ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে স্বপ্ন কি পূর্বেই বলতে পারে?
প্রাচীন কাল থেকেই মানুষ স্বপ্নের প্রতি এক গভীর আগ্রহ দেখিয়ে আসছে। স্বপ্ন ব্যাখ্যা করার জন্য মিশরীয়রা কঠোর পরিশ্রম করে বই লেখে আর বাবিলনীয়দের কিছু নিজস্ব ব্যাখ্যাকারক ছিল। গ্রীকদের মধ্যে এটি রীতি ছিল, এস্ক্লিপিয়াসের পবিত্র স্থানে অসুস্থ ব্যক্তিদের ঘুমাতে দেওয়া যাতে করে তারা স্বপ্নের মাধ্যমে চিকিৎসাগত নির্দেশ পেতে পারে। আমাদের সাধারণ কালের দ্বিতীয় শতাব্দীতে, আর্টিমিডোরাস একটি বই বের করেন যেখানে তিনি স্বপ্নের চিহ্নের অর্থ ব্যাখ্যা করেছেন। তার বইটির উপর ভিত্তি করে এইরকম আরও অনেক বই এর পরেও প্রকাশিত হয়েছিল। আজ অবধি, স্বপ্ন ব্যাখ্যা করার জন্য প্রচেষ্টা হয়েছে, কিন্তু তা কি সত্যই আমাদের ভবিষ্যৎ ঘটনা সম্বন্ধে অন্তর্দৃষ্টি দেয়?
তাদের কাছে ভবিষ্যৎ সম্বন্ধীয় তাৎপর্য থাকতে হলে, তাদের একটি উচ্চতর শক্তির দ্বারা প্রভাবিত হতে হবে। বাইবেলে আমরা বহু উদাহরণ পাই যেখানে ঈশ্বর সেই বিশেষ শক্তি প্রদান করেছিলেন। তিনি তাঁর দাসদেরকে এবং অনুরূপভাবে, তাঁর উপাসনা করত না এমন কিছু লোকেদেরকেও ভাববাণীমূলক স্বপ্নগুলি দেখিয়েছিলেন। বস্তুতপক্ষে, ইয়োব ৩৩:১৪-১৬ পদ বলে: “ঈশ্বর . . . বলেন, . . . স্বপ্নে, রাত্রিকালীন দর্শনে, যখন মনুষ্যেরা অগাধ নিদ্রায় মগ্ন হয়, শয্যায় সুষুপ্ত হয়, তখন তিনি মনুষ্যদের কর্ণ খুলিয়া দেন।”
ঈশ্বর এটি যোষেফের দিনে মিশরীয় ফরৌণের ক্ষেত্রে করেছিলেন, যিনি সাধারণ কালের ১,৭০০ বছরেরও পূর্বে জীবিত ছিলেন। ফরৌণের স্বপ্ন আদিপুস্তক ৪১:১-৭ এবং ২৫ থেকে ৩২ পদগুলিতে পাওয়া যায় যেখানে যোষেফ এটিকে ভাববাণীকৃত সাত বছর হিসাবে ব্যাখ্যা করেন যখন “সমস্ত মিসর দেশে . . . অতিশয় শস্যবাহুল্য হইবে” এবং যারপর সাত বৎসর দুর্ভিক্ষ হবে। যোষেফ ফরৌণের কাছে ব্যাখ্যা করেছিলেন: “ঈশ্বর যাহা করিতে উদ্যত হইয়াছেন, তাহা ফরৌণকে দেখাইয়াছেন।” (আদিপুস্তক ৪১:২৮) স্বপ্নটি ছিল ভবিষ্যদ্বাণীমূলক যা বাস্তবে ঘটেছিল।
বাবিলনীয়দের এক প্রসিদ্ধ রাজার একইরকম অভিজ্ঞতা হয়েছিল। নবূখদ্নিৎসর একটি স্বপ্ন দেখেছিলেন যা তাকে প্রচণ্ডভাবে উদ্বিগ্ন করেছিল, কিন্তু তিনি তা স্মরণ করতে পারছিলেন না। সুতরাং তাকে স্বপ্ন সম্বন্ধে জানাতে এবং তা ব্যাখ্যা করতে তিনি তার স্বপ্নবেত্তাদের ডেকেছিলেন। তাদের পক্ষে এই অনুরোধটি রাখা অসম্ভব ছিল।—দানিয়েল ২:১-১১.
