকলেই আরোগ্য লাভ করবে। (যিশাইয় ৩৫:৫, ৬) ঈশ্বর এমনকি মৃত্যুর প্রভাব পরিবর্তন করে দেবেন। যীশু ভাববাণী করেছিলেন যে “কবরস্থ সকলে তাঁহার রব শুনিবে, এবং . . . বাহির হইয়া আসিবে।” (যোহন ৫:২৮, ২৯) “এক নূতন আকাশ ও এক নূতন পৃথিবী,” সম্বন্ধীয় তার দর্শনে প্রেরিত যোহনকে বলা হয়েছিল যে “ঈশ্বর আপনি . . . তাহাদের সমস্ত নেত্রজল মুছাইয়া দিবেন; এবং মৃত্যু আর হইবে না; শোক বা আর্ত্তনাদ বা ব্যথাও আর হইবে না।” (প্রকাশিত বাক্য ২১:১-৪) এটি কল্পনা করুন! ব্যথা নেই, নেত্রজল নেই, আর্তনাদ নেই, মৃত্যু নেই—দুঃখকষ্ট আর নেই!

এই সাময়িক মন্দতা সহ্য করার সময়ে যে কোন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে থাকুক না কেন সবকিছুরই প্রতিকার করা হবে। এমনকি মানুষের ব্যথা ও দুঃখকষ্টের স্মৃতি—যা কখনও ঈশ্বরের উদ্দেশ্য ছিল না—সম্পূর্ণভাবে মুছে ফেলা হবে। যিশাইয় ভবিষ্যদ্বাণী করেন, “পূর্ব্বকালীন সমস্ত সঙ্কট লোকে ভুলিয়া যাইবে, . . . পূর্ব্বে যাহা ছিল, তাহা স্মরণে থাকিবে না, আর মনে পড়িবে না।” (যিশাইয় ৬৫:১৬, ১৭) এক সিদ্ধ মানব পরিবারের জন্য ঈশ্বরের আদি উদ্দেশ্য যে তারা এক পরমদেশ পৃথিবীতে সম্পূর্ণ শান্তি ও সুখে বাস করবে তা সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত হবে। (যিশাইয় ৪৫:১৮) তাঁর সার্বভৌমত্বে আস্থা রাখা নিশ্চিত হবে। সেই সময়ে বাস করা কতই না এক অপূর্ব সুযোগ যখন ঈশ্বর মানবজাতির সকল দুঃখকষ্ট নিশ্চিহ্ন করবেন, এমন এক সময় যখন তিনি দেখাবেন যে তিনি কোন স্বৈরাচারী, প্রতারক, জোচ্চোর, ঘাতক নন যেভাবে নীট্‌শ অভিযোগ করেছিলেন, কিন্তু তিনি হচ্ছেন সর্বদা প্রেমময়, প্রজ্ঞাবান এবং তাঁর অসীম ক্ষমতার সঠিক প্রয়োগকারী।

[৫ পৃষ্ঠার চিত্র]

কিছু শাসকেরা মগজ ধোলাই প্রথা ব্যবহার করেছে, তাদের শিকারদের স্বাধীন ইচ্ছা হরণ করে

[সজন্যে]

UPI/Bettmann

[৭ পৃষ্ঠার চিত্র]

যখন দুঃখকষ্ট আর থাকবে না, সকলে পূর্ণরূপে জীবন উপভোগ করবে

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার