ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w৯৫ ৯/১ পৃষ্ঠা ২২-২৬
  • “প্রেম কখনও শেষ হয় না”

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • “প্রেম কখনও শেষ হয় না”
  • ১৯৯৫ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • বাইবেল অধ্যয়নের একটি দল গঠন করা হয়
  • পাদ্রিদের কাছ থেকে বিরোধিতা
  • আমাদের প্রচার কাজ
  • যুদ্ধের বছরগুলি
  • বিবাহের বিষয়ে যিহোবার মান পরিষ্কার করে দেয়
  • পরিচর্যার সুযোগগুলি
  • প্রকৃত প্রেম কখনও শেষ হয় না
  • ঈশ্বরীয় সন্তুষ্টি আমাকে শক্তি জুগিয়েছে
    ২০০৪ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • এক মূল্যবান খ্রিস্টীয় উত্তরাধিকার আমাকে উন্নতি করতে সাহায্য করেছে
    প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে (অধ্যয়ন)—২০১৯
১৯৯৫ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w৯৫ ৯/১ পৃষ্ঠা ২২-২৬

“প্রেম কখনও শেষ হয় না”

শমূয়েল. ডি. লাডুসুই দ্বারা কথিত

আমি অবাক হই যখন আমি বিগত বছরগুলি সম্বন্ধে চিন্তা করি এবং দেখি যে কী সম্পন্ন হয়েছে। সমগ্র পৃথিবীতে যিহোবা অপূর্ব কাজ করে চলেছেন। ইলেশা, নাইজিরিয়াতে ১৯৩১ সালে যেখানে আমরা খুব অল্পজন প্রচার শুরু করি কিন্তু যেখানে এখন তা ৩৬ মণ্ডলীতে পরিণত হয়েছে। যখন ওয়াচটাওয়ার বাইবেল স্কুল অফ গিলিয়াডের গ্রাজুয়েটরা ১৯৪৭ সালে আসে তখন নাইজিরিয়াতে প্রায় ৪,০০০ জন প্রচার কাজ করছিল তা এখন বেড়ে ১,৮০,০০০-র বেশিতে দাঁড়িয়েছে। শুরুর দিকে, এত বৃদ্ধি যে ঘটবে তার কথা আমরা আশাও করিনি, চিন্তাও করিনি। এই অপূর্ব কাজে অংশ নিতে পেরে আমি খুবই খুশি! আসুন সেই বিষয়ে আমি আপনাদের বলি।

আমার বাবা শহরে শহরে বন্দুক এবং বন্দুকের মশলার ব্যবসা করতেন; তিনি বাড়িতে খুব কম সময়েই থাকতেন। আমি যা জানি তার সাতটি স্ত্রী ছিল, কিন্তু সকলে তার সাথে থাকত না। আমার বাবা আমার মাকে তার বড় ভাই যিনি মারা গিয়েছিলেন তার কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পান। তিনি তার দ্বিতীয়া স্ত্রী হন এবং আমি তার সাথে থাকতাম।

একদিন বাবা তার প্রথম স্ত্রীকে দেখে ফিরে আসেন, যে পার্শ্ববর্তী গ্রামেতে বাস করত। যখন তিনি সেখানে ছিলেন তখন তিনি জানতে পারেন যে আমার অর্ধভ্রাতা স্কুলে যাচ্ছিল। আমার অর্ধভ্রাতা আমার মত ১০ বছর বয়সের ছিল। তাই বাবা সিদ্ধান্ত নেন যে আমিও যেন স্কুলে যোগদান করি। তিনি আমাকে নয় পেনস্‌ দেন—তিন পেনস্‌ বইয়ের জন্য এবং ছয় পেনস্‌ স্লেটের জন্য। সেটি ছিল ১৯২৪ সালে।

বাইবেল অধ্যয়নের একটি দল গঠন করা হয়

ছোটবেলা থেকে, ঈশ্বরের বাক্য, বাইবেল সম্বন্ধে আমার প্রেম ছিল। স্কুলেতে বাইবেল ক্লাস উপভোগ করতাম এবং সানডে-স্কুলের শিক্ষকদের দ্বারা আমি সব সময়ই প্রশংসিত হতাম। তাই ১৯৩০ সালে, পরিদর্শনকারী বাইবেল ছাত্র, যিনি ইলেশাতে প্রচারক হিসাবে প্রথম কয়েকজনের মধ্যে ছিলেন তার দেওয়া ভাষণ শোনার সুযোগ গ্রহণ করি। ভাষণ দেওয়ার পর, ইয়োরুবা ভাষায় ঈশ্বরের বীণা (ইংরাজি) নামক পুস্তকটি আমাকে দেন।

আমি নিয়মিতরূপে সানডে-স্কুলে যোগদান করে আসছিলাম। এখন আমি আমার সাথে ঈশ্বরের বীণা নিয়ে যেতে শুরু করি এবং যে নীতিগুলি সেখানে প্রচারিত হত তা খণ্ডন করতে ব্যবহার করি। ফলে তর্কবিতর্ক শুরু হয় এবং প্রায়ই গির্জার নেতারা আমাকে এই ‘নতুন শিক্ষা’ অনুসরণ না করার জন্য সাবধান করে দিত।

পরের বছর, যখন আমি রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলাম, আমি একদল লোকের সম্মুখীন হই যারা এক ব্যক্তির কথা শুনছিল যিনি তাদের ভাষণ দিচ্ছিলেন। ভাষণকর্তা ছিল, জে. আই. ওয়েনপা, একজন বাইবেল ছাত্র। তাকে উইলিয়াম আর. ব্রাউন (যাকে প্রায়ই বাইবেল ব্রাউন বলে জানা যায়), যিনি লেগসa থেকে রাজ্য প্রচার কাজের দেখাশোনা করছিলেন। আমি জানতে পারি যে একটি ছোট বাইবেল অধ্যয়ন দল ইলেশাতে গঠন করা হয়েছে ঈশ্বরের বীণা পড়ার জন্য, তাই আমি তাদের সাথে যোগদান করি।

সেই দলটিতে আমি ছিলাম সবচেয়ে ছোট—শুধুমাত্র প্রায় ১৬ বছর বয়সের স্কুল যাওয়া ছেলে। সাধারণত আমার ৩০ এবং তার অধিক বয়স্ক লোকেদের সাথে মেলামেশা করতে লজ্জা, এমনকি ভয়ও পাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তারা আমাকে তাদের মধ্যে পেয়ে খুশি হন এবং তারা আমাকে উৎসাহ দেন। তারা আমার কাছে বাবার মত ছিল।

পাদ্রিদের কাছ থেকে বিরোধিতা

শীঘ্রই আমরা পাদ্রিদের কাছ থেকে কঠোর বিরোধিতার সম্মুখীন হই। ক্যাথলিকেরা, অ্যাংলিকানরা এবং অন্যান্যেরা যারা পূর্বে একে অপরের সাথে লড়াই করত, এখন আমাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়। আমাদের নিরুৎসাহ করতে কিছু করার জন্য তারা স্থানীয় সর্দারদের সাথে চক্রান্ত করে। তারা পুলিশদের পাঠায় আমাদের বইগুলি বাজেয়াপ্ত করতে, এই দাবি করে যে বইগুলি স্থানীয় লোকেদের জন্য ক্ষতিকারক। কিন্তু, জেলা আধিকারিক সাবধান করে দেন যে তাদের বই বাজেয়াপ্ত করার কোন অধিকার তাদের নেই এবং দুই সপ্তাহ পরে বইগুলি ফেরত দেওয়া হয়।

এর পরে আমাদের একটি সভায় ডাকা হয় যেখানে ওবা, সর্বশ্রেষ্ঠ সর্দারের এবং অন্যান্য বিশিষ্ট লোকেদের সাথে দেখা হয়। আমাদের সংখ্যা তখন প্রায় ৩০ ছিল। উদ্দেশ্য ছিল আমাদের “বিপজ্জনক” বইগুলি পড়া থেকে বিরত করা। তারা আমাদের জিজ্ঞাসা করে যে আমরা বিদেশী কি না, কিন্তু আমাদের মুখ ভাল করে দেখে, তারা বলেন, “এরা ত স্থানীয় লোক, যদিও এদের মধ্যে কিছু বিদেশী রয়েছে।” তারা আমাদের বলেন যে, যে ধর্মের বই আমাদের ক্ষতি করতে পারে তা অধ্যয়ন করি তা তারা চান না।

আমরা কিছু না বলে বাড়ি ফিরে আসি, কারণ মনে মনে আমরা ঠিক করে নিয়েছিলাম যে সেই বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কথায় কান দেব না। আমাদের মধ্যে অধিকাংশ যা শিখছিলাম তাতে খুশি ছিলাম এবং তা চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ়সঙ্কল্পবদ্ধ ছিলাম। তাই যদিও, কিছুজন ভয় পেয়ে যায় এবং দল থেকে সরে যায়, আমাদের অধিকাংশ ছুতোর মিস্ত্রির দোকানে অধ্যয়ন চালিয়ে যাই। আমাদের কোন পরিচালক ছিল না। আমরা প্রার্থনা দিয়ে শুরু করতাম এবং তারপরে শুধু বইয়ের অনুচ্ছেদগুলি একজনের পর একজন পড়তাম। প্রায় এক ঘন্টা পরে আবার প্রার্থনা করতাম এবং তারপরে বাড়ি ফিরে যেতাম। কিন্তু আমাদের উপর লক্ষ্য রাখা হচ্ছিল, আর সর্দার এবং ধর্মীয় নেতারা ক্রমাগত প্রতি দুই সপ্তাহ অন্তর আমাদের ডাক দিতেন এবং বাইবেল ছাত্রদের সাহিত্যাদি পড়ার বিরুদ্ধে সাবধান করে দিতেন।

অন্তর্বর্তী কালে, আমরা যতটুকু জানতাম তা দিয়ে লোকেদের সাহায্য করার জন্য ব্যবহার করতাম এবং অনেকে আমাদের সাথে একমত ছিল। এক এক করে লোকেরা আমাদের সাথে যুক্ত হচ্ছিল। আমরা খুব খুশি ছিলাম, কিন্তু আমরা তখনও যে ধর্মের সাথে যুক্ত হচ্ছিলাম সেই সম্বন্ধে খুব বেশি কিছু জানতাম না।

আমাদের সংগঠিত করার জন্য ১৯৩২ সালের শুরুর দিকে একজন ভাই লেগস থেকে আসেন এবং এপ্রিলে “বাইবেল” ব্রাউনও আসেন। ৩০ জনের দল দেখে, ভাই ব্রাউন অনুসন্ধান করেন যে অধ্যয়নে আমরা কতখানি উন্নতি করছি। আমরা যা জানতাম তা তাকে আমরা বলি। তিনি বলেন যে আমরা বাপ্তিস্ম নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে গিয়েছিলাম।

যেহেতু সেটি বর্ষাকাল ছিল না, নদীতে যাওয়ার জন্য আমাদের ইলেশা থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে যাত্রা করতে হত এবং আমাদের প্রায় ৩০ জন বাপ্তিস্ম গ্রহণ করে। তখন থেকে আমরা নিজেদের রাজ্যের প্রচারক হিসাবে দেখেছিলাম এবং গৃহে থেকে গৃহে প্রচার কাজ করতে শুরু করেছিলাম। আমরা তা প্রত্যাশা করিনি, কিন্তু এখন আমরা যা জানতাম তা অন্যদের সাথে বন্টন করতে আগ্রহান্বিত ছিলাম। আমাদের আগে থেকে প্রস্তুত করতে হত যাতে করে মিথ্যা শিক্ষাগুলি যার মুখোমুখি হতাম খণ্ডন করতে আমরা বাইবেলের সমর্থন পেতে পারি। তাই আমাদের সভাগুলিতে, যা জানতাম তা একে অপরকে সাহায্য করে আমরা শিক্ষাগুলি আলোচনা করতাম।

আমাদের প্রচার কাজ

আমরা সমগ্র শহরে আমাদের প্রচার কাজ করি। লোকেরা আমাদের প্রতি বিদ্রূপ এবং চিৎকার করত, কিন্তু আমরা কিছু মনে করতাম না। আমাদের আনন্দ ছিল, কারণ আমাদের কাছে সত্য ছিল যদিও আমাদের অনেক কিছু শেখার ছিল।

আমরা প্রতি রবিবার গৃহ থেকে গৃহে যেতাম। লোকেরা আমাদের প্রশ্ন করত এবং আমরা তা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করতাম। রবিবার সন্ধ্যাবেলায় আমরা জনসাধারণের জন্য ভাষণ দিতাম। আমাদের কিংডম হল ছিল না, তাই আমরা খোলা আকাশের নিচে সভার আয়োজন করতাম। আমরা লোকেদের একত্র করতাম, ভাষণ দিতাম এবং তাদের প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে আমন্ত্রণ জানাতাম। কখনও কখনও আমরা গির্জাগুলিতেও প্রচার কাজ করতাম।

আমরা এমন জায়গায় প্রচার কাজ করতাম যেখানে লোকেরা যিহোবার সাক্ষীদের বিষয়ে কখনও শোনেনি। বেশির ভাগ সময়ে আমরা সাইকেলে যেতাম কিন্তু কয়েকবার বাস ভাড়া করতাম। যখন আমরা গ্রামে পৌঁছাতাম, আমরা জোরে হর্ণ বাজাতাম। সমগ্র গ্রাম তা শুনতে পেত! লোকেরা কী হচ্ছে তা জানবার জন্য তাড়াতাড়ি আসত। তারপরে আমরা আমাদের বার্তা জানাতাম। শেষ হওয়ার পর, লোকেরা ঠেলাঠেলি করে আমাদের সাহিত্যাদি নিত। আমরা প্রচুর পরিমাণে তা বিতরণ করতাম।

আমরা ঈশ্বরের রাজ্য আসার জন্য অধীর আগ্রহে প্রত্যাশা করতাম। আমার মনে পড়ে যখন আমরা ১৯৩৫ সালের বর্ষপুস্তক পাই একজন ভাই, বছরের জন্য সম্পূর্ণ শাস্ত্র তালিকা দেখে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: “এর অর্থ কি এই যে হর্‌মাগিদোন আসার আগে আরেকটি সম্পূর্ণ বছর কেটে যাবে?”

উত্তরে, পরিচালক জিজ্ঞাসা করেছিলেন: “ভাই, আপনি কি মনে করেন, যদি কালকে হর্‌মাগিদোন আসে, আমরা কি বর্ষপুস্তক পড়া বন্ধ করে দেব?” যখন ভাই না বলেন, পরিচালক বলেছিলেন: “তাহলে আপনি কেন চিন্তা করছেন?” আমরা তখনও এবং এখনও, যিহোবার দিনের অপেক্ষায় আছি।

যুদ্ধের বছরগুলি

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে, আমাদের বইগুলি আমদানি করা বন্ধ হয়ে যায়। ইলেশায় একজন ভাই না জেনে রিচেস্‌ বইটি এক পুলিশকে দেখান। পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসা করে: “এই বইটি কার?” ভাইটি বলেন যে এটি হল তার। পুলিশ তাকে বলে যে এটি হল নিষিদ্ধ বই, তাকে থানায় নিয়ে গিয়ে আটক করে রাখে।

আমি থানায় যাই এবং অনুসন্ধান করার পর, ভাইকে জামিনে ছাড়িয়ে নিয়ে আসি। তারপর আমি কী হয়েছে তা জানাবার জন্য লেগসে ভাই ব্রাউনকে টেলিফোন করি। আমি এও জিজ্ঞাসা করি যে আমাদের বই বিতরণের বিরুদ্ধে কোন আইন আছে কি না। ভাই ব্রাউন আমাকে জানান যে আমাদের বই আমদানি করা নিষিদ্ধ, কিন্তু বিতরণ করা নিষিদ্ধ নয়। তিন দিন পরে, কী হচ্ছে তা জানবার জন্য ভাই ব্রাউন লেগস থেকে এক ভাইকে পাঠান। এই ভাই সিদ্ধান্ত নেন যে আমরা সকলে যেন পরের দিন পত্রিকা এবং বইগুলি নিয়ে প্রচারে যাই।

আমরা বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ি। প্রায় এক ঘন্টা পরে আমার কাছে খবর আসে যে বেশির ভাগ ভাইয়েদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাই পরিদর্শনকারী সেই ভাইটি এবং আমি থানায় যাই। বইগুলি যে নিষিদ্ধ নয় সেই বিষয়ে আমাদের যুক্তি শুনতে পুলিশ প্রত্যাখ্যান করে।

যে ৩৩ জন ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল তাদের ইফে মুখ্য ম্যাজিস্ট্রেটের বিচারালয়ে পাঠানো হয় এবং আমি তাদের সাথে যাই। শহরের লোকেরা আমাদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে দেখে চিৎকার করে, “আজকে এই লোকেদের কাজ শেষ হয়ে গেল। তারা আর এখানে আসবে না।”

মুখ্য ম্যাজিস্ট্রেট, যিনি নাইজিরিয়ান ছিলেন তার কাছে অভিযোগটি রাখা হয়। সমস্ত বই এবং পত্রিকা দেখানো হয়। তিনি জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, এই লোকেদের গ্রেপ্তার করতে কে পুলিশকে অধিকার দিয়েছে। পুলিশের সচিব উত্তর দিয়েছিলেন যে তিনি জেলা আধিকারিকের কথা মত কাজ করেছেন। মুখ্য ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ সচিবটিকে এবং আমাদের চারজন প্রতিনিধিকে, যার অন্তর্ভুক্ত আমি ছিলাম তার চেম্বারে ডাকেন।।

তিনি জিজ্ঞাসা করেন যে মিঃ. ব্রাউন কে ছিলেন। আমরা তাকে বলি যে, তিনি হলেন লেগসে ওয়াচ টাওয়ার সোসাইটির প্রতিনিধি। তিনি তারপর আমাদের বলেন যে আমাদের সম্বন্ধে তিনি মিঃ ব্রাউনের কাছ থেকে টেলিগ্রাম পেয়েছেন। তিনি তারপর কেস মুলতবি করে দেন এবং ভাইদের জামিনে ছেড়ে দেন। তার পরের দিন তিনি ভাইদের দোষমুক্ত করে দিয়ে ছেড়ে দেন এবং পুলিশকে বইগুলি ফেরত দিতে আদেশ দেন।

আমরা ইলেশাতে গান করতে করতে ফিরে আসি। আবার লোকেরা চিৎকার করতে শুরু করে, কিন্তু এইবার তারা বলছিল: “এরা আবার এসে গেছে!”

বিবাহের বিষয়ে যিহোবার মান পরিষ্কার করে দেয়

১৯৪৭ সালে প্রথম তিনজন গিলিয়াড গ্রাজুয়েটরা নাইজিরিয়াতে আসেন। এদের মধ্যে একজন ভাই, টনি অল্টউড এখনও এখানে রয়েছেন এবং নাইজিরিয়া বেথেলে সেবা করছেন। সেই সময় থেকে নাইজিরিয়াতে যিহোবার সংগঠনে বিরাট পরিবর্তন দেখতে পাই। একটি বড় পরিবর্তন ছিল বহুগামিতা সম্বন্ধে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি।

আমি ওলাবিসি ফাশুগবাকে ১৯৪১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিবাহ করি এবং আরও স্ত্রী গ্রহণ করার বিরুদ্ধে আমার যথেষ্ট জ্ঞান ছিল। কিন্তু ১৯৪৭ সালে মিশনারিরা আসার আগে পর্যন্ত, বহুগামিতা মণ্ডলীগুলিতে অতিপ্রচলিত ছিল। বহুগামী ভাইয়েদের বলা হয় যে, তারা না জেনে একাধিক স্ত্রীকে বিবাহ করেছে। তাই যদি তাদের দুই অথবা তিন অথবা চার কিংবা পাঁচটি স্ত্রী থাকে তাদের তারা রাখতে পারে, কিন্তু আরও বিবাহ যেন না করে। এই প্রণালীটি আমরা গ্রহণ করি।

অনেক লোকেরা আমাদের সাথে যোগ দিতে উদগ্রীব ছিল, বিশেষকরে ইলেশার চেরুবিম এবং সেরাফিম সোসাইটি। তারা বলে যিহোবার সাক্ষীরা হল একমাত্র লোক যারা সত্য শিক্ষা দেয়। তারা আমাদের শিক্ষার সাথে একমত হয় এবং তাদের গির্জাগুলিকে কিংডম হলে পরিবর্তন করতে চায়। এটি যাতে হয় তার জন্য আমরা কঠোর কাজ করেছিলাম। এমনকি আমাদের কাছে তাদের প্রাচীনদের শিক্ষা দেওয়ার স্থান ছিল।

তারপরে বহুগামিতা সম্বন্ধে নতুন নির্দেশ আসে। ১৯৪৭ সালে এক সীমা অধিবেশনে একজন মিশনারি একটি ভাষণ দেন। তিনি উত্তম আচরণ এবং অভ্যাস সম্বন্ধে বলেন। তারপরে তিনি ১ করিন্থীয় ৬:৯, ১০ পদ উদ্ধৃতি করে, বলেন, অধার্মিকেরা ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করবে না। তারপরে তিনি আরও বলেন: “বহুগামীরা ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করবে না!” লোকেরা যারা শ্রোতাদের মধ্যে ছিল তারা চিৎকার করে ওঠে: “বহুগামীরা ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করবে না!” ফলে বিবাদ সৃষ্টি হয়। এটি প্রায় যুদ্ধের মত ছিল। নতুন যোগদানপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা এই বলে যোগদান করা বন্ধ করে দেয়: “আরও বেশি করে যোগদান করার থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছ ঈশ্বর।”

বেশির ভাগ ভাইয়েরা, তাদের স্ত্রীদের মুক্তি দেওয়ার মাধ্যমে পথ পরিষ্কার করতে শুরু করে। তারা তাদের পয়সা দেয় এবং বলে, ‘যদি তুমি যুবতী থাক তাহলে আরেকটি স্বামী খুঁজে নাও। তোমাকে বিবাহ করে আমি ভুল করেছি। আমাকে এখন একজন স্ত্রীর স্বামী হতে হবে।’

শীঘ্রই আরেকটি সমস্যা এসে দাঁড়ায়। কয়েকজন, একটি স্ত্রীকে রাখা ও অন্যগুলিকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর, মন পরিবর্তন করে, তারা যে স্ত্রীদের ছেড়ে দিয়েছিল তাদের মধ্যে একটিকে আবার ফেরত পেতে চায় এবং যেটিকে রেখেছিল তাকে ছেড়ে দিতে চায়! ফলে আবার সমস্যা শুরু হয়।

ব্রুকলিন প্রধান কার্যালয় থেকে আরও নির্দেশনা আসে, মালাখি ২:১৪ পদের ভিত্তিতে, “যৌবনকালীন স্ত্রীর প্রতি,” ইঙ্গিত করে। নির্দেশনাটি ছিল যে প্রথম স্ত্রীকে যাকে তারা বিবাহ করেছিল স্বামীদের তাকে রাখতে হবে। অবশেষে এইভাবে প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়।

পরিচর্যার সুযোগগুলি

১৯৪৭ সালে সমিতি মণ্ডলীগুলিকে দৃঢ় করতে শুরু করে এবং সেগুলিকে সীমাতে সংগঠিত করে। তারা পরিপক্ব ভাইদের যারা জ্ঞানে অগ্রসর ছিল তাদের ‘সহধর্মীর সেবক’ যাদের এখন সীমা অধ্যক্ষ বলা হয় সেই পদে নিযুক্ত করতে চেয়েছিল। ভাই ব্রাউন আমাকে বলেন যে আমি এই পদটি গ্রহণ করব কি না। আমি বলি যে, যে কারণে আমি বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেছি তা হল যিহোবার ইচ্ছা পালন করা, আরও বলি যে: “এমনকি আপনি আমাকে বাপ্তিস্মিত করেছেন। যখন যিহোবাকে আরও পূর্ণরূপে সেবা করার সুযোগ রয়েছে, তখন আপনি কি মনে করেন আমি তা প্রত্যাখ্যান করব?”