যেহেতু ঈশ্বর রাজাকে স্বপ্নটি দেখিয়েছিলেন, তাই তিনি স্বপ্নটি প্রকাশ এবং তা ব্যাখ্যা করতে দানিয়েল ভাববাদীকে সমর্থ করেছিলেন। দানিয়েল ২:১৯ পদ বলে: “তখন রাত্রিকালীন দর্শনে দানিয়েলের কাছে ঐ নিগূঢ় বিষয় প্রকাশিত হইল।” দানিয়েল এই স্বপ্নের কৃতিত্ব ঈশ্বরকে দিয়েছিলেন: “মহারাজ যে নিগূঢ় কথা জিজ্ঞাসা করিয়াছেন, তাহা বিদ্বান্ কি গণক কি মন্ত্রবেত্তা কি জ্যোতির্ব্বেত্তারা মহারাজকে জানাইতে পারে না; কিন্তু ঈশ্বর স্বর্গে আছেন, তিনি নিগূঢ় বিষয় প্রকাশ করেন, আর উত্তরকালে যাহা যাহা ঘটিবে, তাহা তিনি মহারাজ নবূখদ্নিৎসরকে জানাইয়াছেন।”—দানিয়েল ২:২৭, ২৮.
কখনও কখনও ঈশ্বর তাঁর লোকেদের স্বপ্নের মাধ্যমে নির্দেশ এবং অন্যান্য সময়ে তিনি তাদের ঐশিক অনুগ্রহের আশ্বাস দিয়েছিলেন অথবা কিভাবে তিনি তাদের সহযোগী ছিলেন তা বোঝাতে সাহায্য করেছিলেন। যাকোবের ক্ষেত্রে, ঈশ্বর তাঁর অনুমোদন একটি স্বপ্নের মাধ্যমে প্রকাশ করেছিলেন।—আদিপুস্তক ৪৮:৩, ৪.
যখন যীশুর পালক পিতা, যোষেফ, জেনেছিলেন যে মরিয়ম গর্ভবতী হয়েছেন, তিনি তাকে ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন। তখন তিনি স্বপ্নে তা না করার জন্য নির্দেশাবলী পান। মথি ১:২০ পদ বলে: “তিনি এই সকল ভাবিতেছেন, এমন সময় দেখ, প্রভুর এক দূত স্বপ্নে তাঁহাকে দর্শন দিয়া কহিলেন, যোষেফ, দায়ূদ-সন্তান, তোমার স্ত্রী মরিয়মকে গ্রহণ করিতে ভয় করিও না, কেননা তাঁহার গর্ব্ভে যাহা জন্মিয়াছে, তাহা পবিত্র আত্মা হইতে হইয়াছে।” পরে তিনি স্বপ্নে এক সতর্কবাণী পান: “প্রভুর [“যিহোবার,” NW] এক দূত স্বপ্নে যোষেফকে দর্শন দিয়া কহিলেন, উঠ, শিশুটীকে ও তাঁহার মাতাকে লইয়া মিসরে পলায়ন কর।”—মথি ২:১৩.
যে স্বপ্নগুলি ঈশ্বর থেকে নয়
যারা ঈশ্বরের লোক নয় তাদের মধ্যেও স্বপ্নকে ব্যাখ্যা করার বিষয়টি সাধারণ ছিল, যেটি ইঙ্গিত করে যে সাধারণতঃ স্বপ্নকে ভবিষ্যতের নির্ভরযোগ্য উদঘাটক হিসাবে বিবেচনা করা যেতে পারে না। ঈশ্বরের ভাববাদী যিরমিয়ের দিনে, মিথ্যা ভাববাদীরা বলত: “আমি স্বপ্ন দেখিয়াছি, স্বপ্ন দেখিয়াছি।” (যিরমিয় ২৩:২৫) তাদের উদ্দেশ্য ছিল লোকেদেরকে এই ভ্রান্ত চিন্তা দ্বারা বিপথগামী করা যে ঈশ্বর তাদের মাধ্যমে কথা বলছিলেন। এই স্বপ্নদর্শকদের সম্পর্কে, যিরমিয় বলতে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন: “বাহিনীগণের সদাপ্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বর, এই কথা কহেন, তোমাদের মধ্যে উপস্থিত তোমাদের ভাববাদিগণ ও মন্ত্রজ্ঞ লোকেরা তোমাদিগকে না ভুলাউক; এবং তোমরা যে সকল স্বপ্ন ঘটাইয়া থাক, সেই স্বপ্ন সকলে মনোযোগ করিও না। কেননা তাহারা তোমাদের কাছে মিথ্যা করিয়া আমার নামে ভাববাণী বলে; . . . , ইহা সদাপ্রভু কহেন।”—যিরমিয় ২৯:৮, ৯.
যেহেতু এই মিথ্যা ভাববাদীগণ ছিল “মন্ত্রজ্ঞ,” তাই লোকেদের প্রবঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে তাদের স্বপ্ন দুষ্ট আত্মার শক্তির দ্বারা প্রভাবিত হতে পারত। সখরিয় ১০:২ পদে যা বলা হয়েছে তা একই বিষয়কে ইঙ্গিত করে: “ঠাকুরগণ অসারতার কথা বলিয়াছে, মন্ত্রপাঠকেরা মিথ্যা দর্শন পাইয়াছে, ও মিথ্যা স্বপ্নের কথা বলিয়াছে।”
দিয়াবল হল প্রধান প্রতারক যে হাজার হাজার বছর ধরে ধর্মীয় নেতাদের ব্যবহার করেছে মিথ্যাভাবে এই বিষয়টি দাবি করতে যে ঈশ্বর তাদের সাথে দর্শন এবং স্বপ্নের মাধ্যমে কথা বলেছেন, ঠিক যেমন যিরমিয়ের এবং সখরিয়ের দিনে মিথ্যা ভাববাদীরা করেছিলেন। এইরূপ লোকেদের সম্বন্ধে, অনুপ্রাণিত বাইবেল লেখক যিহূদা প্রথম শতাব্দীর খ্রীষ্টানদের উদ্দেশ্যে লিখেছিলেন: “কয়েক জন গোপনে প্রবিষ্ট হইয়াছে, যাহারা এই দণ্ডাজ্ঞার পাত্ররূপে পূর্ব্বে লিখিত হইয়াছিল; তাহারা ভক্তিহীন, আমাদের ঈশ্বরের অনুগ্রহ লম্পটতায় পরিণত করে, এবং আমাদের একমাত্র অধিপতি ও প্রভু যীশু খ্রীষ্টকে অস্বীকার করে।” তিনি বলেন, এই লোকেরা “স্বপ্ন দেখিতে দেখিতে,” এইধরনের কথা বলে।—যিহূদা ৪, ৮.
দাবিগুলি পরীক্ষা করুন
একজন ব্যক্তি হয়ত দাবি করতে পারে যে ঈশ্বর তার সাথে স্বপ্নে কথা বলেছেন অথবা ভবিষ্যৎ সম্বন্ধীয় তার স্বপ্ন সত্য প্রমাণিত হয়েছে, তবুও তাকে বিশ্বাস করা এবং অন্ধভাবে অনুসরণ করার জন্য এটিই যথেষ্ট কারণ নয়। দ্বিতীয় বিবরণ ১৩:১-৩, ৫ পদে উল্লেখিত, ইস্রায়েলদের প্রতি লিখিত নির্দেশগুলি লক্ষ্য করুন: “তোমার মধ্যে কোন ভাববাদী কিম্বা স্বপ্নদর্শক উঠিয়া যদি তোমার জন্য কোন চিহ্ন কিম্বা অদ্ভুত লক্ষণ নিরূপণ করে; এবং সেই চিহ্ন কিম্বা অদ্ভুত লক্ষণ সফল হয়, যাহার সম্বন্ধে সে তোমার অজ্ঞাত অন্য দেবতাদের বিষয়ে তোমাদিগকে বলিয়াছিল, আইস, আমরা তাহাদের অনুগামী হই, ও তাহাদের সেবা করি, তবে তুমি সেই ভাববাদীর কিম্বা সেই স্বপ্নদর্শকের বাক্যে কর্ণপাত করিও না; . . . আর সেই ভাববাদীর কিম্বা সেই স্বপ্নদর্শকের প্রাণদণ্ড করিতে হইবে।” ঈশ্বর তাঁর লোকেদের বিশ্বস্ততা পরীক্ষা করার জন্য এইরূপ লোকেদের মিথ্যা বলা অনুমোদন করেছিলেন।
অনন্যসাধারণ প্রভাবশালী এই স্বপ্নদর্শকদের দাবি অন্ধভাবে বিশ্বাস করার পরিবর্তে, আমাদের জন্য বিজ্ঞতার কাজ হবে অদৃশ্য প্রধান প্রতারক যে “সমস্ত নরলোকের ভ্রান্তি জন্মায়” তার দ্বারা বিপথগামী হওয়া এড়াতে তাদের দাবিগুলিকে পরীক্ষা করে দেখা। (প্রকাশিত বাক্য ১২:৯) কিন্তু কিভাবে সেগুলি নির্ভরযোগ্যভাবে পরীক্ষিত হতে পারে?
ঈশ্বরের লিখিত বাক্য হল সত্যের প্রতি আমাদের পরিচালিত করার জন্য ঐশিকভাবে প্রদত্ত নির্দেশক। এর সম্পর্কে, যীশু খ্রীষ্ট বলেছিলেন: “তোমার বাক্যই সত্যস্বরূপ।” (যোহন ১৭:১৭) সুতরাং ১ যোহন ৪:১ পদে আমাদের উপদেশ দেওয়া হয়েছে: “প্রিয়তমেরা, তোমরা সকল আত্মাকে [“অনুপ্রাণিত অভিব্যক্তিকে,” NW] বিশ্বাস করিও না, বরং আত্মা [“অনুপ্রাণিত অভিব্যক্তি,” NW] সকলের পরীক্ষা করিয়া দেখ তাহারা ঈশ্বর হইতে কি না; কারণ অনেক ভাক্ত ভাববাদী জগতে বাহির হইয়াছে।” সতর্কতার সাথে বাইবেলের সঙ্গে তুলনা করলে তাদের দাবিগুলি, দর্শনগুলি এবং কাজগুলির সাথে সংঘাত সৃষ্টি করবে। সত্য সম্বন্ধে ঈশ্বরের বাক্য কর্তৃত্বস্বরূপ।
স্বপ্নদর্শক যে বিশেষ জ্ঞান সম্বন্ধে দাবি করে প্রকৃতপক্ষেই কি মন্ত্র বা অন্যান্য প্রেততাত্ত্বিক অভ্যাসগুলি ব্যবহার করে? যদি তাই হয়, তাহলে সে ঈশ্বরের বাক্যের দ্বারা নিন্দিত। “তোমার মধ্যে যেন এমন কোন লোক পাওয়া না যায়, . . . যে মন্ত্র ব্যবহার করে, বা গণক, বা মোহক, বা মায়াবী, বা ঐন্দ্রজালিক, বা ভূতড়িয়া, বা গুণী বা প্রেতসাধক। কেননা সদাপ্রভু এই সকল কার্য্যকারীকে ঘৃণা করেন।”—দ্বিতীয় বিবরণ ১৮:১০-১২.
যদি সে দাবি করে যে তার মধ্যে এক প্রাণ আছে যার মৃত্যু হয় না, তাহলে সে ঈশ্বরের বাক্যের বিরোধিতা করে যা স্পষ্টভাবে বলে: “যে প্রাণী পাপ করে, সেই মরিবে।” (যিহিষ্কেল ১৮:৪) সে কি নিজেকে উচ্চ করছে এবং তাকে অনুসরণ করার জন্য আকর্ষণ করছে? মথি ২৩:১২ পদ সাবধানবাণী দেয়: “আর যে কেহ আপনাকে উচ্চ করে, তাহাকে নত করা যাইবে।” এছাড়া প্রেরিত ২০:৩০ পদ খ্রীষ্টানদের সতর্ক করে: “তোমাদের মধ্য হইতেও কোন কোন লোক উঠিয়া শিষ্যদিগকে আপনাদের পশ্চাৎ টানিয়া লইবার জন্য বিপরীত কথা কহিবে।”
সে কি হিংসাত্মক কাজগুলিকে সমর্থন করে? যাকোব ৩:১৭, ১৮ পদ তাকে নিন্দা করে: “যে জ্ঞান উপর হইতে আইসে, তাহা প্রথমে শুচি, পরে শান্তিপ্রিয়, ক্ষান্ত [“যুক্তিবাদী,” NW] সহজে অনুনীত, দয়া ও উত্তম উত্তম ফলে পরিপূর্ণ, ভেদাভেদবিহীন ও নিষ্কপট। আর যাহারা শান্তি-আচরণ করে, তাহাদের জন্য শান্তিতে ধার্ম্মিকতা-ফলের বীজ বপন করা যায়।” সে কি জগতের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব অথবা প্রভাব অনুসন্ধান করে? ঈশ্বরের বাক্য জোরালভাবে তাকে অভিযুক্ত করে এই বলে: “যে কেহ জগতের মিত্র হইতে বাসনা করে, সে আপনাকে ঈশ্বরের শত্রু করিয়া তুলে।” এইভাবে বাইবেল যা কিছু মিথ্যা তাকে অনাবৃত করে।—যাকোব ৪:৪.
যদি এক ব্যক্তি তার পরিবারের সদস্য অথবা বন্ধুর মৃত্যু সম্বন্ধে স্বপ্ন দেখে, সম্ভবত এর কারণ সে ঐ ব্যক্তি সম্বন্ধে উদ্বিগ্ন রয়েছে। সেই ব্যক্তি হয়ত নির্দিষ্টভাবে ঐ স্বপ্নের রাতেই মারা গিয়েছে, কিন্তু এটিই প্রমাণ করে না যে স্বপ্নটি ভবিষ্যদ্বাণীমূলক ছিল। যখন এইধরনের একটি স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত হতে দেখা যায় আর তার সাথে সাথে, শত শত এই প্রকার স্বপ্ন পরিপূর্ণ হয় না।
যদিও ঈশ্বর অতীতে তাঁর লিখিত বাক্য প্রস্তুতের সময় ভবিষ্যদ্বাণীমূলক ঘটনাবলীকে প্রকাশ ও নির্দেশাবলী প্রদান করার জন্য স্বপ্ন ব্যবহার করেছিলেন, কিন্তু বর্তমানে তাঁর তা করার কোন প্রয়োজন নেই। ঐ লিখিত বাক্যে বর্তমান সময়ে মানবজাতির প্রয়োজনীয় সমস্ত নির্দেশনাবলী রয়েছে এবং এর ভবিষ্যদ্বাণীগুলি ভবিষ্যতের এক হাজার বছরেরও বেশি সময়ের ঘটনাগুলি সম্বন্ধে জানায়। (২ তীমথিয় ৩:১৬, ১৭) সুতরাং আমরা নিশ্চিত হতে পারি যে আমাদের স্বপ্নগুলি ভবিষ্যৎ ঘটনা সম্বলিত ঈশ্বরের কাছ থেকে পাওয়া ইঙ্গিত নয়, কিন্তু আমাদের মানসিকতার উপকারের জন্য মস্তিষ্কের একটি অপরিহার্য কাজ।
[৭ পৃষ্ঠার চিত্র]
ঈশ্বরের বাক্য আমাদের ভবিষ্যতের উপর আলোকপাত করে, যেমন কী আসতে চলেছে সে সম্বন্ধে ফরৌণের স্বপ্ন দেখিয়েছিল