আপনার ব্যবসার জন্য আপনাকে কতটা মূল্য দিতে হবে?
দক্ষিণ আমেরিকার একটি দেশের, রাষ্ট্রপতির স্ত্রীকে, তার পরিবারের সদস্যদের দ্বারা স্থাপিত একটি জাল কোম্পানিতে সহস্রাধিক ডলার অর্থ বিনিয়োগের দায়ে অভিযুক্ত করা হয়। ভারতবর্ষে, ৩৮ বছর বয়সের একজন শেয়ার বেচাকেনার দালালকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার বিলাসবহুল বাড়ি থেকে ২৯টি গাড়ি আর ১.৬ বিলিয়ান ডলারের ব্যাঙ্ক নোট ও স্টক মার্কেট কেলেঙ্কারীর সাথে জড়িত সমস্ত কাগজপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়। ফিলিপাইনসের একটি দ্বীপে, হাজার হাজার অধিবাসীরা বেআইনী বন্দুক তৈরি করার দ্বারা জীবিকা নির্বাহ করে। রোজকার করার এই সহজ উপায়ে টিকে থাকার জন্য জানা গেছে যে, কর্তৃপক্ষদের এবিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার জন্য তারা নিয়মিতভাবে ঘুস দিয়ে থাকে।
হ্যাঁ, ব্যবসার মধ্যে অসততা ও জালিয়াতি সারা জগতে ছড়িয়ে আছে। আর প্রায়ই যারা এর সাথে যুক্ত থাকে তাদের নিজস্ব পদ ও মর্যাদা ও সেই সঙ্গে অর্থ পর্যন্ত হারাতে হয়।
আপনার সম্বন্ধে কী বলা যায়? আপনার কি ব্যবসা আছে? নাকি আপনি একটি ব্যবসা খোলার কথা ভাবছেন? এর জন্য আপনাকে কতটা অর্থ ব্যয় করতে হবে? অবশ্যই ব্যবসা করতে গেলে কিছুটা ব্যয় করতেই হবে। এটা করার মধ্যে কোন দোষ নেই। কিন্তু কোন ব্যবসার মধ্যে যুক্ত হওয়ার আগে অথবা ইতিমধ্যেই প্রতিষ্ঠিত কোন বিষয়ের উপর সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আপনার সঙ্গতির ব্যাপারটা বিবেচনা করে নেওয়া উচিত। (লূক ১৪:২৮) ৩১ পৃষ্ঠায় যে বাক্সটি রয়েছে তা আপনাকে খরচের বিষয় জানাবে যা আপনি বিবেচনা করে দেখতে চাইবেন।
স্পষ্টভাবে, বলা যেতে পারে যে ব্যবসা করা কোন সাধারণ ব্যাপার নয়। খ্রীষ্টানদের জন্য আধ্যাত্মিক ও নৈতিক দায়িত্বগুলি যে আছে তা বিবেচনার বিষয়। আপনি কি এর পিছনে মূল্য দিয়েও আধ্যাত্মিক ক্ষেত্রে সমতা বজায় রাখতে পারবেন? এমন কী কিছু মূল্য আপনাকে দিতে হতে পারে যা আপনার পক্ষে নৈতিকভাবে গ্রহণ করা মুশকিল? কোন্ নীতিগুলি আপনাকে সাহায্য করতে পারে এই সিদ্ধান্ত নিতে যে কতটা মূল্য দিতে আপনি প্রস্তুত আর কতটা নয়?
অর্থকে তার নিজের স্থানে রাখুন
ব্যবসা চালানোর জন্য টাকার প্রয়োজন আর এটা আশা করা যায় যে পরিবারের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ব্যবসা আপনাকে যথেষ্ট টাকা রোজকার করতে সাহায্য করবে। কিন্তু, অর্থের ক্ষেত্রে আমাদের যে লক্ষ্য তা প্রায়ই বিভ্রান্তিজনক হয়ে ওঠে। লোভ হয়ত সামনে এসে উপস্থিত হয়। অনেক লোকের কাছে, টাকাই সবচাইতে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে থাকে। তবুও, বাইবেল পুস্তক হিতোপদেশের একজন লেখক, যার নাম আগূর, তিনি এসম্বন্ধে একটি ভারসাম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন যখন তিনি বলেন: “দরিদ্রতা বা ঐশ্বর্য্য আমাকে দিও না, আমার নিরূপিত খাদ্য আমাকে ভোজন করাও।” (হিতোপদেশ ৩০:৮) প্রয়োজন মতো অর্থ পাওয়ার দ্বারা তৃপ্ত হওয়ার মূল্যকে তিনি উপলব্ধি করেছিলেন—তিনি “যেন তেন প্রকারে পেতে হবে,” এইধরনের মনোভাব প্রকাশ করতে চাননি, যা কিছু ব্যক্তি ব্যবসার ক্ষেত্রে করে থাকে।
কিন্তু, যখন তথাকথিত সুবর্ণ সুযোগ আসে তখন লোভ অনেক সময় একজনকে তার মানকে ভুলিয়ে দিতে পারে। একটি উন্নতশীল দেশে যিহোবা সাক্ষীদের এক ভ্রমণ পরিচারক এবিষয় সম্বন্ধে রিপোর্ট দেন। একটি কোম্পানি যাদের কিছু মূলধনের প্রয়োজন ছিল তারা এই ইঙ্গিত দেয় যে যারা এই কোম্পানিতে টাকা দেবে, তারা কিছু মাসের মধ্যেই দ্বিগুন টাকা উপার্জন করতে পারবে। সহজে টাকা উপার্জন করার এই প্রস্তাবটি অনেককে প্ররোচিত করে কোম্পানিতে টাকা বিনিয়োগ করতে। ভ্রমণ পরিচারকটি জানান: “এর মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য অনেকেই অত্যন্ত আগ্রহী হয়ে পড়ে। তারা এবিষয়ে বিশেষ কোন প্রশ্ন পর্যন্ত জিজ্ঞাসা করেনি এবং তারা ধার করে টাকা [দেয়]।”
কিন্তু এর বিপরীতে, দুজন ব্যক্তি টাকা বিনিয়োগ করার আগে কোম্পানির অফিসে যায় সমস্ত কিছু পরীক্ষা করে দেখতে। উৎপাদন ব্যবস্থাটি দেখার জন্য যখন তারা অনুরোধ জানায় তখন তা দেখাতে তারা অস্বীকার করে। এটা তাদের কোম্পানির সুনাম সম্বন্ধে সন্দেহ জাগিয়ে তোলে। এটা তাদের রক্ষা করেছিল, কারণ কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই জাল প্রকল্পটি উদ্ঘাটিত হয়ে পড়ে এবং লোকেদের গ্রেপ্তার করা হয়। চিন্তা করে দেখুন যে যারা আগে থেকে এবিষয় পরীক্ষা করে নেয়নি তাদের কিধরনের মূল্য দিতে হয়েছিল। তারা তাদের অর্থ হারায়, এমনকি বন্ধুদেরও যারা তাদের টাকা ধার দিয়েছিল, কিন্তু প্রকল্পটি ভেঙে যাওয়ার দরুন তারা সেই টাকা আর ফেরত দিতে পারে না। অর্থের ক্ষেত্রে হিতোপদেশ ২২:৩ পদে দেওয়া মানটি প্রয়োগ করা কতই না বিজ্ঞের কাজ হবে: “সতর্ক লোক বিপদ দেখিয়া আপনাকে লুকায়, কিন্তু অবোধ লোকেরা অগ্রে গিয়া দন্ড পায়।”
আপনার কথার দাম রাখুন
কিন্তু যদি ব্যবসা মন্দার দিকে মোড় নেয় তাহলে? গীতসংহিতা ১৫:৪ পদ সেই ব্যক্তিকে প্রশংসা করে যে তার চুক্তি অনুসারে কথার দাম রাখে, এমনকি তার জন্য যদি তাকে অসুবিধায় পড়তেও হয়, তবুও সে: “দিব্য করিলে ক্ষতি হইলেও অন্যথা করে না।” যখন সবকিছু ভালর দিকে যায় তখন কথার দাম রাখা খুবই সহজ। কিন্তু যখন একজন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তখন আসে আমাদের পরীক্ষা।
বাইবেলে যিহোশূয়ের সময় থেকে দেওয়া উদাহরণের কথা চিন্তা করুন। গিবিয়োনীয়রা এমনভাবে কৌশলতার সাথে বিষয়টিকে পরিচালনা করেছিল যে যাতে করে ইস্রায়েলের প্রধান গোষ্ঠীপতিরা তাদের সাথে চুক্তি করবে কিন্তু তাদের ধ্বংস করবে না। প্রকৃতপক্ষে তারা ছিল সেই জাতির অন্তর্ভুক্ত যাদের ইস্রায়েলীয়রা বিপজ্জনক বলে মনে করত। যখন এটি প্রকাশিত হয়ে পড়ে, “মণ্ডলীর অধ্যক্ষগণ . . . সদাপ্রভুর নামে তাহাদের কাছে দিব্য করিয়াছিলেন বলিয়া ইস্রায়েল-সন্তানগণ তাহাদিগকে আঘাত করিল না।” (যিহোশূয়ের পুস্তক ৯:১৮) এমনকি যদিও এই দলটি শত্রুদের অঞ্চল থেকে এসেছিল, কিন্তু অধ্যক্ষগণ তাদের কথার দামকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেছিল। আর পরবর্তী ঘটনাগুলি দেখায় যে যিহোবা এতে খুশি হয়েছিলেন।—যিহোশূয়ের পুস্তক ১০:৬-১১.
আপনি কি আপনার ব্যবসার ক্ষেত্রে চুক্তি অনুসারে চলবেন এমনকি যদি তা আপনার আশা অনুসারে নাও হয়ে থাকে?a এটা করার দ্বারা আপনি যিহোবাকে অনুকরণ করবেন, যিনি সবসময় তাঁর কথার দাম রাখেন।—যিশাইয় ৫৫:১১.
সৎ হোন
আজকের এই ব্যবসার জগতে সততা খুব বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছে, হতে পারে যে এটি হয়ত বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আপনার মতো অন্যেরা যারা একই ধরনের ব্যবসা করে তারা হয়ত অসৎ উপায় অবলম্বন করে তাদের রোজকার বাড়াতে পারে। তারা হয়ত বিজ্ঞাপন দেওয়ার ক্ষেত্রে অসততার আশ্রয় নেয়। তারা হয়ত অন্য কোম্পানির নাম চুরি করে নিজেদের উৎপাদনের উপর লাগিয়ে দিতে পারে। অথবা তারা কোন নিকৃষ্ট জিনিসকে উৎকৃষ্ট মান বলে বিক্রি করতে পারে। এগুলি সবই অসততার বিভিন্ন রূপ। যারা এগুলি করে তারা হচ্ছে “দুর্জন”, যারা আসফের কথা অনুসারে, “নির্ব্বিঘ্নে থাকিয়া ধন বৃদ্ধি করিয়াছে” সম্ভবত অসৎ উপায় অবলম্বন করে।—গীতসংহিতা ৭৩:১২.
একজন খ্রীষ্টান হিসাবে আপনি কি এই অসৎ উপায়গুলি অবলম্বন করবেন? নাকি আপনি বাইবেলের মানগুলির দ্বারা পরিচালিত হবেন, যেমন: “আমরা কাহারও অন্যায় করি নাই, কাহাকেও নষ্ট করি নাই, কাহাকেও ঠকাই নাই”; “লজ্জার গুপ্ত কার্য্যসমূহে জলাঞ্জলি দিয়াছি, ধূর্ত্ততায় চলি না”; “রকম রকম বাটখারা সদাপ্রভুর ঘৃণাস্পদ, ছলনার তৌল-দণ্ড ভাল নয়”? (২ করিন্থীয় ৪:২; ৭:২; হিতোপদেশ ২০:২৩) মনে রাখবেন যে অসততার মূলে শয়তান দিয়াবল, “মিথ্যাবাদীর পিতা” ছাড়া আর কেউ নেই।—যোহন ৮:৪৪.
কেউ হয়ত বাধা দিয়ে বলবে: ‘অসৎ উপায় অবলম্বন না করলে যেমন অন্যেরা করে থাকে, ব্যবসায় টিকে থাকা মুশকিল।’ এখানেই খ্রীষ্টানদের যিহোবার প্রতি বিশ্বাস দেখানোর সুযোগ আসে। যখন কোন মূল্য দিতে হয় তখনই সততার পরীক্ষা আসে। যদি বলা হয় যে অসৎ পথ অবলম্বন না করে একজন ব্যক্তির পক্ষে জীবন ধারণ করা সম্ভব নয় তাহলে আমরা এটাই বলতে চাইছি যে ঈশ্বর তাদের জন্য চিন্তা করেন না যারা তাঁকে প্রেম করে। যার যিহোবার প্রতি প্রকৃত বিশ্বাস আছে, সে জানে যে ঈশ্বর যে কোন দেশে এবং যে কোন পরিস্থিতিতে তাঁর দাসেদের রক্ষা করতে পারেন। (ইব্রীয় ১৩:৫) এটা অবশ্য সত্যি যে একজন অসৎ ব্যক্তির তুলনায় তাকে হয়ত স্বল্প রোজগারে সন্তুষ্ট থাকতে হবে, কিন্তু ঈশ্বরের আশীর্বাদ পাওয়ার জন্য এই ধরনের মূল্য দেওয়া কি যথার্থ নয়?
মনে রাখবেন যে, অসততা এমন একটা জিনিস যা অবলম্বন করলে তা আপনার কাছেই ফিরে আসবে। যদি ক্রেতা এবং বন্টনকারীরা জানতে পারে যে ব্যবসায়ীটি হচ্ছে অসৎ তখন তারা প্রায়ই তাকে পরিত্যাগ করে থাকে। সে হয়ত তাদের একবার বোকা বানাবে, কিন্তু সেটাই হয়ত শেষ বারের মতো বোকা বানানো হবে। কিন্তু অপরদিকে, একজন সৎ ব্যবসায়ী সাধারণত সকলের সম্মান অর্জন করে থাকে। সতর্ক থাকুন, মিথ্যা যুক্তির দ্বারা প্রভাবিত হবেন না, ‘সকলে করে, অতএব ঠিক আছে।’ বাইবেলের মানটি হল এই, “তুমি দুষ্কর্ম্ম করিতে বহু লোকের পশ্চাদ্বর্ত্তী হইও না।”—যাত্রাপুস্তক ২৩:২.
ধরুন আপনার ব্যবসার অনেক দিনের পার্টনার সহখ্রীষ্টান নয় এবং সবসময় সে হয়ত বাইবেলের মান মেনে চলে না। তাহলে এটা কি যথার্থ হবে যখন কোন অশাস্ত্রীয় কাজ হয় তখন নিজের দায়িত্বকে এড়িয়ে যাওয়ার জন্য এই অজুহাতটিকে ব্যবহার করা? আদম ও শৌলের উদাহরণটি মনে রাখুন। পাপকে এড়িয়ে না গিয়ে তারা, চাপের কাছে নতি স্বীকার করে এবং তারা তাদের সহসাথীকে দোষারোপ করে। এর জন্য কত উচ্চ মূল্যই না তাদের দিতে হয়েছিল!—আদিপুস্তক ৩:১২, ১৭-১৯; ১ শমূয়েল ১৫:২০-২৬.
সহবিশ্বাসীদের সাথে যথার্থ ব্যবহার করুন
যিহোবার সহউপাসকদের সাথে ব্যবসা শুরু করার সময়েও কি এর মূল্য নির্ধারণ করা দরকার? যখন ভাববাদী যিরমিয় তার আত্মীয়ের কাছ থেকে তার নিজের দেশ অনাথোতে একটি ক্ষেত্র কেনেন, তখন তিনি কেবল মাত্র টাকা দিয়ে হাতে হাত মিলিয়ে চলে আসেননি। বরঞ্চ তিনি বলেন: “আমি ক্রয়পত্রে স্বাক্ষর করিলাম, মুদ্রাঙ্ক করিলাম, ও সাক্ষী রাখিলাম, এবং তাহাকে সেই রৌপ্য নিক্তিতে তৌল করিয়া দিলাম।” (যিরমিয় ৩২:১০) লিখিত চুক্তি ভুলবোঝাবুঝিকে প্রতিরোধ করতে পারে যা হয়ত পরবর্তীকালে পরিস্থিতি বদলে যাওয়ার দরুন সৃষ্টি হতে পারে।
কিন্তু যদি এক খ্রীষ্টীয় ভাই ব্যবসার ক্ষেত্রে আপনার প্রতি ন্যায়সঙ্গত আচরণ না দেখিয়ে থাকে তাহলে? আপনি কি তাকে বিচারালয়ে নিয়ে যাবেন? এবিষয় বাইবেল খুব স্পষ্ট কথা বলে। “তোমাদের মধ্যে কি কাহারও সাহস হয় যে, আর এক জনের বিরুদ্ধে কোন কথা থাকিলে তাহার বিচার পবিত্রগণের কাছে লইয়া না গিয়া অধার্ম্মিকদের কাছে লইয়া যায়?” পৌল জিজ্ঞাসা করেন। যদি সঙ্গে সঙ্গে সমস্যাটির মীমাংসা না হয়ে গিয়ে থাকে তাহলে? পৌল আরও বলেন: “তোমরা যে পরস্পরের বিরুদ্ধে বিচার চাও, ইহাতে তোমাদের বিশেষ ক্ষতি হইতেছে। বরং অন্যায় সহ্য কর না কেন? বরং বঞ্চিত হও না কেন?” চিন্তা করে দেখুন যে যদি বাইরের লোকেরা জানতে পারে যে সত্য খ্রীষ্টানেরা আদালতে একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই করছে তাহলে তা খ্রীষ্টীয় মণ্ডলীর উপর কতই না বদনাম নিয়ে আসবে! এই ক্ষেত্রে কি অর্থের প্রতি প্রেম ভাইয়ের প্রতি প্রেমের চাইতেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে? নাকি একজনের সম্মান হানি হয়েছে এবং তার ফলে প্রতিশোধ নেওয়ার বাসনা জেগে উঠেছে? পৌলের উপদেশ দেখায় যে এইসব ক্ষেত্রে ভাইকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার চাইতে ক্ষতি সহ্য করা শ্রেয়।—১ করিন্থীয় ৬:১, ৭; রোমীয় ১২:১৭-২১.
অবশ্য, মণ্ডলীর মধ্যে শাস্ত্রীয় ভিত্তিতে এইধরনের সংঘর্ষের মোকাবিলা করা সম্ভব। (মথি ৫:৩৭; ১৮:১৫-১৭) এর সাথে অন্তর্ভুক্ত ভাইদের সঠিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তাব দেওয়ার মাধ্যমে, খ্রীষ্টীয় অধ্যক্ষেরা সকলের জন্য সাহায্যকারী উপদেশ দিয়ে থাকেন। সেই আলোচনার সময় বাইবেলের মানের সাথে একমত হওয়া হয়ত সহজ হতে পারে, কিন্তু পরবর্তী সময় আপনি কি প্রকৃতরূপে প্রমাণ করতে পারবেন যে আপনি উপদেশগুলি পালন করছেন? ঈশ্বর ও সহখ্রীষ্টানের প্রতি প্রেম আমাদের প্ররোচিত করবে এটা করতে।
নিঃসন্দেহে ব্যবসার জন্য আপনাকে কিছু মূল্য দিতেই হবে। আমরা আশা করি যে, যে মূল্য আপনি দেবেন তা ন্যায়সঙ্গত। যখন কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া অথবা কোন সন্দেহজনক পরিস্থিতির সম্মুখীন হবেন, তখন মনে রাখবেন যে জীবনে টাকার চাইতেও আরও অনেক মূল্যবান জিনিস আছে। অর্থকে নিজের স্থানে রাখার দ্বারা, কথার দাম রাখার দ্বারা, সৎ হওয়ার দ্বারা এবং ব্যবসায়ী সহকর্মীদের সাথে ন্যায্য খ্রীষ্টীয় আচরণ করার মাধ্যমে আমরা উপলব্ধি করতে পারব যে ব্যবসার জন্য আমাদের কোন অতিরিক্ত সময় ও মূল্য ব্যয় করতে হচ্ছে না এবং তারই সঙ্গে আমরা বন্ধুত্ব বজায় রাখতে পারব, আমাদের উত্তম সংবেদ থাকবে এবং যিহোবার সাথে উত্তম সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারব।
[পাদটীকাগুলো]
a ব্যবসা ক্ষেত্রে কথার দাম রাখা সম্পর্কে আধুনিক কালের উদাহরণ আপনি পাবেন আলোচ্য প্রবন্ধটিতে “আমার কথা আমার শৃঙ্খল” আওয়েক! (ইংরাজি) ৮ই মে, ১৯৮৮, পৃষ্ঠা ১১-১৩.
[৩১ পৃষ্ঠার বাক্স]
ব্যবসার জন্য যে মূল্য আপনাকে দিতে হতে পারে
সময়: কোন কোম্পানিতে চাকুরিজীবী হিসাবে কাজ করার জন্য যতটুকু সময়ের প্রয়োজন হয় তার থেকে অনেক বেশি সময় ব্যয় করতে হয় নিজের ব্যবসা চালানোর জন্য। এটা কি আপনার গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক কাজের থেকে কিছু সময় নিয়ে নেবে? ইতিবাচক দিকটি বিবেচনা করলে এই প্রশ্ন করা যেতে পারে যে আপনি কি আরও বেশি সময় ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করার জন্য ব্যয় করতে পারবেন? যদি তা পারেন, তাহলে উত্তম। কিন্তু সতর্ক থাকবেন! এটা বলা যতটা সহজ করা ততটা সহজ নয়।
অর্থ: টাকা উপার্জন করতে হলে টাকার প্রয়োজন। আপনার ব্যবসার জন্য কত টাকার প্রয়োজন? আপনার কি ইতিমধ্যেই পুঁজি রয়েছে? নাকি আপনাকে ধার করতে হবে? আপনি কি কিছু টাকা লোকসান করতে রাজি আছেন? নাকি যদি আপনার আশানুসারে কাজ না হয় তাহলে সেই ক্ষতি আপনার পক্ষে মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়াবে?
বন্ধুবান্ধব: প্রতিদিন ব্যবসা চালানোর ক্ষেত্রে সমস্যার উদ্ভব হওয়ার দরুন অনেক ব্যবসায়ীদের বন্ধু হারাতে হয়েছে। যদিও বন্ধু করে নেওয়ার সুযোগ এখানে আছে, কিন্তু সম্পর্ক বিচ্ছেদ হওয়ার সম্ভাবনাও প্রচুর। যদি এই বন্ধুদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত আমাদের খ্রীষ্টীয় ভাইরা হয়ে থাকে তাহলে?
উত্তম সংবেদ: আজকের দিনে জগতে ব্যবসার ক্ষেত্রে সাধারণত এই মনোভাব দেখা যায় অর্থাৎ “খেয়ো খেয়ি” বা “এতে আমার কী লাভ হবে?” ইউরোপে প্রায় ৭০ শতাংশেরও বেশি ছাত্রদের সাক্ষাৎ করে জানা যায় যে ব্যবসার জগতে নৈতিক মানের মূল্য অত্যন্ত কমে গেছে, বলতে গেলে একেবারেই নেই। অতএব এটা আশ্চর্যের বিষয় নয় যে জালিয়াতি, অসততা এবং সন্দেহজনক ব্যবসা আজ একটা সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আপনিও কি সেই পথে চলার জন্য প্রলোভিত হতে পারেন?
যিহোবার সাথে আপনার সম্পর্ক: ব্যবসার ক্ষেত্রে যে কোন কাজ যা ঈশ্বরের নিয়ম ও মানের বিরুদ্ধে, এমনকি তা যদি ব্যবসার জগতে সাধারণ ব্যাপারও হয়ে থাকে, তবুও সেটি সেই ব্যক্তির সৃষ্টিকর্তার সাথে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ককে নষ্ট করে দিতে পারে। এর জন্য হয়ত তাকে তার অনন্ত জীবন পাওয়ার সম্ভাবনাকে বিসর্জন দিতে হতে পারে। যতই বস্তুগত সুবিধালাভ হোক না কেন এটা কি একজন বিশ্বস্ত খ্রীষ্টানের পক্ষে অতিরিক্ত মূল্য দেওয়ার সামিল হবে না?
[Pictures on page 31]
ভবিষ্যতে কোন্ বিষয়টি ভুলবোঝাবুঝিকে প্রতিরোধ করতে পারে? ভদ্রলোকের কথার দাম অথবা লিখিত চুক্তি?