সেই বছরের অক্টোবরে, সাতজনকে লেগসে ডাকা হয় এবং সীমার কাজ শুরু করার আগে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সেই সময়ে সীমাগুলি খুব বড় ছিল। সমগ্র দেশটি শুধুমাত্র সাতটি সীমাতে বিভাজিত ছিল। মণ্ডলী ছিল খুব কম।

সহধর্মীর সেবক হিসাবে আমাদের কাজ কঠিন ছিল। আমরা প্রতিদিন অনেক কিলোমিটার হাঁটতাম, বেশির ভাগ উত্তপ্ত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে। প্রতি সপ্তাহে আমাদের গ্রাম থেকে গ্রামে ভ্রমণ করতে হত। কয়েকসময় মনে হত যে আমার পা ভেঙ্গে পড়বে। কয়েকসময় মনে হত যে আমি মরে যাব! কিন্তু তাতে প্রচুর আনন্দও ছিল, বিশেষকরে যখন বৃদ্ধিরত লোকেরা সত্যকে আপন করে নিচ্ছিল। শুধুমাত্র সাত বছরে, এই দেশের প্রকাশক সংখ্যা চার গুণ বেড়ে যায়।

আমি ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত সীমার কাজ করে চলি যতক্ষণ না ইলেশাতে যেতে খারাপ স্বাস্থ্য আমাকে বাধ্য করে, যেখানে আমি শহর অধ্যক্ষ নিযুক্ত হই। ঘরেতে থেকে এখন আমি আমার পরিবারকে আধ্যাত্মিকভাবে সাহায্য করতে আরও সময় ব্যয় করতে পারি। আজকে আমার ছয়টি সন্তান বিশ্বস্ততার সাথে যিহোবাকে সেবা করে চলেছে।

প্রকৃত প্রেম কখনও শেষ হয় না

যখন আমি বিগত বছরগুলি সম্বন্ধে চিন্তা করি, আমার ধন্যবাদ দেওয়ার অনেক কিছু রয়েছে। হতাশা, চিন্তা এবং অসুস্থতা ছিল, কিন্তু অনেক আনন্দও ছিল। যদিও ক্রমাগতভাবে বছরের পর বছর ধরে আমাদের জ্ঞান এবং বোধশক্তি বেড়েছে, আমি অভিজ্ঞতা দ্বারা ১ করিন্থীয় ১৩:৮ পদের উপলব্ধি করেছি যেটি বলে: “প্রেম কখনও শেষ হয় না।” যদি আপনি যিহোবাকে ভালবাসেন এবং তাঁর সেবায় দৃঢ় থাকেন, তাহলে তিনি আপনাকে আপনার কষ্টে সাহায্য এবং প্রচুর পরিমাণে আশীর্বাদ করবেন।

সত্যের আলো উত্তরোত্তর দীপ্তিমান হচ্ছে। যখন আমরা প্রথম সত্য শিখি, তখন আমরা চিন্তা করেছিলাম যে হর্‌মাগিদোন তাড়াতাড়ি আসবে; তাই আমরা যা করতে পারতাম তা ব্যস্ততার সাথে করছিলাম। কিন্তু সবকিছুই আমাদের উপকারার্থে ছিল। তাই আমি গীতরচকের কথাগুলির সাথে একমত: “আমি যাবজ্জীবন সদাপ্রভুর প্রশংসা করিব; আমি যত কাল বাঁচিয়া থাকি, আমার ঈশ্বরের প্রশংসা করিব।”—গীতসংহিতা ১৪৬:২.

[পাদটীকাগুলো]

a ভাই ব্রাউনকে বাইবেল ব্রাউন বলা হত কারণ তিনি রীতি অনুযায়ী বাইবেলের দিকে নির্দেশ করতেন চুড়ান্ত কর্তৃত্ব হিসাবে-প্রহরীদুর্গ সেপ্টেম্বর ১, ১৯৯২, পৃষ্ঠা ৩২-এ “প্রকৃত সুসমাচার প্রচারকের কর্ষণের কাজ” নামক প্রবন্ধটি দেখুন।

[২৩ পৃষ্ঠার চিত্র]

১৯৫৫ সালে শমূয়েল মিল্টন হেনশেলের সাথে

[২৪ পৃষ্ঠার চিত্র]

শমূয়েল তার স্ত্রী, ওলাবিসির সাথে

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার